| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

গীতাঞ্জলি শ্রী-র অনুবাদ গল্প ‘সেইসব দিনগুলো’

Reporter
গীতাঞ্জলি শ্রী / ৬৩৮ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ৩০ মে, ২০২২

এই সবদিনগুলোতে প্রত্যেক রাতে বারান্দায় বসে থাকাই ছিল আমার একটা রুটিনওয়ার্ক, শুধুমাত্র সেখানে একটুমাত্র বসা। চোখের ঘুম ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এই দিনগুলোতে আমার কানে গন্ডগোলের শব্দ বার বার এসে লাগে। মাঝে মাঝে আমি অনুভব করি হাঙ্গামাকারীরা জটলা করে এদিকে এগিয়ে আসছে, মনে হচ্ছে তারা কাছাকাছি এসে গেছে। আমি জানি, হামলাকারীরা আমার কাছাকাছি এলেও তারা আমার কোন ক্ষতি করবে না।

আমি এ সব বিষয়ে চিন্তা করলে লজ্জায় পড়ি। এই দিনগুলোতে আমি প্রায় প্রায়ই নানা অছিলায় লজ্জা অনুভব করেছি। আমার চোখদুটো প্রায় সময়ই ভেজা থাকে। আমার মনে হয় আমি যেন বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। লোকে বলে, কারো বয়স বেড়ে গেলে শরীরের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। অন্তক্ষরা গ্রন্থিটি যেন মিউনিসিপালিটির ওয়াটার ট্যাপ। ট্যাপ খোলা থাকলেই তা শুকিয়ে যায়। আকস্মিক ভাবে ঝর্ণাধারার মতো পানি ঝরে। কিংবা ছিদ্র দিয়ে বিন্দু বিন্দু জল পড়ে। আমি এমন একটা বয়সে পৌঁছেছি যে বয়সে আয়নায় নিজের মুখ দেখতেও ভয় লাগে। ভয় লাগে গোঁফদাড়ি ফেলে দেওয়া চেহারা আয়নায় দেখলে চোখের জল ঝরবে ভেবে। আয়না থেকে দূরে থাকলেও আমার বহিক্ষরা গ্রন্থি সক্রিয় থাকে।

গোঁফদাড়ি চেঁছে ফেলার পর আমাকে এখন অন্য রকম দেখতে লাগে। আমি কিন্তু কাউকে ভয় পাই না। কেন আমি ভয় পাব? সবাইকে জানিয়েছি যে আমি এখানে এসেছি, আর এখানেই থাকব। সামনের দরজা খুলে এখানে বসে থাকলে প্রতিবেশিরা আমাকে ভালভাবে দেখতে পায়। বিশেষ করে কলুভা সকালে পুজোর থালা হাতে এখানে এলে তার থালার প্রদীপের আগুনের শিখার উপর আমার হাত দু’খানা রেখে তাকে নানা প্রশ্ন করি।

আমি বারান্দায় বসি যাতে লোকজন আমার দিকে তাকিয়েই আমাকে চিনতে পারে। এই সবদিনগুলোতে ওখানে শান্তি ও নীরবতা বিরাজ করে। মাঝে মাঝে একজন মধ্য বয়সী গৃহিণীকে দেখা যায় মুদির দোকান থেকে জিনিসপত্র ব্যাগে পুরতে। কার্ফু শিথিল হলে খুব সকালে সাইকেলে দুধের ক্যান ঝুলিয়ে দুধওয়ালাকে চলতে দেখা যায়। দুধের ক্যান সাইকেলের সঙ্গে ঝন ঝন করলেও দুধওয়ালা নীরব থাকে। তার কন্ঠ থেকে এখন আর ‘কেহ্ দো না কেহ্ দো না ইউ আর মাই সোহানিয়া’ গানটা শুনতে পায় না। তার নীরবতা অসহনীয়। এক সময় আমি তার কন্ঠে এই গানটা শুনে আনন্দে আপ্লুত হতাম। এখন তার কন্ঠের ওই গানটার সলিল সমাধি ঘটেছে। এখন তরুণদের তরতাজা রক্তও যেন জমাট বেঁধে গেছে।

এখন মেয়েরা রাস্তায় ভয়ভীতি ছাড়াই চলাচল করে। মেয়েদের দেখে যে সব ছেলেরা সিটি বাজায় তারাও তাদের ঘরের বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

এইসব দিনগুলোতে যে সব যুবকদের দেখা যায় তারা অন্য এলাকার। লোকজন বলাবলি করে, তারা স্থানীয় নয়। তারা প্রত্যেকেই ক্লক টাওয়ারে এক একটা দলে বিভক্ত হয়ে জড়ো হয়। তাদের একদল একদিকে, অন্যদল অন্যদিকে তরবারি ও বল্লম হাতে শ্লোগান দেয়। এক সময় গুজব রটে যে তারা আমাদের এদিকে আসবার মতলব আটছে।

আমি কিন্তু ভয়ভীতি শূন্য মনে বারান্দায় বসে থাকি। এখানে প্রত্যেকেই আমাকে চেনে। যে কোন লোককে আমার কথা জিজ্ঞেস করলে সে আমার নাম ও আমার ধর্মের কথা বলে দেবে। তারা আমাকে প্রায়ই দেখে থাকে, তাই তারা আমাকে চেনে। একারণ আমার ভয় পাবার কথা নয়।

আপনি ভয়কে মেনে নিলে তা কিন্তু আর সহজ বিষয় থাকে না। ভয় বাতাসে ভাসে আর যে কেউ সেই বাতাস নি:শ্বাস হিসাবে গ্রহণ করলে তা তাকে টেনে ধরে। চড়ে বেড়ানো ভূতের মতো ভয় যে কোন মানুষের মধ্যে যথেচ্ছাচারে প্রবেশ করে একজন বুড়ো মানুষের মুখ থেকে একটা বাচ্চার কন্ঠস্বরে কথা বলাতে পারে, কিংবা একজন মৃত মানুষও যেন একজন মহিলার কন্ঠস্বরে কথা বলাতে পারে। এটা কি ভয়ের ব্যাপার, আমি কি বিপদের মধ্যে আছি? আমার ভয় শূন্যতার নিচে ভয় বসে থেকে এক সময় হঠাৎ করে এক লাফ দিয়ে সীমানা পেরিয়ে যায়। ফলে আমি ভারসাম্য হীন হয়ে পড়ি। একটু আগেও আমি দাঙ্গাকারীদের মোকবিলা করার মতো একজন বীর ছিলাম। আর এখন আমি যেন ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়া দু’পায়ের মধ্যে লেজ গুটানো ভীত একটা শেয়াল।

আমি আসন থেকে উঠে বারান্দার সব কয়টা লাইটের সুইজ অন করি। রাতের নিষ্প্রভ আলোতে লোকজনের মনে হতে পারে যে আমি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু লুকানোর চেষ্টা করছি। আমি উজ্জ্বল আলোতে বসি। লোকজনের কাছে আমি পুরোপুরি ভাবে ভয়শূন্য চেহারায় দৃশ্যমান হই।

আসছে কাল হোলি। সন্ধ্যায় হেলিকাকে প্রজ্জ্বলিত করা হয়। লোকজন আগুনের চারদিকে বসে হোলির গান গায় ও গমের লম্বা ডাটা থেকে শস্যদান সংগ্রহ করে।

আমার শৈশবে হেলিকা পোড়ানো ছিল একটা বড় উৎসব। আমরা কয়েকদিন আগে থেকেই জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে শুরু করতাম। আড়াআড়ি রাস্তার পাশের গলির কোণে কাঠ জড়ো করা হতো। ছোলা ও হলুদের গুড়ো দিয়ে মা আমাদের গা মেজে দিতেন। আমাদের গা থেকে বের হওয়া ময়লা একটা বাটিতে সংগ্রহ করে হোলিকার সঙ্গে পুড়িয়ে ফেলবার হতো। এটা যেন সব ধরনের কলুষতা পুড়িয়ে ফেলবার উৎসব। সুন্দর আর আলো ঝলমলে দিনটাতে হাসিঠাট্টা আর খেলাধুলোয় আমরা মেতে থাকতাম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরাও হোলিকা প্রজ্জ্বলিত করতো। তারা নাচ গান করে মজা করতো। প্রজ্জ্বলিত অগ্নিশিখার আলোয় পরের দিনের হোলির রঙের আভাস লেগে থেকে। তারা হাসি ঠাট্টায় মেতে উঠে।

কোন কিছুর পরিবর্তন হয়েছে কি? হ্যাঁ, কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। এই দিনগুলোতে যদি কোণায় কোণায় কাঠ জড়ো করা দেখে কেউই মনে করে না যে হোলিকা জ্বালানোর প্রতীক হিসাবে এগুলো রাখা হয়েছে। তারা মনে করে কোন কিছু জ্বালানো হবে। পরিশেষে আগুন জ্বলে, আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে। সেই আগুন একটা হোলিকা কিংবা একটা নগরী কিংবা সারা পৃথিবীটাকে গিলে খায়। কে না জানে আগুন কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই প্রত্যেকেই সাবধানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আমার মনপ্রাণ অনুষ্ঠানে ডুবে যায়। আমি ঘুমের কথা ভুলে যাই।

আজ কালুভা আমাকে বলেছে যে লোকজন আমার সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করেছে — কবে আমি এখানে এসেছি, আর আমি কতদিন এখানে থাকবো?

আমি খবরটা শুনে স্বস্তি পেলাম। তাহলে তারা আমার পরিচয় জানতে পেরেছে। প্রত্যেকেই জানে যে আমি এখানে ঘুমাই, তারা আমার সম্বন্ধে জানে। যারা জানে এখানে ঘুমাই না তারাও আমার সম্বন্ধে জানে।

আমার মনটা কিন্তু অস্থির হয়ে উঠে। সবার চোখ আমার দিকে নিবদ্ধ। আমি কিন্তু মঞ্চের কেন্দ্রেবিন্দু নাই। আমি একজন সাধারণ নাগরিক মাত্র। আমি শুধুমাত্র এক কোণে পড়ে থাকতে চাই। কিন্তু আমি ফ্লাড লাইটে ধরা পরেছি। এ আলোয় আমি জ্ঞান শূন্য। আলোর ভয় পেয়ে কেঁপে উঠে বলি আমি একটা কীটের মতো হামাগুড়ি দিয়ে আাঁধারের মাঝে অবস্থান করতে চাই। কোথায় আমি লুকাবো? একটা সিংহের চেহারা মনে করে আমার ভীরু মনটাকে লুকিয়ে আমি প্রকাশ্যেই বসে থাকি। আমি যেন ঘোষণা দিলাম: আমাকে দেখ। আমাকে কি উৎকন্ঠিত মনে হচ্ছে?

আমি বারান্দায় বসে আছি। আমার চারপাশের অট্টালিকাগুলোর নিরাপত্তার জন্যে আমি প্রত্যেকটা মুহূর্তেই সচেতন। লোকজন যেন চোখ খুলে আমার দিকে চেয়ে আছে। আমি তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে আমি লুকিয়ে নেই। আমি কেন লুকিয়ে থাকবো। আপনারা কি আমাকে চিনতে পারেননি? আমি একজন হিন্দু। লাইট জ্বেলে দেওয়ার পর তারা আমাকে দেখতে পায়। অন্যান্য বাড়িগুলো তখনও আঁধারে ঢাকা।

আমি ও আমার বন্ধু মিলে ঘুরে ঘুরে শেষে এই বাড়িটাই কেনার জন্যে পছন্দ করি, আর সেই বাড়িটাতেই আমরা বসবাস করতে থাকি। আদ্যোপান্ত আলোচিত করি। একটা অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা জমির একটা প্লটের জন্য ভাবনা চিন্তা করে কাজ করা কি উচিত নয়? নিরাপত্তা ও সহজভাবে রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলোও ভাববার বিষয়। একজনের নিজের বাড়ির স্বাাচ্ছন্দের কথাও ভাবতে হয়। তারপর আমরা কলোনীর এলাকাটার কথা ভাবতে শুরু করি। কোন ধরনের এলাকা সবচেয়ে ভাল? ধারে কাছে বাজার আছে কিনা। কোন ধর্মের লোকের বসবাস। এই কলোনীর সবাই শিক্ষিত। ডাক্তার, প্রফেসর, খৃষ্টান, পার্সি, ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোক এলাকাটিতে বসবাস করে। সবদিক বিবেচনা করে এটা ছিল একটা আদর্শ এলাকা, এর মধ্যে আমার বন্ধু হাউসিং লোন নিল।

পুরনো সেই বাড়ির কথা আমার মনে পড়ে। প্রত্যেক প্রজন্ম পৈত্রিক বাড়িতে জীবন অতিবাহিত করে, তাদের পুত্রপৌত্রাদি তাদের বাড়িকে বহুতল করে গড়ে তোলে। এ বাড়িটির ভাগ্যেও তাই ঘটে। সুন্দর সুন্দর পুরনো গাছগুলোও ছেদন করে সম্ভাব্য লাভের আশায় রাস্তার পাশে নতুন ডিজাইনের ফ্লাটের সারি সারি মাথা তুলে দাঁড়ায়। আমার বন্ধুর বাড়ির কম্পাউন্ডের গাছগুলোর দিকে তকিয়ে থাকি। সে অবশ্য গাছগুলোকে রক্ষা করার জন্যে এই বাড়িটা কিনেছে। এক পাশে শিমুল গাছ, চামেলীর ডালগুলো বারান্দা ছুঁইছুঁই করছে। সামনের দিকে আম গাছ। সারা বছরে ফলে এমন লেবু গাছ, আর আছে নিম গাছ। লাভের জন্য কি কেউ এই গাছগুলোকে কেটে ফেলতে পারে? ছায়াদানকারী গাছগুলোকে দেখে আমরা মুগ্ধ। আমরা ভাবি এই গাছগুলোকে লালনপালন করছি, কিন্তু আসলে গাছগুলোই আমাদেরকে লালনপালন করছে। গাছগুলো আমাদেরকে অনেক চেয়ে বেশি দান করে। ভোরে আমি আমার ফ্লাট থেকে বের হয়ে ওখানটাতে হাঁটাহাঁটি করি। অন্যদিকে আমার বন্ধুটি খালি পায়ে বাড়ির চত্বরটাতে হাঁটাহাঁটি করে পত্রপুষ্পের প্রশংশা করে। তার মনটা ক্ষণিকের জন্য গাছের পাখপাখালি কলকাকলির প্রতি নিবদ্ধ হয়। এই গাছগুলো কি রক্ষা পাবে? আমি জনতার হট্টগোল শুনতে পাই। তারা বেশ দূরে, কিন্তু তাদের হাকডাকের শব্দ বেশি বলে মনে হয়।

আমি দূর থেকে তাকে হাঁটাহাঁটি করতে দেখি, মনে হয় সে একটা ছায়ায় হাঁটাহাঁটি করছে। সম্ভবত সে মনে করে কেউ তাকে দেখছে না। বিল্ডিংগুলোকে পেছনে রেখে সে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। সে গাছের ছায়ার নিচে দিয়ে হাঁটছে। শুধুমাত্র একজন চোরই ওই ভাবে হেঁটে থাকে ভেবে আমি আতঙ্কিত। সে ছায়ার ভেতর থেকে বের হয়ে এই বাড়িতে প্রবেশ করে। ডিনারের পর আমি গেটের দু’পাশের আলো নিভিয়ে দেই। সে কিন্তু রাস্তার আলোয় পথ দেখে গেটের কাছে আসে। আমি তাকে স্পষ্ট ভাবে দেখতে পেয়ে আমার করা উচিত? সে গেটের পরিবর্তে বাউন্ডারিওয়াল টপকিয়ে ভেতরে আসে। তার মাথাটাকে দেওয়ালের উপরের অংশটা আবছা আবছা নজরে আসে। সে মাটির নাগাল পাবে কিভাবে? তা ভেবে আমি হতবাক। পুরো কলোনীর আবর্জনাগুলো একটা মাত্র বেড়া দিয়ে আড়াল করা। দেওয়লের আশপাশে শুধু ছায়া আর ছায়া,তা গাছগুলোর হতে পারে আবার লুকিয়ে থাকা চোরেরও হতে পারে। লোকটা কী চায়? আমি ঘটনা স্থলে বিস্মিত ভাবে বসে থাকি। আমার হার্ট চলতে থাকলেও আমার শরীরটা যেন স্থবির হয়ে যায়। হয়তো কোন কিছুই ঘটবে না, আমার মনটা বলে। আমার শরীরটা যেন একটা স্ট্যাচুর মতো হয়ে যায়। ওদিকে এক নজর তাকিয়ে দেখি ছায়াটাকে আবর্জনার কাছে গিয়ে বিলীন হয়ে যেতে দেখি। দেওয়ালের ভেতরের দিকে কমপাউন্ডে একটা বড় শিমুল গাছ। সে গাছটার ডালপালার নিচে সে দাঁড়ায়।

শিমুল গাছ। ফাল্গুন মাসের হেলির মৌসুমে শিমুল ফুল ফুটেছে। পুরনো পাতাগুলো ঝরে গেছে। ডালগুলোতে নতুন নতুন সবুজ পাতা গজিয়েছে। গাছগুলো লাল শিমুল ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। লাল পাপড়ির উপর একটা মৌমাছি উড়ছে। একঝাঁক কালো ঠোঁটওয়ালা পাখি গাছের ডালে বসে আছে। মনে হচ্ছে পাখিগুলো ডানা মেলে এখনই উড়ে যাবে।সে সময় মনে হয় শিমুল গাছরের পাখিগুলোর মতো ছায়াটাও মিলিয়ে যাবে।

সেই সবদিনগুলোতে আমার মনটা অসাড় হয়ে যায়। কেউ আমাকে নড়াতে চায় না। এভাবেই স্থবির থাকাই সবচেয়ে ভাল, যাতে প্রজ্জ্বলিত আগুন এখানে পৌঁছাতে না পারে। আগুন নিভে গেলে আমরা জেগে উঠবো। আমরা আমাদের ইচ্ছেকে পূরণ করতে পারবো। আমিও নীরবে নিচুতে শুয়ে আছি। এখন সে এখানে পৌঁছেছে, আমি এ সবকে অদৃষ্টে হাতে ছেড়ে দেই, যা ঘটবে তা ঘটবেই। আমার মধ্যে শক্তিমত্তা নেই।

কোন একদিন আমি এই খেলার দিকে ফিরে তাকাবো। আমাদের প্রত্যেকে বিচ্ছিন্ন, বিচ্ছিন্নতা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যেকেই সচেতন করে। সে শিমুল গাছের আঁধারে দাঁড়িয়ে আর আমি বারান্দায় আলোতে বসে আছি। আমরা সেই সব শিকারীদের মতো সতর্ক যারা বিস্তারিত ভাবে বিভেদ সৃষ্টি করে দখল কায়েম করতে চায়।

সে নীরবে গাছের ডাল থেকে লাফ দিয়ে বাড়ির কম্পাউন্ডে পড়ে। আমি সম্পূর্ণরূপে নীথর। হ্যাঁ, সম্পূর্ণরূপে। অন্যথায়, আমি তখন পর্যন্ত বসে থাকতে পারতাম না। আমি ভান করি কিছুই হয়নি বলে। আমি নীরব, নীরব থাকার জন্যে যে কেউ মৃত্যুর পদধ্বনি শুনতে পায়। কোন প্রকার কান্নাকাটি কিংবা চিৎকার না করেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়। সে লাফ দিয়ে সেখানেই শিকড় গেড়ে বসে।

দীর্ঘ সময় আমরা আমাদের অবস্থানে অনড় থাকি। সম্পূর্ণভাবে এই খেলার জন্যে আমরা অপেক্ষায় আছি। আমাদের দু’জনের মধ্যে একটা নীরব সন্দেহ বর্তমান। খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত যা করতে হবে আমরা তাই করবো। তার যাবার পথের দিকে আমি চেয়ে নেই, তবে আমি দেখছি তার মাটি থেকে উঠা। এক মুহূর্তের জন্যে সে আলোর রশ্মির নিচে আসে। ভয়ে আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়।

সে তার মুখ গুজে পড়ে আছে আর তাতে আমার ত্বক যেন কুঁকড়ে উঠে। সে আলো পাড় হয়ে অন্ধকারে চলে যায়। তারপর বাড়ির পাশ দিয়ে সাপের মতো কিলবিল করে অদৃশ্য হয়। ছায়া, বন, পাখি, বানর, সাপ। কে জানে আর কোন কোন অবয়ব আমরা ধরতে পারি? যদি দরজা ভেতর থেকে খিল দেওয়া না থাকে তবে হাত দিয়ে সামান্য একটু ঠেলা দিলেই তা খুলে যেতে পারে। আমি দরজা খোলার শব্দ শুনতে পাচ্ছি। যদি আমি আমার শ্বাসপ্রশ্বাস নেবার জন্য নতুন একটা উপায় খুঁজতে পারি তবে আমি টিকে থাকতেও পাববো।

আমি বাড়িটরি কথা ভাবতে শুরু করি। ছায়াটাকে ভুলে যাওয়ার এটাই আমার উপায়। এই বাড়িটি থেকে ছায়াটির অবস্থান বেশ দূরে। যদিও এই মুহূর্তে এই বাড়িতে কোন ছায়া নেই। এই বাড়িটিও দগ্ধ হবে! আমিও এই সাথে পুড়ে যাব আর সেও পুড়ে যাবে। আজ? এখন? কখন হোলিকা দগ্ধ হবে? ‘কেহ্ দো না কেহ্ দো না ইউ আর মাই সোহানিয়া’ এটা কি গুজব নাকি সত্যি? এইদিনগুলোতে কিন্তু গুজবকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে বেশি দিন সময় লাগে না। একটা গুজব শুরু হয়েছিল— প্রত্যেকেই ভাবে এটা শুধুমাত্র একটা গুজব — একটা গুজব আর একটা গুজবের জন্ম দেয়।

এই বাড়ি পুড়ে গেলে কে মারা যাবে? একটা আত্মাবিহীন শরীরকে কি ধরে রাখা যায়? ঠান্ডায় জমে যাওয়া মৃতদেহের মতো আমি শক্ত হয়ে যাচ্ছি। ছায়াটাকে নিয়ে এখন ভাবতে হচ্ছে। ছায়াটা খুবই আস্তে আস্তে চলছে। আমি কিন্তু আমার কানে শ্রবণযন্ত্র লাগিয়ে বসে থাকায় ছায়ার পদধ্বনি আমার শ্রুতিগোচর হচ্ছে। আমি একটি ড্রয়ার খোলা ও বন্ধ করার শব্দ শুনতে পাই। আমি কাগজের খস খস শব্দ শুনছি। আমি তার নি:শ্বাসের শব্দও শুনছি। একটু পরেই ছায়াকে দেখতে পাই, সে গুটি গুটি পায়ে বেডরুমের দরজার দিকে দিকে যাচ্ছে। আলোর একটা রেখার দিকে নজর দেই। এটাই হচ্ছে ভুল। আমি বেডসাইডের ল্যাম্পটা জালিয়ে রাখি। আমি ঘুমাবার আগে ওটার সুইজ অফ করি।

এখন আমি রুমের মধ্যে তাকে আবছা আবছা দেখতে পাচ্ছি- মাঝে মাঝে তার হাতটা আলমারীতে ঘোরাফেরা করছে, মাঝে মাঝে তার মুখটা শেলফের উপরের দিকে ঘুরছে। একটা সবুজ ব্যাগ বিছানার নিচ থেকে বের করছে। ব্যাগটা হাতে সে এখানে ওখানে ঘুরে ওটা পূর্ণ করছে। তারপর সে বাথরুমে রাখা টয়লেটের জিনিসপত্রে আঙুলগুলো দিয়ে স্পর্শ করে। জিনিসগুলো বের হয়ে আসছে। বড় কাপবোর্ডট থেকে কাপড়গুলো বেরিয়ে আসে। অল্পস্বল্প শব্দে তোশকের নিচ থেকে লকারের চাবিগুলো বের করে হাতের মধ্যে নিরাপদে লুকিয়ে রাখে।

পেছনের বাগান থেকে কালুভার সংগ্রহ করা রান্নাঘরের টেবিলে রাখা শাকসব্জিগুলো যেন আমার মনে জীবন্ত হয়ে ভেসে উঠছে।শাকসব্জির যেন সুবাস ছড়াচ্ছে। বারান্দায় বসা লোকটাকে শাকসব্জীগুলো যেন অভিনন্দন জানানোর জন্য অপেক্ষায় আছে। বারান্দায় বসে টমেটো, লেবু ও লাউয়ের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমি জানি তাদের গন্ধ আমার স্মৃতিতে গাথা আছে।

আমি উজ্জ্বল আলোর ভেতরে ডুবে যাচ্ছি। আগুনে তাপে মুখটাকে অসহায় মনে হয়। অনেকদিন আগে তৈরি ঘরগুলো পুড়ে যাবে। আমি কি আলোর মধ্যে ডুবে যাচ্ছি? আমার কি সরে পড়া উচিত? দুটোর মধ্যে একটাকে বেছে নেওয়া কষ্টকর। কেমন করে জানবো কখন আমাকে বসে থাকতে হবে, আর কখন আমাকে চলে যেতে হবে?

ছায়াটা আবার দৃশ্যমান হয়। ছায়াটা ঘরটি পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে— ভেতরের শাখা থেকে বাইরের শাখা, মাটির ভেতর থেকে মাটির বাইরের পর্যন্ত।

ওহ! আমার চেয়ার যেন নিজের ইচ্ছেয় চলছে। ওহ! সে বাইরে যাচ্ছে। সে চলে যাবে। চেয়ার আমাকে একটা ধাক্কা দেয়। আমি জেগে গেছি। আমি তাড়াতাড়ি বারান্দা থেকে নেমে গিয়ে শিমুল কাছে পাশে দাঁড়াই। যদিও সেও খেলায় অংশ নিচ্ছে করছে, সে দৃঢ় পদক্ষেপে বাইরের দিকে হাঁটতে শুরু করে। আমি ভেতরের দিকে পা বাড়াই দেওয়ালের পাশ দিয়ে।

আমি একদিন ভাবি সে বাইরে, আর আমি ভেতরে দেওয়ালে অন্য দিক। অন্য দিকে অন্ধকার। আমরা উভয়েই গেটে পৌঁছেছি।এখানে কিন্তু খেলার গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন হয়। আমি থামি আর সে চলতে থাকে।

সে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকে। ছায়ার সাথে সাথে সবুজ ব্যাগটাও আছে। আমি তাকে যেতে দেখছি, সেও জানে আমি তাকে লক্ষ্য করছি। সে রাস্তা দিয়ে সোজা হেঁটে যাচ্ছে মাথা উঁচিয়ে।

না, রাস্তায় যাই না। আগে বের না হওয়ার সাহস না দেখালেও এখন দেখাই। আমি তাকে ধরতে না পারলে কখনোই কখনোই তাকে ধরতে পারবো না।

সে রাস্তার বাঁকের দিকে মোড় নিচ্ছে। অন্য দিকে আমি বাড়ির দিকে ফিরছি। হঠাৎ করে ঘরগুলোর একটা দরজা শব্দ করে খুলে যায়। আমরা ভয়ে চমকাইয়া উঠি, আমরা বিপরীত ঘুরি। সে বাইরে আর আমি ভেতরে। আমাদের চোখের তারাগুলো ঘড়ির কাটার মতো একটা সময় থেকে আর একট সময়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে, আমরা অন্ধকারের মধ্যে প্রবেশ করে একে অপরের প্রতি পিটপিট করে তাকাচ্ছি। এ ধরনের মুহূর্তগুলোতে কখনোই হতবাক হতে নেই। এই ধরনের মুহূর্তে কখনোই কথা বলতে নেই। এই ধরনের মুহূর্তগুলোতে সবকিছু এসে জড়ো হয়। মুহূর্তগুলোতে সবগুলো জিনিস মুছে যায়। এই ধরনের মুহুর্তগুলোকে সমাজ বিজ্ঞানী, লেখক, ধর্মতত্ত বিদ ও মনোবিজ্ঞানীদের দ্বারা ব্যবচ্ছেদ করা হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তারা তাদেরকে ব্যবচ্ছেদ করে আসলেও উপসংহারে পৌঁছাতে পারছেন না। এই ধরনের মুহূর্তগুলো আমাদেরকে উলঙ্গ ভাবে কদর্য করে দেয়, তখন আর আমাদের কোনকিছুই করার থাকে না।

আমি মাথা নিচু করি। একটা দমিত ক্রোধ আমার মধ্যে মাথাচাড়া দিয়া উঠে। আমার বন্ধু একটা ছায়ার মতো তার নিজের ঘরে এসেছে যেখানে আমি এক সপ্তাহ ধরে তাকে আগলে রেখেছি যাতে সে তার সারা জীবনের সঞ্চয় একটা ব্যাগে ভরে নিতে পারে। গুজব রটেছে যে তার বাড়িটা সঙ্গে তাকেও পুড়িয়ে দেওয়া হবে। আমাদের একজনকে পুড়িয়ে মারার জন্যে অন্যকেও মাসুল দিতে হবে। এমনকি প্রত্যেকটা গুজব আমাদেরকে দগ্ধ করে। সামনের লোক শূন্য রাস্তার পাশে লাল রঙের শিমুল ফুল ফুটেছে। শিমুল গাছের সারি শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে লাল ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। তারা কি জানে কোন হতাশা আর কোনটা আশা?

অনুবাদ: মনোজিৎকুমার দাস

[গীতাঞ্জলি শ্রী (জন্ম ১৯৭৫) হিন্দিভাষার উদীয়মান লেখিকা। তিনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছোটগল্প ও উপন্যাস লিখেছেন।

ভারত ভাগের ওপর লেখা ‘টোম্ব অব স্যান্ড’ উপন্যাসের জন্য এ বছর (২০২২) আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার পেয়েছেন গীতাঞ্জলি শ্রী। এই উপন্যাসে স্বামী মারা যাওয়া ৮০ বছরের এক নারীর জীবনে দেশভাগের প্রভাব নিয়ে লিখেছেন লেখিকা।

তার লেখা প্রথম গল্প ‘বেলপত্র’ (১৯৮৭)। ‘অনুগুন’ তাঁর লেখা গল্প সংকলন বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘মাই’ ইংরেজি, উর্দু, সার্বিয়ান, কোরিয়ান ও জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস‘ হামারা শহর উস বারাস’। সাহিত্য কর্মের জন্য তিনি নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

হিন্দিভাষায় লেখা গীতাঞ্জলী শ্রী-এর লেখা গল্পের নিরুপমা দত্তের ইংরেজি ভাষান্তর ‘দিজ ডেস’ কে বাঙ্গানুবাদ করা হলো। এ গল্পে লেখিকা একটি বিশেষ অনুষঙ্গের অবতারণা করেছেন। দাঙ্গা বিক্ষুব্ধ সময়ের দু-সম্প্রদায়ের দু-বন্ধুর প্রসঙ্গ বিমূর্ত অনুষঙ্গে এ গল্পে উঠে এসেছে। ছায়ারূপী অন্য সম্প্রদায়ের বন্ধুটির ভয়ভীতির অনুষঙ্গ লেখিকা আত্মকথনের মাধ্যমে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন।]

মনোজিৎকুমার দাস, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, গল্পকার ও কবি। লাঙ্গলবাঁধ, শ্রীপুর, মাগুরা। বাংলাদেশ।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev