সমৃদ্ধি থেকে পতন — অষ্টাদশ শতকের বাংলা
অনুবাদকের ভূমিকা
অসম্ভব এক কষ্ট বুকে চেপে সুশীল চৌধুরী মশাইয়ের পথভেঙ্গে পথ গড়ে দেওয়া, বাংলা মায়ের কলঙ্ক মোচনের, পলাশীপূর্ব সময় নিয়ে ভ্রম নিরসনের ইতিহাস গ্রন্থ ফ্রম প্রস্পারিটি টু ডিক্লাইন — এইট্টিনথ সেঞ্চুরি বেঙ্গল অনুবাদ ধারাবাহিক এবং তার ছোট মুখবন্ধ লিখছি পেজফোরনিউজের জন্যে। চার বছর আগে বইটা অনুবাদ শুরু করার কয়েক দিনের মধ্যেই সুশীল চৌধুরী প্রয়াত হলেন। খায়েশ ছিল অনুবাদ শেষ করে ওনার পায়ে অর্পণ করে কিছু বিনীত জিজ্ঞাসা তুলে ধরব এবং বইতে কয়েকটা বিষয়ে ধোঁয়াশা আছে সে বিষয়ে ওনার মতও জেনে নেব। তিনি অসুস্থ ছিলেন। আমরা যারা ওনার একলব্য শিষ্য, যারা দূর থেকে ওনার কাজের মাধ্যমেই ওনার তথ্য তত্ত্বের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি এবং বাংলার অর্থনীতি আর কারিগরি সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করেছি, বাংলার অর্থনৈতিক ইতিহাসকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছি, তাদের আর প্রত্যক্ষ্যে গুরুপ্রণাম জানানোর সুযোগ তিনি দিলেন না। হঠাতই ২৩ জানুয়ারি ২০১৯এ এই বইটি অনুবাদ করতে করতে খবর পেলাম তিনি প্রয়াত হয়েছেন। ওনার সাক্ষাত শিষ্য হাসিবুর রহমানের সঙ্গে কথা ছিল বইটা শেষ করেই ওনার কলকাতার ভদ্রাসনে আমরা একসঙ্গে যাব, কিন্তু সে ইচ্ছে অপূর্ণ রয়ে গেল। কিন্তু মন্দের ভাল বইটার অনুবাদ শেষ করতে পারলাম গুরুর আশীর্বাদে। অনুবাদটা যে কখনও শেষ করতে পারব এমন বিশ্বাস আমার উবে যাচ্ছিল ধীরে ধীরে। এর আগে এত বড় বড়, এত তথ্যবহুল বই অনুবাদ করি নি। কাজ করতে করতে মনে হয়েছে গুরু আমায় সস্নেহে পথ প্রদর্শন করছেন, যেখানে আটকে যাচ্ছি, এই নালায়ককে হাত ধরে তিনি যেন এগিয়ে দিচ্ছেন। গুরুকে ষষ্টাঙ্গে প্রণাম করে নিতান্তই কিছু নিবেদন করার অনুমতি চাইছি।
তপন রায়চৌধুরী, কীর্তি নারায়ণ চৌধুরী, ওম প্রকাশ, আসারত্নম, পি জে মার্শাল, রজত কান্ত রায়, ব্রিজেন গুপ্তর মত প্রখ্যাততম ঐতিহাসিক বাংলা নিয়ে নানান ধরণের ঐতিহাসিক ভ্রান্তি প্রচার করেছেন। সুশীলবাবু ফ্রম প্রস্পারিটি টু ডিক্লাইন বইতে সেই সব তথ্য শুধু খণ্ডনই করেন নি, তিনি তথ্য দিয়ে ধরে ধরে নিজের মত প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা যারা কারিগর অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গে ঔপনিবেশিক লুঠেরা অর্থনীতির তত্ত্বতলাশ করছি হকার কারিগরদের নির্দেশে, তাদের কাছে বইটি মস্ত পাওনা। ঐতিহাসিক তথ্যগুলোকে ভ্রান্ত জেনেও তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সম্ভব এবং সহজ ছিল না দু-বছর আগেও, আজ সেই সব ঐতিহাসিক তথ্যকে ভ্রান্ত প্রমান করা যাবে অদেখা গুরুর গবেষণা কৃতি অবলম্বন করে। তিনিই একমাত্র ইতিহাসবিদ যিনি ডাচ, ব্রিটিশ, ফরাসী মহাফেজখানায় মূল নথি দেখেছেন, সেই আকরগুলি থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং সবার সামনে বহু নতুন তথ্য উপস্থিত করেছেন। বাংলার জ্ঞানচর্চা দীর্ঘকাল তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। গুরুর উদ্ধারকরা এই ব্যতিক্রমী তথ্যগুলি কবে পাঠ্যপুস্তকে ঠাঁই পাবে সে ক্ষমতায় থাকা মানুষেরা জানেন, কিন্তু ফ্রম প্রস্পারিটি টু ডিক্লাইন : এইটিনথ সেঞ্চুরি বেঙ্গল (From Prosperity to Decline : Eighteenth Century Bengal) ব্যতিক্রমী তথ্যবহুল কিন্তু সুখপাঠ্য বইটি বাংলাবাদীদের কাছে আকরগ্রন্থ হয়ে থাকবে। না এই বইতে তিনি সিরাজের বদনাম অপনোদন করেন নি, যে কাজটা তিনি অজানা মুর্শিদাবাদে বা রোড টু পলাশী (The Road to Plassey) বইতে দৃঢ়ভাবে করতে পেরেছেন। এই বইতে তিনি স্পষ্ট দেখিয়েছেন ইওরোপিয়দের তুলনায় বাংলাভিত্তিক এশিয় বণিকেরা বিপুল পরিমান ব্যবসা করত। ব্রিটিশ শাসনের আগের সময় বাংলা নির্ভর এশিয় ব্যবসায়ীরা প্রায় প্রত্যেকেই বহুল পরিমানে ব্যবসা করেছেন, ফলে বাংলায় বিপুল পরিমান সম্পদ এসেছে। অন্তত দুটি ক্ষেত্রে সোরা ব্যবসা এবং রেশম আর সুতি কাপড়ের কারিগরি আর ব্যবসা, বাংলার ব্যবসায়ী আর শেঠেদের কাজকর্ম এবং সম্পদ নিয়ে তিনি বিশদে তার তথ্য প্রমাণ করছেন। তার আহরিত তথ্য আমাদের পথ প্রদর্শকের কাজ করে এবং উপনিবেশ পূর্ববর্তী বাংলা যে আদতে অসামান্য ধনী ছিল সেই তথ্য তিনি পরোক্ষে আমাদের দিয়ে যান।

সুশীল চৌধুরী
উপনিবেশের প্রথম যুগে বাংলা কি রকম ধনী ছিল একটিবার দেখে নেওয়া যাক। নবোবস ইন ইংলন্ড : আ স্টাডি অব দ্য রিটার্নড এংলো-ইন্ডিয়ান (The Nabobs in England: A Study of the Returned Anglo-Indian) ১৭৬০-১৭৮৫ বইতে জেমস হোলজম্যান (James Holzman) আলোচনা করেছেন পলাশীর তিন বছর পর থেকে ২৫ বছর ধরে বাংলা এবং অন্যান্য প্রেসিডেন্সিতে কোম্পানির আমলা বা ফ্রি বিজনেসম্যান বা ইন্টারলোপারদের ইংলন্ডের কর্মকাণ্ড। তাদের বিলেতে ব্যঙ্গকরে নবোব নামে ডাকা হত। এই নবোবদের একজন পলাশীর অন্যতম অনুঘটক রিচার্ড বিচার (Richard Beecher)। রিচার্ড বিচারের জন্ম ১৭২১-এ। ১৭৪৩-এ বাংলায় পদার্পণ। ১৭৪৫-এ ফ্যাক্টর হলেন। ১৭৪৬-এ কাশিমবাজার কাউন্সিলের চতুর্থ সদস্য। ধাপে ধাপে উত্তোরণ। পরে দ্বিতীয় সদস্য এবং জুনিয়ার মার্চেন্ট (Junior Merchant) পদে উঠলেন। ১৭৫১-য় সিনিয়র মার্চেন্ট এবং গভর্নর কাউন্সিলের ১১তম সদস্য। ১৭৫৬-য় ঢাকা কুঠি প্রধান এবং গভর্নর কাউন্সিলের চতুর্থ সদস্য। ঢাকায় ফরাসি কুঠিতে আশ্রয় ও আতিথ্য গ্রহন। ১৭৫৭-য় বাংলায় আমদানি করা মালের গুদামের মালবাবু। সিরাজকে সিংহাসনচ্যুত করায় তার লুঠের অংশ ২৭,০০০ পাউন্ড অর্জন করেন। তিনিই প্রস্তাব দিয়েছিলেন, পলাশীর বিপ্লবের পর সিলেক্ট কমিটির সদস্যদের সন্তুষ্ট করার কথা যেন কেউ ভুলে না যায়।
১৭৬১-তে অবসর নিয়ে দেশে ফিরে যান। মনেহয় ১৭৬৭ পর্যন্ত ভারতে অনুপস্থিত থেকে বেঙ্গল কাউন্সিলের পঞ্চম সদস্য হিসেবে আবার কোম্পানির চাকরিতে যোগ দেন। কাউন্সিলের দ্বিতীয় এবং মুর্শিদাবাদের কাউন্সিল অব রেভিনিউর প্রধান হন ১৭৭০ সালে। মন্বন্তর রোখায় শ্রম দেন। ১৭৭১-১৭৮১ পর্যন্ত আবার ভারতে অনুপস্থিত। ১৭৭৫ সালে সারের ট্যান্ড্রিজ, রুকসনেট জমিদারি কেনেন। প্রাসাদ নতুন করে তৈরি করেন। ১৭৭৩ থেকে লন্ডনে পোর্টম্যান স্কোয়ারে বাস। কোম্পানির ডিরেক্টর ১৭৭৫-১৭৮৩ পর্যন্ত। তিনি সোসাইটি ফর দ্য ডিসচার্জ অব রিলিফ অব পার্সনস ইম্প্রিজনড ফর স্মল ডেটস (Society for the Discharge of Relief of Persons Imprisoned for Small Debts) নামে একটি সমিতি চালাতেন। ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসায় আর্থিক অব্যবস্থাপনায় বিশাল ঋণের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন। ঋণের অঙ্ক ১ লক্ষ ২০ হাজার পাউন্ড। ঋণ থেকে উদ্ধারের আশায় আবার ভারতে চাকরি করতে আসার ভাবনায় কোম্পানিতে চাকরির আবেদন করলেন। ১৭৮১-তে বাংলায় এলেন ঢাকার টাঁকশালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট পদে বৃত হয়ে। ১৭৮২-র ১৭ নভেম্বর কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তাঁর প্রথমা স্ত্রী শার্লট গলিঘ্যাটি। তাঁদের কন্যা শার্লট ১৭৫৬-র গলোযোগের সময় ফলতায় মারা যান। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এন হ্যাসেলবির কন্যার নামও শার্লট, ১৭৬৭-তে জন্ম, বিবাহ করেন মেজর চার্লস ম্যারস্যাককে (Major Charles Marsack)।
কোম্পানির এক গুরুত্বপূর্ণ আমলার লন্ডনে ফিরে ব্যবসা করে সে যুগে ১ লক্ষ ২০ হাজার পাউন্ড ঋণে ডুবে যাওয়ার পর অবশ্য গন্তব্য হয় বাংলা। প্রবণতাটা লক্ষ্য করুণ, ১ লক্ষ ২০ হাজার পাউন্ড ধার মাথায় নিয়ে একজন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ডিরেক্টর বাংলায় আসছেন তার পুরোনো চাকরিতে, ধনভাগ্য ফেরাতে! কখন? বাংলার প্রথম গণহত্যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের দশ বছর পর, বাংলা বাঙ্গালি যখন রিক্ত শতচ্ছিন্ন। ধন্য বাংলা! লুঠ সময়ের মাত্র আড়াইশ বছর কেটেছে – কিন্তু বাংলা লুঠের ইতিহাস লেখা এখনও হয় নি। এ দায় আপনার আমার সক্কলের। আমরাই পারব। এই রাস্তা আমাদের দেখিয়ে যান তাঁর নানান কাজে সুশীল চৌধুরী মশাই। সেই সম্পদশালী বাংলার ঐতিহাসিক বর্ণনা আমরা পাব তাঁর এই বইতে।
পেজফোরনিউজের সম্পাদক জ্যোতিদাকে কৃতজ্ঞতা জানাই আমার আবদারগুলো রাখার। আমার জীবনের ফেবু ছাড়া সব থেকে বেশি লেখা এখান থেকেই প্রকাশ পেয়েছে।
বিশ্বেন্দু নন্দ, কলকাতা, জানুয়ারি ২০২৩
কৃতজ্ঞতা স্বীকার
গত দেড় দশক এই বইটির তথ্যসংগ্রহের কাজ করতে গিয়ে আমি যে সব ব্যক্তি এবং সঙ্গঠনের থেকে সাহায্য, সহযোগিতা এবং সহায়তা পেয়েছি, তাদের সক্কলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। Maurice Aymardএর সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এই বই বাস্তবে রূপ পেত না। অন্যান্য সকলের থেকে তার প্রতি আমার সর্বাধিক কৃতজ্ঞতা। হেগ শহরে Algemeen Rijksarchief কাজ করার সময় সময় D.H.A. Kolff এবং তাঁর স্ত্রী Annemarieর আতিথ্য ভোলার নয়, যতবার হেগ শহরে গিয়েছি, তাদের আতিথ্য আমায় পুর্ণ করেছে, তারা ছাড়া সেখানে কাজ করার স্বপ্ন সফল হত না। কে এন চৌধুরী ব্রিটিশ কোম্পানির মহাফেজখানা থেকে সংগৃহীত বেশ কিছু বিশদ তথ্য আমায় ব্যবহার করতে দিয়ে আমায় গভীর কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন। আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির Centre of Advanced Study in History বিভাগের Cartographic Section-এর কাছে আমি কৃতজ্ঞ বই-এর মানচিত্রগুলি তৈরি করে দেওয়ার জন্যে। আমায় সহযোগিতা করার জন্যে কৃতজ্ঞ ইরিফান হাবিব এবং তাঁর পুত্র ফৈজ-এর কাছে। যে সব বন্ধু বইটির খসড়া পাঠ করেছেন এবং আমায় নানান ধরণের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য এবং পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন তাদের সক্কলকে ধন্যবাদ। এদের মধ্যে আছেন, Maurice Aymard; Gautam Bhadra, Wayne ‘te Brake, Basudeb Chattopadhyay, Benoy Bhusan Chaudhuri, D.H.A. Kolff, Michel Morineau এবং Immanuel Wallerstein। বইটি তৈরির ভাবনার সময় যে সব সহকর্মীর সঙ্গে আমি আলোচনা করেছি তাদের কাছেও কৃতজ্ঞতা কম নয়। আমি যাদের কথা এই মুহূর্তে মনে করতে পারি তারা হলেন, C.A. Bayly, Richard Barnett, Paul Butel, J.R. Bruijn, Satish Chandra, K.N. Chaudhuri, Ashin Das Gupta, Rich~rd Eaton, F.S. Gaastra, Irfan Habib, Philippe Haudreres, Eugene Irshick, Keram Kevonian, De’nys Lombard, P.J. Marshall, Shireen Moosvi, Frank Perlin, Om Prakash, Tapan Raychaudhuri, Dietmar Rothermund, H. van Santen, Sanjay Subrahmanyam, Agnes Vercamann and Andre Wink।
এই কাজ সফল করতে বিভিন্ন মহাফেজখানায় আমায় প্রভূত সময় কাটাতে হয়েছে, সেই কাজে আমায় দরাজ হাতে সহায়তা করেছেন বিভিন্ন দাতা সংস্থা। ব্রিটেনের কমনওয়েলথ কমিশন আমাকে Commonwealth Staff Academic Fellowship পেতে সাহায্য করে ১৯৭৮-৭৯ সালে আমায় ব্রিটিশ মহাফেজখানায় কজের জন্যে। এছাড়াও British Council, Indian Council of Historical Research, Indian Council of Social Science Research, University of Leiden and Maison des Sciences de l’Homme, Paris, ইত্যাদি সঙ্গঠনগুলির আর্থিক এবং অন্যান্য সহযোগিতায় আমার দেশে বিদেশে গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। আমার বিশেষ ধন্যবাদ রইল Royal Netherlands Academy-র কাছে যারা আমায় ১৯৯০-৯১ সালের এক বছর Netherlands Institute of Advanced Studyতে কাজের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সেখানে আমি বইটির প্রথম খসড়া করি। Netherlands Institute of Advanced Study থাকার সময় D.J. van de Kaa আমায় অসাধারণ সহায়তা দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গঠনেরই Eves de Roo আমার বিপুল পরিমান সংগৃহীত তথ্য প্রক্রিয়া করার জন্যে লোটাস ১২৩টি প্রোগ্রামটি শেখান। এছাড়াও তিনি আমায় হাভার্ড গ্রাফিক্সে ছবি তৈরি করার শিক্ষা দেন। আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। পুত্র শিলাদিত্যর থেকে বেশ কিছু কম্পিউটারের প্রোগ্রাম চালানো শিখি, সেও আমার কাজের বিভিন্ন সময়ে সহয়ক হয়েছে।
বইএর বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন সময়ে নানান শিক্ষাকেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিতে সেমিনার/সম্মেলনে উপস্থাপন করার সুযোগ হয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে, Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka; University of British Columbia, Vancouver; University of California, Berkeley; Centre d’Etudes de l’Inde et de l’Asie du Sud, Paris; Columbia University; Heidelberg University; University of Leiden; Oxford University; School of Oriental and African Studies, London; University of Virginia, Charlottesville; University of Washington, Seattle। এইসব সময়ে যে সব গবেষক আমার উপস্থাপন শুনে বিভিন্ন মন্তব্য ও এবং পরামর্শ দিয়ে আমায় বাধিত করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আমার কৃতজ্ঞতা।
এই পাণ্ডুলিপির বড় একটা অংশ কম্পিউটারে ধারণ করেছেন Pilar van Breda-Bergueiio, Anne Simpson, NIAS থাকাকালীন সময়ে অপূর্ব দক্ষতায় এবং শান্তচিত্তে। তাদের দুজনের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমার সহকর্মী অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমার স্ত্রী মহাশ্বেতা আর কন্যা পরমা পান্ডুলিপির নানান সংশোধনে সহায়তা করেছেন। মনোহরের রমেশ জৈনের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ মন দিয়ে প্রকাশনাটি সম্পাদনার জন্যে। ইন্দ্রনাথ মজুমদার এই বইটির প্রচ্ছদ শিল্পী, তাঁর প্রতিও কৃতজ্ঞতা। এই বইটির নানান কাজকর্ম দেখাশোনা করেছেন আমার স্ত্রী অসম্ভব দৃঢ়তায় এবং শান্তচিত্তে। এই বইটি আমি তাঁর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করলাম।
তালিকার তালিকা
৩.১ বাংলা থেকে ব্রিটিশ আর ডাচেদের রপ্তানির মূল্য ১৭০১-১৭২০
৩.২ ১৭৩০-১৭৫৫ সালের দশকগুলির মধ্যে Quinquennial বছরগুলিতে ব্রিটিশ কোম্পানির মোট এবং গড় রপ্তানি
৩.৩ ঐ ডাচেদের রপ্তানি
৩.৪ ১৭৩০-৫৫ সময় কালের Quinquennial বছরগুলিতে প্রথম পাঁচ বছরে মোট এবং গড় বাৎসরিক এবং শতাংশওয়ারি ইওরোপ এবং এশিয়ায় ডাচ রপ্তানি
৩.৫ ১৭৩০-১৭৫৫ সালের মধ্যে বাংলা থেকে বিভিন্ন এশিয় বাজারে ডাচেদের রপ্তানির শতাংশের হিসেব
৫.১ ১৭৫৭ বছরে জগতশেঠের বাৎসরিক আয়ের হিসেব
৬.১ ১৭৪২ সালে খাসা ও মলমল প্রকৃতির মসলিনের দাম
৬.৩ ১৭৫২-৫৩ সালে কোম্পানিগুলোর সূক্ষ্ম(দামি) কাপড় কাপড়ের রপ্তানি
৬.৪ ১৭৮৮ এবং ১৭৮৭তে বুড়নে বাফতা ও খাসার উৎপাদন ব্যয়
৬.৫ ১৭৮৭-তে বীরভূমের গারার উৎপাদন ব্যয় এবং তাঁতিদের আয়
৬.৬ ১৭৫৬ সালে কাশিমবাজারে তাফেতার উৎপাদন ব্যয়
৭.১ ১৭১০-১১ থেকে ১৭১৭-১৮ সালের মোট এবং গড় Quadrennial ডাচ এবং ব্রিটিশ রপ্তানি
৭.২ ১৭০০-১৭৫৫ সালের মধ্যে কয়েকটি নির্দিষ্ট বছরে ডাচ এবং ব্রিটিশদের মোট রপ্তানির মূল্যে বস্ত্র মূল্যের অংশিদারি (শতাংশে)
৭.৩ ১৭২০-১৭৫০ সালের মধ্যে ইওরোপের বস্ত্র বরাতের মূল্য
৭.৪ ১৭২০-৫০-এর মধ্যে মোট বস্ত্র বরাতের মধ্যে গারা এবং খাসার অংশিদারি
৭.৫ ১৭৩০-৫৫-র মধ্যে Quinquennial বছরগুলিতে ডাচ এবং ব্রিটিশদের গড় মোট এবং বাৎসরিক রপ্তানি
৭.৬ ব্রিটিশ বস্ত্র রপ্তানি পরিমান এবং মূল্য ১৭৪০-৪১ থেকে ১৭৪৪-৪৫ এবং ১৭৪৮/৪৯ থেকে ১৭৫২-৫৩র Quinquennial বছরগুলিতে
৭.৭ ১৭৩০-১৭৫৫ সালের মধ্যে কোম্পানিগুলির বিভিন্ন প্রকারের বস্ত্র রপ্তানির শতাংশের অংশিদারি
৭.৮ ১৭৫৩-৫৪ এবং ১৭৫৪-৫৫ সালে ডাচ এবং ব্রিটিশদের মোট সংখ্যা এবং মূল্যমানের বস্ত্র রপ্তানি
৭.৯ ডাচ এশিয় ব্যবসা (বস্ত্র) : ১৭০৫-৬ থেকে ১৭০৯-১০ এবং ১৭১৩-১৪ — ১৭১৭-১৮ Quinquennial বছরে মোট এবং গড় (খণ্ডে) রপ্তানি
৭.১০ ডাচ আন্তঃএশিয় ব্যবসায় বাংলার বস্ত্র রপ্তানিঃ মোট, গড় এবং শতাংশে অংশিদারি Quinquennial সময়ে
৭.১১ বাটাভিয়া, জাপান এবং পারস্যে ১৭৩০-৫৫ বছরের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের বস্ত্রের অংশিদারি
৭.১২ ১৭৫০-৫১ থেকে ১৭৫৪-৫৫ Quinquennial বছরে এশিয় বণিক এবং ইওরোপিয় কোম্পানিগুলির মোট এবং গড় রেশম বস্ত্র রপ্তানির
৮.১ ১৭০০-১৭২০-র মধ্যে ডাচ এবং ব্রিটিশদের কোরা রেশমের Quinquennial মোট এবং গড় রপ্তানি
৮.২ ১৭৩০-৫৫-র মধ্যে ব্রিটিশদের কোরা রেশমের Quinquennial মোট ও গড় রপ্তানি
৮.৩ ১৭৩০-৫৫-র মধ্যে ডাচেদের কোরা রেশমের Quinquennial মোট ও গড় রপ্তানি
৮.৪ ১৭৪৯-৫৮-র মধ্যে এশিয়দের কোরা রেশমের Quinquennial মোট ও গড় রপ্তানি
৮.৫ ১৭৫৯-৬৭-র মধ্যে এশিয় বণিকদের কোরা রেশমের মোট এবং মূল্যমান এবং পরিমান
৮.৬ ১৭৭৫-১৭৭৭-এর মধ্যে এশিয় বণিকদের রেশম রপ্তানির মোট Triennial Total মূল্য, গন্তব্য/অভিমুখ
৮.৭ ১৭৪৯-৫৮-র মধ্যে এশিয় বণিকদের কোরা রেশম রপ্তানির মোট মূল্য এবং পরিমাণ
৮.৮ ১৭৪৯-৫৮-র মধ্যে এশিয় এবং ইওরোপিয় বণিকদের রেশম রপ্তানির তুলনামূলক অবস্থান
৯.১ ১৭৩০-১৭৫৫ সালের মধ্যে ডাচ এবং ব্রিটিশদের সোরার Quinquennial মোট ও গড় বাৎসরিক রপ্তানি
৯.২ ১৭৫৫ সালের বিহারে আফিমের মোট উতপাদন এবং বিতরণ
৯.৩ ১৭৪১-১৭৪৫ সালের মধ্যে মোট আফিম উতপাদন এবং বিভিন্ন ক্রেতার অংশিদারি
৯.৪ ১৭৩০-৫৫-র মধ্যে বাটাভিয়ায় ডাচ আফিম রপ্তানি – Quinquennial মোট এবং বাতসরিক গড়
১০.১ ২৪ জুন ১৭৫২ সালে বস্ত্র রপ্তানির উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ডাচ কোম্পানির চুক্তি
১০.২ ১৭৩২-১৭৫৪-র মধ্যে নির্দিষ্ট বছরে ডাচ কোম্পানির খাসা এবং মলমলের চুক্তি মোতাবেক মূল্য
১০.৩ ১৭৩২-১৭৫৪-র মধ্যে নির্দিষ্ট বছরে ডাচ কোম্পানির মোটা কাপড়ের চুক্তি মোতাবেক মূল্য
১০.৪ ১৭৩২-১৭৫৪-র মধ্যে নির্দিষ্ট বছরে ডাচ কোম্পানির সব থেকে মোটা এবং শস্তাতম কাপড়ের চুক্তি মোতাবেক মূল্য
১০.৫ ১৭৩২-১৭৫১-র মধ্যে নির্দিষ্ট বছরে ব্রিটিশ কোম্পানির খাসা এবং মলমলের চুক্তি মোতাবেক মূল্য
১০.৬ ১৭৩২-১৭৫১-র মধ্যে নির্দিষ্ট বছরে ব্রিটিশ কোম্পানির মোটা ক্যালিকো কাপড়ের চুক্তি মোতাবেক মূল্য
১০.৭ ১৭৩৩-১৭৫৫ সালের মধ্যে ব্রিটিশ কোম্পানির কোরা রেশমের বরাতের পরিমান
১০.৮ ১৭২৯ সালে চালের দাম
১০.৯ ১৭৩৮-১৭৫৪ সালে বাংলায় চালের দাম
১০.১০ ১৭২৭-১৭৫৫-র মধ্যে বাংলা থেকে ব্রিটিশ রপ্তানির Quinquennial মোট গড় বাৎসরিক মূল্য
১১.১ ১৭৩৮-১৭৪২-এর মধ্যে বাংলায় ব্রিটিশ এবং ফরাসী জাহাজ
১১.২ ১৭৫১-১৭৫৪ সালে বাংলায় ব্রিটিশ এবং ফরাসী জাহাজ
লেখচিত্রের তালিকা
৩.১ ১৭৩০-৫৫-র মধ্যে ব্রিটিশ এবং ডাচ রপ্তানির তালিকা
৭.১ ১৭০১-১৭০২ থেকে ১৭৫৪-৫৫ সালের মধ্যে মোট রপ্তানি মূল্যে ডাচ এবং ব্রিটিশদের অংশিদারি
৭.২ ১৭৩০-৫৫ সালের মধ্যে বাৎসরিক গড়ে ডাচ এবং ব্রিটিশ বস্ত্র রপ্তানি
৭.৩ ১৭৪০-৫৩ সালের মধ্যে মোট পরিমান এবং মূক্যে ব্রিটিশ বস্ত্র রপ্তানি
৭.৪ ১৭৩০-১৭৫৫ সালের মধ্যে ডাচ এবং ব্রিটিশদের বিভিন্ন প্রকার বস্ত্রের অংশিদারি
৭.৫ ১৭৫৩-১৭৫৫-র মধ্যে ডাচ এবং ব্রিটিশ বস্ত্র রপ্তানির মোট পরিমান এবং মূল্য
৭.৬ক ১৭২০-১৭৫০-এর মধ্যে মোট ডাচ রপ্তানিতে খাসার অংশিদারি
৭.৬খ ১৭২০-১৭৫০-এর মধ্যে মোট ব্রিটিশ রপ্তানিতে খাসার অংশিদারি
৭.৭ক ১৭৩০-এ বাটাভিয়ায় রপ্তানিকরা বিভিন্ন প্রকার বস্ত্রের অংশিদারি (ডাচ)
৭.৭খ ১৭৪০-এ বাটাভিয়ায় রপ্তানিকরা বিভিন্ন প্রকার বস্ত্রের অংশিদারি (ডাচ)
৭.৭গ ১৭৫০-এ বাটাভিয়ায় রপ্তানিকরা বিভিন্ন প্রকার বস্ত্রের অংশিদারি (ডাচ)
৭.৮ক ১৭৩০-এ জাপানে রপ্তানিকরা বিভিন্ন প্রকার বস্ত্রের অংশিদারি (ডাচ)
৭.৮খ ১৭৪০-এ জাপানে রপ্তানিকরা বিভিন্ন প্রকার বস্ত্রের অংশিদারি (ডাচ)
৭.৮গ ১৭৫০-এ জাপানে রপ্তানিকরা বিভিন্ন প্রকার বস্ত্রের অংশিদারি (ডাচ)
৭.৯ক ১৭৩০-এ পারস্যে রপ্তানিকরা বিভিন্ন প্রকার বস্ত্রের অংশিদারি (ডাচ)
৭.৯খ ১৭৪০এ পারস্যে রপ্তানিকরা বিভিন্ন প্রকার বস্ত্রের অংশিদারি (ডাচ)
৭.৯গ ১৭৫০-এ পারস্যে রপ্তানিকরা বিভিন্ন প্রকার বস্ত্রের অংশিদারি (ডাচ)
৭.১০ ১৭৫০-১৭৫৫ সালে এশিয় এবং ইওরোপিয়দের রেশম বস্ত্র রপ্তানি
৮.১ ১৭৫০-এর দশকে এশিয় এবং ইওরোপিয়দের রেশম রপ্তানি
সংক্ষিপ্তি (ABBREVIATIONS) নথিপত্র
BPC Bengal Public Consultations
Beng. Letters Recd. Bengal Letters Received
C & B Abstr Coast and Bay Abstracts
DB Despatch Books
HB Hughli to Batavia
Fact. Records Factory Records
HR Hoge Regering van Batavia
Home Misc. Home Miscellaneous Series
Orme Mss. Orme Manuscripts
Mss. Eur. Manuscript European
oc Original Correspondence
voc Verenigde Oostindische Compagnie
NAI National Archieves of India
f.2.vo অর্থে folio 2 verso
পত্রিকা
BPP Bengal Past and Present
CHJ Calcutta Historical Journal
IESHR Indian Economic and Social History Review
IHR Indian Historical Review
]AS journal of Asian Studies
JESHO journal of the Economic and Social History of the Orient
MAS Modern Asian Studies
(চলবে)
যতটা সম্ভব বাংলা শব্দ রাখার অনুরোধ রইল। উদাহরণস্বরূপ, Quinquennial -এর পরিবর্তে পাঁচসালা ব্যবহার করতে পারেন।
ঠিক, করা দরকার। মূল টেক্সটে পাঁচ বছরের করেছি। পাঁচশালা শব্দটা জুতসই