দেবাশিস ভট্টাচার্য
সংবিধান অমান্য করার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দেশজোড়া আন্দোলন চলছে। বেশিরভাগ বিরোধী দল তো করছেই, আবার দলীয় বৃত্তের বাইরে সাধারণ মানুষ ‘উই দ্য পিপল অব ইন্ডিয়া’ ব্যানারে জাতীয় পতাকা নিয়ে আন্দোলন করছেন। এদের ম্যানিফেস্টো ভারতের সংবিধান। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বুঝতে পারছে, দেশের মানুষ নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের নামে তাদের সাম্প্রদায়িক মনোভাবকে পছন্দ করছেন না। আন্দোলনের চাপে প্রধানমন্ত্রী বলে বসলেন, তাঁর আমলে এনআরসি-র কোনও কথাই হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢোক গিলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে একটু মোচড় দিয়ে বললেন।
১৯৭৪ সালের ৮ মে থেকে ২০ দিন ধরে ভারতজোড়া রেল ধর্মঘট হয়েছিল। সেটা রেল কর্মচারীদের আন্দোলন ছিল। কিন্তু এনআরসি, এনপিআর ও সিএএ বাতিলের দাবিতে সারা ভারতজুড়ে যা হচ্ছে, তা এর আগে কখনও দেখা যায়নি। এই আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য মহিলা ও ছাত্রসমাজের অংশগ্রহণ। বিভিন্ন শহরে হচ্ছে মহিলাদের একটানা অবস্থান-ধরনা, দিকে দিকে শাহিনবাগ। আবার এই আন্দোলনের দুর্বলতার দিকগুলিও দেখা যাচ্ছে। শাহিনবাগ, লক্ষ্মৌর ঘণ্টাগড়, এলাহবাদ, গয়া, পার্ক সার্কাস-সহ সর্বত্রই দিনের পর দিন ২৪ ঘণ্টা অবস্থান-ধরনায় বসছেন সংখ্যালঘু পরিবারের মহিলারাই। সত্যিকারের গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হলে সংখ্যাগুরু পরিবারের মহিলাদেরকেও ওই অবস্থানে যোগ দিতে হবে। ছাত্রসমাজের অংশগ্রহণ ভালো কথা, কিন্তু নামী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরই দেখা যাচ্ছে। অখ্যাত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ তেমন নেই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কিন্তু বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাঠানখালি কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখা যাচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত আন্দোলন মূলত শহরেই হচ্ছে, গ্রামে ততটা নয়। অথচ গ্রামের মানুষ এনআরসি-র আতঙ্কে ঘুমতে পারছেন না, কয়েকজন আত্মহত্যাও করেছেন। এই দুর্বলতার দিকগুলো কাটিয়ে উঠে এই আন্দোলনের চালিকাশক্তি বিভিন্ন চিন্তাভাবনার সংগঠকদের কদম কদম এগিয়ে যেতে হবে। জমায়েতের সংখ্যার বিচারে এখনও পর্যন্ত মমতা ব্যানার্জির পদযাত্রাগুলোর যোগদানকারীর সংখ্যা খুবই আশাপ্রদ। পুরুলিয়া থেকে পাহাড় মমতার পদযাত্রায় মানুষের ঢল। তবে একই ইস্যুতে যারা আন্দোলন করছেন, এদের মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার।