“মহাষ্টমী। ঘুম ভেঙে যেতেই কানে এল প্রভাতী ঢাকের বাজনা। ঘুম ভাঙানো বাজনা। বাইরে এলাম। নেতাও উঠেছেন। স্নানের ঘরে।
“বারান্দায় টেবিলের ওপর একখানা অ্যালুমিনিয়ামের থালায় একরাশ শিউলি ফুল। মৃদু গন্ধ। কেউ দিয়ে গেছে। ফালতু, না, সেপাই? কেউ হবে।
“নেতা বেরিয়ে এলেন। সদ্য-স্নাত। খালি গা। জলের কণা গায়ে। পরনে গরদের ধুতি। ফুলের থালাটা দুহাতে তুলে নিলেন। ফুলের দিকে চেয়ে বললেন: ‘শিউলি শরতের দূত।’
‘সঙ্গে ওর সখীও আছে।’ বললাম আমি।
‘কে?’
‘অতসী।’
‘হ্যাঁ। অতসীপুস্পবর্ণাভা, — দেবীর রূপ।’
“নিজের ঘরে ঢুকলেন।
আমি তৈরি হয়ে বাইরে আসতেই গরদের সেই টুকরোটা হাতে নিয়ে হাসতে হাসতে বললেন: ‘সাজিয়ে দাও।’
দিলাম। ঠিক আগের দিনের মতো করে। মুখে হাসি ফুটে উঠল।
‘বললেন: ‘গত অষ্টমীর কথা মনে আছে?’
‘ভুলবো কেমন করে?’ ”
“না, ভুলিনি। এই অষ্টমীর দিন আমরা গেল বছর গিয়েছিলাম কোদালিয়া। নেতার পৈতৃক বসত বাড়িতে। নেতা, ইলা আর আমি।

“সকাল আটটায় আমরা রওনা হলাম। মোটরে। যেতে ঘণ্টা খানেক লাগল। সোজা গিয়ে আমরা একটা ছোট বাগানের সামনে। বাগান শুধু নামেই। শ্রীও নেই, ছাঁদও নেই। নেড়া। এক ধারে ছোট একটা পুকুর। ঘাট বাঁধা। সামনে একটু মাঠ। ঘাসে ঢাকা। একটু দূরে কয়েকটা আম-জামের গাছ। মাঝে-মধ্যে মাথা খাড়া করে দাঁড়িয়ে আছে নিরাভরণ নারকেল গাছ। বেশ পুরনো। বুড়ো গাছে ঝুলছে নারকেলের কাঁদি। বড় একটা ঝাঁপড়া আম গাছের তলায় একটা ইঁটের পাঁজা। সেটাও অনেক দিনের। গায়ে ছ্যাদলা পড়ে গেছে।
“মাঠে বসে ছিলেন সুরেশবাবু। নেতার দাদা। আর কয়েকটি ছেলে। ওঁরা কলরব করে উঠলেন। পেট খাই-খাই করছে। পাশের রাস্তা ধরে মুড়ির বস্তা-মাথায়-লোক যেতে দেখেই হৈ-হৈ করে উঠলেন সবাই। মুড়ি কেনা হল। গায়ের চাদর বিছিয়ে নেয়া হল মুড়ি। মন খুঁতখুঁত করে। সঙ্গে কিছু চাই। নিদেন লঙ্কা আর তেল। কিন্তু মিলবে কোথায়? সুরেশবাবু চোখ তুলে চান ওপরের দিকে। চোখ লোভাতুর হয়ে ওঠে। কিন্তু নিরুপায়। অত উঁচুতে কে উঠবে?
“বাইরে লোক জমেছে। ছেলে ছোকরাই বেশি। নেতা এগিয়ে গিয়ে একটিকে ধরে আনলেন। তর তর করে ছেলেটি গাছে উঠে গেল। ধপাধপ ফেলে দিল কয়েকটা ঝুনো নারকেল। পকেট থেকে পয়সা বের করে নেতা এগিয়ে গেলেন ছেলেটির দিকে। এক ছুটে সে অদৃশ্য হয়ে গেল। নেতাকে ও চিনতে পেরেছে।
“কিলিয়ে নারকেল ভাঙা হল। নারকেল আর মুড়ি নিমেষে সব উবে গেল।
“এর পরই স্নান পর্ব। গায়ের জামা খুলে নেতা একেবারে তৈরী। পুকুরে নাবছেন। আমি ঘাবড়ে গেছি। এই জলে? জলের ওপরটা লালচে। ভাং-এ ঢাকা। অবলীলায় নেতা ঝাঁপিয়ে পড়লেন। সাঁতার কাটলেন বেশ অনেকক্ষণ।
“স্নানান্তে জামা-কাপড় বদলাবার পরক্ষণেই ডাক এল বাড়ি থেকে। মাজননীর ডাক। ওঁরা এসেছেন আগেই। মাজননী আর অন্যান্য বধূরা। সঙ্গে ছেলে-মেয়ে।
“একটানা আনন্দে কেটেছিল সারাটা দিন। খাওয়া হল ভেতর দালানে। কোদালিয়ার বিখ্যাত খাস্তা কচুরী আনাতে মাজননী ভোলেননি। সঙ্গে রসকরা।
“বেলা চারটা নাগাদ আমরা এলগিন রোডে ফিরেছিলাম। ঘুম ভাঙল ইলার ডাকে। চায়ের কাপটা সামনে ধরে ইলা বলে উঠল: ‘বাবা:! কী ঘুম!’
হাসতে হাসতে যাবার সময় বলে গেল: ‘রাঙা কাকাবাবু ডাকছেন।’ (বলত রাঙা কাকাবাবু কিন্তু বলত একটু জড়িয়ে। শোনাত, ‘রাংকু’।)
“ভুলিনি। কোনদিন ভুলবও না।
“সেই অষ্টমী। কিন্তু এবার কারাগারে।”
“প্রসাদ দেয়া হল সবাইকে। যে এল তাকেই। মায় চীনাদেরও। এক সঙ্গে খাওয়া হল।
“কারাগারে দুর্গোৎসব সাঙ্গ হল। বিজয়ার প্রতিমা আমরা গেটে পৌঁছে দিলাম। বাইরে অপেক্ষমাণ অসংখ্য জনতা প্রতিমা নিয়ে গেল। শিকের ফাঁকে নিবদ্ধ হয়ে রইল জনতার উৎসুক দৃষ্টি। একটুক্ষণের জন্য তাদের প্রিয় নেতাকে দেখবার আশায়।”
বি: দ্র: উপরিউক্ত উদ্ধৃতিগুলো শ্রী নরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী লেখা ‘নেতাজি সঙ্গ ও প্রসঙ্গ – দ্বিতীয় খণ্ড’ বইয়ের দ্বিতীয় মুদ্রণ — আষাঢ়, ১৩৭৪, থেকে নেওয়া। বানান যথাসম্ভব অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বইটার প্রকাশক গ্রন্থপ্রকাশ, কলিকাতা-১২; প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২৩ জানুয়ারি ১৯৬৬ তারিখে।
সংযোজন
কে ছিলেন এই ইলা বসু?
ইলা দেবী ছিলেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর সবচাইতে প্রিয় ভাতুষ্পুত্রী।
এই মহীয়সী ভাইঝিটির দেশপ্রেম, রাঙ্গাকাকাবাবুর (সুভাষ চন্দ্র বসুর) প্রতি তাঁর অসীম ভালবাসা, তাঁর নিঃস্বার্থ ত্যাগ স্বীকার ইত্যাদি ছিল অতুলনীয়।
শ্রীমতি ইলা বসু ছিলেন নেতাজীর সেজদাদা সুরেশ চন্দ্র বসুর দ্বিতীয়া কন্যা। নেতাজীরা আট ভাই আর ছয় বোন ছিলেন। কাজেই তাঁর অনেকগুলো ভাইপো, ভাইঝি, বোনপো, বোনঝি – যাকে ইংরেজীতে নেফিউস আর নিসেস বলে – ছিল। তারা এবং তাদের বন্ধু বান্ধবীরা সবাই সুভাষচন্দ্র বসুকে রাঙা-কাকাবাবু, রাঙা-মামাবাবু বলে ডাকতো। এই সবার মধ্যে নেতাজীর সবচাইতে প্রিয় ছিলো ইলা! এগুলো সব পরিবারের লোকেদের এবং সুভাষচন্দ্রের খুব নিকট সহকর্মীর লেখা বই পড়ে জানা। বইয়ের নাম নীচে দ্রষ্টব্য।
ইলা দেবী ১৯৩৭ সনে, নেতাজী জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এলগিন রোডের বাড়ীতে আসার পর থেকে তাঁর ১৯৪১ সনের জানুয়ারীর ১৬/১৭ তারিখ রাত্রে অন্তর্ধান হওয়া পর্যন্ত, নেতাজীর ফাইফরমাস খাটা আর নেতাজীর সেবা করায় ব্যস্ত ছিলেন। তাছাড়া তিনি ছিলেন নেতাজীর প্রিন্সিপাল প্রাইভেট সেক্রেটারী। নেতাজীর মেজদা শরৎ বসুর বড় ছেলে ডঃ অশোক নাথ বসু তার My Uncle Netaji বইতে লিখেছেন, “From that time onwards till his departure from Calcutta in January, 1941, Ila filled the dual role of uncle’s principal private secretary and nurse and served him with untiring zeal and single-minded devotion.”
নেতাজী যখন মার্চ ১৯৩৯ সনের প্রথম সপ্তাহে ত্রিপুরী কংগ্রেসে যান তখন তিনি অনেক জ্বরে অসুস্থ ছিলেন। তার দু’তিন মাস আগেই তিনি গান্ধীজীর ক্যান্ডিডেট সীতারামাইয়াকে ভোটে হারিয়ে ছিলেন বলে গান্ধী-অনুরাগীদের শত্রু হয়ে গিয়েছিলেন। সেবারও মা-জননী (নেতাজীর মাকে বাড়ীর সব ছোটরা এবং কাজের লোকেরা এই নামেই ডাকতো), ডাক্তার দাদা (ফুলদা) সুনীল চন্দ্র বসুর সাথে ইলাও যান নেতাজীর সাথে একই দিনে নেতাজীর সেবাশুশ্রূষার ভার নিয়ে। সেসময় নেতাজীর অসুস্থতার কারণ জানা যায়নি, নেতাজীকে কেউ মারণচক্র বাণ মেরেছে এমনও সন্দেহ করেছিলেন প্রাচীনপন্থী কেউ কেউ। নেতাজী পরে (এপ্রিল, ১৯৩৯, তে) Modern Review মাসিক পত্রিকায় ‘মাই স্ট্রেঞ্জ ইলনেস’ নামে একটা প্রবন্ধও লিখেছিলেন তাঁর এই ভুতুড়ে অসুস্থতার উপর। পরে অবশ্য এটাকে broncho-pneumonia বলে মনে করা হয়েছিল। ত্রিপুরী কংগ্রেসের ঠিক পর পর ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী নেতাজীকে ১৪ই মার্চ ১৯৩৯ তারিখ সকালবেলায় ধানবাদ স্টেশনে ট্রেন থেকে নামিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ৯ মাইল দূরে জামাডোবাতে নিয়ে যাওয়া হয় বিশ্রামের জন্য। তাঁর সাথে মা-জননী (শ্রীযুক্তা প্রভাবতী বসু), ইলা দেবী এবং শীলা দেবীও নেমে পড়েন এবং জামাডোবায় যান। জামাডোবায় তখন নেতাজীর ন’দা শ্রী সুধীর চন্দ্র বসু সস্ত্রীক থাকতেন। উনি “টাটা আয়রন ও স্টীল কোম্পানি” তে কর্মরত ছিলেন এবং জামাডোবা-তে (পোস্ট অফিস Jealgora) পোস্টেড ছিলেন। বর্তমানে এটা ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত। (নেহেরু-গান্ধী হলে সেই বাড়ী অবশ্যই সংরক্ষিত হত।) ভাগ্যক্রমে নেতাজীর মেজদা শরৎ বসুর জ্যেষ্ঠ পুত্র ডঃ অশোক নাথ বসুও জামাডোবাতে থাকতেন এবং পাশে অন্যত্র কাজ করতেন। তিনিই সেদিন তাঁদের ধানবাদ স্টেশনে receive করে নিজের গাড়ীতে জামাডোবা নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে মা-জননী ও শীলা কলকাতায় ফিরে গেলেও ইলা নেতাজীর সেবার জন্য জামাডোবাতে থেকে যান। তিনি পাঁচ সপ্তাহ আপ্রাণ সেবা করে নেতাজীকে অনেক সুস্থ করে তোলেন।
যাইহোক, এবার আমরা ইলা দেবীর আরেকটা বিরাট ভূমিকার কথায় আসবো।

খুব কম মানুষই জানেন যে নেতাজীর অন্তর্ধানেরও প্রধান সহকারী ছিলেন এই ইলা দেবী। নেতাজী অন্যান্য কোন কোন ভাইপোর সাহায্য নেবেন তা পর্যন্ত ইলার সাথে পরামর্শ করে তবেই স্থির করতেন। এমনকি শিশির কুমার বসুর ক্ষেত্রেও তাই করেছিলেন। একথা শিশির বসুও নিজের বইতে লিখে গেছেন। ইলা দেবী এবং তার সহদোর অরবিন্দ আর নেতাজীর বড় দাদার ছোটছেলে দ্বিজেন্দ্রনাথ জীবিতকালে খুবসম্ভব নেতাজীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে কখনও কাউকে এসব গোপণীয় কথা বলে বা লিখে যাননি। একমাত্র নেতাজীর মেজদার ছেলে ডঃ শিশির কুমার বসু (অনেকখানি) ও ডঃ অশোক নাথ বসু (কিছুটা) লিখে গেছেন। এই পাঁচজন আর মেজদা শরৎ বোস শুধু জানতেন এই মহানিষ্ক্রামণের কথা। শুধু ইলা দেবী আর শরৎ বসু হয়তো সবটা জানতেন। তাঁরা দু’জনই হয়ত ছিলেন নেতাজীর এই পর্বের প্রধান উপদেষ্টা। শিশির বসু, যিনি নেতাজীকে গাড়ী চালিয়ে বারারী (অশোক নাথ বসুর বাড়ীতে; ততদিনে ধানবাদের কাছে বারারিতে কোয়ার্টার পেয়েছিলেন অশোক নাথ বসু) নিয়ে গিয়েছিলেন, তিনিও তার বইতে লিখে গেছেন ইলার এইসব ভূমিকার কথা। সমস্ত ভিতরের ঘটনাগুলোর দেখাশুনা ইলা করেছিলেন। নেতাজীর কথামত দক্ষিণেশ্বরে গিয়ে পুজো দিয়ে এসেছিলেন এক জোৎস্নামাখা রাতে। নতুন কাকাবাবুকে তার কুকুর সানিবয়কে রাতে বেঁধে রাখতে বলেছিলেন তে-তলায়, রাতে অন্য দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার অজুহাত দিয়ে, যাতে সে ঘেউ ঘেউ না করে, কাপড় দিয়ে ভাইবোন মিলে নেতাজীর ঘরটা পার্টিশন করে দিয়েছিলেন, ধোপাবাড়ীর জন্য ৬ নম্বর লেখা গুলো (ষষ্ঠ ছেলে সুভাষ) বেড সীট, পিলো কভার, গেঞ্জী, ইত্যাদি থেকে তুলে দিয়েছিলেন, নেতাজীর জন্য দু’শিশি আয়ুর্বেদিক ঔষুধ দিয়েছিলেন, নেতাজীর বেডিং বেঁধে দিয়েছিলেন মহানিষ্ক্রামণের দিন, পরবর্তী দশ দিন নেতাজীকে দেওয়া খাবার খাওয়ার বা সরিয়ে ফেলার ভার নিয়েছিলেন তিনি; নেতাজী চলে যাবার পর সে রাত্রে ১ ঘন্টা বা তারও বেশী সময়ের পর নেতাজীর ঘরের আলো নিভিয়ে দেবার ভারও ছিল তাঁর উপর, রাস্তার জন্য ফ্লাস্কে কফি তৈরি করে দিয়েছিলেন রাঙ্গাকাকাবাবুকে, বাড়ীর লোকেরা যাতে সন্দেহ না করে সেজন্য যা যা করণীয় তা সবই করেছিলেন তিনি, কেউ কিছু সন্দেহ প্রকাশ করলে নেতাজীকে তা সাথে সাথে জানিয়েছেন, ইত্যাদি, ইত্যাদি। মা-জননী পর্যন্ত জানতে পারেন নি। মহানিষ্ক্রামণের আগে নেতাজী ইলার কপালে চুমু খেয়ে ‘গড ব্লেস ইউ’ বলে আশীর্বাদ করেছিলেন। ইলার জন্যে দু’লাইন লিখেছিলেন কাবুল থেকে লেখা মেজদার চিঠিতে, ইত্যাদি।
বাকিকথা জানার জন্য আমার ফেসবুকে ১৪ই ডিসেম্বর ২০১৮-তে পোস্ট করা লেখাটা পড়ে দেখতে অনুরোধ করছি। এই মহানিষ্ক্রামণ-এর ঘটনা জানুয়ারী ১৯৪১-এর। নেতাজীর মহানিষ্ক্রামণের পর ইলা বসুর সাথে শ্রী মনীন্দ্র নাথ দত্তের (I. R. A. S., রেলওয়ে অফিসার) বিবাহ হয় এবং সেপ্টেম্বর ১৯৪৩-এ ইলা দেবী এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু খুব দুঃখের কথা যে সেই মাসের শেষ দিকে ইলা দেবী পরলোক গমন করেন। পরে মনীন্দ্র দত্ত আবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ইতিহাস থেকে এই মহীয়সী নারী – শ্রীযুক্তা ইলা বসু দত্ত – চিরকালের জন্য হারিয়ে যান।
যারা জানতে আগ্রহী তাদের অবগতির জন্য জানাই যে আমি এসব তথ্য প্রধানত ডঃ শিশির কুমার বসুর (১) মহানিস্ক্রমণ ও (২) বসু-বাড়ি, ডঃ অশোক নাথ বসুর (৩) মাই আঙ্কেল নেতাজী, শ্রীযুক্তা গীতা বসু বিশ্বাসের (৪) দি গ্লোরি অফ বন্ডেজ (পিতৃদেব শরৎ চন্দ্র বসুর কুন্নুর জেল থেকে গীতাকে লেখা কিছু চিঠি) এবং (৫) প্রফেসর চিত্রা ঘোষের বই মাদার অফ মাই হার্ট : দ্যা স্টোরি অফ বিভাবতী বসু, এইসব বই থেকে জেনেছি। শ্রীযুক্ত শরৎ বসুর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের একজনের কাছ থেকে জেনেছিলাম যে ইলা দেবীর পুত্রসন্তান ২০ বা ২৪ বছর অবধি জীবিত ছিলেন।
এছাড়া ইলা দেবীর কথা শ্রী নরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তীর লেখা “নেতাজি সঙ্গ ও প্রসঙ্গ’ বইয়ের প্রথম খণ্ডে (সামান্য) ও দ্বিতীয় খণ্ডে (বিস্তারিত) রয়েছে। আগ্রহীরা পড়ে দেখতে পারেন।
সবাইকে জানাই শারদীয়া দুর্গোৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা!
৩রা অক্টোবর ২০২২