সমৃদ্ধি থেকে পতন — অষ্টাদশ শতকের বাংলা
দশম অধ্যায়
মারাঠা হ্যাঙ্গাম, ইওরোপিয় ব্যবসা এবং দামস্তর
ঐতিহাসিকেরা বিশেষ করে সাম্প্রতিককালের গবেষকেরা বাংলার পণ্যের বাজারে দামস্তর বৃদ্ধির জন্যে এবং সেই প্রেক্ষিতে ইওরোপিয় ব্যবসার পতনের জন্যে ভিত্তিহীনভাবে মারাঠা দস্যুদের বাংলায় ঘটা হ্যাঙ্গামকে দায়ি করেছেন (K. K. Datta, Bengal Suba, pp. 465-68; K.N. Chaudhuri, Trading World; pp. 99-108: P.J. Marshall; Bengal, pp. 73, 142-44)। ব্রিটিশ দুই গুদাম-আমলা ম্যানিংহ্যাম এবং ফ্রাঙ্কল্যান্ডের ১৭৪০ সালের সমীক্ষা গবেষকদের এই বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সাহায্য করেছে (Manningham & Frankland’s report, BPC, vol. 26, Annex to Consult. 7 June 1753. Both K.N. Chaudhuri (Trading World, pp.99,102) and P.J. Marshall (East Indian Fortunes, p. 35), সমীক্ষার ওপর অনেকটা ভরসা করেছেন)। এর আগে পঞ্চম অধ্যায় আমরা আলোচনা করেছি, এই সমীক্ষাটি স্ববিরোধী, উদ্দেশ্যপূর্ণ এবং দাদনি ব্যবস্থা থেকে কোম্পানিকে গোমস্তা প্রথায় যাত্রা করাবার উদ্দেশ্য মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। তাই এই সমীক্ষায় ব্যবহৃত তথ্য ব্যবহার করার বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে। এটাও মনে রাখতে হবে এই দুই কোম্পানি আমলা হাল্কা চালে লেখা জীবনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গত ১০ বা ২০ বছরে বিপুল বৃদ্ধি ঘটেছে ধরণের স্তবক, তাদের সামগ্রিক বক্তব্যকে গুরুত্বহীন করে দিয়েছে। ১৭৫৩ সালে তারা এই সমীক্ষাটি লিখছেন। এর অর্থ বৃদ্ধিটা হয় ঘটছে ১৭৩৩ বা ১৭৪৪ সালে, নির্দিষ্ট কোন সাল থেকে সেটা অস্পষ্ট, অথচ আমাদের গবেষকেরা মনে করছেন তাঁরা লক্ষ্যণীয়ভাবে দামস্তরের নির্দিষ্ট পরিমান বৃদ্ধি দেখেছেন ১৭৪০-এর দশকের প্রথমের দিকে। এর নিহিতার্থ ১৭৩০ এবং ১৭৪০-এর দশকের শুরুর সময়েতে দামস্তরের বিপুল পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। ফলে এই দুই ব্রিটিশারের দাবি (since the last 20 yrs) অতিরঞ্জিত মনে হয়। যদি দামস্তরের বৃদ্ধিটা ১৭৪০-এর দশকের প্রথমের দিক থেকে লক্ষ্য করা যেত, তাহলে গবেষকদের বর্ণিত নির্দিষ্ট সময়ে দৃষ্টিমানভাবে দাম বাড়ার তত্ত্ব মান্য করতাম। কিন্তু আমরা আগের বিশ্লেষণে দেখিয়েছি সেটা ঘটে নি। ফলে ম্যানিংহ্যাম আর ফ্রাঙ্কল্যান্ডের দাম বাড়ার তত্ত্বের সঙ্গে একমত হওয়া মুশকিল।
অন্যান্য ঐতিহাসিকের মতই এই দুই ব্রিটিশার বাংলার পণ্যের দামস্তর বৃদ্ধি আর বাজারে সরবরাহের অভাবের জন্যে দৃশ্যত মারাঠা আক্রমনের ওপর নির্ভর করেছেন। অস্বীকার করার উপায় নেই বাংলার বেশ কিছু অঞ্চলের অর্থনীতি মারাঠাদের ব্যাপক আক্রমনের প্রভাবে ধ্বসে গিয়েছিল। কিন্তু বাংলাজোড়া অর্থনীতির ওপর এই হ্যাঙ্গামের ধ্বংসাত্মক প্রভাব নিয়ে যে তত্ত্ব খাড়া করা হচ্ছে, সে বিষয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন তোলা যায়। দক্ষিণ থেকে বাংলায় প্রবেশের রাস্তার দুপাশের অঞ্চল জুড়ে মারাঠারা ব্যাপক লুঠ খুন অত্যাচার চালিয়েছিল কিন্তু এর বাংলার অন্যান্য অঞ্চলে সেই ধাক্কা লাগে নি। মারাঠা হ্যাঙ্গামের সময় বাংলায় চাকরি করা কোম্পানি আমলা রিচার্ড বিচার বলছেন এমন কী যে সব এলাকায় তারা আঘাত হানত, সে সব এলাকা বর্ষার সময়ে অক্ষত থাকত কারণ মারাঠা বর্গীরা বর্ষায় নিজেদের মুলুকে ফিরে যেত আবার জানুয়ারি মাসে ফেরত আসত, এই ক’মাস বাসিন্দারা নিরাপদে দৈনন্দিনের কাজকর্ম চালাত। তারা বাংলা ছাড়া হওয়ার মুহূর্ত থেকে পরের বছর জানুয়ারি মাসে সম্ভাব্য আক্রমনের শুরুর সময়ের আগে পর্যন্ত স্থানীয় মানুষ নানান পণ্য উতপাদনে হাত দিত এবং সে সব পণ্য বাজারে নিয়ে আসত (Richard Becher’s letter to Governor Verelst, 24 May 1769, quoted in W.K. Firminger, Fifth Report, pp. 183-84)।
আর আলিবর্দি যে দুই কিস্তিতে মারাঠাদের টাকা দেয় — প্রথম কিস্তিতে ১ কোটি, পরের কিস্তিতে ৫ কোটি। কিস্তি চোকানোর হিসেবের তথ্য থেকে পরিষ্কার সে সময় বাংলা স্বচ্ছল অর্থনীতি ছিল। উদ্বৃত্ত অর্থনীতির অর্থ দিয়ে তিনি সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে তাদের সফলভাবে মুখোমুখি হন (ঐ)। মারাঠা হ্যাঙ্গামের সূত্রে বলা হয় বাংলার ব্যবসা চিরস্তায়ী ক্ষতি আর বলপূর্বক অর্থ আদায়ের জন্যে স্তব্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ব্রিটিশ এবং ডাচ কোম্পানি উভয়েই সরাসরি কারিগরদের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে থাকে। তবে আমরা এই যুক্তির সারবত্তা দেখি না। এর আগেই আমরা দেখিয়েছি (পঞ্চম অধ্যায়) ১৭৪৭ থেকে ১৭৪৯ পর্যন্ত ডাচেরা কারিগরদের থেকে সরাসরি কেনা ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছিল। কিন্তু কয়েকটা আড়ংএর কিছু ব্যবসায়ীর দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার জন্যে আবার ১৭৫০ থেকে পুরোনো পরীক্ষিত দাদন ব্যবস্থায় ফিরে যায়। ব্রিটিশদের দাদন ব্যবস্থা থেকে গোমস্তা ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার কারন কিন্তু বাংলার ব্যবসা আর অর্থনৈতিক অবস্থার পতন নয় বরং দাদনি বণিকদের বাদ দিয়ে আমলাদের ব্যক্তিগত ব্যবসায় আরও বেশি করে জুড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা সফল করার জন্যে (পঞ্চম অধ্যায় দ্রষ্টব্য)।
আবারও বলব, সমস্যা হল ঐতিহাসিকেরা সেই সময়ের দেশিয় সাহিত্য এবং ফারসি লেখাপত্তরগুলোর ওপর নির্ভর করে বাংলার অর্থনীতি আরত জনজীবনে মারাঠা হ্যাঙ্গামের প্রভাব নির্ধারণ করেন। কিন্তু এইসব সাহিত্যে অতিরঞ্জিতভাবে মারাঠা আক্রমনের প্রভাব লেখা হয়েছে, উদাহরণস্বরূপ, গঙ্গারাম লিখছেন, rice, pulses, dal of all sorts, oil, ghee, flour, sugar, salt began to be sold at one rupee per seer …. A.ll of them from the lowest to the highest, including the nawab himself, had to subsist on boiled roots of banana trees’ (Gangaram, Maharastrapurana, lines 234-42)। এটা অবাস্তব যে চাল, ঘি, তেল, চিনি, নুন সবই একটাকা সেরে বিক্রি হতে শুরু করল। এখানেই শেষ নয়, বাংলার নবাবকেও নাকী কলাগাছের তলায় থাকতে হচ্ছিল। রিয়াজের লেখক বলছেন মানুষ থোড় খেয়ে দিনানিপাত করেছে, এবং ক্ষুধার জ্বালায় প্রাণ দিয়েছে। এই দাবিটা সদি সত্যও হয়, এটা শুধু বর্ধমান শহরের বর্ণনা হতে পারে কারণ সেখানের চালের গুদামে আগুন লাগিয়ে দিয়ে কয়েক দিনের জন্যে শহরে বাইরের দানাশস্য আমদানির রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল মারাঠারা (Riyaz, p. 340)। আরেক কবি ভরতচন্দ্র বর্ধমানে মালিনীর কেনাকাটার হিসেব দিতে গিয়ে বলছেন তিনি যে দামে পণ্য কিনছেন তা আগের দামের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি — এই দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় নি, তথ্যের অভাবে (কালিকিঙ্কর দত্ত বাংলা সুবায় ৪৬৬ পাতায় ভরচন্দ্রের উদ্ধৃতি)। খুব সাধারণ হিসেবে এই হ্যাঙ্গামের সময়েও ইওরোপিয় কোম্পানিগুলির বিশেষ করে ব্রিটিশ আর ডাচ এবং এশিয় বণিকদের রপ্তানির সার্বিক মূল্য কোনওভাবেই কমে নি। এবং এই তথ্য থেকে বলা যায় যে সামগ্রিক বাংলার অর্থনীতির ওপর মারাঠা হ্যাঙ্গামের প্রভাবের কোন বিরূপ দীর্ঘস্থায়ী ফল পড়ে নি (ডাচেদের মোট বিনিয়োগের তথ্য জানতে ৩, ৭ এবং ৮ আর এশিয় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের তথ্য জানতে ৭ এবং ৮ অধ্যায় দেখুন)।
সাম্প্রতিককালে এক গবেষকের মন্তব্য — prices were rising with a high level of European purchases financed by imports of silver in the decade or so before -the battle of Plasse কিন্তু ১৭৪০-এর প্রথম দিককার পর থেকেই বাজারের দরের বৃদ্ধি ঘটছিল নিয়মিত — গবেষকদের এই ধারণাকে পুষ্ট করে (এবং এই সময়ের মধ্যেই মারাঠা হ্যাঙ্গামের ঘটনা ঘটেছে)। কিন্তু এই তত্ত্ব আমরা মানছি না (P.J. Marshall, Bengal, pp. 163..64)। বাংলা থেকে যে সব ইওরোপিয় কোম্পানি পণ্য কেনার জন্যে বরাত দিত, তাদের মধ্যে ডাচেদের সার্বিক বিনিয়োগ ১৭২০-তেই ঘটে, সেই দশকের পর থেকে ব্রিটিশদের তুলনায় বিনিয়োগ কমতে থাকে। এবং ইওরোপিয় কোম্পানিগুলির মধ্যে জোরদার ব্যবসা করা ব্রিটিশদের বিনিয়োগ ১৭৩০-এর দশকের তুলনায় ১৭৪০ এবং ১৭৫০-এর দশকের সময়ে খুব কিছু বাড়ে নি। এটা আমরা প্রমান করব ১০.১০ তালিকায়।

১০.১০ তালিকা থেকে পরিষ্কার ১৭২৬/২৭ সাল থেকে ব্রিটিশ রপ্তানি ১৭৫৪/৫৫ পর্যন্ত অনেকটাই ওঠানামা করেছে কিন্তু বার্ষিক মোট বিনিয়োগস্তরের হ্রাস বা বৃদ্ধি খুব কিছু লক্ষ্য করার মত নয়। তবে মধ্য ১৭৪০-এর দশক থেকে মোট বিনিয়োগ প্রবণতা কমতে থাকে, কিন্তু এই সময়ে ডাচেদের বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সামগ্রিক ইওরোপিয় মোট রপ্তানির পরিমান মোটামুটি একস্তরে ছিল (তৃতীয় অধ্যায়ে ৩ নং তালিকা দেখুন) ১৭৩০-এর শুরু থেকে মধ্য ১৭৫০ পর্যন্ত। আমরা যে দুটি সিদ্ধান্ত করেছিলাম মারাঠা হ্যাঙ্গাম সামগ্রিক বাংলার অর্থনীতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী কোন বিরূপ প্রভাব ফেলে নি, এবং ইওরোপিয় কোম্পানিদের পণ্য রপ্তানির বরাত দেওয়ায় বাংলার বাজারের দামস্তর বাড়ে নি, সেই দুটি বিষয় আমরা প্রমান করলাম। আর যদি ধরেও নিই যে বাংলা থেকে ইওরোপিয় কোম্পানির রপ্তানির পরিমান আরও বাড়ত তাহলেও বাংলার বাজারে পণ্যের দামস্তর কিছুই বাড়ত না। সাম্প্রতিককালে এক গবেষক মন্তব্য করেছেন বাংলার সামগ্রিক রপ্তানি পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে — would have constituted a clear signal for reallocating resources to increase the output of these goods (Om Prakash, Dutch Company, p. 238)। অস্বীকার করার উপায় নেই বাংলা ছিল মুঘল ভারতের উর্বরতম সুবা, সে শুধু দেশের বিভিন্ন এলাকায় নয়, বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশেও খাদ্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সরবরাহ করত। সামগ্রিকভাবে তাই এক গবেষকের সূত্রে আমরা বলতে পারি, the availability of a food surplus created a margin within which a relative shift from food to commercial crops in response to challenging demand could be affected without generating unduly severe strains(ঐ)।
ইওরোপিয় ব্যবসার প্রেক্ষিতে বাংলার অর্থনীতিতে দামি ধাতু কত এল সে আলোচনা করতে গিয়ে যেমন অর্থনীতিতে মোট মুদ্রার সরবরাহের কোনও অঙ্ক করতে পারি না, তেমনি ইওরোপিয় বণিকদের আনা দামি ধাতু আমদানিতে অর্থনীতিতে কি প্রভাব পড়েছিল, সে তুলনামূলক আলোচনাও করা আজ আর সম্ভব নয়। যতদূরসম্ভব উপমহাদেশে যত দামি ধাতু আনত ইওরোপিয়রা, তার সব কটা মুঘল মুদ্রা হিসেবে অর্থনীতিতে ঢুকত না, তাই স্বাভাবিকভবে বাংলার টাকা কড়ি জগতে এই সরবরাহের ফলে মুদ্রা সরবরাহ অটোমেটিক এবং করেস্পন্ডিংভাবে বেড়ে যাওয়ার তত্ত্বর ভিত্তি নেই। আর প্রায়শই কোম্পানি তার আমদানি করা রূপো জগতশেঠের গদিতে টাকা তৈরি করার জন্যে দিতে হত কারণ জগতশেঠের রোজগারের একাংশ ছিল মুদ্রা তৈরি করার বাটা, তাই তার গদিতে জমা পড়া সব দামি ধাতু টাঁকশালে ঢুকে মুদ্রায় রূপান্তরিত হত না (৪, ৫ অধ্যায়)। আমরা যদি ইওরোপমন্য ধারণা, মুদ্রা জমানোর প্রাচ্যবাদী ঝোঁক-এর ধারনাটি সরিয়েও রেখে দিয়েও আমরা দেখতে পাই যে জন্যে আমদানি করা দামি ধাতু দামস্তরের ওপর প্রভাব ফেলে না (উদাহরণস্বরূপ Earl J. Hamilton, ‘American Treasure and the Rise of Capitalism, 1500-1700’, Economica, 27, Nov. 1929, 338-57; Rudolph C. Blitz, ‘Mercantilist Policies and the Pattern of World Trade, 1500-1750’,Journal of Economic History, 27, March 1967, pp. 39-55, quoted ‘in Om Prakash, Dutch Company, p. 250)। কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই যে বাংলার নবাব আর শেঠেরা এই দামি ধাতু আমদানি থেকে খুবই লাভবান হয়েছেন। বছরে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা দিল্লিকে রাজস্ব দিয়েও নবাবদের রাজকোষ এতই পরিপূর্ণ রাখত যে পলাশীর চক্রান্তের পর শুধুমাত্র রাজকীয় সিন্দুক থেকে ব্রিটিশরা সোনা রূপোয় 20 million টাকা লুঠ করে। এই অঙ্কের সঙ্গে তারিখইমনসুরির লেখক জুড়েছেন নবাব হারেমে সঞ্চিত ৮ কোটি টাকার অলঙ্কার যা মীর জাফর, রায় দুর্লভ, ক্লাইভের মুন্সি রাজা নবকৃষ্ণ লুঠে নেয় (Tarikh-i-Mansuri, tr. H. Blochmann, Journal of the Asiatic Society, no. 2, 1867, pp. 95-96)।
একইভাবে আমরা দেখেছি কী বিশাল সম্পত্তির অধিকারী ছিলেন জগত শেঠ, উমিচাঁদ বা খাজা ওয়াজিদের মত বাংলার বিপুল বিশাল ধনের অধিকারী সওদাগরেরা (অধ্যায় ৫ দেখুন)। এছাড়াও ছিলেন অসামান্য ধনী জমিদার আর মনসবদারেরা যারা তাদের স্বচ্ছলতা অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে অর্জন করেন। এর থেকে একটা বিষয় আন্দাজ করতে পারি যে বাংলায় যতপরিমান দামি ধাতু আসত, তার বিপুল অংশ প্রাথমিক উতপাদকের কাছে পৌঁছত না, সমাজের ওপরের অংশেই থেকে যেত। বাংলার বাজারে দামস্তরের পরিবর্তনে চাহিদা সরবরাহের মধ্যে সমতার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যে বড় চাহিদা তৈরি হত, তা বাংলা প্রযুক্তির পরিবর্তন ঘটিয়ে আত্মস্থ করে নিতে পারত তার থেকে প্রমান হয় যে উৎপাদন ব্যবস্থায় চাহিদা খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারে নি। এর ফলে বাজার দর বাড়েনি ঠিক মত। যদি চাহিদার ধাক্কা শিল্প উদ্যমগুলি কোন ঝামেলা ছাড়াই সরবরাহ করার উদ্যমের সমাধান করে ফেলতে পারে, তাহলে অর্থনীতিতে দামি ধাতুর আমদানি খুব একটা প্রভাব ফেলে না। আমরা যে সব তথ্য নিয়ে আলোচনা করলাম, তাতে এই তত্ত্বই প্রমানিত হল। (চলবে)