সমৃদ্ধি থেকে পতন — অষ্টাদশ শতকের বাংলা
পঞ্চম অধ্যায়
এশিয় ব্যবসায়ী এবং ইওরোপিয় কোম্পানি
আমাদের কী তাহলে বুঝে নিতে হবে, পণ্য কেনার পদ্ধতি পরিবর্তনে, অর্থাৎ দাদনি থেকে গোমস্তাপদ্ধতি আত্মীকরণ করার দিকে যেতে কলকাতা কাউন্সিলের কর্তারা উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে তাড়াহুড়ো করতে চাইছিলেন কারণ তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবসা ঢালের দিকে গড়াচ্ছিল, এবং তাকে টেনে তোলারও চেষ্টা ছিল এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে? পঞ্চাশের দশকের প্রথম থেকেই কলকাতার কর্তারা, কোম্পানির বাইরে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবসার অঙ্ক কমতে থাকায় চিন্তিত ছিলেন। ১৭৫৩ সালে ম্যানিংহ্যাম এবং ফ্রাঙ্কল্যান্ড ক্লাইভকে লিখলেন আপনি চলে যাওয়ার পরে আমাদের ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ হয়েছে [… the situation of trade since you left us has continued so bad (Eur. G37, Box 27, 1 Sept. 1755)]। ফলে আমরা কি সিদ্ধান্ত করতে পারি না, দাদনি ব্যবস্থা থেকে গোমস্তা ব্যবস্থায় সরে যাওয়া জন্যে কলকাতা কাউন্সিলের আগ্রহের একমাত্র কারণ ছিল, দাদনি বণিকদের তাড়িয়ে কোম্পানি বাণিজ্যের পাশাপাশি, আমলাদের পতন ঘটতে থাকা একচ্ছত্র ব্যক্তিগত ব্যবসাকে আবার লাভের অঙ্কে ফেরত আনা? গোমস্তা ব্যবস্থায় দস্তকের অপব্যবহার বেড়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় কোম্পানির আমলাদের ব্যক্তিগত ব্যবসার পরিমানও বাড়তে থাকে। ঘটনাটা ঘটতে পেরেছিল দাদনি ব্যবস্থা থেকে গোমস্তা ব্যবস্থায় সরে যাওয়ার ফলেই (N.K. Sinha, Economic History of Bengal, vol. 1, pp. 8-9)। আজ আমরা প্রায় সক্কলে জানি পলাশীর পরে কোম্পানির স্বার্থ-সামর্থ রক্ষায় কীভাবে গোমস্তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছিল।
আমরা বহু প্রাসঙ্গিক উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি যে বাংলার ব্যবসায়ীদের, বিশেষ করে কলকাতার দাদনি বণিকদের সামগ্রিক ব্যবসা সামর্থের বিন্দুমাত্র পতন ঘটে নি। ১৭৫০-এর দশকেও শেঠ আর বসাকেরা কলকাতার অগ্রণী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। চুঁচুড়ায় হরিকৃষ্ণ রায় ডাচ কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থ। এ প্রসঙ্গে আরও একটা গুরুত্বপুর্ণ তথ্য হল, বাংলায় তখন চরম অনিশ্চয়তার পরিবেশ — যুদ্ধ, মারাঠি দস্যুতা আর ধ্বংসকাণ্ডের মধ্যেও বাংলার পুঁজি আর ধারের বাজার বিন্দুমাত্র টসকায় নি কারণ জগতশেঠের গদি তার বিপুল সম্পদ নিয়ে আর্থিকভাবে স্থির হয়ে অর্থনৈতিক কাজকর্ম চালাচ্ছিল। আমরা তথ্য দিয়ে প্রমান করতে পারি, জগতশেঠের গদি সে সময় বাংলার এশিয় এবং ইওরোপিয় বণিক/কোম্পানিকে বিপুল পুঁজি সরবরাহ করেছে। ১৭৫০-এর দশকের শেষের আগে জগতশেঠের গদির আর্থিক প্রাচুর্য প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে নি। এই গদি কলকাতার দাদনি বণিকদেরও পুঁজি সরবরাহ করত (BPC, vol. 12, f. 263, 26 Sept. 1737; vol 22, f.345vo, Annex. To Consult., 26 Oct. 1749)। যখন উমিচাঁদ এবং খাজা ওয়াজিদের মত বড় ব্যবসায়ী (merchant princes) বাংলাকে কেন্দ্র করে বিপুল বিশাল বাণিজ্য সাম্রাজ্য চালিয়ে বাংলা ব্যবসা ব্যবস্থায় বিপুল ভূমিকা পালন করছে, সে সময় এদের সঙ্গে কলকাতা ব্যবসায়ীদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আজ আর গল্পকথা নয়, সে সময় সামগ্রিকভাবে বাংলাজোড়া ব্যবসায়ীর ব্যবসা পতনের তত্ত্ব অসত্য, অগ্রহনীয়।
বাংলার ব্যবসায়ীরা বংশগতভাবে জাতি গোষ্ঠীর নির্দেশিত ব্যবসা করতেন। বহু প্রজন্ম ধরে এই ব্যবসায়িরা ইওরোপিয় কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেছেন সুনামের সঙ্গে। কলকাতায় শেঠ আর বসাক, কাশিমবাজারে কাটমা জুগদিয়ায় মল্লিক পরিবার এই কাজে বংশপরম্পরায় জুড়েছিলেন। ব্যবসা বাড়ায় বহু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী তাঁত চালানোর কাজ ছেড়ে বাজার বুঝে ব্যবসায়ী হয়েছেন। যেহেতু জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সুদৃঢ় ছিল, তাই ইওরোপিয় কোম্পানি অথবা অন্যান্য এশিয় ব্যবসায়ীর সঙ্গে যৌথভাবে দরকষাকষি করে, নিজেদের দেওয়া শর্তে স্থির হয়ে যৌথভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সহজ ছিল। বাংলার প্রায় প্রত্যেক ব্যবসায়িক এলাকাতেই গোষ্ঠীবদ্ধতা গড়ে ওঠে। কলকাতা কাউন্সিল ২৩ জুন ১৭৫৩ সালে দাদনি বণিকদের বরখাস্ত করার সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানির খাতায় যে মন্তব্যটি নথিবদ্ধ করে সেটি হল, নিশ্চিতভাবে ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি রাতে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছে [it is certain the merchants have assembled themselves of a night lately (Ibid., vol. 26, f. 18lvo, 23 June 1753.)]। ১৭৫৪ সালে রেশম বস্ত্র শ্রেণীবদ্ধকরণ, গুণমান নির্ধারণ এবং দাম নিরূপনের (sorting and pricing) দরকষাকষিতে কাশিমবাজার কুঠি ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিভঙ্গী জানতে চেয়ে লিখল, তারা আমাদের আলাদা আলাদাভাবে জানিয়েছে তদের পঞ্চ বা সমিতি ঠিক করেছে যে…তারা [they all sent us word separately that what the Punch/or Whole Body assembled/ agreed to, they would …( Fact. Records, Kasimbazar, vol. 12, 21 Feb. 1754)]। ব্যবসায়ীদের সঙ্ঘবদ্ধতা এবং চুক্তি অনুসারে সাধারণ কর্মসিদ্ধান্তে (common agreement) স্থির থাকার একটা উদাহরণ দেওয়া যায় ১৭৫৪ সালের ২১ অক্টোবরের কাশিমবাজার কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের মন্তব্যে আমাদের ব্যবসায়ীরা যৌথ সিদ্ধান্ত পঞ্চের চুক্তিতে উপনীত হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা ১৭৫২-তে পণ্য কম সরবরাহ করার জন্যে যে ১০ শতাংশ জরিমানার নির্দেশ আমরা চাপিয়েছিলাম, সেটা স্বীকার করছে না, এবং আমরা যদি একজনকেও বরখাস্ত করি, তাহলে তারা যৌথভাবে পদত্যাগ করবে, আর যদি এই চুক্তি থেকে যদি কেউ বেরিয়ে আসে, তাহলে সে বা তারা শুধু জরিমানাই দেবে না অন্যান্য সরকারি বিধিনিষেধও মানতে বাধ্য থাকবে (Our merchants having entered into and signed a punch or agreement whereby they are bound not to allow of our taking the 10 percent penalty for the short delivery of goods in the year 1752, and that in case of our discharging any of them from our Employ, the whole body should quit our Business, and that any one or more, should for private ends violate these agreements, he or they should be liable to pay a penalty both to the merchants dismissed and to the Government with several other restrictions(Ibid., vol. 12, 21 Oct. I 754)।
বড় ব্যবসায়ী (Merchant Princes) দের ভূমিকা
বাংলার ব্যবসা জগতের অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধের শেষ তিন দশকের অর্থনীতির একটা বড় অংশের ভিত্তি ছিল তিন বড় ব্যবসায়ী (merchant princes) জগতশেঠ, প্রখ্যাত উমিচাঁদ [আমীর চাঁদ] এবং আর্মেনিয় ব্যবসায়ী খাজা ওয়াজিদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ব্যবসার অর্থনীতি। সেই শতকের প্রথম থেকে জগতশেঠের গদি বাংলার অর্থজগতে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে। শতকের তৃতীয় দশকে উমিচাঁদ এবং খাজা ওয়াজেদ চতুর্থ দশক থেকে বাংলার ব্যবসা-অর্থনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করেন। এই তিন মহাজন ব্যবসায়ী বাংলার আর্থ-প্রশাসনিক এবং ব্যবসা জগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বাংলার যে পুঁজির বাজার, সরকার এবং ব্যবসায়ীদের পুঁজির সরবরাহ করত, সেই বাজার কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ছিল এই তিন ব্যক্তির হাতের লাগামে। তারা পণ্য ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক সুযোগসুবিধে দেওয়া মার্ফত বাংলার ব্যবসা এবং শিল্প জগতের নিয়ন্তা হয়ে ওঠেন। মহাজন ব্যবসায়ী এবং প্রশাসক হিসেবেও কোম্পানিগুলির অন্দরমহলে অবাধ গতি ও নিয়ন্ত্রণ ছিল। পুঁজির/ধারের বাজারে নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রা ছাপানোয় নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানি পণ্য দ্রব্য আর আমদানি পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণের ফলে ইওরোপিয় কোম্পানিগুলি তাদের আশেপাশে থাকতে বাধ্য হত। এতদসত্ত্বেও বলা দরকার মোটের ওপর তাদের ব্যবসা, সামাজিক সম্মান-গুরুত্ব ইত্যাদি নিয়ন্ত্রিত হত নবাবের দরবারে তাদের প্রভাবেরমাত্রার ওঠা-পড়ার ওপর নির্ভর করে। অষ্টাদশ শতকের চার আর পাঁচ দশক জুড়ে তাদের ব্যবসায়িক গদির চরিত্র অনেকটা রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেছে।
তবে জগতশেঠের ব্যবসা ইওরোপিয় কোম্পানির সম্পদের ওপর খুব বেশি নির্ভর করত না। তাদের গদির সঙ্গে ইওরোপিয় কোম্পানিগুলির সরাসরি যোগাযোগ গড়ে ওঠে টাঁকশালে পরিবারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং একই সঙ্গে ইওরোপিয় কোম্পানিগুলির ব্যবসা চালাবার জন্যে নগদ পুঁজির চাহিদার উদ্দেশ্যে। ইওরোপিয় কোম্পানিগুলি বাংলায় যে বিপুল পরিমান দামি ধাতু আর মুদ্রা আমদানি করত সেই ধাতুগুলি মুদ্রায় রূপান্তরিত করে আর মুদ্রাকে একচেটিয়াভাবে বাজার জাত করে বিপুল সম্পদ তৈরি করতে পেরেছিল শেঠেরা। তাদের আরেকটি বড় রোজগার ছিল ইওরোপিয় কোম্পানিদের পুঁজি অপ্রতুলতা সূত্রে। কোম্পানিকে নির্দিষ্ট পরিমান পুঁজি ধার দিয়ে তার থেকে পাওয়া সুদও ছিল বড় রোজগার। বাংলায় কলকাতা, কাশিমবাজার, ঢাকা, হুগলী পাটনা ইত্যাদি শহরে জগতশেঠের কুঠি থেকে ইওরোপিয় কোম্পানিগুলি নিরবিচ্ছিন্নভাবে নিয়মিত পুঁজি ধার করেছে। পাঁচের দশকে বাংলায় কোম্পানি আমলা রবার্ট ওরমে (Robert Orme) জগতশেঠকে বর্ণনা করছেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ স্রফ আর মহাজন (ব্যাঙ্কার) হিসেবে the greatest shroff and banker in the known world (Orme Mss., India, VI, f.1455)। ক্যাপ্টেন ফেনউইক তার affairs of Bengal in 1747-48-এ জগতশেঠ মহতাব রাই সম্বন্ধে লিখছেন নবাবের মনপসন্দ মানুষ এবং লোম্বার্ড স্ট্রিটে যর বড় বড় ব্যাঙ্কার আছে তাদের সবার মিলিত ক্ষমতার থেকেও বড় (favourite of the Nabob and a greater Banker than all in Lombard Street joined together (Ibid., f. 1525)। ক্লাইভকে ১৭৫৭ সালে লুক স্ক্রাফটন লিখছেন, প্রকারান্তরে জগতশেঠ সরবারের ব্যাঙ্কার/মহাজন – মোট রাজস্বের ২/৩ অংশ তাঁর বাড়ির গদিতে জমা পড়ত; সরকার তাঁকে ব্যাঙ্কারদের যেভাবে ড্রাফট দেওয়া হয়, সেভাবে তাকে ড্রাফট দিয়ে টাকা আদায় করত [Juggutseat is in a manner the government’s banker: about two-thirds of the revenues are paid into his house, and the govenment give the draught [draft] on him in the same manner as a Merchant on the Bank(Orme Mss., India XVIII, f. 5041)]। বাংলার তিন বড় ব্যবসায়ীর সম্বন্ধে, বিশেষ করে জগতশেঠ সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে ক্লাইভ লিখছেন, মুর্শিদাবাদ শহর ছিল বিস্তৃত লন্ডনের মত ধনী, ঘণবসতির আর ধনী, কিন্তু পার্থক্য হল লন্ডনের থেকে অসীম ধনসম্পদওয়ালা মানুষ এই ষরে বাস করতেন [The city of Murshidabad is as extensive, populous and rich, as the city of London, with this difference that there are individuals in the first possessing infinitely greater property than any of the last city (Quoted in J.H. Little, The House of Jagatseth, p. 2)]।
মারোয়াড় অঞ্চলের নগর শহরের বাসিন্দা শেঠ পরিবারের দুই ভাই মানিকচাঁদ এবং ফতেহচাঁদ বাংলায় মহাজনি ব্যবসা করে তাদের গদির সম্মান আর ক্ষমতাকে এমন এক উচ্চতায় তুলে নিয়ে যান যে ভারত সম্রাট ১৭২২ সালে তাদের জগতের মহাজন (শেঠ) উপাধি দিতে বাধ্য হয়। এই উপাধি তারা বংশপরম্পরায় উপাধি হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন, সম্রাটের অনুমতিক্রমে। ১৭৪৪ সালে মৃত্যুর আগে ফতেহচাঁদ ৩০ বছর ধরে আর্থিক ব্যবসায় নেতৃত্ব দিয়ে জগতশেঠ পরিবার/গদিকে বাংলার আর্থিক, সামাজিক এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের কেন্দ্রস্থলে বসিয়ে বিপুল মান ও মর্যাদা অর্জন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর দুই পৌত্র জগতশেঠ মহতাব রাই এবং মহারাজা স্বরূপচাঁদ তাদের গদির হাল ধরেন (Fact. Records, Kasimbazar, vol. 7, 3 Jan’. 1745; BPC, vol. 17, f. 437, 4 Jan. 1745; C&B. Ahstr., vol. 5, f. 28, para. 49, 9 Jan. 1745)। জগতশেঠেদের গদির মুল রোজগারের ক্ষেত্রগুলো ছিল মুর্শিদাবাদ এবং ঢাকা টাঁকশালের নিয়ন্ত্রণ, সুবার রাজস্বের দুয়ের তিন অংশ সংগ্রহ, তাদের ধার্য করা মুদ্রার বিনিময়ের হার, ধার দেওয়া সম্পদের ওপর অর্জিত সুদ, bill-broking and the provision of credit। ১৭২০ সাল নাগাদ শেঠেরা টাঁকশালে মোটামুটি একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম করে, অবশ্যই বাংলার সুবাদার-নবাব মুর্শিদকুলির সক্রিয় সাহায্যে। ১৭২১ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কাউন্সিল লিখছে, ফতেহচাঁদ টাঁকশা পরিচালনায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে এবং অন্য স্রফেরা এক আউন্সও রূপোকেনার গুস্তাখি করে না […Futtichund having the entire use of the mint, no other shroff dare buy an ounce of silver (BPC, vol. 4, f. 462vo, 9 Nov. 1721)]। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় টাঁকশালের নিয়ন্ত্রণ পাবার জন্যে সব ধরণের চেষ্টা করছিল। তারা কাশিমবাজার কাউন্সিলকে এ বাবদে নবারের থেকে অধিকার অর্জনের জন্যে লবি করতে নির্দেশ দেয়। কাউন্সিল দরবারের উচ্চপদস্থ কিছু আমলার সঙ্গে দরকষাকষি শুরু করে কিন্তু জানতে পারে নবাবের সঙ্গে ফতেহচাঁদের সুমধুর সম্পর্কের ফলে ব্রিটিশদের টাঁকশালের অধিকার পাওয়া যেমন না-মুমকিন তেমনি অন্য কোনও স্রফের একটাও মুদ্রা কেনারও ক্ষমতা নেই (are informed that while Futtichund is so great with the Nabob, they can have no hopes of that Grant, he alone having the sole use of the mint nor dare any other shroff or merchant buy or coin a rupee’s worth of silver (Ibid., vol. 4, f. 438vo, 28 Aug. 1721.)। টাঁকশালে জগতশেঠেদের একচেটিয়া আধিপত্য বিষয়ে আমার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি ওম প্রকাশ বলেছেন, আমার এই ভাবনার আমূল পরিবর্তন দরকার। কিন্তু আমি এখানে এবং চতুর্থ অধ্যায়ে যে সব উদাহরণ দিলাম, তাতে আমার যুক্তিটাই প্রতিষ্ঠিত হয়, ওম প্রকাশের নয় cf Om Prakash, ‘On Coinage in Mughal India’, IESHR, 25, 4, (1988), p. 487)। (চলবে)