ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব ১৮৬৮ সালে দ্বিতীয়বার কাশী ভ্রমণ ও বিশ্বনাথ দর্শনে এসে মথুর বাবুর বন্ধু জমিদার কালীনাথ বাপুলির বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন।
এই বাড়ী কাশীর কেদার ঘাটের পাশে গঙ্গার তীরে অবস্থিত।
বাপুলি পরিবার ঠাকুরকে তাঁর কাশী অবস্থান কালে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ভক্তি সহকারে সেবা যত্ন করেছিলেন। কালীনাথ বাপুলি, রাজাবাবু নামে বেশি পরিচিত ছিলেন। রাজাবাবু, ঠাকুরের ব্যবহারের জন্য আগে থেকেই একটি চন্দন কাঠের চৌকি বানিয়ে রেখে ছিলেন। সেই বাড়িতে থাকাকালে ঠাকুর ওই চৌকিতে বিশ্রাম করতেন।
বাপুলি পরিবার একজোড়া কাঠের খড়ম ঠাকুরের পায়ে স্পর্শ করিয়ে তাদের ঠাকুর ঘরে রেখে দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৫৫ বছর ধরে বাপুলি পরিবার ওই চন্দন কাঠের চৌকি এবং খড়ম তাদের ঠাকুর ঘরে পবিত্র স্মৃতি হিসাবে সংরক্ষিত ও পূজা করে আসছিলেন।
আজ অর্থের অভাবে তাদের ভগ্নপ্রায় অট্টালিকা, যার নাম রেখেছিলেন তারা “শ্রীরামকৃষ্ণ পাদুকা ভবন”, তা বিক্রি করতে বাধ্য হলেন। তবে বাড়ী ছাড়ার আগে তারা ঠাকুরের স্পর্শপূত সেই চন্দন কাঠের চৌকি এবং খড়ম রামকৃষ্ণ মিশনকে হস্তান্তর করে গেলেন।
বর্তমানে বেলুড় মঠের নির্দেশিকা মতন এই জিনিস গুলি বেলুড় মঠে পাঠিয়ে দেওয়া হল, মঠের মিউজিয়ামে তা সংরক্ষিত রাখা হবে। আশ্রমের সাধু মহারাজ এবং ভক্তদের দুর্লভ সুযোগ হলো ঠাকুরের স্পর্শপূত বস্তু দুটিতে মাথা রেখে প্রণাম করার।
বাপুলী পরিবারের কনিষ্ঠ পুত্র শ্রী সত্যজিৎ বাপূলি জানালেন — আমরা অনেক দিন থেকেই ঠাকুরের পাদুকা ও চৌকি নিয়ে ভাবনায় ছিলাম। শেষ মেষ একটা পথ বেরোলো, আমরাও নিশ্চিন্ত হলাম। বর্তমানে এই বিরাট বাড়ি কে রক্ষণা বেক্ষণ করা কঠিন। বাড়ি প্রায় ভগ্ন, কারুর থাকা কঠিন হয়ে উঠছিল বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হই। মঠের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কৃতজ্ঞতা : জয়দেব দাস, কাশী