শাখা সংগঠন হিসাবে দলের পাশে থেকে বিপদের সময় দলের শ্রীবৃদ্ধি ঘটানোর চেষ্টা করে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্র। সংগঠন এর অস্তিত্ব যখন সংকটময় সেই সময় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মমতা ব্যানার্জীর স্নেহধন্য অশোক রুদ্রের হাতে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির দায়িত্ব তুলে দেন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জী। প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের গুরুত্ব আগেও যথেষ্ট ছিল বর্তমানে আরও উন্নত থেকে উন্নততরো হচ্ছে অশোক রুদ্র দায়িত্ব নেওয়ার পর। একের পর এক সফল কর্মসূচি নিয়ে শিক্ষক সংগঠনকে প্রাসঙ্গিক করে তুলছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে।

করোনা মোকাবিলায় যে কোনো শাখা সংগঠনের থেকে অনেক সক্রিয় হিসাবে অনুপ্রাণিত করে দক্ষযজ্ঞে সামিল করেন এই প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষিকাদের। প্রথমে সচেতনার বৃদ্ধির জন্য এক হাজার দলকে দিয়ে সব শোনে মাস্টারমশাই কর্মসূচি করে প্রায় সত্তর হাজার প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষিকাদের এই মানববন্ধনে যুক্ত করেন। তাঁরই উদ্যোগে এখনো পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সাহায্য করে সরকারের পাশে থাকেন এই শিক্ষক শিক্ষিকারা। শিক্ষক সংগঠনের তরফে এক লক্ষ আশি হাজার দুঃস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়ার পর এবার গ্রীষ্মের দাবদাহে রক্তের সংকট মেটাতে সকল সরকারি বিধিনিষেধ মেনে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে মাঠে নামেন তিনি।

আজ সংগঠনের তৃতীয় রক্তদান শিবির নিজের গড় বার্নপুর পার্টি অফিসে হয় ও চতুর্থ রক্তদান জঙ্গলমহলের শালবনীতে তন্ময় সিংহের নেতৃত্বে হয়। অশোক রুদ্রের আহ্বানে এই রক্তদান শিবিরে আজ উপস্থিত ছিলেন আসানসোলের মেয়র ও বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি, বিধায়ক তাপস ব্যানার্জী, ডিআই মাধ্যমিক অজয় পাল, আসানসোল পৌর নিগমের মেয়র পারিষদ শিক্ষা অঞ্জনা শর্মা থেকে শুরু করে বলিষ্ঠ দলীয় নেতৃত্ব সদাশিবন দাশু, এসআই হীরাপুর চক্র অরিজিত মন্ডল, শিক্ষক সংগঠনের রাজীব মুখার্জি, রূপক রাই, সৌম্যদীপ ঘোষ, দিব্যেন্দু সাহা, অমিতাভ দাস, বুদ্ধদেব সমাদ্দার, লক্ষীকান্ত নায়েক, যুব তৃণমূল কংগ্রেসের অমিত সেন, উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়দেব বিশ্বাস, সুজাত হুসেন-সহ আরো অনেকে।

এদিনই বার্নপুরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে স্টেট রিলিফ ফান্ডে বারাবনি চক্রের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় ফেজে ৩০,০০০ টাকার চেক তুলে দিলেন অশোক রুদ্র মহাশয়ের হাতে।

অশোক রুদ্র জানান মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকেরা সরাসরি মানুষকে খাদ্য সামগ্রী দিচ্ছেন। করোনার মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জীর হাত শক্ত করতে শিক্ষক সংগঠন গুলি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করছে। কুলটি, চিত্তরঞ্জনে রক্তদান হওয়ার পর আজ শিল্পাঞ্চল বার্নপুর ও জঙ্গলমহলের শালবনীতে রক্তদান হচ্ছে। আজ তিরিশ ইউনিট করে রক্ত দুটো জায়গা থেকেই সংগৃহীত হয়েছে। তিনি সারা রাজ্যের শিক্ষক শিক্ষিকাদের এইভাবেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর পাশে থেকে সরকারের হাত শক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন এইভাবেই সরকারের সকল নিয়মকানুন মেনে প্রতিটি জেলাসদর ও মহকুমাতে অন্তত একটি করে সংগঠনের পক্ষ থেকে রক্তদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
ছবি ও সংবাদ : সুদীপ্ত চক্রবর্তী