মৌজার নাম বাঙ্গীদিরি। বিশাল আয়তনের না হলেও ছোটো কিন্তু নয়। ছোটো বড়ো মোট পঁচিশটি গ্রাম নিয়ে গঠিত এই মৌজা। মৌজাধিপতির নাম তৃতীয় শাহেনশা ক্যাটিয়ার। বৃত্রাসুর‚ বকাসুর ইত্যাদি আরো যত সুর আছে সমস্তই তাঁর নামের আগে অলরেডি প্রযুক্ত‚ বাকি বলে আর কিছু নেই — যদি থাকে তাহলে সেটা সৃষ্টিকর্তা তার সৃষ্টির অন্তরালেই আপাতত রেখেছেন। মৌজার প্রত্যেক ব্যক্তি তাঁকে ভয় ভক্তি করে। তাঁর বিরুদ্ধে চার দেওয়ালের ভিতরে কিছু বললেও প্রকাশ্যে মুখ খোলার কারো সাহস নেই। তৃতীয় শাহেনশা মৌজাধিপতি হিসাবে অভিষেকের আগে দুই পুরুষ অধিপতি ছিল‚ বাবা দ্বিতীয় শাহেনশা ও দাদু প্রথম শাহেনশা। তৃতীয় শাহেনশা পূর্বজদের অনুসরণেই মৌজার শাসন কার্য পরিচালনা করে চলেছেন অত্যন্ত কঠোর অনুশাসনের মধ্য দিয়ে— সুচাগ্রমেদিনী টুকুও অনুশাসনের মধ্যে ফাঁক নেই। অত্যন্ত প্রতাপ এবং সুষ্ঠু ও যথাযথভাবে মৌজার শাসন কার্য পরিচালনা করেন।
মৌজাধিপতির অধীনে শাসন কার্য পরিচালনার দায়িত্বে আছে প্রত্যেক গ্রামের মোড়ল‚ আবার প্রত্যেক মোড়লের অধীনে আছেন একজন উপ-মোড়ল। এই ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থার সাহায্যে মৌজার শাসনবিভাগ ও আইন বিভাগ নিয়ন্ত্রিত। ফলে কোন ত্রুটি বিচ্যুতি প্রশ্নাতীত।
প্রত্যেক বছরের একটা নির্দিষ্ট দিনে মৌজাধিপতির দরবারে সভা হয়। সেখানে মোড়ল ও উপ-মোড়লদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। সেই সভায় মৌজার আইন শৃঙ্খলা সম্বন্ধে পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন কিছু নিয়মের যোগ অথবা পুরনো কোন নিয়মের শিথীলিকরণ বা বিয়োগ করা হয়। এবারে সেই বৈঠকের দিন স্থির করা হয়েছে ১৪ ফাল্গুন। ফলে ওই দিন মোড়ল উপমোড়ল প্রত্যেকেই টেনশনে থাকে। তাদেরকে নিজ নিজ গ্রামের বাৎসরিক রিপোর্ট জানাতে হয়।
এদিকে দিবস-রাত্রি ও দিন-মাস পেরিয়ে দেখতে দেখতে সেই কাঙ্ক্ষিত অথচ শঙ্কিত দিন ১৪ ফাল্গুন আগামীকাল। তাই মোড়ল উপ-মোড়লরা তার আগের দিন নিজ নিজ গ্রামে সভা করে‚ তাদের কার্যের পর্যালোচনা নিজেরাই করে নেয় শেষ বারের মতো। গতবার কালিকাপুর গ্রামের প্রজাদের সম্পর্কে নিয়ম শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল। তাই মৌজাধিপতি সেই গ্রামের মোড়লকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে‚ একটু শক্ত হাতে নিয়ম শৃঙ্খলা যাতে প্রজারা অমান্য না করে সেই দিকে যেন নজর থাকে। নির্দেশনারূপ এই বছর কালিকাপুর গ্রামের মোড়ল সর্বেস্বর গোপ অত্যন্ত সতর্ক ও প্রবল প্রতাপ ও কঠোরতার সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করেছে। উপমোড়লকে জিজ্ঞাসা করে—
“কৈলাশ এইবারে কি আমাদের কোনো গন্ডগোলের ঘটনা ঘটেছে?”
“না”
“শ্রাবণ মাসে কুইলার সঙ্গে ধনেশের সঙ্গে কিসের ঝামেলার খবর আমার কানে এসেছিল?”
“ওটা সে রকম কিছু নয়। কুইলা ধনশার বাঈদ ক্ষেতের জল নিজের ক্ষেতে নামিয়ে নিয়েছিল তাই।”
“সেটার মিটমাট হয়েছে নাকি হয়নি?”
“হ্যাঁ…হয়েছে।”
“এখন আর কোনো ঝামেলা নেই তো?”
“না”
“আচ্ছা‚ বেশ।”
এইভাবে দুই মোড়ল উপ-মোড়লের মধ্যে আরো অন্যান্য বিষয় সম্বন্ধে কথাবার্তা শেষ হওয়ার পর তারা তাদের গ্রামের সমস্ত রিপোর্ট তৈরি করে। তাতে অবশ্য সেরকম কিছু খারাপ রিপোর্ট নেই। একটা দুটো হয়েছিল সেটাতেও এখন আর কোনো সমস্যা নেই। তাই তারা আলোচনায় সন্তুষ্ট হয়ে রাত্রি দশটায় তাদের আলোচনা সমাপ্ত করে কৈলাশ তার নিজের বাড়ি ফিরে যায়।
আজ ১৪ই ফাল্গুন। দরবারে বৈঠক বসবে দুপুর বারোটা থেকে। গ্রামের সকল মোড়ল উপ-মোড়লরা সকাল থেকেই তার যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে নিয়েছে।
এদিকে এক এক করে সমস্ত গ্রামের প্রতিনিধিরা দরবারে এসে উপস্থিত। সভার মধ্যমণি মৌজাধিপতি ও সভাপতি তৃতীয় শাহেনশা সিংহাসনে আসীন। তাই তিনিই প্রথমে আলোচনা শুরু করলেন এবং সমস্ত গ্রামের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মৌজার রিপোর্ট জানতে চাইলেন। ফলত প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্য ও রিপোর্ট এক এক করে মৌজাধিপতির সমীপে পেশ করল। অধিপতি সমস্ত বক্তব্য একাগ্র চিত্তে শোনার পর তিনি সন্তোষ প্রকাশ করলেন। মৌজাধিপতি সন্তোষ প্রকাশ করায় সকল গ্রামের প্রতিনিধিদের সমস্ত উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার নিরসন ঘটল। ঘড়িতে আড়াইটে বাজতে মিনিট পাঁচেক বাকি‚ তাই সভাপতি চা পানের জন্য বিরতি ডাকলেন। সভার প্রথম পর্বের আলোচনা সমাপ্ত হল।
চা পান বিরতির পর সভার দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা আরম্ভ হল। আলোচনার বিষয় কোন কিছু নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে কিনা অথবা যোগ বা বিয়োগের প্রসঙ্গ। মৌজাধিপতি জানতে চাইলেন—
“আগের আইনের মধ্যে কিছু পরিবর্তন করতে হবে কি?”
সভায় উপস্থিত মোড়ল উপ-মোড়লরা সকলেই সমস্বরে জানাল —
“না না‚ পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই।”
অধিপতি বললেন —“বেশ…।”
এরপরে অধিপতি কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর বললেন —
“এইবারে কিছু নিয়ম বিয়োগ হবে না। তবে একটা আইন অতিরিক্ত যোগ করা হবে।”
মৌজাধিপতির এই কথা শুনে সবাই চমকে উঠল এবং সচকিত আগ্রহে শোনার অপেক্ষায় রইল। কি ধরনের আইন‚ সমাজের অগ্রগতিতে গ্রহণযোগ্য নাকি গ্রহণযোগ্য নয় — এই সমস্ত সাত পাঁচ ভাবনার উদয় হয় সকল গ্রামের প্রতিনিধিদের মনে। অধিপতি জানালেন —
“মৌজার মধ্যে মেয়েদের শিক্ষা নিষিদ্ধ।”
এই নির্দেশ সভার অন্যদের কাছে বজ্রের ন্যায় আঘাত করল। কিন্তু আগেই বলেছি‚ অধিপতির বিরুদ্ধে টু শব্দ করার সাহস পায় না কেউ‚ তবে এই নির্দেশ অন্য সকলে মেনে নিতে বাধ্য হলেও বাঁশগড় গ্রামের মোড়ল ভালোবাসা ও উপমোড়ল প্রেম আপত্তি জানাল। তারা মেনে নিতে অস্বীকার করল। চেয়ার থেকে উঠে একপ্রকার বাধ্য হয়েই কিন্তু ভদ্র ও নম্রতায় মোড়ল ভালোবাসা বলল‚ —
“বাবু‚ এই আইন মৌজার অগ্রগতির পরিপন্থী। কারণ সমাজের উন্নতি করতে হলে ছেলেমেয়ে উভয়ের শিক্ষার দরকার।”
অধিপতি তার দুচোখ বড় বড় করে কর্কশ ও ক্রুদ্ধ স্বরে বললেন —
“সেসব আমি মানি না। আমি যা বললাম তার বিপরীত ঘটনা ঘটলে সেই গ্রামের প্রধান প্রতিনিধিকে সরাসরি ফাঁসি দেওয়া হবে।”
অগত্যা থেমে যেতে হল। মৌজাধিপতি ‘এই আইন যেন কঠোর ভাবে মান্য করা হয়’ — এই বলে সভার ইতি ঘোষণা করলেন। সকলেই দরবার থেকে বেরিয়ে নিজেদের গ্রামের দিকে রওনা দিল।
দুই
বাঁশগড় গ্রামের মোড়ল ভালোবাসা‚ একজন উদার মনের এবং সমাজ হিতৈষী মানুষ। সমাজ পরিচালনার পাশাপাশি সমাজের সংস্কারও করে থাকে। সময়ের সাথে সাথে পুরনো যুগের বা পুরনো দিনের এমনকি বর্তমানের কুসংস্কার গুলিকেও তিনি সংস্কার করেন। এক কথায় তিনি তার গ্রামের সমাজ এবং লোকদের উন্নয়ন অভিলাষী। সে গ্রামের প্রত্যেক লোকের সুখ দুঃখ বোঝে। তাদের সুখে সুখী আবার তাদের দুঃখে দুঃখ অনুভব করে। অযথা জোর করে না। তাই গ্রামের লোকরা কোন ধরনের অসামাজিক অপরাধ থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখে। গ্রামের লোকদের কাছে সে ‘লিভিং গড’। ‘সম্মান পেতে হলে সম্মান দিতে হয়’ এই মতের বিশ্বাসী মোড়ল‚ তার গ্রামের লোকদের যথেষ্ট ভালোবাসেন‚ অধিবাসীরাও সর্বস্ব শ্রদ্ধা ও ভক্তি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে মোড়লের প্রতি প্রদর্শন করে। অন্যান্য আরো ২৪টা গ্রামের প্রতিনিধিদের সাথে এই গ্রামের মোড়লের এইখানেই তফাৎ।
এই শান্ত‚ স্নিগ্ধ‚ কোলাহলমুক্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিবেষ্ঠিত বাঁশগড় গ্রামে প্রথম দুই মাস মৌজাধিপতি নির্দেশিত আইন কার্যকর হলেও তৃতীয় মাসের প্রথম সপ্তাহে একটা জরুরি মিটিং ডাকল মোড়ল। সেই মিটিং থেকে মোড়ল ভালোবাসা অধিবাসীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করল–
“মেয়েদের শিক্ষা নিষিদ্ধ এই আইন আমরা মানব না। গ্রামের মধ্যেই গোপনে মেয়েদের শিক্ষা দেওয়া হবে।”
গ্রামের জনগন মোড়লের কথায় পুরোপুরি সহমত পোষণ করে। যথারীতি অন্যান্য গ্রামের অলক্ষ্যে আরম্ভ হল ছেলেদের সাথে মেয়েদেরও শিক্ষাদান দেওয়া‚ যেমনটা আগে চলছিল। দুই মাস বঞ্চিত থাকা মেয়েদের হৃদয় আজ উল্লাসে ভরপুর ও পরিপূর্ন। তাদের হৃদয় উল্লাসের ঢেউ চোখে মুখে প্রতিভাত। আনন্দ আজ সীমাকে ছাড়িয়ে অসীমাকাশে বিচরণশীল। এই প্রাপ্ত অধিকার তারা মোড়ল ভালোবাসার চরণে উৎসর্গ করে নিজেরা আজ ধন্য।
প্রায় সাত মাস গোপনে চলার পর গুপ্তচরের মারফত মৌজাধিপতি তৃতীয় শাহেনশা ক্যাটিয়ারের নিকট সন্দেশ পৌঁছাল যে‚ বাঁশগড় গ্রামে তার নির্দেশিত আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে‚ গোপনে মেয়েদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এই সংবাদ শোনা মাত্র মৌজাধিপতির ধমনীর বিশুদ্ধ রক্তে গরমের মাত্রা এক ধাক্কায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়ে গেল।
‘আস্পর্ধা তো কম নয়’ সিংহের গর্জনের ন্যায় স্বগতোক্তি‚ কাল বিলম্ব না করে সঙ্গে সঙ্গে তিনি মোড়লকে তলব করে চিঠি লিখলেন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দরবারে উপস্থিত হওয়ার ফরমান জারি করলেন।
মোড়ল ভালোবাসার কাছে ঈপ্সিত অথচ কণ্টক পত্র দুরন্ত গতিবেগে পৌঁছাল। পত্রের বাদামী রঙের বন্ধ আবরণ উন্মোচন করে পড়ে দেখল‚ — ‘আগামীকাল দ্রুত মৌজাধিপতির দরবারে উপস্থিত থাকার নির্দেশ’ দেওয়া হয়েছে।
অগত্যা কোন উপায় নেই অধিপতির নির্দেশ অমান্য করার। রাত্রিতে ঘুমানোর সময় বিছানায় শুয়ে শুয়ে সে চিন্তা করল —
“অধিপতি তাকে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করলেও সে তার সিদ্ধান্তে অটল থাকবে।”
সকালে ঘুম থেকে উঠে‚ হালকা কিছু খেয়ে দরবারের উদ্দেশ্যে রওনা দিল এবং ঠিক সাড়ে নয়টার সময় দরবারে উপস্থিত। মৌজাধিপতির ঘরের ভিতরে ঢুকে নমস্কার জানালে মোড়লের দিকে না চেয়ে‚ মাথা নিচু অবস্থায় অঙ্গুলি নির্দেশ করলেন মুখোমুখি চেয়ারে বসার জন্য। কাজ শেষ হলে তিনি মাথা উচু করে মোড়লের দিকে তাকালেন এবং কোনো কিছু ভূমিকা না করে সোজাসুজি রূঢ় ও কর্কশ কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন —
“প্রথম এবং এটাই শেষ বারের মতো তোমাকে সতর্ক করে দিলাম ঘোষিত ও নির্দেশিত আইনের যেন অমান্য না করা হয়।”
মোড়ল ভালোবাসা কিছু বলতে যাচ্ছিল‚ কিন্তু অধিপতি হাতের ইশারায় বোঝাতে চাইলেন তিনি আর কিছু শুনতে চাইছেন না। নিরুপায় বাধ্য হয়ে সে বেরিয়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে এবং দুপুরের আগেই বাড়ি পৌঁছে গেল।
তিন
আজ ১৪ই মাঘ। ফাঁসির দিন।
মৌজাধিপতির ঘোষিত আইন কার্যকরী না করায় এবং মোড়ল ভালোবাসা নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকায়‚ আইন লঙ্ঘনের শাস্তি স্বরূপ মোড়লকে ফাঁসি দেওয়া হবে। সকাল থেকে তার প্রস্তুতি জোর কদমে চলছে।
বাঁশগড় গ্রামের অধিবাসীরা অনেক চেষ্টা করেছিল তাদের ‘লিভিং গড’ এর ফাঁসি আটকানোর জন্যে। কিন্তু তারা অনেক আন্দোলন করেও শেষ পর্যন্ত হেরে গেছে মৌজাধিপতির কঠোরতার ও নিষ্ঠুরতার নিকট।
ফাঁসির নির্দিষ্ট সময় দুপুর ১২টা। সকাল ১০টা থেকে তার প্রস্তুতি চলছে। জনগণের সামনে তাকে ফাঁসির মঞ্চে ঝুলানো হবে। সময়কে জোয়ারের মতো আটকানো সম্ভব নয়। তাই নির্দিষ্ট সময়ে মোড়ল ভালোবাসাকে ফাঁসি দেওয়া হলে সে ইহলোক ছেড়ে অলৌকিক জগতের বাসিন্দা রূপে আত্মপ্রকাশ করল।
*** ***
আজ একবছর পূর্ণ হল। আজকের দিনেই মোড়ল ভালোবাসাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। তিনি আজ সশরীরে নেই কিন্তু ফাঁসির মঞ্চে সে গেয়ে গেছে জীবনের জয়গান। সে অমর‚ তার আত্মা অবিনশ্বর‚ তার কথা গুলি জনগন এখনও মেনে চলে। তার মতাদর্শ এখনও প্রত্যেকের আচরণের মধ্যে জীবিত। গ্রামের অধিবাসীদের হৃদয়কে সবচেয়ে বেশি আন্দোলিত ও আলোড়িত করেছিল‚ যেটা মোড়ল ফাঁসির আগে তার শেষ ইচ্ছার সময় বলেছিল। জনগণের উদ্দেশ্যে সে অনেক কথায় বলতে যাচ্ছিল কিন্তু তার মন ও হৃদয় এতটাই ভারাক্রান্ত ও হতাশাগ্রস্ত ছিল যে‚ সে তিনটি শব্দের বেশি কোন শব্দই বলতে ও লিখতে পারেনি‚ মুখের মধ্যে অনেক কথায় ধ্বনিত হলেও হাত আর লিখতে পারেনি‚ শুধু চোখের জল নাকের ডগা দিয়ে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। জনগণের উদ্দেশ্যে তার শেষ তিন শব্দের অশ্রুসিক্ত অমৃতবানী — “ফ্রম ইউর্স ভালোবাসা…..”।
পরেশ চন্দ্র মাহাত, বড়কিটাঁড়, কর্মাটাঁড়, জয়পুর, পুরুলিয়া