| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ফ্রম প্রস্পারিটি টু ডিক্লাইন — এইটিনথ সেঞ্চুরি বেঙ্গল : সুশীল চৌধুরী, (৩২নং কিস্তি) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ২০৪ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

সমৃদ্ধি থেকে পতন — অষ্টাদশ শতকের বাংলা

পঞ্চম অধ্যায়

বড় ব্যবসায়ী (Merchant Princes) দের ভূমিকা

বর্গীদের পথ দেখিয়ে বাংলায় আনে মীর হাবিব। প্রত্যেকবার মীর হাবিবই বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের লুঠ-খুন-অত্যাচার করতে প্রণোদিত করে। ১৭৪২ সালে মীর হাবিবের উদ্যোগে মারাঠা বর্গিরা মুর্শিদাবাদ শহর আর শহরে জগতশেঠের প্রাসাদে চকিত আক্রমণ শানায়। লুঠ সামগ্রির সঙ্গে জগতশেঠের সিন্দুক থেকে ২ কোটি টাকা (মুজফফরনামার লেখক করম আলির মতে ৩ কোটি টাকা) লুঠে নিয়ে গেল (প্রাবাদ আছে মারাঠি দস্যু মির হাবিব জগতশেঠদের কুঠি থেকে ২ কোটি টাকার আর্কট রূপাইয়া লুঠ করে নিয়ে গেলে সে সময়কার ঐতিহাসিকেরা বলছেন লুঠের পর এই দুই ভাইএর লোকসান হল যেন খড়ের গাদা থেকে মাত্র দুআঁটি খড় চুরি হয়েছে। দিল্লিতে চড়াও হয়ে যখন আহমদশাহ আবদালি লুঠপাঠ করছেন, তখনও দেওয়ানই-আমের দরবারে কাবুলি নরপতির কাছে একমাত্র সম্মানিত ব্যক্তি জগতশেঠের উকিল, কেননা আমীর ওমরাদের কাছ থেকে যে টাকা আদায় করা হচ্ছে তার জামিন হতে পারেন একমাত্র জগতশেঠ — অনুবাদকের সংযোজন)। এই ঘটনায় উদ্বেলিত হয়ে সায়ের মুতক্ষরিণের অনুবাদক লিখছেন এই পরিমান আর্কট মুদ্রায় লুঠ ইওরোপের কোন দেশে হলে তার প্রতিক্রিয়ায় যে কোন সম্রাট বা ব্যবসায়ী ধরাশায়ী হয়ে যেত, অথচ শেঠেদের এতে কোন প্রতিক্রিয়াই হল না তারা আগেরর মত প্রায়শই একলপ্তে কোটি কোটি টাকার বিল অব এক্সচেঞ্জ কাটতে লাগল, — so amazing a loss which would distress any monarch in Europe, affected him so little, that he continued to give government bills of exchange at sight of full one cror at a time (Quoted in Little, Jagatseth, p. 120; J.N. Sarkar, Bengal Nawabs, p. 29)।

জগতশেঠের গদির ক্ষমতা এবং প্রভাব এতই ব্যপ্ত ছিল যে, বাংলার ডাচ কোম্পানির প্রধান কুঠিয়ালেরা তাদের উত্তরাধিকারী কুঠিয়ালদের জন্যে মেমোয়ার বইতে অন্যান্য মন্তব্যের সঙ্গে শেঠেদের গদির সঙ্গে আবশ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার আবশ্যিক পরামর্শ লিখে যেতেন। ১৭৪৪ বাংলার ডাচ প্রধান সালে সিকটারম্যান (Sichtermann) মেমোয়ারে লিখলেন হিন্দুস্থানের প্রভাবশালীতম ব্যাঙ্কারের নাম হল জগতশেঠ ফতেহচাঁদ (voornaamsten wisselaar van geheel Hindosthan)। তার ব্যবসা দেশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। যদিও তিনি সরকারের প্রশাসনিক ব্যাপারে নাক গলান না, কিন্তু প্রশাসনের নানান শাখায় তার প্রভাব অনুভব করা যায়। শেঠেদের খুশ রাখার তরিকা বিষয়ে উত্তরাধিকারীদের প্রতি তাঁর পরামর্শ ছিল এদের নানান ধরণের ছোটখাট উপঢৌকন যেমন বিদেশি পশু, পাখি, মশলা বা অন্যান্য অদ্ভুতুড়ে জিনিসপত্র উপহার দিলে সম্পর্ক ভাল রাখা যায় (Sichtermann’s ‘Memorie’, VOC, 2629, f. 967, 14 March 1744)। সিকটারম্যানের স্থলে অভিষিক্ত হওয়া প্রধান জাঁ হুইজেনস (Jan Huijghens) ১৭৫০ সালে তার উত্তরাধিকারীকে লিখলেন, জগতশেঠের হুগলির গোমস্তা, বৈজনাথ শেঠের সঙ্গে কোম্পানির সুসম্পর্ক বজায় রাখা উচিত, তার মাধ্যমে কর্তাকে খুশিকরা তুড়ির ব্যাপার (Jan Huijghen’s ‘Memorie’, VOC, 2763, f. 467, 20 March 1750)। একইভাবে হুইজেনস-এর উত্তরাধিকারী জাঁ কারসেবুম ১৭৫৫ সালে তার মেমোয়ারে লিখলেন, জগতশেঠ ফতেহচাঁদের উত্তরাধিকারী জগতশেঠ মহতাব রাই এবং জগতশেঠ স্বরূপচন্দ তার পূর্বজদের থেকে আরও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছেন একটাই কারণে তারা বিপুল পরিমান অর্থ সরকারকে ধার দিতে পারেন। তিনি বলে যান কোম্পানির পক্ষে শেঠেদের বন্ধুত্ব একান্ত প্রয়োজনীয় (Jan Kerseboom’s ‘Memorie’, voe, 2849, ff. f28-128vo, 14 Feb. 1755)।

ডাচ কুঠির বাংলা প্রধান কারসেমবুমের পরের কুঠিয়াল লুই টেইলফার্টও (Louis Taillefert) জগতশেঠেদের হিন্দুস্থানের শ্রেষ্ঠ মহাজন হিসেবে স্বীকার করেছেন। তিনি লিখলেন, জগতশেঠ হিন্দুস্থানের শ্রেষ্ঠ মহাজন। জগতশেঠের নাম হল্যান্ডে পাঠানো চিঠিতে এতবার লেখা হয়েছে যে, অনেক সময় হল্যান্ডস্থিত ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্তাদের মনে হত এই ব্যক্তি আদৌ বাস্তবে আছেন কি না। তিনি লিখছেন জগতশেঠেদের হুগলী কুঠি শেঠ মানিকচাঁদ এবং শেঠ আনন্দচাঁদের নামে চলত, ঢাকার কুঠি শেঠ মাণিকচাঁদ এবং জগতশেঠ ফতেহচাঁদের নামে পরিচালিত হত, পাটনার কুঠি শেঠ মাণিকচাঁদ এবং শেঠ দয়াচাঁদজীর নামে ব্যবসা করত। এই তথ্যটা খুবই গুরুত্বপূর্ন যে জগতশেঠের কুঠি কিছুটা বিহার আর বাংলার সামগ্রিক মহাজন এবং টাকা নিয়ে ব্যবসা করা স্রফেদের কুঠিকে তাদের কুঠির প্রায় অধীনস্থ কুঠি বানিয়ে ফেলেছিল। যারা শেঠেদের কুঠির ব্যবসা নীতি মানত না তারা সরকারের সহায়তায় সেই সব শেঠ স্রফ ইত্যাদিদের ব্যবসায় লালবাতি জ্বালিয়ে দিয়ে ব্যবসা থেকে দূর করে দিয়েছে। বিনিময় হারের বাটা এবং বিল অব এক্সচেঞ্জের হার সরাসরি জগতশেঠের কুঠি নির্ণয় করত সরকারকে বিপুল অঙ্কের অর্থ উপঢৌকন দিয়ে (Louis Taillefert’s ‘Memorie’, voe, 2849, f. 24 7vo-248vo, 27 Oct. 1755)।

অষ্টাদশ শতকের প্রথম পাদের পাঁচ দশকে আরেক প্রবাদপ্রতীম ব্যবসায়ী উমিচাঁদ (বা আমীর চন্দ — অনুবাদক) বাংলার ব্যবসা/আর্থিক জগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আগরার ব্যবসায়ী (১৭৪৭ সালের এক নথিতে উমিচাঁদ এবং দীপচাঁদকে আজিমাবাদের বাসিন্দা আগরওয়ালা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে Fact. Records, Patna, vol. 2, 3 April 1742, আরেক নথিতে বলা হচ্ছে উমিচাঁদ আগরার প্রাক্তন অধিবাসী; বিশদ তথ্যের জন্যে দেখুন BPC, vol. 17, f. 276vo) অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয় শতক থেকে বাংলায় থিতু হয়ে ব্যবসা করতে করতে বাংলারই বাসিন্দা হয়ে যান। তিনি কলকাতায় ব্যবসা চালাতেন দাদনি বণিক বিষ্ণুদাস শেঠের সহযোগিতায়। আমরা এর আগে দেখেছি বিষ্ণুদাস একদা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যস্থ ছিলেন (Sinha, Economic History of Bengal, vol. l, p.6)। ১৭৩০-এর দশকের শুরুতেই উমিচাঁদ বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে অন্য দুজনের মত তার ব্যবসার প্রভাব মুঘল হিন্দুস্তান দুটি ভৌগোলিক এলাকায় বিস্তৃত হয় নি, তিনি ব্যবসার আওতা সীমাবদ্ধ করে রেখেছিলেন বাংলা আর বিহারের মধ্যেই। বিহারের অর্থনীতি আবর্তিত হত পাটনা দরবার আর বাজার নির্ভর করে; তাছাড়াও তার কাজের ভিত্তি ছিল কলকাতা এবং আশেপাশের এলাকা। তাঁর মূল কাজ ছিল আর্থিক ব্যবসা এবং পণ্য আদান প্রদান। ১৭৩১ সালে তাঁর এবং কোম্পানির মধ্যস্থ বিষ্ণুদাস শেঠের জোটের বিরুদ্ধে দাদনি নিয়ে দুর্ণীতির অভিযোগ ওঠে। কিন্তু কলকাতা কাউন্সিল উমিচাঁদের দাদনি দুর্ণীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে ভয় পাচ্ছিল। কারণ তাদের ধারণা ছিল, উমিচাঁদের সহযোগিতা না পেলে বাংলায় ব্রিটিশ ব্যবসার সমস্যা দেখা দেবে এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে সে ফরাসিদের সঙ্গে জোট বাঁধবে। ব্রিটিশেরা তাকে আবারও দাদনির ছোটমোট অংশ দিয়ে কোম্পানির ব্যবসায় জুড়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় for fear he should leave us to go to the French or other European nations (BPC, vol. 8, f. 419, 21 July 1731; vol. 9, ff. 17vo-18, 23 March 1732)। ১৭৩৫ সালে আবারও উমিচাঁদের বিরুদ্ধে পুঁজি নিয়ে নানান দুর্ণীতির অভিযোগ তোলে কলকাতা কাউন্সিল, এবং কলকাতা কাউন্সিল আবারও সিদ্ধান্ত নেয় যে তাকে আর দাদন দেওয়া হবে না… কোম্পানি আর তাকে মার্চেন্ট হিসেবে গণ্য করবে না [not to let him have any more Dadney … and to record him disqualified ever to serve the Company as a merchant again (C&B. Abst, vol,,4, f. 82, para. 14.4, 24 Jan. 1731)]। আবারও ব্রিটিশ কাউন্সিল নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বাধ্য হয়। তারা উমিচাঁদকে আবার দাদনি বণিক হিসেবে নিজেদের ব্যবসা প্রক্রিয়ায় সামিল করে ১৭৩৯ সালে। এটা চলতে থাকে ১৭৫৩ সাল পর্যন্ত ১৪ বছর ধরে, যতদিন না দাদনি ব্যবস্থা গোমস্তা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হচ্ছে। শুধু দাদনি বণিক হিসেবেই নয় উমিচাঁদ কোম্পানির ঘাটতি পড়া পুঁজি পেতে সাহায্য করেছেন।

১৭৪৭ সালে তিনি কোম্পানির মোট বিনিয়োগের একতৃতীয়াংশ পরিমান নগদ অর্থে ধার দেন। কোম্পানিকে পুঁজি সরবরাহ করার সিদ্ধান্তে এবং উমিচাঁদকে কোম্পানির কাজকর্মে অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়ার কোম্পানির মধ্যে বিরোধ ঘনিয়ে ওঠে। কলকাতা কাউন্সিলের অধিকাংশ সদস্য উমিচাঁদের পাশে থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী সদস্য জন জ্যাকসন উমিচাঁদকে নিয়ে কোম্পানির আদেখলেপনার বিরোধিতা করে বলেন, তাকে এতটা মাথায় তোলা ঠিক হচ্ছে না (BPC, vol. 19, f. 277vo, 8 June 1747; Beng. Letters Recd,, vol. 21, ff. 2.19-20; FWIHC, vol. 1, pp. 193-94)। জ্যাকসনের জবাবে কাউন্সিলের আরেক সদস্য জন ফস্টার বললেন উমিচাঁদ আমাদের কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করার জন্যে উমিচাঁদ হিসেবে বিখ্যাত হয় নি, সে নিজের ব্যবসায় বিখ্যাত হয়েছে। তার আন্তঃদেশিয় ব্যবসার জ্ঞান এবং আর্থব্যবস্থার ওপর পকড় তাকে বাজারে নগদ অর্থ নিয়ে ডিল করা, আদর্শ মানুষে রূপান্তরিত করেছে not raised above them by this contract with us but was before their superiority, his natural and acquired capacity for business, his extraordniary knowledge of the Inland trade and his greater command of money all which qualities I think render him a proper person to deal with for ready money (BPC, vol. 20, f.109-9vo, 15 Aug. 1747)। উমিচাঁদকে শেষ পর্যন্ত ঐ বছরের মোট ব্যবসার এক-তৃতীয়াংশ অর্থাত ৯ লক্ষ টাকার বরাত দেওয়া হয় (Ibid., vol. 19, f. 298, 25.June 1747)।

কাউন্সিলের সদস্যরা জানতেন উমিচাঁদ শুধু কোম্পানির খাতায়কলমে দাদনি বণিক হিসেবেই প্রখ্যাত ছিলেন না। অন্যান্য দাদনি বণিকের মত তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোম্পানির সাহায্য ছাড়াই বিপুল ব্যবসা করতেন। সে সময়ের বড় ব্যবসায়ীদের মত তিনি যে সব পণ্য নিয়ে ব্যবসা করতেন, সেগুলোর কয়েকটির একচেটিয়াকরণ করে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ১৭৩১ সালের প্রথম দিকে কাশিমবাজারের কুঠিয়ালেরা লিখল, উমিচাঁদের গোমস্তা বেআইনিভাবে রংপুরের ফৌজদারের থেকে অর্থের বিনিময়ে সেই অঞ্চলের আফিম উৎপাদকেদের উৎপাদন দখল একচেটিয়াকরণ করেফেলেছে। ভাই দীপচাঁদ, গোমস্তা হিসেবে শ্যামজীকে দরবারে উকিল নিয়োগ করে, উচ্চপদস্থ আমলাদের বিপুল উপঢৌকন দিয়ে পারিবারিক ব্যবসায়িক স্বার্থ সুরক্ষিত করেছে (Ibid., vol. 8, ff. 400-400vo, 21 June 1731; vol. 9, f. 22vo, 3 Aprif 1732)। ১৭৩৪ সালে লন্ডনের কর্তারা লিখল উমিচাঁদ আমাদের নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য নয়(is no longer worthy of our protection (DB., vol. 105, ff. 453-54, para. 124, 11 Feb. 1732)। প্রশ্ন হল কে কার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে! বিহারের পণ্য কেনার জন্যে কোম্পানির আবার উমিচাঁদের সখ্য প্রয়োজন হল। ১৭৩০-এর শেষের দিকের থেকে ১৭৪১ পর্যন্ত উমিচাঁদ আলিবর্দি সরকারের পাটনার আমলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলতেন এবং পাটনার টাঁকশালও নিয়ন্ত্রণ করতেন (Ibid., vol. 106, f. 182, para. 39, 29 Jan. 1734)। ভাই দীপচাঁদ সরকার সারণের ফৌজদার ছিলেন। সরকার সারণ ছিল সে সময়ে সোরা উতপাদনের বিহার এবং উপমহাদেশেরও প্রধানতম এলাকা(C & B. Abstr., vol. 4, f.376, 11 Dec. 1741)। উমিচাঁদ, দীপচাঁদ এবং খাজা আহমদের ব্যবসায়িক জোট গোটা বিহারের ব্যবসা জগতের ছোট ছোট উৎপাদন এবং ব্যবসায়ীদের পরিসরও দখল করে। উমিচাঁদের উৎসাহ ছিল সোরা আর আফিম ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে। পরের দিকে সোরা আর আফিম ব্যবসার একচেটিয়া দখল নেন (BPC, vol. 17, f. 769, 16 Dec. 1744)। ব্রিটিশ কোম্পানিকে তিনিই সোরা সরবরাহ করতেন। বিহার প্রশাসন এবং সোরা উতপাদকেদের ওপর তাদের প্রভূত নিয়ন্ত্রণের জন্যে উমিচাঁদ, দীপচাঁদ বিহার উৎপাদন এবং ব্যবসায় প্রায় একচেটিয়া ব্যবসা কায়েম করে ফেলেছিলেন (Home Misc. Series, vol. 192, f. 64)।

মুর্শিদাবাদের বাংলা প্রশাসনেও উমিচাঁদের ব্যাপক পকড় ছিল। ১৭৩৫ সালে যখন কোম্পানি দাদনি বণিকদের তালিকা থেকে উমিচাঁদের নাম মুছে দিচ্ছে, সে সময় আলিবর্দি খাঁয়ের ভাই হাজি আহমদ, দরবারে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণতম মানুষ, উমিচাঁদের হয়ে কোম্পানিকে জানান, কোম্পানি উমিচাঁদকে নতুন করে দাদনি ব্যবসায় অন্তর্ভূক্ত করুক এবং তার জন্যে কোম্পানির সিন্দুকে যত টাকা জামিন রাখতে হয়, তিনি সেই পরিমান দেওয়ার জন্যে তৈরি (Fact. Records, Kasimbazar, vol. 5, 21 Jan. 1736)। হাজি আহমদের মত গুরুত্বপূর্ণতম মানুষের উমিচাঁদের প্রতি এই আস্থা এবং সমর্থন থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার যে প্রশাসনে তার পকড় কি ধরণের ছিল। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev