| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ফ্রম প্রস্পারিটি টু ডিক্লাইন — এইটিনথ সেঞ্চুরি বেঙ্গল : সুশীল চৌধুরী, (৯ম কিস্তি) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ৩৫১ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৩

সমৃদ্ধি থেকে পতন — অষ্টাদশ শতকের বাংলা

তিন.দুই. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

কিন্তু সেই যে কোম্পানি আর নবাবের সম্পর্কে চিড় ধরল, দীর্ঘ দেড় দশকজুড়ে সে সম্পর্ক আর মেরামত করা যায় নি। নবাবকে উচিৎ শিক্ষা দিতে বসরা আর জেড্ডা থেকে বাংলার দিকে আসা দুটো আরমেনিয় জাহাজকে ১৭৪৮-এ ব্রিটিশেরা দখল করে মালপত্র লুঠ করে। আরমেনিয়রা ব্রিটিশ কোম্পানির এই বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে নবাবের দরবারে অভিযোগ জানালে নবাব ব্রিটিশ আর ফরাসী কর্মচারীদের সতর্ক করে বলেন, তিনি আগেও তাদের বাংলার দিকে আসা অন্য দেশের জাহাজ দখল করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। কিন্তু এই অভিজ্ঞতায় তিনি বুঝলেন তাঁর এই সতর্ক বার্তায় ব্রিটিশেরা কান দেয় নি। তাঁর হুঁশিয়ারিম যারা এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা তাঁর দরবার থেকে উপযুক্ত বিচার পাবেন do justice to those who had suffered by such usage (BPC, vol. 22, f. 49vo, 19 Dec. 1748)। তিনি প্রত্যেক ব্রিটিশ কোম্পানির আড়ং-এ দাদনি বণিকদের গোমস্তাদের ঘরের সামনে পাহারা বসিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। নবাবের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে কলকাতা কাউন্সিল মুর্শিদাবাদ দরবারে নবাবকে জানাল তারা ফোর্ট উইলিয়ামের পাশ দিয়ে কোন আর্মেনিয় জাহাজ যেতে দেবে না। ব্রিটিশদের সমস্যা হল তারা যে আরমেনিয় জাহাজের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, তার প্রত্যাশিত ফল তারা পেল না (Ibid., vol. 22, f.64vo, 31 Dec.1748; f. 105, 23 Jan. 1749)। ফোর্ট উইলিয়াম কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট বারওয়েলকে লেখা একটি কড়া ভাষার চিঠিতে নবাব লিখলেন তোমায় এই দেশে জলদস্যুতা করার ছাড়পত্র দেওয়া হয় নি, জাহাজ থেকে যে সব মালপত্র লুঠ করেছ, সব কিছুই যোগ্য প্রাপককে অবিলম্বে ফিরিয়ে দেবে, না হলে তোমাদের এমন শাস্তি দেব যে তোমরা সেটা স্বপ্লেও চিন্তা করতে পারবে না As yout were not permitted to be in this country to commit piracies… deliver up all the Merchants goods and effects to them … otherwise you may be assured of due chastisement in such a manner as you least expect. (Ibid., vol. 22, f. 96, 9 Jan.1749.)। গোলোযোগটা শেষ পর্যন্ত জগতশেঠেদের মধ্যস্থতায় ভালয় ভালয় মিটে যায়। ব্রিটিশেরা নবাবকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়, নবাব সেখান থেকে ক্ষুব্ধ আরমেনিয়দের ২০ হাজার টাকা দিয়ে শান্ত করেন (Fact. Records, Kasimbazar, vol. 8, Consults. 9, 26 Sept., 16 Oct. 1749; BPC, vol. 22, f.200vo, 4 May 1749)।

মুর্শিদাবাদের নবাবি দরবারের সঙ্গে ব্রিটিশদের শেষ ঝামেলাটা ঘটল নবাব সিরাজুদ্দৌলার সময় (এ বিষয়ে বিশদে জানতে আমার লেখা Sirajuddaullah, English Company and the Plassey Conspiracy-A Reappraisal’, IHR, vol. XIII, nos. 1-2, pp. 111-134 প্রবন্ধটি পড়তে পারেন)। তাজা রক্তের যুবা নবাব সিরাজ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তিনটি নির্দিষ্ট অভিযোগ আনলেন — ১) (অবৈধভাবে) ফোর্ট উইলিয়ামে দুর্গের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা, ২) দস্তকের অপব্যবহার করা এবং ৩) দুষ্কৃতিদের আশ্রয় দেওয়া। আর্মেনিয় সওদাগর খাজা ওয়াজিদকে তিনি বহুবার সমস্যা আলোচনার জন্যে ব্রিটিশদের কাছে পাঠাতেন। খাজা ওয়াজিদের উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠিতে সিরাজ স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন, তারা যদি আমার দেশে, আমার রাজত্ব থাকতে চায়, তাহলে তারা কেল্লা জুড়ে যেসব পরিখা কেটেছে সে সব অবিলম্বে বুজিয়ে দেবে, নবাব জাফর খানের আমলে যে শর্তে ব্যবসা করত, সেই শর্তে তাদের ব্যবসা করতে হবে, না হলে আমি সুভবা প্রধান হিসেবে তাদের রাজ্যের বাইরে দূর করে দেব — if the English are contented to remain in my country they must submit to have their forts raized their ditch filled up, and trade upon the same terms they did in time of Nawab Jaffier Khan [M urshid Quli]; otherwise I will expel them out of the provinces of which I am the Subah [nawab]। পরের চিঠিতে খাজা ওয়াজিদকে নবাব আরও পরিষ্কার হুমকি দিয়ে লিখলেন, আমার সব শর্ত মেনে তারা পথ চলতে চায় তাহলে তাদের মাফ আছে… তাদের এদেশে থাকতে দেব… if they [the English] will promise to remove the foregoing complaints of their conduct … I will pardon their fault and permit their residence here … (Sirajuddaullah to Wazid, 28 May I756, Hill, Bengal in 1756-57, vol. I, pp. 3,4)। কিন্তু সেটা ঘটল না। আজও মিথ্যাচার করে বলা হয় সিরাজ ব্রিটিশদের থেকে অর্থ দুয়ে নেবার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশদের ব্যবসা কুঠি আক্রমন করেছিলেন। তিনি অর্থ দাবি করেছিলেন কাশিমবাজারের কুঠি তার পায়ে আত্মসমর্পণের পরে, তিনি যখন কলকাতার অভিযানে রওনা হয়েছেন, সেই সময়। তিনি যদি সত্যই প্রথম থেকেই প্রভূত অর্থ দাবি করতেন তাহলে তিনি কাশিমবাজার কুঠি লুঠ করতেন। তিনি কিন্তু কাশিমবাজার কুঠি লুঠ করেন নি। জনৈক ব্রিটিশ লিখছেন সুবাদারের কিন্তু টাকা রোজগারে উতসাহ নেই it was not money that the Subadar required (Mss. Eur. D. 283, f.27)। ডাচ আর ফরাসীদের থেকে টাকা আদায় সম্বন্ধে বলা যায়, কলকাতার পতনের পর সিরাজ যখন মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন, তখন তিনি তাদের থেকে প্রতীকি উপঢৌকন চেয়েছিলেন। সাধারণত যে কোন যুদ্ধ বিজয়ের পর পরই বাংলার নবাবেরা এই ধরণের উপঢৌকন চাইতেন এবং এটা বাংলার রাজকীয় প্রথা ছিল (এতদ সত্ত্বেও পি জে মার্শাল তার বইতে বলেছেন সিরাজ অর্থঘৃধ্ন ছিলেন, এবং আমি এই মিথ্যাচার নিয়ে উল্লিখিত প্রবন্ধ Sirajuddaullah, English Company and the Plassey Conspiracy-A Reappraisalতে বিশদে আলোচনা করেছি)। এ ছাড়াও আমি অন্য যায়গায় বলেছি (এই বই-এর একাদশ অধ্যায় এবং Sirajuddaullah, English Company and the Plassey Conspiracy-A Reappraisal নামক প্রবন্ধে) বাংলায় ব্রিটিশ আমলারা তাদের রাজপথ নির্ভর ব্যক্তিগত ব্যবসার অবৈধ বেআইনি অধিকার ছেড়ে দিতে রাজি ছিল না। তারা ঠিক করল নবাবের সঙ্গে মুখোমুখি দ্বন্দ্ব তৈরি করেও এই অবৈধ দেশিয় রাজপথ ব্যবসা তারা দস্তকের আড়ালে চালিয়ে যাবে। — বিপুল লাভের এই ব্যবসা করার সুযোগ তারা কোনও চাপের কাছেই ছেড়ে দেবে না। এই বেআইনি অধিকার রক্ষার জন্যে পলাশীর বিপ্লবটি ব্রিটিশ আমলারা উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে ঘটিয়েছিল। এই বিপ্লব ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূচনাবিন্দু।

(এই প্রসঙ্গে অনুবাদকের পক্ষে একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাগ করে নেওয়া যাক — ১) সুশীল চৌধুরীর সঙ্গে সমান্তরালভাবে বাংলায় ডাচেদের ব্যবসা নিয়ে গবেষণা করা ওম প্রকাশের দাবি, এবং এই বইতে সুশীলবাবু সেটাও কোথাও পরোক্ষে সমর্থনও করেছেন, উপমহাদেশের মোট উৎপাদনের মাত্র ১০% ইওরোপে রপ্তানি হত। ফলে পলাশীর আগে উপমহাদেশের আভ্যন্তরীণ এবং অইওরোপিয় বাণিজ্যের সঙ্গে ইওরোপিয় বাণিজ্যের তুলনা আসে না। অথচ ইওরোপমুখী শিক্ষিতরা ইওরোপ ছাড়া ভারত, এশিয়া আফ্রিকা বা অন্য দেশ বা মহাদেশের সঙ্গে উপমহাদেশের বাণিজ্য প্রচেষ্টা নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করেন নি, আজও সে বিষয়ে তাদের খুব উৎসাহ দেখা যায় না। ২) পলাশীপূর্ব সময়ে বাংলার অর্থনৈতিক ‘দুর্গতি’-র জন্যে ব্রিটিশ রপ্তানির পরিমান কমেছিল, এবং সেই জন্যে পলাশী ঘটেছিল এই সিদ্ধান্তে আসা বাতুলতা মাত্র। এই বিষয়টা সুশীলবাবু ভূমিকায় বলেছেন, পরে বিশদে আলোচনা করেছেন)।

অষ্টাদশ শতকের প্রথম দুই দশকে ডাচ আর ব্রিটিশদের রপ্তানির হিসেব নিলে আমরা বুঝতে পারব, ডাচেদের আন্তঃএশিয় বাণিজ্য পরিমান বাদ দিলেও তারা রপ্তানির ক্ষেত্রের পরিমানে ব্রিটিশদের তুলনায় অনেক এগিয়েছিল। দ্বিতীয় দশকের শেষে ব্রিটিশেরা ডাচেদের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, যদিও ডাচেদের আন্তঃএশিয় বাণিজ্য ব্রিটিশদের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। এই ৩.১ তালিকায় আমরা অঙ্কটি স্পষ্ট বুঝতে পারি।

১৭৪০-এর প্রথম পাঁচবছরে ডাচেদের বাংলা থেকে ইওরোপে পণ্য রপ্তানি সর্বকালের সর্বোচ্চ পরিমানে পৌঁছয়। ১৭৩০ থেকে ব্রিটিশদের বাংলা সুবা থেকে রপ্তানি ক্রমশ বাড়ছিল। ১৭৫০এর দশকের প্রথম পাঁচ বছরে গড় রপ্তানি কিছুটা হলেও কমতে থাকে, কিন্তু দ্বিতীয় তালিকা ৩.২তে উল্লিখিত ১৭৩০-১৭৫৫ পর্যন্ত সময়ের পাঁচশালা (কুইনকুয়েনিয়াল) হিসেবে আমরা বুঝতে পারি বাংলা থেকে গড় পণ্য রপ্তানি খুব বেশি কিছু কমে নি। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার ১৭৫০এর দশকের প্রথম পর্বে যদিও ব্রিটিশ গড় রপ্তানির পরিমান কমে যায়, কিন্তু বাংলা থেকে ডাচেদের বিপুল রপ্তানি সামগ্রিক ইওরোপিয় ব্রিটিশ রপ্তানির এই পতনকে বুঝতে দেয় নি, বাংলা থেকে গড় রপ্তানির পরিমান একই থেকে যায়। ফলে বাংলার অর্থনৈতিক ‘দুর্গতি’র জন্যে ব্রিটিশ রপ্তানির পরিমান কমেছিল, এই সিদ্ধান্তে আসা বাতুলতা মাত্র।

তিন.তিন ইওরোপ এবং এশিয়ায় ডাচ রপ্তানি

১৭২০-র দশকে বাংলা থেকে ডাচ রপ্তানি কিছুটা কমল। পরের দশক ১৭৩০ থেকে রপ্তানির পরিমান বাড়তে থাকে। ১৭৩০-এর দশক থেকে ১৭৫০এর দশকে আমরা দেখি ডাচ রপ্তানি নিয়মিতভাবে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। ১৭৫০ সালে ডাচ রপ্তানি সর্বোচ্চ পরিমানে পৌঁছয়। এই কারনেই সেই সময়ে বাংলা থেকে ব্রিটিশ রপ্তানি কিছুটা কমলেও সেই ধাক্কা বাংলাকে সামলাতে হয় নি। একই সঙ্গে এই তথ্যটাও গুরুত্বপূর্ণ যে ১৭৩০-এর দশক পর্যন্ত ব্রিটিশদের তুলনায় ডাচেরা রপ্তানিতে পিছিয়ে থাকলেও তারা রপ্তানি বাড়াতে বাড়াতে ১৭৫০ সালে ব্রিটিশদের প্রায় ধরে ফেলে। তবে ডাচ রপ্তানির একটা বড় অংশ ছিল এশিয় বিভিন্ন দেশে পণ্য বিক্রি। ৩.৩ তালিকা এই বিষয়ে আলো ফেলে

এই সূত্র ধরে বলা যাক, সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে এবং অষ্টদশ শতকের প্রথম দিকে ডাচেদের ব্যবসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি নির্ভর ব্যবসা। কিন্তু এই ব্যবসা ১৭৩০-১৭৫৫-র পর্বে কমতে শুরু করে। অন্যদিকে তাদের উপমহাদেশ-ইওরোপ ব্যবসা ১৭৩০ থেকে ১৭৪৪-এর পর্বে ক্রমশঃ বাড়তছিল এবং ১৭৫০-এর দশকে বিপুলভাবে বেড়ে যায়।

৩.৪ তালিকা থেকে এই প্রবণতা পরিষ্কার হবে ১৭৩০ থেকে ১৭৫৫-র মধ্যে পাঁচ বছরীয় হিসেবে বাটাভিয়ায় ডাচ রপ্তানি বাড়তে থাকে কিন্তু সামগ্রিকভাবে ডাচেদের আন্তঃএশিয় বাণিজ্যে ঘাটতি দেখা দেয়। ডাচেদের গড় বাৎসরিক রপ্তানির অংশ হিসেবে বাংলা থেকে বাটাভিয়ায় এবং সেখান থেকে নানান দেশে পাঠানো রপ্তানির অংশিদারি ছিল ১৭৩০-এর প্রথম দিকে ৬৪.৮৩, ১৭৪০-এর প্রথম দিকে ৭৭.০২ এবং ১৭৫০-এর দশকে ৮৯.৯২। কিন্তু বাংলার পণ্যের দুটো গুরুত্বপূর্ণ বাজার জাপান আর পারস্যে রপ্তানি এই সময়ে বেশ কমেছে। তবে ১৭৪০এর দশকে পারস্যে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। এশিয়ার অন্যান্য দেশে ডাচ রপ্তানি খুবই কম ছিল। ৩.৫ তালিকা আমাদের এই বক্তব্যকে পরিস্ফুট করবে

ওপরের আলোচনা থেকে বাংলায় ব্রিটিশ এবং ডাচেদের রপ্তানি বাণিজ্যের কিছু মজাদার চরিত্র আমাদের সামনে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। অষ্টাদশ শতকের প্রথম দশকে ডাচেরা ব্রিটিশদের থেকে রপ্তানি বাণিজ্যে যথেষ্ট এগিয়েছিল এবং দ্বিতীয় দশকে দুই দেশের রপ্তানি সমান হয়। ১৭২০-র প্রথমার্ধ থেকে ডাচেরা ব্রিটিশদের থেকে রপ্তানি বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়তে থাকে কিন্তু ১৭৩০-এর পর থেকে আবার সামলে নেয়। ১৭৪০-এর প্রথম পাঁচ বছরে গড় রপ্তানি পরিমান সব থেকে বেশি ছিল ব্রিটিশদের, কিন্তু ১৭৫০-এর দশকে কিছুটা কমে যায়। অন্যদিকে ডাচ রপ্তানি, তাদের এশিয় বাণিজ্য ধরেই ১৭৫০-এর দশকে ব্রিটিশদের রপ্তানির অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলে।

দুটি কোম্পানির মোট রপ্তানির পরিমান ১৭৩০ থেকে ১৭৫৫-র মধ্যে কমেনি। ১৭৫০-এর পর ব্রিটিশদের বাংলা রপ্তানির পরিমান ঘাটতি পুষিয়ে দেয় এই সময়ে ডাচ রপ্তানির বৃদ্ধি। এই সময় ডাচ আন্তঃএশিয় বাণিজ্যে ক্রম-ঘাটতি দেখা দিতে থাকে, যদিও মূল রপ্তানির তুলনায় বাটাভিয়ার রপ্তানির অংশভাগ কিন্তু ক্রমশ বেড়েছে। বাটাভিয়া বাণিজ্য বাড়ার একটা বড় কারণ আফিম রপ্তানির বৃদ্ধি। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev