মানুষ মরে ভূত হয়। ভূতের শরীর নেই, মন নেই। তার খাবার প্রশ্ন ওঠেনা। কথা বলার প্রশ্ন ওঠে না। সে ষে মানুষ নয়, ভূত। কিন্তু অবাক কাণ্ড, দিল্লির রাজপথে বেশ বিহারের কয়েকটি ভূতকে নিয়ে চা খেলেন বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী। না মশাই, সুদূর অতীতের কথা নয়। মাত্র সেদিনকার কথা। ফটাফট করে ভূতেদের ছবি তোলা হল ক্যামেরায়। এতদিন আমরা জানতাম ভূতের ছায়া পড়ে না। এ যে এক্কেবারে ক্যামেরাবন্দি ছবি। তাহলে কি এরা জ্যান্ত ভূত?
রাহুল জানালেন এরা ভূত নয়, মানুষ। নির্বাচন কমিশন তাঁদের খাতাপত্রে এঁদের মৃত বলে লিখে রেখেছেন। মৃত মানুষ ভোট দিতে পারবে না। এই হল স্যারের (SIR) খেলা। ভোট আসছে বিহারে। সামনের নভেম্বরে। লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম কাটছে নির্বাচন কমিশন। অনেককে মৃত বলে দেখাচ্ছে। এমনভাবে কাজকম্ম করছে যাতে শাসক দলের লাভ হয়। পল্টুরাম নীতিশের ল্যাজ ধরে চোরাপথে মোদিস্যার আর অমিতস্যার ঢুকে পড়েছিলেন সেখানে। যেমন ঢুকেছিলেন মহারাষ্ট্রে। যত দিন যেতে লাগল, ততই সব কিছু খোলসা হতে লাগল মানুষের চোখে। গদি টলমল। তেজস্বীর তেজ। রাহুলের হুল। তখন ডাক পড়ল নির্বাচন কমিশনের। কিছু একটা কর হে! নির্বাচন কমিশন কর্তার ইচ্ছায় কম্ম করেন। সেই রাজীব কুমারের আমল থেকে তাঁরা কর্তার কাছে বন্ধক রেখেছেন শিরদাঁড়া। বহু প্রতিষ্ঠানের একই অবস্থা। সব দখল হয়ে গেছে। সর্বোচ্চ বিচারালয় বাকি শুধু।
মোদিস্যার আর অমিতস্যার ভূত তৈরিতে বিশেষভাবে দক্ষ। সমাজের নানাস্তরে তাঁরা অনেক ভূত তৈরি করেছেন। যেমন ধর্মের ভূত। সে ভূত বলে চলেছে, হিন্দুধর্ম ছাড়া বিশ্বে আর কোন মহান ধর্ম নেই, ভারত হিন্দুদের দেশ, তাই অন্য ধর্মের লোকেদের দাবিয়ে রাখো, তাড়িয়ে বেড়াও। যেমন বিজ্ঞানের ভূত। সে বলে চলেছে, যুক্তিতক্ক আরবান নকশালরাই করে, সেসব সারহীন, বিশ্বাসটাই আসল কথা। যেমন মিথ্যার ভূত। সে একের পর এক মিথ্যা বলে চলেছে, মিথ্যাটাকে মানুষের কাছে সত্য করে তোলাই তার কাজ। সেই দুহাজার চোদ্দ থেকে মোদিস্যার কত মিথ্যা বলে গেছেন তা হয়তো চিত্রগুপ্তস্যার লিখে রেখেছেন। এত মিথ্যে যে রক্তমাংসের মানুষের পক্ষে মনে রাখাই দুষ্কর।
আমার লেখা পড়তে পড়তে আপনি হয়তো বলে বসবেন, মশাই তখন থেকে আপনি মোদিস্যার, অমিতস্যার এসব বলে চলেছেন, দল হিসেবে বিজেপির নাম করছেন না কেন? চুপি চুপি বলি আপনাদের, ষাঁদের কথা বললেন সেই দুইস্যার বিজেপি-ফিজেপিকে মানেন না, যে সংগঠন প্রথমে জনসংঘ আর পরে বিজেপিকে পয়দা করেছিল, তাদেরও মানেন না। বিজেপির হাত ধরে উঠে বিজেপিকেই লেংগি মারতে চান। যেই আর এস এসের মোহন ভাগবতস্যার ৭৫ বছর হলে মোদিস্যারের বিদায়ের কথা বললেন, অমনি মোদিস্যারের সাকরেদরা নেমে পড়লেন প্রচারে। বললেন, আরে, মোদির ক্যারিশমায় বিজেপির জিত। নিশিকান্ত দুবেবাবু বলে দিলেন মোদিহীন নির্বাচনে বিজেপি একশো পঞ্চাশটা আসনও পাবে না।
বেশ চলছিল মোদিস্যার আর অমিতস্যারের রাজত্ব। মোদিস্যারকে বিশ্বগুরু বানিয়ে বেশ চলছিল। বিশ্বগুরু যেন ভারতে অমৃতকাল এনে দিয়েছেন। সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি সব আঙুল ফুলে কলাগাছ। তার সঙ্গে আছে মোদির গ্যারান্টি। সেখানে শেষ নয়। মোদির গ্যারান্টি হল গ্যারান্টি পালনের গ্যারান্টি। লোকে বলে ঢপের কেত্তন। আর এই সময়ে উঠল একটা ঘূর্ণি হাওয়া। সেটা ঘুরতে লাগল ভারতময়। যেন যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক। সেই ঘূর্ণিপাকে ঢপের কেত্তনের বেলুন ফেটে চৌচির।
প্রথমে পহেলগাঁও। কারা যে কোথা থেকে এসে আমাদের ছাব্বিশ ভ্রমণকারীকে মেরে চলে গেল, কেউ জানে না। তখনও মোদিস্যার ডন কুইজোটের মতো বলে চলেছেন, পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে মেরে এসেছি, ভেঙে দিয়েছি পাছা। কিন্তু নিজের কাছা যে খুলে যাচ্ছে মোদিস্যার! ছায়ার সঙ্গে কুস্তি করে গায়ে ব্যথা হয় কেন? যুদ্ধ করলেন অথচ বিশ্বের কোন দেশ আপনার পাশে দাঁড়াল না, পাকিস্তানকে তেমন গালমন্দ করল না। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আপনার মুখ কালো করার জন্য বলে দিলেন তিনি আপনাদের ধমকে যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছেন। একবার নয়, বারবার বললেন।
তারপর স্যার (SIR) নিয়ে বিরোধীদের হল্লাবোল। সুপ্রিম কোর্টের ধমক। ভেবেছেটা কি নির্বাচন কমিশন? আধারই প্রমাণ। আবার কি?
তারপর তথ্যপ্রমাণ ঘেঁটে রাহুল গান্ধী প্রমাণ করলেন ভোট চুরির কথা। ইভিএমের কারচুপির কথা চব্বিশের ভোটের আগে কিছু উকিল বলছিলেন। পাত্তা দেন নি নির্বাচন কমিশন। এবার খেলা ঘুরে গেছে। আগের কমিশনার রাজীবকুমার লাপাতা। কৈফিয়ৎ দেবার ভয়ে? বিরোধীরা এককাট্টা হয়ে ঘেরাও করলেন নির্বাচন কমিশনের অফিস। এবার আর ফিসফিস নয়, চিৎকৃত কণ্ঠস্বর। আবেদন নয়, দাবি। তাতেই খাবি খাবার পালা।
দেখেশুনে জোটসঙ্গীর মন উচাটন। হচ্ছেটা কি? সরকার টিকবে কি? মনে হচ্ছে মানে মানে কেটে পড়াই ভালো।
আছে আবার ঘরের শত্রুরা। স্বামী, সত্যপালদের কড়কে রেখেছিলাম। নীতিনকে ঠেকাবো কি করে! এমন অনেক নীতিন আছে আশপাশে। পাছা ভেঙে গেলে তারা মাথা তুলবেই। মারবেই ছোবল। সাধের মিডিয়ার ভোলবদল করতে কতক্ষণ? অমিতের আইটি সেল আর হানতে পারবে না শেল। এবার মাথা চাড়া দিচ্ছে আরএসএস। এবার কড়কে দেবার পালা। তুমি যত বড় হও, তুমি তো আরএসএসের চেয়ে বড় নও।
তাই বলছি মোদিস্যার আর অমিতস্যার, সেই পুরানো কথাটা ভাবুন। আপনারা তো ফকির আদমি, ঝোলা নিয়ে ‘চল পড়েঙ্গে’। তারপর না হয় আসল ভূতেদের সঙ্গে চা খান। একসময় তো চাওয়ালা ছিলেন মোদিস্যার। নিজেও তিনি বলেন। তিনিই নাহয় ভূতেদের জন্য কড়া চা তৈরি করুন।
দারুণ লাগলো…