আজ ৩ অক্টোবর ভারতের তথা এশিয়ার প্রথম টেস্টটিউব বেবি কানুপ্রিয়া আগরওয়াল ওরফে ‘দুর্গা’র জন্মদিন। যদিও এমন যুগান্তকারী সৃষ্টির পরেও স্বীকৃতি তো দুরের কথা, বিদ্রূপ আর লাঞ্ছনায় জর্জরিত হতে হয়েছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে। অপমানে, হতাশায় তিনি পরবর্তীতে আত্মহননের পথ বেছেনিয়েছিলেন। সেই ঘটনার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে ৩ অক্টোবর দিনটিকে ‘জাতীয় গর্ভধারণ দিবস’ (ন্যাশনাল ফার্টিলিটি ডে) হিসেবে পালন করেন ডা. সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অনুগামী চিকৎসকেরা। অন্যদিকে জন্মদিনের প্রাক্কালে এই শহরে হাজির দুর্গা ওরফে কানুপ্রিয়া।
পড়াশোনা এ শহরেই। পুণের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এমবিএ পাশ করে সেই মেয়ে এখন মুম্বইয়ে কর্মরত। দুর্গা নিজেও মেয়ের মা, সমান ভাবে ঘর ও অফিস সামলে চলেছেন। অথচ এই মেয়ে সুস্থ হয়ে জন্মাবে কি না, সে দিন সেই নিশ্চয়তা দিতে পারেননি তাঁর সৃষ্টিকর্তা চিকিৎসক সুভাষ মুখোপাধ্যায়। কিন্তু সেই মেয়ে তো দিব্যি আছে।
কানুপ্রিয়া জানান টেস্ট টিউব বেবি কিংবা অন্য শিশুদের মধ্যে আদৌ কোনও ফারাক আছে কিনা তা তিনি নিজেই কোন দিনও বুঝে উঠতে পারেন নি। ডা. সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে অপমান অবহেলার মুখোমুখি হতে হয়েছে ঠিকই কিন্তু শৈশব থেকে আজ পর্যন্ত তিনি নিজে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হননি…
তবে আজ এই শহরের অনেকেই ডা. সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কাজের স্বীকৃতি চাইছেন। একদিন যে কাজের জন্য জুটেছে অবহেলা আর অপমান, সেই কাজই আজ নিঃশব্দে গোটা পৃথিবী অনুসরণ করে চলেছে।