করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা তা সরেজমিনে দেখতে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছেন মন্ত্রী গৌতম দেব। শিলিগুড়িতে করোনা নিয়ে নানা গুজব ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ করতে বলেছেন তিনি। এই গুজবের জেরে একঘরে হয়ে পড়েছিল এক নার্সের পরিবার। সোমবার ১৩ এপ্রিল সেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে মনোবল বাড়ালেন মন্ত্রী। গৌতম দেব বলেন, শিলিগুড়ির ৩৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরতা একজন সিস্টারের শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ওই ওয়ার্ডে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব রটানো হয় এবং একটি সংবাদপত্রে তা নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল তাতে একজন জনপ্রতিনিধির বিবৃতিও ছিল। যদিও ওই জনপ্রতিনিধি ওই বিবৃতি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন, তবু বলব এই সময় দায়িত্বশীল থাকতে হবে জনপ্রতিনিধিদের। সামাজিকভাবে নানান অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরতা ওই সিস্টারের পরিবারকে। এক ভিত্তিহীন খবরের ভিত্তিতে তিনি এই অসুবিধার শিকার হচ্ছিলেন। আমরা এই ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করি। আজকে তাঁর বাড়িতে গিয়ে সমস্ত বিষয়টি শুনি এবং তাঁর পাশে সবরকম সহযোগিতা ও সমর্থন নিয়ে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছি। আমার মেয়েও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ডিউটি করছে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ সকলেই দারুণ কাজ করছেন। ওই পরিবারকে বললাম কোনও সমস্যায় পড়লে আমাকে বা পুলিশকে ফোন করতে।

এর আগে এদিন কোভিড-১৯ মোকাবিলা করতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছেন জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকে সেগুলো সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা তা নিয়ে ধূপগুড়ি ব্লকের বিডিও, স্বাস্থ্য আধিকারিক, বিধায়ক, জেলা পরিষদ ও পৌরসভার সদস্যবৃন্দ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সাথে ধূপগুড়ি বিডিও অফিসে বৈঠক করেন গৌতম দেব। এখানে ২৩ টি চা বাগান (একটি বন্ধ চা বাগান সহ) এবং বাগানের শ্রমিকদের কী অবস্থা, যে সব শ্রমিক বাইরে থেকে এসেছেন তাঁদের থাকা-খাওয়া এবং শারীরিক অবস্থা এবং এখানকার বাজার অন্যান্য জায়গা, এখানকার রেশনিং ব্যবস্থা, এখানকার কোয়ারেন্টিন সেন্টার ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়।