| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ফরমায়েশি ‘পুজোর বাজারে’ লেখনীধর রবীন্দ্রনাথ (প্রথম পর্ব) : শুভাশিস মণ্ডল

Reporter
শুভাশিস মণ্ডল / ৬৪৬ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৩

‘পুজোর বাজারে আমি যদি লেখা না জোটাই

দুটো লাইনের মতো কলমটা না ছোটাই—

সম্পাদকের সাথে রবে সৌহার্দ্য কি।’

—’প্রহাসিনী’র সংযোজন অংশে, ‘লিখি কিছু সাধ্য কী’ শীর্ষক লঘুচালের কবিতায় স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ সম্পাদকদের অনুরোধক্রমে ‘পুজো সংখ্যা’য় লেখা না দিতে পারলে, সম্পাদকদের সঙ্গে সৌহার্দ্য নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন!

মংপুর শৈলশিখরে ‘মাংপবী’ মৈত্রেয়ীদেবীদের বাংলোয় বসে এহেন মজার কয়েকটি পঙক্তি লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ! ১৩৪৬-এর আশ্বিন-কার্তিকের [সেপ্টেম্বর/অক্টোবর ১৯৩৯] কোনও এক দিনে।

দুর্গাপুজো-কেন্দ্রিক ‘সাহিত্য-বাজারে’ লেখকদের যে কী করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়, তারই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত উদ্ধৃতাংশে। যদিও তখন, এখনকার মত অসংখ্য পত্রপত্রিকার পুজোসংখ্যা প্রকাশিত হ’ত না। ‘পুজোসংখ্যা’ — এই অভিধাও ব্যবহৃত হ’ত না। সেইসময়ের প্রাক-পুজোর বাজারে, সম্পাদকদের তাগাদায়, রবীন্দ্রনাথকেও কী গলদঘর্ম হতে হ’ত? অবশ্য বর্তমানের কলমচিদের সঙ্গে তার তুলনা অনুচিত।

একালের খ্যাতনামা লেখকদের তো পুজোর ক’টা দিন কাটতে না কাটতেই আবার সম্পাদকদের ফরমায়েশে, লেখার টেবিলে বসতে হয়, পরবর্তী বইমেলার জন্য। পুজোর লেখা শুরু করতে হয়, মার্চ-এপ্রিল থেকে, বা তারও আগে থেকে। পুজো যত এগিয়ে আসে, ততই তাঁদের রক্তচাপের মাত্রা চড়তে থাকে। প্রতিযোগিতার বাজারে ইদানীং আবার দুর্গাপুজোর মাস দুই আগে ভরা বর্ষায় ‘বাজারি’ পুজোসংখ্যা প্রকাশিত হচ্ছে! রবীন্দ্র-সমকালে নিশ্চই এই অবস্থা ছিল না!

‘পুজোসংখ্যার-লেখক, রবীন্দ্রনাথ’কে খুঁজে পেতে, বিভিন্ন ক্রস রেফারেন্স, চিঠিপত্র প্রভৃতি ঘেঁটে কিছু তথ্যাদি পাওয়া গেল। বাংলা সাময়িকপত্র-পত্রিকার পুজোসংখ্যা প্রকাশ ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে, সেসব সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যাদি পাওয়া গেল না। তবে পুজোর প্রাক্কালে যে ভাদ্র-আশ্বিন বা আশ্বিন-কার্তিক যুগ্মসংখ্যা একটু বিশেষ ভাবে প্রকাশ করতে হবে, এরকম একটা প্রস্তুতি তৎকালীন প্রায় সব জনপ্রিয় পত্রপত্রিকার তরফেই দেখা যেতো। সুতরাং রবীন্দ্রনাথের মতো লেখককেও যে এ-নিয়ে মাথা ঘামাতে হ’ত, তা তাঁর স্বীকারোক্তিতেই স্পষ্ট। রবীন্দ্রনাথের অধিকাংশ লেখাই গ্রন্থাকারে প্রকাশের পূর্বে, প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় পঞ্চাশাধিক পত্র-পত্রিকার পৃষ্ঠায়। মাঝে মাঝে চিঠিপত্র, ডায়েরি, ভ্রমণ কাহিনিও স্থান পেত সেইসব সংখ্যায়। এখনকার মতো সেকালে পত্র-পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা তেমনভাবে প্রকাশিত হতো না। পুজোসংখ্যা বা শারদসংখ্যা বলেও কিছু ছিল না। পত্রিকার নববর্ষ সংখ্যাই ছিল বলতে গেলে বিশেষ সংখ্যা এবং তা একটু সমৃদ্ধ আকারেই প্রকাশিত হ’ত।

ব্রহ্ম-বিশ্বাসী সম্পাদক-রবীন্দ্রনাথও যে ‘পুজো’র আগেই, তাঁর ‘হাতের কুঠার’ ‘সাধনা’ পত্রিকা প্রকাশের জন্য ব্যগ্র হয়ে পড়তেন, তার নিদর্শন পাওয়া যায়, ১২৯৯ বঙ্গাব্দের (১৮৯২) শ্রাবণ মাসের আগেই পত্রিকা-সহযোগী ভ্রাতুষ্পুত্র বলেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে লেখা পত্রে। কিছুটা উৎকন্ঠার সঙ্গে ব-কলম সম্পাদক পিতৃব্য রবীন্দ্রনাথ লিখছেন :

“…এবারে ১৩ আশ্বিন পূজার দিন, অতএব ভাদ্র আশ্বিন মাসের কাগজ একসঙ্গে বের করা উচিত। দুটো কাগজ আলাদা না করে একসঙ্গে করবার গোটাকতক সুবিধা আছে — প্রথমত: মলাট এবং দপ্তরী খরচ কম পড়ে, দ্বিতীয়ত: অনেক লেখা একত্র থাকাতে বেশ বৈচিত্র্য পাওয়া যায়, তৃতীয়ত: বড় কাগজখানা হাতে এলে লাগে ভাল, চতুর্থত: বড় বড় লেখাগুলো একেবারে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়— অতএব এইবেলা থেকে তৎপ্রতি মন দিয়ো। ভাদ্র-আশ্বিনের কাগজ একসঙ্গে বের না করলে ভারি মুস্কিলে পড়বে। কারণ পুজোর ছুটির সময় অনেক গ্রাহকেরই ঠিকানা পরিবর্তন হবে। পনেরোই ভাদ্রে আশ্বিনের কাগজ পাঠালে নিশ্চয়ই তাঁরা নিজ নিজ স্থানেই পাবে। …… ভাদ্র-আশ্বিন সংখ্যায় আমার কোন্‌ দুটো গল্প দেবে? ‘ছুটি’ এবং ‘স্বর্ণমৃগ’ দিয়ো।—”

কোনও এক অজ্ঞাত কারণে, ‘সাধনা’র ভাদ্র-আশ্বিন (১২৯৯) সংখ্যায় ‘ছুটি’ বা ‘স্বর্ণমৃগ’ নয়, তার পরিবর্তে মুদ্রিত হয়েছিল ‘রীতিমত নভেল’। ওই দু’টি গল্পকে কী আমরা তবে পুজোসংখ্যার লেখা বলে ধরতে পারি? সেই হিসেবে ‘সাধনা’য় ১৩০১ আশ্বিন-কার্তিক সংখ্যায় প্রকাশিত ‘মেঘ ও রৌদ্র’ এবং ১৩০২ ভাদ্র-আশ্বিন-কার্তিক সংখ্যায় প্রকাশিত ‘অতিথি’ গল্পটিকেও কি পুজো সংখ্যার লেখা হিসেবে ধরা যাবে? তাহলে বিচিত্রা, প্রবাসী-সহ সেই সময়ের আরও কয়েকটি পত্রিকার যুগ্ম অথবা তিন মাসের একত্রে শরৎ-সংখ্যাগুলির লেখাগুলিকেও একই পর্যায়ে ফেলতে হয়।

সাধনার ১২৯৯ ভাদ্র-আশ্বিন যুগ্মসংখ্যা প্রকাশ উপলক্ষে কবির উল্লিখিত চিঠি থেকে এটুকু অন্তত অনুমান করা যায়, পুজোর আগে আগে পত্রিকা প্রকাশের এই তাগিদ থেকেই বোধহয় শারদীয় সংখ্যা প্রকাশের প্রবণতা লক্ষ করা যায়, যা পরবর্তীতে ক্রমশ বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিমণ্ডলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। একবিংশ শতাব্দীর নয়া অসুখ মুঠোফোনের বাড়বাড়ন্তের যুগে; বৃহদংশ পাঠকের এই পাঠবিমুখ সময়েও, বাংলাভাষী বহু পাঠক একাধিক পুজো সংখ্যা ক্রয় করেন, মূলত উপন্যাস ও গল্পের টানে।

সেই সময়ের পত্রিকা-গ্রাহকেরা ছিলেন সংখ্যায় অত্যল্প। বাজারে, রাস্তাঘাটে, ফুটপাথে, রেলস্টেশনে, হকারের হাতে সাহিত্য পত্রিকাগুলি বিক্রয়ের ব্যবস্থা ছিল না। গ্রাহকের বাড়ির ঠিকানায় তা পাঠানো হ’ত। পুজোর ছুটিতে অনেক ধনী অভিজাত গ্রাহক ভ্রমণার্থে কিছু দিনের জন্য গৃহত্যাগী হতেন। বাড়ির ঠিকানায় পত্রিকা পাঠানো হলে, ফেরত আসতো। ফলে, সম্পাদক-কবি পুজোর ছুটির পূর্বেই, ভাদ্রের মাঝামাঝি যাতে পাঠকেরা ‘সাধনা’ হাতে পায়, তার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন; ভ্রাতুষ্পুত্রকে।

পশ্চিম বাংলার গ্রাম-গঞ্জ-শহর, ভিন রাজ্য, এমনকি ভিন দেশ থেকেও ফি-বছর প্রকাশিত হয়ে চলেছে ছোটো-বড়ো অসংখ্য বাংলা পত্রপত্রিকায় শারদীয় সংখ্যা। সাহিত্য-সংস্কৃতিমনস্ক বাঙালির এ এক অনন্য জাতিবৈশিষ্ট্য — সারা বিশ্বে প্রকাশিত অন্যান্য ভাষার পত্রপত্রিকার নিরিখে, এমন দৃষ্টান্ত অতুলন!

প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ তথ্যাদির নিরিখে, কয়েকটি রবীন্দ্র-রচনাকে আপাতভাবে পুজোর লেখা বলে মেনে নিতেই হয়। কখনো পত্রিকাদপ্তরের অনুরোধে, কখনো বা কবির স্ব-ইচ্ছায় এগুলি রচিত। তবে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় শারদীয় অথবা শরতের যুগ্মসংখ্যা প্রকাশিত — নয়টি কবিতা, দুটি নাটক আর তিনটি গল্প লেখক-রবীন্দ্রনাথের জীবনে পুজোর লেখা বলে চিহ্নিত করা যায় — ‘পলাতকা’ কাব্যের ‘ঠাকুরদাদার ছুটি’ [‘তোমার ছুটি নীল আকাশে…’] কবিতাটি ‘পার্ব্বণী’ আশ্বিন-১৩২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত। প্রকাশ তারিখ ১ আশ্বিন, ১৩২৫ [১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯১৮]। পুজো উপলক্ষে কবি-জামাতা নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের জন্য একটি সংকলন-গ্রন্থ প্রকাশে উদ্যোগী হন। গ্রন্থটি প্রথমে ‘পুজোর ছুটি’ শীর্ষাঙ্কনে পরিকল্পিত হলেও, পরবর্তীতে ‘পার্ব্বণী’ নামকরণই চূড়ান্ত হয়। নগেন্দ্রনাথ, শ্বশ্রুপিতা রবীন্দ্রনাথকে লেখার জন্য অনুরোধ করলে, রবীন্দ্রনাথ তাঁকে জানান — (১২ ভাদ্র, ১৩২৫): “কোনো রকম লেখা আমার পক্ষে সম্পূর্ণ অসম্ভব। একদিনও আমার সময় নেই — মনও অন্যদিকে দেওয়া আমার পক্ষে শক্ত। তাই ‘পার্ব্বনী’তে কোনো মজার কিংবা গম্ভীর রকমের লেখা দেওয়া আমার অসাধ্য।”

রবীন্দ্রনাথ শারদীয় ‘পার্ব্বণী’তে লেখা দেওয়া সম্পর্কে অক্ষমতা প্রকাশ করলেও নগেন্দ্রনাথ শেষপর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে একটি নতুন কবিতা [‘ঠাকুরদাদার ছুটি’] আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ‘পার্ব্বণী’ প্রকাশিত হলে রবীন্দ্রনাথ তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে লেখেন —

“তোমার ‘পার্ব্বণী’ পড়িয়া বিশেষ আনন্দ পাইয়াছি। ইহা ছেলেবুড়ো সকলেরই ভাল লাগিবে। তোমার পরিশ্রম সার্থক হইয়াছে। দেশের প্রায় সমস্ত বিখ্যাত লেখকদের ঝুলি হইতে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের জন্য এই যে ‘পার্ব্বণী’ আদায় করিয়াছ ইহা একদিকে যত বড়ই দুঃসাধ্য কাজ অন্যদিকে তত বড়ই পুণ্য কর্ম। বস্তুত আমি ইহার বৈচিত্র্য, সৌষ্ঠব ও সরসতা দেখিয়া বিস্মিত হইয়াছি — অথচ ইহার মধ্যে পাঠকদের জানিবার, ভাবিবার, বুঝিবার কথাও অনেক আছে। তোমার এই সংগ্রহটি কেবলমাত্র ছুটির সময় পড়িয়া তাহার পরে পাতা ছিঁড়িয়া, ছবি কাটিয়া, কালি ও ধূলার ছাপ মারিয়া জঞ্জালের সামিল করিবার সামগ্রী নহে — ইহা আমাদের শিশুসাহিত্যের ভাণ্ডারে নিত্য ব্যবহারের জন্যই রাখা হইবে। প্রথমখণ্ড ‘পার্ব্বণী’তে যে আদর্শে ডালি সাজাইয়াছ, বৎসরে বৎসরে রক্ষা করিতে পারিলে মা ষষ্ঠী ও মা সরস্বতী উভয়েরই তুমি প্রসাদ লাভ করিবে।”

‘পূরবী’ কাব্যের দুটি কবিতা ‘শেষ’ [হে অশেষ, তব হাতে শেষ…] ও ‘কিশোর প্রেম’ [অনেক দিনের কথা সে যে অনেক দিনের কথা…] ‘বসুমতী’ (বার্ষিক) ১৩৩২ শারদীয় সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। কবিতা দুটি তার আগের বছর দক্ষিণ আমেরিকার পেরু যাত্রাকালে রচিত। ‘শেষ’ কবিতাটি সমুদ্রবক্ষে ‘আণ্ডেজ’ জাহাজে বসে ২৯ শে অক্টোবর, ১৯২৪ [১২ কার্তিক, ১৩৩১] এবং জাহাজ থেকে আর্জেন্তিনার বুয়েনোস এয়ারিসে অবতরণ করে সেখানে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর তত্ত্বাবধানে সান ইসিদ্রোর বাগানবাড়িতে অবস্থানকালে ১১ নভেম্বর, ১৯২৪ [২৫ কার্তিক, ১৩৩১] ‘কিশোর প্রেম’ কবিতাটি রচিত হয়। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

13 responses to “ফরমায়েশি ‘পুজোর বাজারে’ লেখনীধর রবীন্দ্রনাথ (প্রথম পর্ব) : শুভাশিস মণ্ডল”

  1. পৃথা চট্টোপাধ্যায় says:

    ভালো লাগল। অনেক অজানা বিষয় জানলাম।

  2. Sutapa Chakraborty says:

    সমৃদ্ধ হলাম। এই প্রসঙ্গে কবিগুরুর কোটেশনগুলো যেন নতুন মাত্রা পেল । অন্তর দিয়ে অনুভব করলাম সেই সময়েও পুজোর প্রাক্কালে শারদ সংখ্যা প্রকাশের সামগ্রিক পরিস্থিতি। তোর লেখা সবসময়ই তথ্যবহুল হয়। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি।

  3. NRIPEN GAINE says:

    অনেক না জানা বিষয়বস্তু সম্পর্কে জ্ঞাত হলাম। ধন্যবাদ দাদা।

  4. Mausumi Majumdar says:

    খুব ভালো হয়েছে…. অনেক তথ্য জানা গেল… লেখাতে পরিশ্রমের ছাপ স্পষ্ট…. রবীন্দ্রনাথের ‘ লিখি কিছু সাধ্য কী’ প্রবন্ধটি পড়বার আগ্রহ জন্মাল…

    • Subhasis Mandal says:

      ‘লিখি কিছু সাধ্য কী’… কবিতার আঙ্গিকে লেখা…

      লিখি কিছু সাধ্য কী

      লিখি কিছু সাধ্য কী!
      যে দশা এ অভাগার লিখিতে সে বাধ্য কি।
      মশা-বুড়ি মরেছিল চাপড়ের যুদ্ধে সে—
      পরলোকগত তার আত্মার উদ্দেশে
      আমারি লেখার ঘরে আজি তার শ্রাদ্ধ কি!
      যেখানে যে কেহ ছিল আত্মীয় পরিজন
      অভিজাতবংশীয় কেহ, কেহ হরিজন—
      আমারি চরণজাত তাহাদের খাদ্য কি!
      বাঁশি নেই, কাঁসি নেই, নাহি দেয় হাঁক সে,
      পিঠেতে কাঁপাতে থাকে এক-জোড়া পাখ সে—
      দেখিতে যেমনি হোক তুচ্ছ সে বাদ্য কি।
      আশ্রয় নিতে চাই মেলে যদি shelter,
      এক ফোঁটা বাকি নেই নেবু-ঘষা তেলটার—
      মশারি দিনের বেলা কভু আচ্ছাদ্য কি!
      গাল তারে মিছে দিই অতি অশ্রাব্য,
      হাতে পিঠ চাপড়াব সেটা যে অভাব্য—
      এ কাজে লাগাব শেষে চটি-জোড়া পাদ্য কি।
      পুজোর বাজারে আজি যদি লেখা না জোটাই,
      দুটো লাইনেরো মতো কলমটা না ছোটাই—
      সম্পাদকের সাথে রবে সৌহার্দ কি।

      [ ‘লিখি কিছু সাধ্য কী’ —‘প্রহাসিনী’ সংযোজন ]

    • Subhasis Mandal says:

      প্রবন্ধ নয়, কবিতার আঙ্গিকে লেখা…

      লিখি কিছু সাধ্য কী

      লিখি কিছু সাধ্য কী!
      যে দশা এ অভাগার লিখিতে সে বাধ্য কি।
      মশা-বুড়ি মরেছিল চাপড়ের যুদ্ধে সে—
      পরলোকগত তার আত্মার উদ্দেশে
      আমারি লেখার ঘরে আজি তার শ্রাদ্ধ কি!
      যেখানে যে কেহ ছিল আত্মীয় পরিজন
      অভিজাতবংশীয় কেহ, কেহ হরিজন—
      আমারি চরণজাত তাহাদের খাদ্য কি!
      বাঁশি নেই, কাঁসি নেই, নাহি দেয় হাঁক সে,
      পিঠেতে কাঁপাতে থাকে এক-জোড়া পাখ সে—
      দেখিতে যেমনি হোক তুচ্ছ সে বাদ্য কি।
      আশ্রয় নিতে চাই মেলে যদি shelter,
      এক ফোঁটা বাকি নেই নেবু-ঘষা তেলটার—
      মশারি দিনের বেলা কভু আচ্ছাদ্য কি!
      গাল তারে মিছে দিই অতি অশ্রাব্য,
      হাতে পিঠ চাপড়াব সেটা যে অভাব্য—
      এ কাজে লাগাব শেষে চটি-জোড়া পাদ্য কি।
      পুজোর বাজারে আজি যদি লেখা না জোটাই,
      দুটো লাইনেরো মতো কলমটা না ছোটাই—
      সম্পাদকের সাথে রবে সৌহার্দ কি।

      [ ‘লিখি কিছু সাধ্য কী’ —‘প্রহাসিনী’ সংযোজন ]

  5. রাজন গঙ্গোপাধ্যায় says:

    ভালো লাগল।দ্বিতীয় পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।এ-লেখা এক তুলনামূলক ভাবে কম আলোচিত বিষয়ে আলোকপাত করেছে।

  6. সবিতা মণ্ডল says:

    সাধারণের কাছে, রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে এখনো কত অজানা তথ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানান গ্রন্থে। সেসব না জানা কথা, গবেষকরাই পারেন সর্বসমক্ষে তুলে ধরতে।
    রবীন্দ্র-গবেষকের রবীন্দ্র-চর্চা, তাঁকে নানা ভাবে পুনরাবিষ্কার চলতে থাকুক। আমরা, সাধারণ পাঠকেরাও অনেক নতুন নতুন তথ্যাদি জানতে পারবো, যা আগে সেভাবে আমরা জানতাম না!

  7. Susmita Banik says:

    ভালো লাগল। অনেক কিছু জানা গেল।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev