বিশ্ব জলবায়ু সন্মেলনের সূত্রে সামনে এল এক অস্বস্তিকর তথ্য। তা হল, কয়লা থেকে তৈরি হওয়া দূষণের ১৫ শতাংশ করে বিশ্বের চারটি দেশ— ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। পরিবেশ দূষণ নিয়ে হৈচৈ প্রবল হওয়ার সুবাদে সবাই জেনে ফেলেছেন কয়লা হল বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানি। যে পরিবেশ দূষণ নিয়ে বিশ্ব জলবায়ু সন্মেলন বা COP 26 এ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হল কয়লাই তার সবচেয়ে বড় উৎস। ২০৫০ এর মধ্যে বিশ্বে কার্বন নিঃসরণ শূন্য করতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার একেবারে বন্ধ করতেই হবে। এবারের সন্মেলন সেই লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে। এ কাজে ওপরের চারটি দেশকে সহায়তা করার জন্য বহু কোটি ডলারের একটি প্রাথমিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আর্থিক দুর্বলতার জন্য এই চারটি দেশ পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না তাই এই সহায়তা। প্রকল্পটির নাম অ্যাকসিলেটারিং কোল ট্রান্সফর্ম প্রোগ্রাম বা অ্যাক্ট।

‘নেট জিরো এমিশন’ এখন শুধু আর একটা কথার কথা নয়, সেটা একটা নির্দিষ্ট টার্গেট। নরেন্দ্র মোদির কাজটা তাই আরও কঠিন। এখন দেশকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে অন্তত ৫০ শতাংশ পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎস বা সম্পদগুলি থেকে। সোজাকথায় বিদ্যুৎ ক্ষেত্রকে দ্রুত কার্বনমুক্ত করার রাস্তায় হাঁটতে হবে। কাজটা বেশ কঠিন কারণ কয়লা সহ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এক্ষেত্রে অনেক বেশি। এ কাজে সফল না হলে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অধরা থেকে যাবে। বিদ্যুৎ এবং শিল্প এই দুটো জায়গা দেশের কার্বন নিঃসরণের দুটি প্রধান উৎস তাই নেট জিরো টার্গেট অর্জন বস্তুত দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থারও পরিবর্তন।

খুব কঠিন টার্গেট কিন্তু এছাড়া উপায়ও নেই। জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করতে হলে এক্ষেত্রে শুধু রাষ্ট্র বিনিয়োগ বন্ধ করলেই হবে না, বন্ধ করতে হবে এক্ষেত্রে বেসরকারি এবং বিদেশি বিনিয়োগ। এমনকি তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ আহরণ ও সরবরাহ করার ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় সহায়তা এবং পরিকাঠামো ব্যবহার করাও বন্ধ করতে হবে। এটা মুখে বলা যতটা সহজ, কাজে করা ততটাই কঠিন। জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যখন বাড়ছে ঠিক তখনই বেশ কিছু দেশ তা নিজের দেশে কম দামে পাওয়ার ব্যাপারে ওকালতি করছে। পরিবেশবিজ্ঞানীরা বলছেন, রাষ্ট্রকে বাড়িতে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং জ্বালানি ব্যবহার করার জন্য ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করতেই হবে। নাহলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমবে না। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।