গড়িয়াহাট হিন্দুস্থান ক্লাবের এবারের থিম ‘অঙ্কুর’। গল্পটা এরকম—সত্য যুগের কথা। শ্বেতকি নামে এক রাজা ছিলেন। তিনি নিরবিচ্ছিন্ন যজ্ঞ করা শুরু করলেন। যজ্ঞ মানে বিভিন্ন দেব দেবতার উদ্দেশ্য মন্ত্র সহযোগে অগ্নিতে ঘি ফেলা। শেষ বারো বছরে দুর্বাসা মুনি ঐ যজ্ঞ শেষ করেন। নিরন্তর ঘি খেয়ে অগ্নির অরুচি চলে এলো। অগ্লিদেব ক্ষুধামান্দ্য রোগে ভূগে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। অগ্নি প্রতিকারের জন্য ব্রহ্মার কাছে গেলেন। ব্রহ্মা তাকে খান্ডববন পুড়িয়ে আমিষ খাওয়ার দাওয়াই দিলেন। তিনি অগ্নিকে বললেন, ‘এতোদিন যজ্ঞে ফল-ঘি নিরামিষ খেয়েছো; এবার সাপ, ব্যাং, পাখি, বিচ্ছু খাও’। খান্ডব বনের রক্ষক স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্র ,তাই সেই বন ধ্বংশে সাহস করলেন না অগ্লি। অবশেষে দ্বাপর যুগে কৃষ্ণ আর অর্জুনের সহায়তায় খান্ডব বন পুড়িয়ে ছাড়খাড় করে বনের তাবত্ প্রাণীকূল সাবাড় করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললেন।
এই পুজোর সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য। সৃজনে অনির্বাণ, তাঁকে সহযোগিতা করেছেন বিভিন্ন শিল্পী এবং কলাকুশলীরা। চন্দ্রিমার পুজোর থিমের মধ্যে আধুনিকতার মধ্যেও আছে এক আভিজাত্যের ছাপ। পুরাণের গন্ধ ম ম করছে প্যান্ডেলর আনাচে কানাচে। চন্দ্রিমা বললেন, পুরান থেকে নিলেও আজ এই অগ্নিগর্ভ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সকলে ভুক্তভোগী। এই কঠিন অবস্থা থেকে আমরা বেরিয়ে আসাতে চাই। আসার চেষ্টা করে চলেছি অনর্গল।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন উদ্বোধন করতে এসে কবিদ বিধি মানার কথা সকলকে বলেন। উৎসব সকলের, অতএব সকলে উৎসবকে সমান ভাগে ভাগ করে নিন।
ছবি ও ভিডিও : চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক সামন্ত