মরুভূমির সুরের ধারা এসে মিলবে নদীমাতৃক বাংলায়। ছৌ, রায়বেঁশে, নাটুয়া নাচের বীররসে মিশবে রাজস্থানের কালবেলিয়ার উন্মাদনা। কোভিড সময় কাটিয়ে জীবনের স্বাভাবিক হয়ে ওঠার ছন্দ ফিরবে শহরে। এসবকিছুই ঘটবে কলকাতার মোহরকুঞ্জে বাংলা নাটক ডট কম আয়োজিত ১২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ‘ফোক সফর’ অনুষ্ঠানে।
শীত এলেই শহরকে পায় সংস্কৃতি। নানা জায়গায় শুরু হয়ে যায় শিল্প মেলা, প্রদর্শনী, সার্কাস আর নাচগানের আসর। প্রায় একবছর শহর সেসব থেকে বঞ্চিত। ‘ফোক সফর’ ভুলিয়ে দেবে সেই বঞ্চনার দিন। নাচগানের সান্ধ্যআসর, দিনভোর হস্তশিল্প প্রদর্শনী ও আখড়ায় গানবাজনা শহরের মানুষকে দেশের লোকসংস্কৃতির আঙিনায় উৎসুক পদচারনার সুযোগ করে দেবে।

মোহরকুঞ্জ প্রাঙ্গনে বাংলার বাউল-ফকিরি, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, ঝুমুর গানের পাশাপাশি চলবে ছৌ, নাটুয়া, রায়বেঁশে আর পুতুল নাচ। বাংলার নানা প্রান্তের পটুয়া, ডোকরা, কাঠপুতুল, সাবাই, শীতলপাটি ও মাদুরশিল্পীরা সাজিয়ে বসবেন তাদের হস্তশিল্পের পসরা। এ শুধু নাচগানে মেতে বাড়ি চলে যাওয়ার অনুষ্ঠান নয়, ‘ফোক সফর’ এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এসব নাচগান, হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত লোকশিল্পীদের জীবন ও জীবিকার প্রশ্ন। কোভিড সময়ে এদের রোজগার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কারণ সব অনুষ্ঠান, মেলা, প্রদর্শনী বন্ধ ছিল। এই ধরণের অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আবার উপার্জনের মুখ দেখবেন তারা।

শুরুতেই বলেছি, মরুর সুর আর নদীর গানের কথা। নদীর গানের কথা বাংলার মানুষ সহজেই বুঝবেন। কিন্তু মরুর সুরটা কী? এখানে লুকিয়ে রয়েছে ‘ফোক সফর’ এর একটা বড় চমক। এই অনুষ্ঠানে পপ আপ শো করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কালবেলিয়া নাচের দল। যোধপুর মরুভূমির চোপাসানি গ্রাম থেকে আসছেন এই নাচের গুরু কালুনাথ কালবেলিয়ার দল। আসছেন গাজি খানের নেতৃত্বে পৃথিবী বিখ্যাত লোকশিল্পীর দল রাজস্থানের দিওয়ানা সঙ্গে পদ্মশ্রী আনোয়ার খান, খামাইচা ওস্তাদ ঘেওয়ার খান, ঢোলের রাজা ফিরোজ খান এবং সারেঙ্গীর গুরু মেহেরুদ্দিন লাঙ্গা। মরুর সুরের রাজা সর্দার খান লাঙ্গা ও বুন্দু খান লাঙ্গার নেতৃত্বে আসর মাতিয়ে দেবেন বারমের মরুভূমির বার্নোয়া জাগির গ্রামের লাঙ্গাশিল্পীর দল। রাজস্থানের সেরা শিল্পীদের এমন অনুষ্ঠান শহরে এর আগে হয়নি।

‘ফোক সফর’ প্রমাণ করবে অসুখ শহরের প্রাণ কেড়ে নিতে পারেনি। মরুর সুর আর নদীর গানে জীবন ফিরবে স্বাভাবিকতায়। ‘ফোক সফর’ এ শিল্পীরাও ফিরবেন জীবনের সফরে।