লকডাউন। এই মুহূর্তে বাঁচবার জন্য কঠোর নিয়ম মেনে চলা ছাড়া আমাদের উপায় নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবদিক বিবেচনা করেই তা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। গ্রামাঞ্চলের সাথে হলদিয়া শিল্পাঞ্চলেও যার ছায়া প্রকট ভাবে দেখা গেল। যেখানে অনেক শ্রমিকেরই দিন চলে নিত্যদিনের মজুরিতে। বড় থেকে মাঝারি, সাথে ছোট শিল্পের কারখানাও বন্ধ। তাই অসংগঠিত শ্রমিকরা আজ বড্ড অসহায়। মুখ্যমন্ত্রী সব্বাইয়ের জন্য রেশনের ব্যবস্থা আগেই ঘোষণা করেছেন। তাতেও তাদের চলছে না। ঠিক এই সময় ওই সকল অসহায় পরিবারগুলোর পাশে এসে অন্নদাতার ভূমিকায় দাঁড়ালেন হলদিয়া শহর তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী গার্গী মুখার্জী।

নিজ উদ্যোগে পৌরসভার ২৮নং ওয়ার্ডের প্রায় ১০০ পরিবারকে চাল, আলু, ডাল, সোয়াবিন-সহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস তুলে দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন। যোগ্য সহযোগিতা করলেন ওয়ার্ডের তৃণমূল কর্মীরা।

এই লড়াকু নেত্রী এখানেই থেমে থাকেননি, উনি পশুপ্রেমীও বটে। লকডাউনের ছায়া এসে পড়ে পশু প্রাণীদের ওপরও। এই সময় এই অবলা পশুপ্রাণীরা খেতে না পেয়ে চৈত্রের দাবদাহে রাস্তার পাশে ধুঁকতে থাকে। গার্গীদেবী এ দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে হলদিয়ার দুর্গাচক থেকে টাউনশিপ পর্যন্ত রাস্তার কুকুরদের খাওয়ার দেওয়ার কাজ শুরু করলেন। বললেন, এই অবস্থাতে একজন তৃণমূল কর্মী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে থাকতে চান। তাই যতটা সম্ভব হবে ওই সকল অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে লকডাউন পর্যন্তই থাকবেন। উনি নিজে ALO নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে যতদিন না লকডাউন শেষ হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত রাস্তার কুকুরদের খাওয়ানোর কর্মসূচি চালু রাখবেন।
ছবি ও সংবাদ : সুদীপ্ত চক্রবর্তী
