| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ফ্রম প্রস্পারিটি টু ডিক্লাইন — এইটিনথ সেঞ্চুরি বেঙ্গল : সুশীল চৌধুরী, (৮ম কিস্তি) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ২৭৫ জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৩

সমৃদ্ধি থেকে পতন — অষ্টাদশ শতকের বাংলা

তিন.দুই. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

নবাব সুজাউদ্দিন ব্রিটিশ আমলাদের কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, তিনি ব্রিটিশ কোম্পানির আমলাদের ফরমানের শর্ত অমান্য করার বেআইনি কাণ্ডকারখানায় অবাক হয়ে যাচ্ছেন; কোম্পানির আমলারা কি মনে করছে, ফরমান হাতে থাকলেই ইচ্ছে অনুযায়ী, তাদের যা মনে আসে সে সব পণ্য নিয়ে দেশিয় বাণিজ্য করার ছাড়পত্র পাওয়া যায়? ব্রিটিশ কোম্পানি ফরমান সূত্রে যে সব স্বাভাবিক অধিকার (শুল্ক মুক্ত আমদানি রপ্তানি) অর্জন করেছে তিনি সে সব অধিকারে হস্তক্ষেপ করছেন না, আমাদের যাতে আর বেশি ক্ষতি না হয়ে সেটাও তিনি দেখবেন he could not deny the privilege allowed us (which was only to trade custom free in what we export and import) so he would not-suffer us to extend it farther। কিন্তু তার মানে নয় যে রাজ্যের প্রধান হিসেবে তিনি শুধু নবাবি রাজস্ব নিয়েই চিন্তিত, সঙ্গে সঙ্গে দেশের প্রজাদের জীবন জীবিকা নিশ্চিত করতে দৃএহ প্রতিজ্ঞ; দেশের সে সব প্রজা রাজপথের নির্ভর বাণিজ্য করে জীবিকা নির্ভর করে, তাদের জীবনের দুর্দশার সঙ্গে তিনি সমঝোতা করবেন না (Ibid., vol. 6, f. 582, 1 April 1728)। নবাবকে কিছু অর্থ উপঢৌকন দিয়ে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলার যে পরামর্শ কাশিমবাজার কুঠি কলকাতা কাউন্সিলকে দিয়েছিল, সে পরামর্শ কলকাতা কাউন্সিল কানে তুলল না। তারা ঠিক করল নবাবি চাপে তারা মাথা নোয়াবে না; কারন তারা মনে করে, তারা যদি নবাবের এই দাবি মেনে নেয় তাহলে ভবিষ্যতে নবাবের পক্ষ থেকে ধরণের দাবি বেড়েই চলবে। তারা নতুন নবাবের সঙ্গে বোঝাপড়ায় কোমর বেঁধে তৈরি হল। নবাবের সঙ্গে দ্বন্দ্ব মোকাবিলার প্রথম সিদ্ধান্ত হল, নবাবকে কোম্পানির ক্ষমতা সমঝে দিতে হুগলি নদীর ওপর জাহাজ চলাচলে অবরোধ তৈরি করা হবে (Ibid., vol. 6, ff. 586-86vo, 15 April 1728)। ইতিমধ্যে মুর্শিদাবাদের দরবারে মধ্যস্থ মার্ফত সমঝোতা পর্ব শুরু হয়েছে। দেওয়ান আলমচাঁদ আর ব্যাঙ্কার ফতেহচাঁদের মধ্যস্থতায় নবাব এবং আমলাদের কিছু অর্থ দিয়ে এই ঝামেলা আপাতত মিটিয়েফেলার উদ্যোগ নিল কোম্পানির স্থানীয় আমলারা। কাশিমবাজার কুঠির কুঠিয়াল জন স্ট্যাকহাউস মুচলেকা দিয়ে নবাবের কাছে শপথ করলেন ব্রিটিশেরা আগামী দিনে দস্তকের অপব্যবহার করে রাজপথের ব্যবসায় অংশ নেবে না (Ibid., vol. 8, f. 497, 11 Nov. 1731)।

কিন্তু কলকাতা কাউন্সিল কাশিমবাজার কুঠির মুচলেকা দেওয়াকে মেনে নিল না। তারা বলল স্ট্যাকহাউস অযৌক্তিকভাবে এই কাজ করেছে, তাদের এই কাজে ফরমান বা রাজার সাহবুল হুকুম বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। কিন্তু কোম্পানির কাশিমবাজারের শাখা কলকাতা কাউন্সিলের তিরস্কারের সিদ্ধান্তে একমত না হয়ে লিখল, তাদের মনে হয়েছে নবাবের সঙ্গে মুখোমুখি সঙ্ঘাতে গেলে কোম্পানির কাশিমবাজার কুঠি রেশম উতপাদনে যে বিপুল পুঁজি বিনিয়োগ করেছে, সে সব জলে যাবে; সময়সুযোগ বুঝে ভবিষ্যতে ঝামেলায় যাওয়া যাবে, আপাতত নবাবের দাবি অনুযায়ী গোলমান মিটিয়ে নেওয়া হোক the obligation might be repudiated, if necessary, at a more convenient and opportune time (Ibid., vol. 8, ff.50lyo-502vo, 22 Nov .. 1731)।

বাংলায় ব্রিটিশ আমলাদের রাজপথ বেআইনি দেশিয় ব্যক্তিগত ব্যবসার বাড়বাড়ন্ত এবং বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের প্রভাব বৃদ্ধি নবাবের চিন্তা বাড়াচ্ছিল। দিল্লি দরবারের উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠিতে এই আশংকার কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, সম্প্রতি ব্রিটিশ কোম্পানিআমদানি রপ্তানিতে বেশ বড় পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করে অন্যান্য ব্যবসায়ীর পণ্য তারা নিজেদের নামে আমদানি রপ্তানি করতে শুরু করেছে… বিভিন্ন শহরে তাদের ব্যবসা আর পকড় উভয়ই বাড়ছে, আমার আশংকা আগামী দিনে সেই সব এলাকা থেকে সরকারের পক্ষে তাদের উচ্ছেদ করা মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে Their investments of late have been immoderate and they both import and export other merchants’ goods in their own names …. They now begin to farm severall Towns, which it is feared, may in time become strongholds and consequently a difficult matter for the government to remove them. (Ibid., vol. 9, ff. 343vo-344, 18 June 1733)। শুধু নবাবই নয় সুবার আমলারাও কোম্পানির আমলাদের রাজপথ ব্যবসায় প্রবেশ করাকে খুব সুনজরে দেখছিলেন না। আমলাদের মধ্যে জনৈক মীর হাবিব[ইনি কীনা জানি না, এক দশক পরে কোলাবরেটর হয়ে আরেক মীর হাবিব বাংলার হৃদিঅক্ষ মারাঠাদের কাছে হাট করে দেবেন, এবং রাঢ় বাংলার ১০ লক্ষ মানুষ মারা যাবেন মারাঠা বর্গিদের অত্যাচার আর লুঠে — অনুবাদক]। হাবিব ব্রিটিশদের ঢাকা কুঠিতে পাঠানো চিঠিতে তাদের বেআইনি দেশিয় ব্যক্তিগত ব্যবসা করার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখলেন, …তোমরা কী মনে করেছ, রাজা আর প্রজাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে এই বিশাল দেশের সব ব্যবসাই তোমরা একাই দখল করবে, তোমরা কী মনে কর তোমাদের মত বিদেশি ব্যবসায়ী দেশের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা দখল করবে আর তারা সে সব সোনা মুখ করে দেখবে আর ভুখা পেটে থাকবে। তোমতা সম্রাটের থেকে শুল্ক ছাড়া পণ্য আমদানি রপ্তানির অধিকার পেয়েছ, তাই বলে সেই ফরমান দেখিয়ে তোমরা বিপুল অঙ্কের রাজপথ নির্ভর ব্যবসা করতে পার না …do you imagine the whole trade of the country is to be carried on by you, much to the, prejudice of the King and his subjects or can you believe the merchants of the country could see their own proper trade swallowed up by you foreigners, without regret and they are starving. It is true the King’s Phirmaund gives the English Company liberty to trade in Commoditys to and from Europe custom free, Instead of which you carry on a Private Trade far exceeding the Company’s under their cover …. (Ibid., vol. 9, f.357vo, 8 July 1733)।

লন্ডনের কোর্ট অব ডায়রেক্টর্সরাও বাংলা সুবায় কোম্পানি আমলাদের দস্তকের যথেচ্ছ অপব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তারা জানতেন বাংলাভূমিতে কোম্পানির সঙ্গে নবাবের দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। এবং দ্বন্দ্ব শুরুই হয়েছে ফরমানে উল্লিখিত শর্ত উল্লঙ্ঘন করে ব্রিটিশ আমলাদের দস্তকের অপব্যবহার করে রাজপথে বেআইনি ব্যবসা করার অতি লোভের জন্যে। ১৭৩২-এ কলকাতা কাউন্সিলকে লেখা এক চিঠিতে কোম্পানির বড় আমলারা লিখছেন, বাংলায় ঝামেলাগুলো ঘটছে কেননা আমাদের কর্মচারীরা এমন কিছু ব্যবসা করছেন, যে সব ব্যবসার কথা আমরা আগে শুনিনি, তারা নিজেদের দস্তকের আড়ালে দেশিয় ব্যবসায়ীদের [ব্ল্যাক মার্চেন্টস] ব্যবসা করার বেআইনি সুযোগ করে দিচ্ছে; অথচ আমরা, কোম্পানির পক্ষ থেকে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে ফরমান আনিয়েছি… ভগবান না করুন আমাদের ফরমানের অধিকারগুলো খর্ব না হয়ে যায়… এর শেষ কোথায় আমরা জানি না owing to our servants, who by an extravagant unheard nf trade, covering the Black Merchants’ goods under their Dustucks and other bad practices, have saddled us with the payment of a very great sum …not only so, but have endangered our Phirmaund Privileges, and where all this will end God only knows (DB, vol. 105, f. 544, para. 33, 10 Nov. 1732)। আরেকটা চিঠিতে লন্ডন স্পষ্টভাবে বলে দিল সাম্প্রতিককালে বাংলায় কোময়ানির কাজকর্মে যে সব ঝামেলা দেখা দিচ্ছে সেগুলি দস্তকের শর্ত উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে উপেক্ষা করে ব্রিটিশ আমলাদের অনৈতিক ব্যক্তিগত ব্যবসা করার জন্যেই ঘটছে (Ibid., vol. 105, f. 624, para. 7, 8 Dec. 1732)। কয়েক বছর পর তদন্ত চালিয়ে লন্ডনের কোম্পানি কোর্ট নিশ্চিত হয়ে বলল নবাবের সঙ্গে ঝামেলা তৈরি হবার জন্যে ব্রিটিশ আমলাদের আচরণই দায়ি(Ibid., vol. 107, f. 69, para 21, 3 Nov. 1736)।

সুজাউদ্দিনের পরে বাংলার মসনদে বসা, বাংলার নায়েব নাজিম আলিবর্দি খাঁয়ের রাজত্বকালজুড়ে নবাব এবং কোম্পানির মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটেছে। আলিবর্দি সম্বন্ধে জাঁ ল’ লিখলেন, আলিবর্দি সরকারের স্বার্থ খুব ভাল বোঝেন, গরীব ব্যবসায়ীদের পক্ষে দাঁড়ান, এবং তাঁর কাছে অভিযোগ এলে তিনি সেটির যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেন understood perfectly well the interests of his government, favoured the poor merchants, and administered justice when complaints succeeded reaching him(S.C. Hill, Bengal in 1756-57, vol. III, p. 160)। কিন্তু এক দশকের বাংলায় মারাঠা হ্যাঙ্গামের প্রেক্ষিতে বাংলা সরকারের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেলে আলিবর্দি সুবার বিভিন্ন শ্রেণী-মহাজন, জমিদার, সওদাগর এবং ইওরোপিয়দের থেকে আর্থিক সাহায্য চাইলেন যাতে তিনি সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে পারেন এবং খরুচে যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করতে পারেন (Fact. Records, Kasimbazar, vol. 6, Consult. 29 Aug. 1743; BPC, vol. 17, f. 747vo, 18 Nov. 1745)। মারাঠা হ্যাঙ্গাম শুরুর দুবছর পরে ১৭৪৪ সালে আলিবর্দি ইওরোপিয়দের থেকে মারাঠা দমনের জন্যে অর্থ সাহায্য দাবি করেন। তাঁর যুক্তি সহজ, সাধারণবোধ্য। তাঁর যুক্তি, তিনি ইওরোপিয় ব্যবসায়ীদের গত পাঁচ বছর ধরে নিরাপত্তা বিধান করছেন, এই নবাবি নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে তাঁরা বিপুল লভ্যাংশ অর্জন করেছে বাংলা ভূমি থেকে। আজ যখন বাংলাভূমি মারাঠা দস্যুদের আক্রমনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে তখন অন্যান্য প্রজাদের মত বাংলায় ব্যবসা করা ইওরোপিয়রাও তাকে সরাসরি সাহায্য করুক (BPC, vol. 17, f. 152, 12 July 1744; Fact. Recotds, Kasimbazar, vol. 6, Consult. 7 July 1744; C. & B. Abstr., vol. 5, f. 16, para 24, 3 Aug. 1744)।

মারাঠা আক্রমন রেখার জন্যে আলিবর্দি ইওরোপিয় ব্যবসায়ীদের থেকে আর্থিক সমর্থন চাইলে ব্রিটিশেরা স্পষ্টভাবে যুদ্ধ প্রস্তুতি বাবদ আর্থিক সাহায্য দিতে অস্বীকার করল। ব্রিটিশেরা এবাবদে জগতশেঠ ফতেচাঁদের পরামর্শ চাইলে, তিনি ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে চাতুর ভাষা প্রয়োগ করে কোম্পানির আমলাদের বললেন, আপাতত বাংলায় সরকারের টিকিটিও দেখা যাচ্ছে না; দস্যুরা সরকারকেও পাত্তা দেয় না, ভগবানে অবিশ্বাসী, তারা প্রত্যেকের থেকে টাকা দাবি করে। এ বাবদে আমিও কম ভুগিনি At present there is no government; they fear neither God nor the king but seemed determined to force money from everybody. I have suffered greatly by them (BPC, vol. 17, f. 155, 13July 1744)। জগতশেঠের ধরি মাছ না ছুঁই পানি মার্কা মন্তব্য থেকে নির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্তে আসা বোধহয় যুক্তিযুক্ত হবে না। খুব সাম্প্রতিক গবেষণায় স্পষ্টভাবে জানা যাচ্ছে বর্গিদের আক্রমনে বাংলায় [নির্দিষ্টভাবে, রাঢ় বাংলায় — অনুবাদক] বাস করা প্রত্যেক প্রজাই বিপুলভাবে নিগৃহীত হচ্ছিল (P.J. Marshall, Bengal, p. 71, মার্শাল জগতশেঠের উক্তিটা টুকেছেন জগতশেঠের জীবনীকার জে এইচ লিটলের বই থেকে)। ফতেহচাঁদের চতুর উত্তর বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় তিনি ব্রিটিশদের প্রশ্নে এও হয়, তাও হয় গোছের উত্তর দিয়ে প্রকারান্তরে তাদের নবাবের দাবি মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এই রকম রণকৌশলে জরুরি সময়ে নিজেকে বাঁচাতেন বাংলার ব্যবসা জগতের সরতাজ ফতেহচাঁদ। তার এই ধরণের ধূর্ত চরিত্রটি উন্মোচন হয়েছে আরেকটি ঘটনায়। বাংলায় মাদ্রাজ টাঁকশালের মাদ্রাজ রুপি ভাঙানোর বাটা ফতেহচাঁদের নির্দেশে বাড়লে, ব্রিটিশরা তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশিমবাজার কুঠিতে দরবার করে। কাশিমবাজার কুঠি থেকে চিঠি দিয়ে ব্রিটিশদের বলা হয় এই সিদ্ধান্ত কুঠির নয়, সম্পূর্ণ দায় ব্যক্তি শেঠ ফতেহচাঁদের, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ব্রিটিশেরা ব্যক্তি ফতেহচাঁদের কাছে এ বিষয়ের সমাধানের নিদান চেয়ে প্রতিনিধি পাঠায়। ব্রিটিশ প্রতিনিধি দলকে ফতেহচাঁদ বলেন, এই সিদ্ধান্তে তিনিই সব থেকে বেশি প্রভাবিত হয়েছেন। তিনি বহু চেষ্টা চরিত্র করে নবাবের দরবারে বাটা বাড়ানোর এই নির্দেশ প্রত্যাহার করাতে পারেন নি (BPC, vol. 12, f. 135vo, 16 April 1737)। এর পরে কোন এক মুহূর্তে মারাঠাদের আক্রমনের প্রেক্ষিতে নবাবি দাবি বিষয়ে তিনি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাশিমবাজার কাউন্সিলকে স্পষ্ট বললেন, বাংলায় যারা বিনা শুল্কে, মুক্ত চিত্তে ব্যবসা করছে, তাদের এই রকম জরুরি সময়ে (নবাবকে) সাহায্য এবং অংশিদারির হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিৎ all the people who have hitherto carried on their business scottfree, should assist him [nawab] in this emergency by paying their share (Fact. Records, Kasimbazar, vol. 6, Consult. 7 Aug. 1744)। কোনও কোনও ক্ষেত্রে নবাবদের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলর থেকে উতকোচ আদায়ের ব্যাপার স্যাপার ঘটেছে — এটাও যেমন সত্য, তেমনি নবাবের পক্ষ থেকে ইওরোপিয় কোম্পানিগুলোকে বিপুলভাবে দোহন আর অত্যাচারের যে গপ্পটা ইওরোপিয় লেখক ঐতিহাসিক মার্ফত ছড়িয়েছে সেটাও স্রেফ অতিরঞ্জন ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ঘটনায় ব্রিটিশেরা নবাবকে সাড়ে তিন লাখ টাকা সাহায্য করে। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev