মানুষের লোভের গ্রাসে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে চোদ্দটি প্রজাতির পাখি। পক্ষী বিশেষজ্ঞদের মতে একমাত্র না হলেও পাখিদের সংখ্যা কমার এটা একটা বড় কারণ। পক্ষীবিদদের মতে প্রায় ৪৮টি প্রজাতির পাখির সংখ্যা কমেছে। ৯জন বিখ্যাত পক্ষী বিশেষজ্ঞ দীর্ঘদিন গবেষণা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে প্রাকৃতিক বাসস্থানগুলি ধ্বংস হওয়ার কারণে বিপন্ন পক্ষীকুল। নতুন বাসস্থানের খোঁজে তারা ছাড়ছে চেনা জায়গা। একসময় যেখানে তাদের প্রচুর সংখ্যায় দেখা যেত এখন সেখানে আর তাদের দেখা যাচ্ছে না। একশ্রেণীর মানুষের পক্ষী মাংসপ্রীতিও তাদের বিলুপ্ত হওয়ার একটা বড় কারণ।

স্টেট অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস বার্ডস নামে যে রিপোর্টটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে পক্ষীকুলের ১০,৯৯৪টি স্বীকৃত প্রজাতির মধ্যে অর্ধেকের বেশি নিজেদের বাসস্থানে মানুষের অনুপ্রবেশ, জবরদখল ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিপন্ন। শুধু মানুষের হামলাই নয়, প্রাকৃতিক কারণেও তাদের বাসা বাঁধা, বংশবৃদ্ধি ও বিচরণের জায়গা কমেছে। এর পাশাপাশি মাংস, ওষুধ বিষুধ তৈরি করার ফলেও বিপন্ন হয়ে পড়েছে পক্ষীকুল।

যে প্রজাতিগুলি এই লাগাতার আক্রমণ সহ্য করে এখনও টিঁকে রয়েছে তার মধ্যে ৩৭ শতাংশ বিপন্ন তাদের খাঁচাবন্দী করার কারণে। সমীক্ষায় দেখা গেছে পৃথিবীতে এখনও অবধি টিঁকে থাকা পাখিদের মধ্যে ৪৮ শতাংশরই যে সংখ্যা কমেছে এটা খোলা চোখেই দেখা যাচ্ছে। কারণ এখন আর তাদের বাসস্থানগুলিতে তেমন দেখা যায়না। আরও ৩৯ শতাংশ পক্ষী প্রজাতি আগের জায়গাতেই আছে। এদের বিশেষ বাড়া বা কমা চোখে পড়েনি। বেড়েছে মাত্র ৭ শতাংশ পক্ষী প্রজাতি। পাখি দেখা পক্ষী সংরক্ষণের একটা বিশেষ দিক তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এর কিছু স্থানীয় নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। সব মিলিয়ে মানুষ ও প্রকৃতি এই দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণ বিপদ ডেকে আনছে পাখিদের।