অনেক দেরি হয়ে গেছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয় এখন একটা প্রায় স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠবে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সাম্প্রতিক আইপিসিসি (ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ) রিপোর্ট মনুষ্যজাতির প্রতি আদতে একটা লাল সঙ্কেত। সারা পৃথিবী যে একটা চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং এই বিপদ যে আরও বাড়বে তার একটা সম্পূর্ণ ছবি তুলে ধরেছে এই রিপোর্ট।
রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গাটার্স বলেছেন, বিপদের ঘণ্টাধ্বনি এখন আরও প্রবল। তার লক্ষণগুলিকেও কিছুতেই অস্বীকার করা যাচ্ছেনা। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং বনবিনাশ আমাদের সবুজ গ্রহটির দম আটকে দিয়েছে। এতে কোটি কোটি মানুষের বিপদের সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে। উষ্ণায়ন পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চলকে বিপন্ন করেছে, বহু জায়গাতেই এই পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই রিপোর্টের খুঁটিনাটি পরে আরও বিশদে জানা যাবে। তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন মনুষ্য সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব এখন একটা বাস্তবতা।

২০১৩-র আইপিসিসি রিপোর্টেও উষ্ণায়ন এতটা প্রবল হয়ে দেখা দেয়নি। বহু ক্ষেত্রে তখন তা ছিল একটা সম্ভাবনা। কিন্তু এখন তা একটা প্রাকৃতিক ঘটনা। আমাদের পৃথিবী পৌঁছে গেছে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমানের বৃত্তে। আইপিসিসি ২০১৮-র স্পেশাল রিপোর্টে বলা হয়েছিল পৃথিবীর দুই পঞ্চমাংশ মানুষ বাস করে ১.৫ ডিগ্রির বেশি তাপমান রয়েছে এমন জায়গায়। এখন এই এলাকা আরও বিস্তৃত। যতদিন যাচ্ছে ততই প্রমাণিত হচ্ছে একথার সত্যতা। কার্বন নিঃসরণ কমানো ছাড়া এই সঙ্কট থেকে পরিত্রাণের আর কোন রাস্তা নেই। সে কাজেও বেশ দেরি হয়ে গেছে।
পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, যে দেশগুলি বাতাসে কার্বন সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে তাদের নেট-জিরো এমিশন কোয়ালিশনে আনা এই সঙ্কট মোকাবিলার একটা রাস্তা হতে পারে। বিশেষ করে এতে জি-২০ এবং উষ্ণায়ন ছড়ানোর জন্য দায়ী বড় দেশগুলিকে আনতেই হবে। উষ্ণায়ন রোখার জন্য তারা কী ভূমিকা নেবে, কী কী কাজ করবে তা দেশ হিসেবেই তাদের নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানি যারা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন তাদের ঘোষণা করতে হবে, তা বন্ধ করার জন্য তারা কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। পরিবেশবিজ্ঞানীরা জানিয়ে দিয়েছেন ২০২১-র পর আর নতুন কোন কয়লা খনি তৈরি করা যাবেনা। যা রয়েছে তাও ২০৩০ এর মধ্যে বন্ধ করে দিতে হবে। সব দেশকেই মানতে হবে এই সিদ্ধান্ত।