দার্জিলিং এই নামটি শুনলেই কাঞ্চনজঙ্ঘা যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে ভ্রমণপিপাসু, প্রকৃতি সেবক ও সৌন্দর্যে গা-ভাসানো আমুদে মানুষজনকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দার্জিলিং। আকাশের সুনীল বিস্তার আর পাহাড়শৃঙ্গ মিলেমিশে যেন একাকার। হিমালয়ের কোলে মেঘের দেশ পাহাড়কন্যা দার্জিলিং।
পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ৭ হাজার ফুট উঁচু এই শৈলশহর ১৮২৯ সালে ইংরেজ সেনা অফিসার লয়েডের আবিষ্কারের পর, তাঁর পরিকল্পনা ও নকশায় ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ভিক্টোরিয়ান স্যানেটোরিয়াম বা স্বাস্থ্যনিবাস দার্জিলিং। উপজাতি লেপচাদের বক্রদেবতা দোর্জের বাসভূমি এই শহর।

দার্জিলিং-এ নভেম্বর মাসের ১৩ তারিখ থেকে ৫ই ডিসেম্বর এই ২৩দিন ধরে চলবে ‘ঘুম উৎসব’। ঘুম রেল স্টেশনকে ঘিরেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। মূলত স্থানীয় সংস্কৃতি, অ্যাডভেঞ্চার এবং টু্রিজমকে তুলে ধরা হবে এই উৎসবে। ম্যালে বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, টাইগার হিল এবং লাগোয়া চা বাগানে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, প্রতিদিন সকালে মর্নিং হেরিটেজ ওয়াক, ট্র্যাকাথন ইত্যাদি নানা ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় হস্তশিল্প তুলে ধরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর এ কে মিশ্র বলেছেন, ‘পুজোয় এ বার টয় ট্রেন দারুণ ব্যবসা করেছে। দীপাবলির পর যাত্রীদের ভিড়ে একটু ভাঁটা পড়লেও, শীতের মরশুমে পর্যটকরা যাতে ফের দার্জিলিংয়ে বেড়াতে আসে, সেই কারণে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।’

টয় ট্রেনে পর্যটকদের আগ্রহ দেখে উৎসাহিত রেলের কর্মকর্তারাও। ট্রাভেল এজেন্ট, সিনেমার শুটিং ইত্যাদি নানা কারণে বেসরকারি সংস্থাকেও গোটা ট্রেন ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। ঘুম উৎসবের হাত ধরে আরো পর্যটকদের টেনে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী হিমালয়ান হসপিটালিটি এন্ড ট্রাভেল ম্যানেজমেন্ট।
ঘুম দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলের একটি ছোট্ট পার্বত্য অঞ্চল। ঘুম রেলস্টেশন ভারতের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন। এই রেল পরিবহন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত।

ঘুম থেকেই টয় ট্রেন নেমে আসে দার্জিলিং শহরের দিকে। ঘুম থেকে ১কিমি দূরত্বে অসাধারণ সৌন্দর্যে ভরপুর ‘বাতাসিয়া লুপ’। এখানে ট্রেন ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যায়। এখান থেকেই দেখা যায় পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। বাতাসিয়া লুপের কেন্দ্রে রয়েছে যুদ্ধ স্মৃতিস্মারক, যা জেলা সৈনিক বোর্ড, দার্জিলিং কর্তৃক সাহসী গোর্খা সৈনিকদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে। উৎসবের কয়েকটি দিন খোলা থাকবে ঘুম রেলের মিউজিয়ামও। ঘুম রেল স্টেশন থেকে আরো উপরে উঠলে মিলবে ‘ঘুম বয়েজ হাই স্কুল’। স্কুলের মাঠে দাঁড়ালে মনে হবে পৃথিবীর ছাদে দাঁড়িয়ে আছেন।
করোনার কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছিলো পর্যটন শিল্প। প্রায় ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর আগস্ট মাসে কু-ঝিক ঝিক শব্দে পাহাড়ি পথে দৌড় শুরু করে টয় ট্রেন। ১৮৮৩ সালে চালু হওয়া এই টয় ট্রেন উত্তরবঙ্গে রেলের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ঘুমের মিউজিয়াম সেই ইতিহাসের সাক্ষী। ১৯৯৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর ইউনেস্কো টয় ট্রেনকে হেরিটেজ ঘোষণা করেন। সেই কারণেই ঐদিন ‘ঘুম উৎসব’ এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।

উৎসবের মরশুমে পর্যটকদের জন্য আরো একটি সুখবর দিলো উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। গত শনিবার থেকে চালু হয়েছে দার্জিলিং ও কার্শিয়ংয়ের মধ্যে ‘হিমকন্যা’ টয়ট্রেন পরিষেবা। প্রতি শনি ও রবিবার পাহাড়ের পাকদন্ডী অতিক্রম করে ঘুম, সোনাদা এবং টুং স্টেশনে দাঁড়াবে।
পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে দার্জিলিং ও ঘুমের মধ্যে বেড়েছে জয় রাইডের সংখ্যা। শিলিগুড়ি ও রংটংয়ের মধ্যে চালু হয়েছে ‘জঙ্গল টি সাফারি’। রেডপান্ডা টয় ট্রেন চালু আছে কার্শিয়াং ও মহানদী ষ্টেশনের মধ্যে।

রহস্যে ঢাকা হিমালয় চিরকালই ভ্রমণপিপাসুদের ডেকেছে বারংবার। করোনার জেরে গত দু-বছর বন্ধ থাকার পর, এবার পুজোর আগে চালু হয়েছে টয় ট্রেন। বিচিত্র ফার্নে ঢাকা পাহাড় আর অন্যদিকে গভীর খাদ, কখনো কুয়াশার চাদরে ঢাকা কখনো বা উদিত সুর্যের আলোয় সোনারাঙা পাহাড়শৃঙ্গ। কোথাও বা প্রান্ত আলো করা টিউলিপ, অর্কিড, লিলি বা ‘অরুণ মেঘেরে তুচ্ছ/ উদ্ধত যত শাখার শিখরে / রডোডেনড্রন গুচ্ছ’। করোনা সংক্রমণ অপেক্ষাকৃত কম এখন। বহুবার ঘোরার পর এখনো ক্লিশে হয়ে যায়নি দার্জিলিং। তাই, স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপভোগ করে আসতে পারেন ঘুম ফেস্টিভ্যালে।
Valo laglo pore
ঘুম একটি পাহাড় স্টেশন।লেখা টা খুবই ভালো লাগলো।
Koto jinis ojana theke jae…kintu apnar lekha pore r kichui ojana thakbe na mone hocche…khub sundor lekha abar ….apnake onek onek dhonnobad
Jibone onek kichui ojana theke jae…kintu apnar lekha pore r kichui ojana thakbe na mone hocche….thank you so much…khub khub sundor hoeche lekha ta