| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ফ্রম প্রস্পারিটি টু ডিক্লাইন — এইটিনথ সেঞ্চুরি বেঙ্গল : সুশীল চৌধুরী, (৫৪ নং কিস্তি) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ২৩০ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ৬ মার্চ, ২০২৩

সমৃদ্ধি থেকে পতন — অষ্টাদশ শতকের বাংলা

অষ্টম অধ্যায়

রেশম ব্যবসা এবং রেশম শিল্প

বাজার, ব্যবসায়ী এবং দাম

আমরা কোন দ্বিধা ছাড়াই বলতে পারি, যে সময়টি নিয়ে আলোচনা করছি, সেই অষ্টাদশ শতকের প্রথম পাদে বাংলার রেশম বাজার খুবই প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে। গুজরাটি ব্যবসায়ীদের বিপুল উপস্থিতি ছাড়াও ছিল লাহোর, মুলতান, দিল্লি-আগরা, হায়দারাবাদ, গোরখপুর, বেনারসের রেশম বাজারের পাইকার ব্যবসায়ীদের সক্রিয় উপস্থিতি। এছাড়াও ছিল মধ্য এশিয়ার ব্যবসায়ী আর ইওরোপের কর্পোরেট কোম্পানিরা। ফলে বাজারে পাইকারি ক্রেতাদের মধ্যে নিরন্তর প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় ছিল। তবে স্পষ্ট করে বলা দরকার, আমরা যে সময়ের কথা বলছি, সেই সময় সারণিতে বাংলার রেশম বাজার কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করত ইওরোপিয় কোম্পানিরা নয়, মূলত এশিয় ব্যবসায়ীরা। ব্রিটিশ কোম্পানির কর্মচারী জন কেনের সূত্রে বলা যাক, কাশিমবাজারের রেশম বাজারের সঙ্গে অর্থ বাজারের নিকট সম্বন্ধ স্থাপিত হয়েছিল। ১৬৬১ সালে তিনি লিখছেন, আগরায় এই রেশমের কাপড় যেহেতু বেশি বিক্রি হয়, তাই আগরার বাজারের রেশমের দামের ওঠাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাশিমবাজারের দাম ওঠে পড়ে। পাটনা আর আগরায় আমাদের আলোচ্য রেশমের বিক্রির ওপরে কাশিমবাজার আগরা আর পাটনার টাকার মূল্য ওঠে পড়ে (B.M. Addi. Mss., 34,123, f. 42; Wilson, Early Annals, vol. I, p. 376)।

ইওরোপিয় কোম্পানিরা যে বাস্তবিক বাংলার রেশম বাজার বা রেশমেরবাজার দর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, সে বিষয়ে কোম্পানি আমলাদের মাথ্যা ব্যথা ছিল, এবং এই বিরক্তি তাদের নথিপত্রে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠতে দেখি। ১৭৩৩ সালে কাশিমবাজারের কাউন্সিল লিখছে আমাদের কথায় রেশমের বাজারের চাহিদা ওঠেও না বা পড়েও না, আমাদের সে ক্ষমতা নেই (C&B. Abstr., vol. 3, f. 337, para. 36, 26 Dec. 1733)। ১৭৪৪ সালে কাশিমবাজার কাউন্সিল বাজারে রেশমের দাম নিয়ন্ত্রণ করার অক্ষমতা জানিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে সরাসরি লিখছে, গত বছরের তুলনায় এবছরের বাজারে দাম বেশি থাকা সত্ত্বেও, আমরা যেহেতু বাজার নিয়ন্ত্রণ করি না, তাই গত কয়েক দিন বাজার চড়ে থাকলেও আমাদের কিছু করার ছিল না (Fact. Records, Kasimbazar, vol. 6, Consult. 23 Jan. 1744)। বাজারে বিভিন্ন পাইকার ব্যবসায়ীর মধ্যে বিপুল প্রতিযোগিতার পাশাপাশি রেশমের দাম ওঠানামার জন্যে সরাসরি দায়ি ছিল আবহাওয়ার অবস্থা, যার ওপর নির্ভর করত কোন এক নির্দিষ্ট বছরের মোট রেশম উৎপাদনের পরিমান। বিপুল বৃষ্টি, ঝড়, অনাবৃষ্টি বা অতিরিক্ত গরম পড়লে রেশম উৎপাদন ব্যহত হত। যেহেতু বাজারে বিপুল সংখ্যক প্রতিযোগী ছিল, তাই উৎপাদন কম হলে অবশ্যম্ভাবিভাবে দাম বাড়ত কোরা রেশমের।

১৭২৬ সালে কাশিমবাজার কাউন্সিল লিখছে বিপুল বন্যায় বহু লাক্ষা গাছে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তাই এবছর কম গাছে তুঁত চাষ হবে সে জন্যে রেশমের দাম বাড়বে। আগাম ব্যবসা অনুমান করে গুজরাতি ব্যবসায়ীরা দাম যাতে আর বাড়াতে না পারে সেই জন্যে ১৭২৬ সালে কোম্পানি নভেম্বর বন্দের রেশম সরবরাহের চুক্তি করে প্রতি সের ৪ টাকা ১১ আনা দরে (BPC, vol. 6, f. 172, 21 Feb. 1726)। পরের বছর সে ফোর্ট উইলিয়াম কাউন্সিলকে জানাল, গুটী পোকা বিপুল পরিমান মৃত্য হওয়ায় রেশমের দাম ব্যাপক চড়েছে (Ibid., f. 498 vo, 11 Sept. 1727)। পরের বছর লন্ডনে কোম্পানি কর্তারা বাংলার কুঠিয়ালদের রেশমের খারাপ মান এবং অতিরিক্ত দামের অভিযোগ জানালে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে ফোর্টউইলিয়াম কাউন্সিল খারাপ পরিবেশকে দোষ দিয়ে লিখল বিপুল বর্ষা আর বন্যার জন্যে তূঁত গাছ এবং গুটি এতই পরিমানে নষ্ট হয়ে গিয়েছে, হয়ত এ বছর খুব বেশি হলে মোট উতপাদনের একতৃতীয়াংশ রেশম উৎপাদন হয়েছে। রেশমের সার্বিক অভাবের দরুন দাম বৃদ্ধি ঘটেছে এবং রেশমের গুণমানে ঘাটতি হয়েছে (Ibid., f. 668, 28 Oct. 1728)।

শুধু যে কোম্পানি কর্মচারীরা যে রেশম উৎপাদন ঘাটতির কারণ দেখাত না, স্থানীয় বাজার থেকে খোঁজ খবরের উত্তরেও জানানো হত পরিবেশের দুর্যোগের কারণ এবং যার ফল উৎপাদনে ব্যঘাত এবং দামে বৃদ্ধি। ১৭৪২ সালে রংপুরে পাঠানো হয় এডওয়ার্ড আইলস রেশম বাজারের উৎপাদন এবং দাম সম্পর্কে খবরাখবর করতে। তিনি দাউদপুর থেকে লেখেন — reasons given for its [pattany] being so dearer ‘than usual are because a good many of the worfns dyed last year in the Rains which occasioned a great scarcity of Putney and because it has been much more in demand than any former years (Fact. Records, Kasimbazar, vol. 6, Annex. to Consult. 31 Jan. 1742)। কাশিমবাজার কাউন্সিল রেশমের দামের ওপর সারাক্ষণ নজরদারি করত। ১৭৫৩ সালে দেখছি, শেষ মরশুমের অতিরিক্ত বন্যায় পাটনি রেশমের দাম বেশ বৃদ্ধি পেলেও পূর্বের বছরের হারে কোম্পানি চুক্তি করতে সক্ষম হয়। তারা জানায় যে কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত না থাকা এবং আড়ংএ গোপনে অর্থ পাঠানো বিভিন্ন বণিকের ডে বুকের ওপর গোপন সূত্রে নজর রেখে একটা অকাট্য সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে এই প্রকার রেশমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। তাদের অকাট্য যুক্তি হল, কোম্পানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বণিক তাওয়ারজী আচার্জী (Tawarjee Acharjee) রেশমের চুক্তিতে উপনীত হতে সক্ষম হয় নি এবং কোম্পানির চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। এছাড়াও মুন্সিরাম এবং গোপালবাবুর মত অন্যান্য প্রখ্যাত ব্যবসায়ীও রেশমে দাদন নিতে অস্বীকার করেছে। কাউন্সিল লিখছে, বাজারে যদি লাভের সুযোগ থাকত তাহলে এই ব্যবসায়ীরা এই রকম আচরণ করত না (Fact. Records, Kasimbazar, vol. 12, Consult. 19 March 1753)।

এতদসত্ত্বেও লন্ডন থেকে কোম্পানি কর্তারা নিয়মিত খারাপ গুণমানের এবং অতিরিক্ত দামের রেশম পাঠানোর অভিযোগ করেছে; বিশেষ করে ১৭৫০-এর দশকে। ১৭৫৫ সালে কাশিমবাজার কাউন্সিল একটি দীর্ঘ মন্তব্য পাঠিয়ে এই অভিযোগের উত্তর দেয় As to the causes of the scarceness and consequently the dearness of raw silk, they are various. But for these three years past it is evidently owing to the extraordinary heavy rains in the years 1752 and 1754 which occasioned the Mulberry leaves, to grow so sank as to be unfit for the young worms which also requiring warmth and sunshine to bring them to maturity were in great numbers destroyecl by the dampness of the air, they being so very tender that the least alteratiorr of weather . . . proves fatal to the worms and particularly last year the stormy, weather which we had in the month of October was very destructive to the worms from which the Novemberbund putney is produced and which occasioned the silk to be so very dear. (BPC, vol. 28, f. 270vo-71, 30 Oct. 1755; Fact. Records, Kasimbazar, vol. 12, Consult. 24 Oct. 1755)।

খারাপ আবহাওয়ার পাশাপাশি ১৭৪০-এর দশকের পরের সমট থেকে আরেকটা হ্যাঙ্গাম জুটল বাংলার রেশম উতপাদনে সেটি হল বর্গি আক্রমন। এবং প্রায় প্রতিবছরই বর্গিদের হামলা লেগেই থাকত। মারাঠা আক্রমনে বাংলার সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল রেশম শিল্প এবং যে সব এলাকায় তারা হ্যাঙ্গাম জুড়ত সেই সব এলাকা জুড়ে ছিল রেশম আড়ংগুলি। রেশম শিল্পের ওপরে মারাঠা আক্রমনের বিপুল প্রভাব পড়েছিল এবং এই তথ্য কোম্পানি খাতায়-পঞ্জীতে নিয়মিত উল্লিখিত হয়েছে এবং বলা হয়েছে কোরা রেশমের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হল মারাঠা বর্গিদের আক্রমন। ১৭৪৬ সালে কাশিমবাজার কাউন্সিল যখন ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন করল কেন তারা এত বেশি দাম দাবি করছে, তারা যুক্তি দিয়ে সরাসরি বলল, মারাঠারা এই প্রদেশে নিয়মিত আসে এবং চারটে পাটনি রেশম উৎপাদনের কেন্দ্রের মধ্যে তিনটেতে ব্যাপক ক্ষতি করেছে ফলে রেশমের ব্যাপক অভাব দেখা দিয়েছে, তাছাড়া বাজারে যত রেশম আসছে সে সব মরশুমের শুরুতে আরমেনিয় গুজরাটি এবং অন্য অঞ্চলের বণিকেরা দখল নিয়েছে, এই মরশুমের শেষে বাজারে পাটনি রেশম পাওয়া মুশকিল, যার যা পাওয়া যায় তার দামও আকাশ ছোঁয়া (Ibid., vol. 1, Consult. 3 April 1746; BPC, vol. 18, f. 173, 19 April 1746; আমি কোম্পানি তথ্য থেকে এই চারটে প্রধান কেন্দ্র কোথায় ছিল খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টা করেছি)।

মারাঠাদের রুখতে বাংলা প্রশাসন আগের থেকে বেশি অর্থ সংগ্রহ করে সেনাবাহিনীর ক্ষমতাকে জোরদার করে এবং এই চেষ্টা রেশম উদ্যমে প্রভাব ফেলেছিল। ১৭৫২ সালে কাশিমবাজারের কুঠিয়ালেরা লিখছে ব্যবসায়ীরা রেশমের জন্যে অতিরিক্ত দাম চাইছিল, কারন চালের দাম বেড়েছে এবং রেশম ওয়ান্ডারদের থেকে সরকার বর্গিদের আটকানোর জন্যে সেনাবাহিনী তৈরি করতে অনেক টাকা চেয়েছে (Fact. Records, Kasimbazar, vol. 11, Consult. 6 March 1752; B.1,’C, vol. 25, f. 86 vo, 16 March 1752)। এই যুক্তি না মেনে কোর্ট অব ডায়রেক্টর্স কুঠিয়ালদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কর্তাদের ধারনা ছিল কোরা রেশমের দাম কুঠিয়ালদের দুর্নীতির জন্যে বেড়ে যেত। ফোর্ট উইলিয়াম কাউন্সিল ১৭৫২ সালে লন্ডনে লিখল যে তারা কোরা রেশমের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে কাশিমবাজারের কুঠিয়ালদের বিরুদ্ধে কড়া তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অবশেষে তারা জানায় যে তদন্তে কোম্পানি কর্মচারীদের কোন দুর্ণীতির প্রমান পাওয়া যায় নি বরং মারাঠারা বাংলার ওপর বছরের পর বছর যে দস্যুগিরি চালিয়ে উতপাদকেদের বাড়ি ঘর দোর আর আড়ংএর কাঠামো নষ্ট করেছে বাজার ধ্বংস করেছে এবং এই জন্যে বহু কারিগর আড়ং ছেড়ে পাল্কিয়ে গিয়েছে (C&B. Abstr., vol. 5, f. 324; Beng. Letters Recd., vol. 22, f. 222; NAI, Letters to Court, 1751-53, s. no. 2, ff. 76-77, para. 49, 2 Jan. 1752; FWIHC, vol. I, p. 548)।

রেশমের দাম বাড়া এবং সরবরাহে ঘাটতির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা যা বলেছিল, সেই কারণগুলিই হয়ত আমাদের নজর দেওয়া দরকার, ব্যবসায়ীরা কাশিমবাজার কাউন্সিলকে বেশ দাম ধার্য করার দাবি জানিয়ে বলে, যে নমুনাগুলি ধ্বংস হয়েও যাওয়া নভেম্বর বন্দের শ্রেষ্ঠ পাটনিগুলো থেকে তুলে আনা, এই সময়ে এই গুণমানের কম রেশম উৎপাদন হয়েছে প্রাথমিকভাবে ভারি বর্ষা, চলতে থাকা রাজনৈতিক গোলযোগ [মারাঠা হ্যাঙ্গাম?] আর অন্যান্য সমস্যা [সরকারের টাকা দাবি?]। এবং বাজারে যতটুকু রেশম পড়েছিল সেগুলি ডাচ, ফরাসী, গুজরাটি এবং অন্যান্য বণিকেরা অতিরিক্ত দামে কিনে নেয় (ইঙ্গিত ছিল প্রতিযোগিতাময় বাজারের দিকে); এর কারণ হিসেবে, তাদের আশংকা বাজারে যতটুকু পড়ে আছে তার দাম আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি (NAI, Letters to Court, 1751-52, s. no. 2;.pp. 22-23, para. 62, 20 Aug. 1751; Beng. Letters Recd., vol. 22, para. 64, ff. 175-76; C&B. Abstr., vol. 5, f. 299; FWIHC, vol. I, 510-11)।

এই যে দাম বাড়ার প্রত্যেক চলক নিয়ে আলোচনা করলাম, যতদূর সম্ভব সেগুলির কোনটাই বাহানা নয়, প্রত্যেকটাই ধ্রুব সত্য। এতদসত্ত্বেও মনে রাখা দরকার, ব্যবসায়ীরা এই ধরণের নানান অজুহাত দেখাত দাম বাড়াবার জন্যে। একইভাবে কোম্পানির কর্মচারীদেরও যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন করা যায় তাদের অধিকাংশ আমরা উচ্চ দামের, চাহিদার কোরা রেশমের ব্যক্তিগত ব্যবসায় যুক্ত ছিল (দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত ব্যবসার উল্লেখ রয়েছে BPC, vol. 28, f. 270 vo, 30 Oct. 1755)। এছাড়াও আমরা এর আগে দেখেছি কোম্পানির আমলাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সাঁটও ছিল যার দরুন দাম বাড়া খুব অস্বাভাবিকও ছিল না। এবং এই সব আশংকার মেঘ লন্ডনেও জমা হচ্ছিল কোম্পানির সদর দপ্তরে। যতদূর সম্ভব মারাঠা হ্যাঙ্গামের দরুন রেশম উতপাদন মার খাওয়ার যে যুক্তি কোম্পানির সঙ্গে জুড়ে থাকা মানুষেরা দিচ্ছিল, সেগুলো কলকাতায় বসে আমলারা তৈরি করছিল নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করতে – ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ছিল দাম বাড়াবার, আর আমলাদের স্বার্থ ছিল সেই বাড়ানো দাম এবং পাঠানো রেশমের খারাপ গুণমানকে জাস্টিফাই করা, যতদূর সম্ভব তাদের যুক্তিগুলো কিছুটা অতিরঞ্জিতই ছিল। অন্যথায় মারাঠা হ্যাঙ্গামের সময়ের দিনগুলোয় এশিয় ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমান, ১৭৫১ সালে ২৩,৭৪০ মন, রেশম রপ্তানির কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না (BPC, vol. 44, Annex. to Consult. 19 June 1769)। রেশম বাজারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাঁক আমরা আলোচনা করব, কিছু পরে দেখব যে দাম নিয়ে কোম্পানির সঙ্গে জুড়ে থাকা বণিক এবং আমলারা যে রেশমের দাম নিয়ে যে ধরণের উদ্বেগ দেখিয়েছিল, তার ছিটে ফোঁটা দেখা যায় নি এশিয় ব্যবসায়ীদের রেশম কেনার উদ্যমে, বাজারে রেশম থাকলে তার দাম যাই হোক তারা কিনে নিত। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev