| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ফ্রম প্রস্পারিটি টু ডিক্লাইন — এইটিনথ সেঞ্চুরি বেঙ্গল : সুশীল চৌধুরী, (৫০ নং কিস্তি) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ২০১ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০২৩

সমৃদ্ধি থেকে পতন — অষ্টাদশ শতকের বাংলা

সপ্তম অধ্যায়

এশিয় সওদাগর এবং কাপড় রপ্তানি

অধিকাংশ ঐতিহাসিকই মনে করেন ইওরোপিয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিগুলো বিশেষ করে ডাচ আর ব্রিটিশেরা অষ্টাদশ শতকের প্রথম পাদে বাংলা থেকে সব থেকে বেশি কাপড় রপ্তানি করত। এবং ভাবনার বিষয় হল এই বিষয়ে ঐতিহাসিকদের একটা বড় অংশ আশ্চর্য রকমের সহমত। ইওরোপিয় কোম্পানিগুলির মূল রপ্তানি পণ্য যেহেতু ছিল কাপড়, তাই এই আলোচনায় ধরে নেওয়া হল, আমাদের আলোচ্য সময়ে, অর্থাৎ অষ্টাদশ শতকের প্রথম পাদে, একমাত্র ইওরোপিয় কোম্পানিগুলির কাপড় (এবং একই সঙ্গে সঙ্গে রেশম সুতো) রপ্তানি বাংলার অর্থনীতির মুল অক্ষদণ্ড এবং চালিকা শক্তি ছিল। এরই অনুষঙ্গে ধরে নেওয়া হয়, বাংলা নির্ভর যে সব এশিয় কাপড় এবং রেশম সুতোর রপ্তানি ব্যবসায়ী ছিলেন, তাদের রপ্তানি ক্ষমতা ইওরোপিয়দের রপ্তানির পরিমানের তুলনায় বেশি ছিল না। এই তত্ত্বায়নের দুটি (সুশীলবাবু বলেছেন দুটি, কিন্তু দিয়েছেন তিনজনের উদ্ধৃতি কীর্তি নারায়ণ চৌধুরী, আসারত্নম এবং ওম প্রকাশ) গবেষণার নির্যাস আপনাদের সামনে তুলে দিয়ে বলব যে কীভাবে এই গবেষণায় ইওরোপিয় রপ্তানিকে অযথা বিপুল গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।

প্রথম গবেষণায় বলা হচ্ছে The development of European trade with Bengal in the late seventeenth century had the effect of shifting the balance radically in favour of the seaborne trade. During the first half of the eighteenth century Europe was unquestionably Bengal’s chief trading partner and its textile industry had not only expanded at a rapid rate to keep pace with the increased demand but had also fully adjusted its output to the special specifications required for selling in Europe (নজরটান সুশীলবাবুর, K.N. Chaudhuri, Trading World, p. 24)।

আরেকজন বিশেষজ্ঞ বাংলা নয় করমণ্ডল সম্বন্ধে বলছেন, কিন্তু ইওরোপিয় কোম্পানি এবং তাদের ব্যবসা সম্বন্ধে তাঁর সাধারণ ভাবনা আপনাদের জন্যে তুলে দেওয়া গেল Before the Europeans catne into the textile market, trade in textiles was erratic, seasonal and highly unpredictable …. In such a demand situation, the weaver could work at leisure and weaving could be carried out side-by-side with cultivating the fields. This in itself contributed to keeping down the price of textiles. The increased and regular demand caused by the entry of Europeans into the market created more and steady work for weavers …. (Arasaratnam, ‘Weavers, Merchants and Company’, IESHR, vol. XVII, no. 3, p. 262, emphasjs br. m,)।

সম্প্রতি আরেকজন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ লিখছেন ইওরোপিয় ব্রিটিশ এবং ডাচ কোম্পানির কাপড় ব্যবসার জন্যে বাংলায় বিপুল রোজগার, উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং প্রায় ১ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয় (Om Prakash, Dutch Company, pp.242-48, 256. এই ধারণার পাল্টা ভাবনার জন্যে দেখুন S.Chaudhury, ‘European Companies and the Bengal Textile Industry in the Eighteenth Century : The Pitfalls of Applying Quantitative Techniques’, MAS, May 1993, pp. 321-40; Om Prakash’-এর উত্তরের জন্যে MAS-এর একই সংখ্যার pp.34l-56 দেখুন)। এই ধরণের বক্তব্যের কারণ হল প্রাথমিকভাবে বাংলা নির্ভর এশিয় বণিকদের ব্যবসা বিষয়ে সংখ্যাতাত্ত্বিক উপাত্তের অভাব এবং সর্বোপরি এই ক্ষেত্রে কাজ করা গবেষকদের ইওরোপমন্য মানসিকতা।

অবশ্যই সমুদ্র বাণিজ্যে ইওরোপিয়রা বড় ভূমিকা পালন করেছিল, এই তথ্যে কোনও ঘাটতি নেই, এর মানে এই নয় যে তারা সার্বিকভাবে বাংলাভিত্তিক এশিয় বণিকদের তুলনায় বাংলায় উৎপন্ন কাপড় রপ্তানি ব্যবসায় অনেকদূর এগিয়েছিল। ওপরে যাদের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিলাম, এবং অন্যান্যরাও উপমহাদেশের রাজপথ বাণিজ্য বিষয় নিয়ে খুব বেশি ভাবনাচিন্তা করেন নি। গবেষকেরা ধরেই নেন, মুঘল, পারসিক এবং অটোমান রাজত্ব এবং একই সঙ্গে সুরাটের মত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের পতনের ফলে রাজপথ নির্ভর বাণিজ্য ধ্বসে যায়। এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার পিছনে বড় কারণ হল তথ্যের অপ্রতুলতা, বিশেষ করে বাংলার পণ্য রপ্তানিতে কোম্পানি মহাফেজখানাগুলোয় যথেষ্ট তথ্য না থাকা। কিন্তু গুণগত এবং সংখ্যাগত যে সব তথ্য আমাদের হাতে আছে, সেই সব তথ্য নির্ভর করে (আশাকরি আগামী দিনে আমরা ইওরোপিয় এবং দেশিয় সূত্রে আরও অনেক তথ্য জোগাড় করতে পারব) দেখানো যায় যে বাংলানির্ভর বণিকদের কাপড় রপ্তানি মধ্য অষ্টাদশ শতকে ইওরোপিয় কোম্পানিগুলির তুলনায় অনেক বেশি ছিল।

আসুন আমরা ১৬৭০-এর দশকে বাংলার এশিয় ব্যবসার অবস্থাটা আঁচ করা যাক অর্থাৎ ইওরোপিয় কোম্পানিগুলি বাংলায় বড় পরিমানে পরিমান কাপড় কেনার আগের অবস্থাটা কী ছিল। ডাচ এবং ব্রিটিশ মহাফেজখানায় যে সব বর্ণনাত্মক তথ্য পাওয়া যায় সে সব নির্ভর করে সহজেই বলা যায় যে ইওরোপিয়রা বাংলায় গুরুত্বপূর্ণভাবে কাজ শুরু করার আগে এই ভূখণ্ডে খুব বড়ভাবেই কাপড় ব্যবসা চলত। বাংলার বহু কাপড় উৎপাদন অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম মালদা আড়ংএর কাপড় উৎপাদন সম্পর্কে ১৬৭০ সালের ডাচ সমীক্ষা আমাদের জানাচ্ছে জেলা থেকে ৮ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ খণ্ড কাপড় পেগু, আগরা, পারস্য ইত্যাদি অঞ্চলে রপ্তানি হত। সমীক্ষা করেছেন ডাচ কুঠিয়াল হেনরি ক্যানসিয়াস (Henry Cansius)। তিনি এই জেলার আড়ংগুলির বিশদ বর্ণনা এবং প্রত্যেক আড়ংএর রপ্তানিযোগ্য উতপাদিত পণ্যের হিসেবও দিয়েছেন (Report by Henry Cansius on Maida, 7 Sept. 1670, VOC, 1278, ff. 2173-74)। ইওরোপিয়রা বাংলার বিভিন্ন আড়ং থেকে বিপুল পরিমান কাপড় কেনার সময়ের আগের সময়ের এই সমীক্ষাটি সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে কোয়ান্টিটেটিভ ডাটার কাছাকাছি চলে যায়।

১৬৭৬ সালে প্রায় একই ধরণের সমীক্ষা ব্রিটিশ কোম্পানির পক্ষে করেছিলেন রিচার্ড এডওয়ার্ডস (Richard Edwards) মালদায় কোম্পানির কুঠি খোলার একটু আগের সময়ে। তিনি বলছেন, মালদার কাপড় উতপাদনের মূল ব্যবসা করত আগরা, গুজরাট এবং বেনারসের ব্যবসাদারেরা। তারা বছরে ১৫-১৮টা পাটেলা (চ্যাপটা পাটাতনের নৌকো) করে মালদার কাপড় বাংলার বাইরে পাঠাত। এই রপ্তানি বাণিজ্যের মুল পণ্যগুলি হল সব ধরণের খাসা, মলমল, মুণ্ডলি এবং এলাচি এবং প্রত্যেক পাটেলায় ১ লক্ষ টাকার বেশি পণ্য ধরত এবং এই পণ্যগুলির অর্ধেক আর কাঁচা রেশম যেত রাজপথে (Fact. Records, Misc., vol. 14, ff. 334-36)। অন্যভাবে বলতে গেলে এশিয় ব্যবসায়ীদের শুধুই মালদা আড়ং থেকে একমাত্র নদীপথে কাপড় রপ্তানির পরিমান ছিল ১৫ থেকে ২৫ লক্ষ এবং ৭.৫ লক্ষ থেকে ১২.৫ লক্ষ যেত(রেশম সহ) সড়ক পথে (ওম প্রকাশ এডওয়ার্ডসের সমীক্ষা ভুল পড়েছেন — তিনি লিখছেন The Edwards estimate is somewhat problematic in so far as it talks of 15 to 25 boats efch carrying goods worth about Rs 100,000, but at the same time seems to imply that only half of this value was accounted for by textiles and raw silk.’ Om Prakash ‘On Estimating the Employment Implications of European Trade for the Eighteenth Century Bengal Textile Industry’, MAS, May 1993, p.393. It is absolutely clear from the report that Edwards first talks exclusively of textile export (even specifying the types of textiles as cossaes, mulmuls, etc.) by riverine routes (and hence says ‘pattellas’ or boats) and then by land routes (‘landing’ is nothing but land) as opposed to export by rivers)। যদি ধরে নিই মালদা থেকে ভূমিপথে পণ্য রপ্তানি মূল্যের অর্ধেক ছিল রেশম পণ্য (যদিও মালদা রেশম পণ্যের জন্যে সে সময় বিখ্যাত ছিল না) তাহলে নদী এবং ভূমিপথে ১৯ লক্ষ থেকে ৩১ লক্ষের মধ্যে থাকত। তাহলে এডওয়ার্ডসের হিসেবে মালদা থেকে এশিয় ব্যবসায়ীদের ২০ থেকে ৩০ লক্ষ যা ক্যানসিয়াসের হিসেবের থেকে বেশি। দুই সম্পূর্ণ আলাদা সংখ্যাতত্ত্ব থেকে কোন নির্দিষ্ট সংখ্যায় উপনীত হওয়া খুব কঠিন, তবুও আমরা ধরে নিতে পারি ১৬৭০ সালে মালদা থেকে ১০ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার কাপড় রপ্তানি করত।

এখানে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বলা দরকার মালদা যদিও কাপড় উতপাদনে একটা গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছিল কিন্তু মুখ্য এলাকাগুলির মধ্যে গণ্য হত না। সে সময় মুখ্য এলাকাগুলির সম্মান পেত হুগলি, ঢাকা এবং কাশিমবাজার। ১৭৪৭ সালে ঢাকার কাপড় রপ্তানির মূল্য ছিল ২৮.৫০ লক্ষ টাকার (Home Misc., vol. 456F, ff. 93-95)। রোমক সময় থেকে ঢাকার সুন্দরতম কাপড় বয়নের সম্মান পেয়ে এসেছে — মূলত মসলিনের জন্যে, এখানে মিহি আর মোটা ক্যালিকোও উৎপাদন হত বিপুল পরিমানে (ঐ)। একইভাবে যদিও কাশিমবাজার বিশ্বে বিখ্যাত ছিল সিল্ক-পিস গুডসের জন্যে, সেখানে মেলানো মেশানো কপড়ও তৈরি হত, এমনকি ১৭৪০-এর দশকে আর ১৭৫০-এর দশকের প্রথম দিকে এশিয় বণিকেরা বাংলার রেশম রপ্তানি করত বছরে গড়ে ৬৩ লক্ষ টাকার (W. Aldersey’s report, BPC, Range 1, vol. 44, Consult. 19 June 1769)। এছাড়াও বীরভূম, হুগলি, বালেশ্বর, রাধানগর, শান্তিপুরের মত প্রখ্যাত আড়ং এলাকাও ছিল। তাহলে শুধু মালদা থেকে এশিয় বণিকেরাই যদি ১০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার কাপড় রপ্তানি করত ১৬৭০-এর দশকে, তাহলে বাংলার অন্যান্য কাপড় বয়ন এলাকা থেকে কাপড় রপ্তানির সংখ্যা আন্দাজ যোগ্য হতেই পারে।

আমাদের কাছে ১৬৮০-র দশকের পরের বাংলা থেকে এমন কোন প্রমান নেই যা দিয়ে আমরা বলতে পারি, ইওরোপিয় বিপুল চাহিদার চাপে উৎপাদন করতে গিয়ে বাংলার তাঁতিরা তাদের পরম্পরার দেশিয় ব্যবসায়ীদের চাহিদামত কাপড় সরবরাহ করতে পারেন নি, তাদের সঙ্গে দীর্ঘকাল ব্যবসা করা ব্যবসায়ীদের ব্যবসা থেকে বঞ্চিত করে ইওরোপিয়দের সরবরাহ করছিলেন এবং উপমহাদেশের অন্যান্য যে সব অঞ্চলে বাংলার কাপড় যেত, সেই সব এলাকায় বাংলার কাপড় সরবরাহে ঘাটতি দেখা গিয়েছিল। ফলে ধরেই নেওয়া যেতে পারে সপ্তদশ শতকের শেষে বা অষ্টাদশ শতকের প্রথার্ধে আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলার তাঁতিরা যেমন তার পুরোনো বাজারের চাহিদা একইভাবে সামলাচ্ছেন, তেমনি সামলাচ্ছেন ইওরপিয় চাহিদাও। বাংলার প্রত্যেকটি আড়ংএ তখন এশিয়ার প্রায় প্রত্যেক দেশের বণিকদের প্রতিনিধিদের পণ্য কেনার পাশাপাশি ইওরোপিয় বণিকদের মধ্যস্থরাও তাদের চাহিদা মত কাপড় কিনছেন। ইওরোপিয় সূত্রে একটা বিষয় পরিষ্কার যে তাদের খোলা বাজারে এশিয় বণিকদের সঙ্গে নিয়মিত কড়া প্রতিযোগিতায় সামনে পড়তে হয়েছিল। এশিয় কাপড় রপ্তানির ক্ষেত্রে যে সংখ্যাতাত্ত্বিক প্রমান পাচ্ছি যদিও খুবই কম, তা সত্ত্বেও বলতে পারছি বাংলার কাপড় ব্যবসায়ে এশিয় বণিকেরা ইওরোপিয়দের থেকে কিছুটা হলেও এগিয়েছিল। ১৭৪৭-এর ঢাকার মোট কাপড় রপ্তানির আর্মেনিয়দের সঙ্গে নিয়ে এশিয় অংশিদারি ছিল দুয়ের তিন অংশ আর ইওরোপিয় আমলাদের ব্যক্তিগত ব্যবসা একের তিন অংশ (Ibid, ff. 93-95)।

ডাচ সূত্র থেকে আমরা পাচ্ছি যে এশিয়রা কাপড় রপ্তানি ব্যবসায় অনেকটা এগিয়েছিল এর প্রমান তাঁতিদের দাদন দেওয়ার তথ্য (যা মোটামুটি ৫০ শতাংশ (পঞ্চম অধ্যায় দেখুন) যার মোট মূল্য ৭৬ লক্ষ টাকা ডাচেদের বাদ দিয়ে এশিয় আর ইওরপিয়দের মধ্যে, এর মধ্যে ব্রিটিশ আর ফরাসী মিলিয়ে মিশিয়ে অংশিদারি ছিল ৩০ লক্ষের বেশি (Taillefert’s ‘Memorie’, VOC, 2849, 27 Oct, 1755, ff. 188vo-189. Taillefert talks of Rs 6 million sen,t to textile centres for some years but mentions categorically to the June resolution of 1741 where it referred to Rs 7 .6 million as the amount given as advance by various buyers other than the Dutch. We accept the latter sum because first, it is mentioned in the official resolution; secondly, Taillefert in all probability spoke of (while mentioning Rs 6 million) the late 1740s and early 1750s when textile trade and industry was to some extent disrupted as a result of the Maratha invasions. The official resolution of I741, on the other hand referred to the period priord to the Maratha incursions when things were normal, and trade and industry flourished as usual. It should be noted however that both the figure could have been mere guesses, given the diffusion of the industry and the presence of numerous buyers in Bengal)। ফলে এশিয় অংশিদারি হল ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার। এবং এটা অন্যান্য অঞ্চলের অঙ্ক থেকেও প্রমান হয় এই অঙ্কটা সত্য (কারণ এর আগে আমরা মালদা আর ঢাকায় কিছু সংখ্যা নিয়ে আলোচনা করেছি) এবং বেশ ভাল পরিমাণে। ডাচ সমীক্ষাটি জুন মাসের তথ্য নিয়ে আলোচনা করেছে, যে মাসে মোটামুটি কোম্পানিগুলি তাদের প্রায় সব দাদনের অর্থ দিয়ে চুক্তি করে নেয়। যদিও এশিয়রাও দাদন দিয়ে তাঁতিদের সঙ্গে চুক্তি করত, তারা রেশমের মত সুতিরও একটা বড় অংশ খোলা বাজার থেকে কিনত দাদন না দিয়েই (অষ্টম অধ্যায় দেখুন)। আমরা যদি ডাচ তথ্যকে উপেক্ষাও করি তাহলেও আমাদের তত্ত্ব পাল্টায় না। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev