| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

রহস্যে মোড়া কোচবিহারের বড়দেবী : শৌনক দত্ত

Reporter
শৌনক দত্ত / ১২২৯ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০২২

কোচবিহার ব্যাঙচাতরা রোডের বাড়িটি তখন টিনের দোচালা। উঠান জুড়ে বাবার প্রিয় বাহারী গোলাপ আর কত রকম ফুলের টব। ব্যাংকার বাবা ভাই আর আমার মতোই বাগানকে ভালবাসে। ভাই নীলাঞ্জন আর আমার জীবনে বাবার সাথে কাটানো সেরা সময়গুলো লেখা আছে লোডশেডিং জুড়ে। লোডশেডিং মানেই বারান্দায় বা বারান্দার নিচে পাটি পেতে মা বাবা আমি আর ভাই। কখনো মায়ের গান, ভাইয়ের তবলা কখনো নিছক আড্ডা তবে সবচেয়ে রঙিন হয়ে উঠতো বাবা যেদিন গল্প শোনাতো। গল্পের ছলে বাবা আমাদের দুই ভাইকে কত কত রত্ন মানিক দান করেছে তখন না বুঝলেও এখন বুঝি। স্মৃতি বিট্রে না করলে সেদিন সম্ভবত পূর্ণিমা রাত পূজার জামা প্যান্টের মাপ দিয়ে এসেছি মায়া সিনেমা হলের সামনে পোস্ট অফিসের পাশে বসা দর্জিকাকার কাছে। বাড়ি ফেরার পথেই লোডশেডিং। দীর্ঘ সাতাশ বছর পর সেদিনটাকে হাতড়ে ফিরছি কারণ জ্যোতিদা (জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়, সম্পাদক) লিখতে বলেছেন কোচবিহারের বড়দেবীকে নিয়ে। পাটি পেতে চারজন বসেছি। আজ বাবার গল্প বলার দিন। আগেই বলেছি বাবা গল্পের ছলে বিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য কত কি যে আমাদের দুইভাইকে শিখিয়ে দিয়েছে। সেইদিন বাবার বলা গল্পটাই লিখবো। রাজার গল্প নিয়ে আমার আর ভাইয়ের বরাবরই খুব আগ্রহ। রাধাষ্টমী থেকেই কোচবিহারে পুজোর আমেজ শুরু হয়ে যায় কারণ দেবীবাড়ির পুজো নিয়ে তখন থেকেই নানান আচার শুরু হয়। সেই নিয়ে মা কথা বলছিলো। কি মনে করে ভাই বললো বাবা দেবীবাড়ির পুজো কবে থেকে শুরু হয়েছে? বাবা ভাইকে কোলে টেনে নিল, আমি মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছি। বাবা বললো পুজো শুরুর কথা শুনতে হলে যে তার আগের গল্পটা শুনতে হবে তোমরা কি সেই গল্পটা শুনতে চাও। চাও মানে ভাই আর আমি সমস্বরে চিৎকার করে উঠলাম-হ্যাঁ!

বাবা স্পেশাল সিগারেটটা ধরিয়ে নিয়ে একটা জোরে টান দিয়ে একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে বলতে শুরু করল।

সেই অনেককাল আগে এই অঞ্চল জুড়ে বাস করতো মেস, গারো, থারু, কোচ-সহ আরো কিছু জনগোষ্ঠী। মেস, গারো, থারু ও ড্রাবিয়ান গোষ্ঠীর সংহতি ও মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর সমষ্টি কোচ জনগোষ্ঠী এক সময় প্রতাপশালী হয়ে উঠে। কোচ নামের রাজ্যটি ৪র্থ থেকে ১২ শতক পর্যন্ত কামরূপ রাজ্যের অন্তর্গত ছিল ও এখানে বর্মন বংশ, পাল বংশ ও ম্লেছ বংশ রাজত্ব করেছিল। ১২ শতকে অঞ্চলটি কমতা রাজ্যের অন্তর্গত হয় ও খেন রাজবংশ রাজধানী কমতায় রাজত্ব করে। প্রখ্যাত খেন রাজবংশের রাজারা হলেন নীলধ্বজ, চক্রধ্বজ ও নীলাম্বর। প্রায় ১৪৯৮ সন পর্যন্ত খেন রাজবংশ কমতায় রাজত্ব করেন কিন্তু আলাউদ্দিন হুসেইন সাহ যুদ্ধে পরাস্ত করে কমতা রাজ্য দখল করে ও পুত্র দানিয়েলকে সিংহাসনে বসায়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বারভূঞা ও আহোম রাজা চুহুংমংয়ের সংঘর্ষের ফলে রাজ্যটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। দানিয়েলের পতনের পর রাজ্যটিতে প্রতিক্ষণ অশান্তি লেগেই থাকতো। বারভূঞারা কয়েকটি ছোট ছোট অঞ্চল শাসন করা আরম্ভ করেন। এদের মধ্যে হাজো নামক ব্যক্তির জীরা ও হীরা নামক দুইটি কন্যা ছিল। অঞ্চলটির অপর পাড়ে চিকনা পাহাড় নামক স্থানে হাড়িয়া মণ্ডল নামে একজন মেস নেতার শাসন ছিল। চিকনা অঞ্চলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য হাজো তার দুই মেয়েকে হাড়িয়া মণ্ডলের সাথে বিয়ে দেয়। জীরার দুই ছেলে মদন ও চন্দন ও হীরার দুই ছেলে শিশু ও বিশু-র জন্ম হয়। চারজন ভাইয়ের মধ্যে বিশু ছিল সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী। এই চার ভাইয়ের বাবা হাড়িয়া মণ্ডলকেই মনে করা হয় কোচ বংশের আদি পুরুষ।

বাবা থেমে সিগারেটটা এসট্রেতে চেপে ধরে। বাবার গল্পে আমরা দুইভাই এতটাই ডুবে গেছি গল্প থেমে গেছে খেয়াল করিনি। মা যখন বললো বিশু কি তাহলে কোচবিহারের রাজা বিশ্বসিংহ? তখন খেয়াল হলো বাবা চুপ করে আছে।

বড়দেবীর প্রতিমা তৈরির শুরুর আগে ময়নাগাছের পুজো

বাবা একঢোক জল খেয়ে বললো হ্যাঁ সেই ছোট্ট বিশুই কোচবিহারের রাজা বিশ্বসিংহ। তবে ছোট্ট বিশু বিশ্বসিংহ হয়েছিল সিংহের মতো প্রতাপ ও মেধায়। ছোট্ট বিশু তার বুদ্ধি দিয়ে বুঝেছিল বার-ভূঞাদের পরাস্ত করা না গেলে কোচদের আধিপত্য ফিরিয়ে আনা যাবে না তাই বিশু জনজাতীয় নেতাদেরকে একজোট করার অভিযান শুরু করলো। দরং, করাইবারী, আতিয়াবারী, কামতাবারী, বলরামপুর ইত্যাদি কয়েকটি জনজাতীয় অঞ্চল তার সাথে জোটবদ্ধ হলো। শক্তিশালী বার-ভূঞাদের পরাস্ত করার জন্য ১৫০৯ সালে অভিযান চলায় বিশু, এই অভিযানে সে ঔগুরির কুসুম ভূঞা, দীঘলা ভূঞা, কলিয়া ভূঞা, ঝারগ্রাঁ- কবিলাস ভূঞা, কর্ণপুর, ফুলগুরি, বিজনী এবং শেষে পাণ্ডুনাথের (গুয়াহাটির পাণ্ডু) ভূঞাকে পরাস্ত করলো। কর্ণপুরের ভূঞার বিরুদ্ধে অভিযানে খুব কঠিন লড়াই হয়েছিল। এই অভিযান বান্দুকা এবং সজলাগ্রামের মত স্থানের ভূঞাদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করেছিল।

মা বাবাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, তাহলে বিশু কামতাপুর এলো আরো পরে? আর বিশ্বসিংহ নাম হলো এই জয়ের পরে?

বাবা সিগারেট ধরাতে ধরাতে মাথা নাড়ে ফুঁ দিয়ে দেয়াশলাইয়ের আগুনটা নিভিয়ে দিয়ে বললো, না-না, ভূঞাদেরকে পরাস্ত করে বিশু তার কর্মস্থল চিকনা থেকে কামতাপুরে (বর্তমান কোচবিহার শহরের কয়েক মাইল দক্ষিণ-পূর্বে) তুলে আনে এবং নিজেকে কামতা রাজ্য-এর শাসক বলে ঘোষণা করে। তখনই বিশু বিশ্ব সিংহ বলে হিন্দু নাম গ্রহণ করে। এইভাবে ১৫১৫ সালে কামতার কোচ রাজবংশের সূত্রপাত হয়। সেই সময় বিশ্বসিংহ ভাই শিশুকে (শিষ্য সিংহ) যুবরাজ ঘোষণা করে। পরে শিশুর সন্তান-সন্ততি জলপাইগুড়ির রায়কত রাজা হয়। ভূঞার বিরুদ্ধে অভিযানে সহায়তা করা জনজাতীয় নেতাসমূহের মধ্যে থেকে বিশ্বসিংহ কার্জি নামক বারজন মন্ত্রীর পদের সৃষ্টি করে। এই দুজন কার্জি এবং যুবরাজ মিলে মন্ত্রিসভা গঠন করে। সেনাবাহিনীর নায়ক হিসেবে সেনাপতি পদের সৃষ্টি করা হয়। একটা লোকগণনার পরে রাজা বিশ্বসিংহ প্রজার সুনিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পদবীর সৃষ্টি করে। সুস্থ-সবল পুরুষদেরকে পাইক বলা হত, তার ওপর ছিলেন ঠাকুরীয়া (২০ জন পাইকের ওপর), শইকীয়া (১০০ জন পাইকের ওপর), হাজারী (১০০০ জন পাইকের ওপর), ওমরা (৩০০০ জন পাইকের ওপর) এবং নবাব (৬৬,০০০ জন পাইকের ওপরে)।

জনজাতীয় লোকদেরকে কার্জি হিসেবে নিযুক্ত করে বিশ্ব সিংহ তাদের সাথে সম্পর্ক অব্যাহত রাখে। নিযুক্ত করা একমাত্র ব্রাহ্মণ ছিলো রাজ পুরোহিত। অন্য রাজ্যগুলোর দিকে বিশ্বসিংহের নজর ছিলো প্রথম থেকেই, কিভাবে যুদ্ধে না গিয়ে সুকৌশলে রাজ্যগুলোর সাথে সম্পর্ক তৈরি করা যায় সেই ভাবনা মাথায় রেখেই বিশ্বসিংহ বিয়ে করে অন্য রাজা এবং নেতাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে চলছিলো। আর তার এই কৌশলের জন্য নেপাল, গৌড়, কামরূপ, বারাণসী, মিথিলা এবং কাশ্মীরের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে গিয়ে তাকে আঠারোটি বিয়ে করতে হয়েছিল এবং আঠারোটি বৌ থেকে বিশ্বসিংহের ঘর আলো করে এলো আঠারোজন ছেলে। আঠারোজন ছেলেকেও প্রশাসনিক দায়িত্ব দিয়েছিল বিশ্বসিংহ। যেমন নরসিংহকে (নেপালের রত্নকান্তির পুত্র) ভুটান-এর রাজার থেকে জয় করা অঞ্চলের দায়িত্ব দিয়েছিলো। গৌড়ের হেমপ্রভার পুত্র মল্লদেব (পরে নরনারায়ণ) উত্তরাধিকারী ছিলেন। গৌড়ের পদ্মাবতীর পুত্র শুক্লধ্বজ (পরে চিলারায়), কামরূপের চন্দ্রকান্তির পুত্র গোহাঁই কমল ইত্যাদি রাজ্যের কাজের দায়িত্বে ছিলেন।

আমার আর ভাইয়ের তখন চিন্তা কারেন্ট চলে এলেই তো গল্প শেষ কিন্তু বাবা তো এখনো পুজোর কথা বলছে না। আমি আর ভাই বাবাকে তাড়া দেই বাবা পুজোর গল্পটা বলো। বাবা মুচকি হেসে আমাকে ও ভাইকে জড়িয়ে ধরে। বড় দেবী হলেন কোচবিহারের রাজবাড়ীর কূলদেবী। বর্তমানে যে সকল দেবীর উপাসনা ও উৎসব বাংলার হাজার হাজার বছরের শক্তি আরাধনার পদ্ধতি অপরিবর্তিত রেখে এখনো স্বমহিমায় টিকে রয়েছে তারমধ্যে অন্যতম হলো কোচবিহারের রাজগৃহের কুলদেবী বড় দেবীর আরাধনা। তিনি উত্তরবঙ্গের বাঙালি ও অন্যান্য জনজাতির মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় দেবী। ধারনা করা হয় ছোট্টবেলায় বিশুর পুজো পুজো খেলায় যে দেবীর আর্শীবাদপুষ্ট হয়ে কোচ রাজা হয়ে কামতারাজ্য লাভ করেছিল সেই দেবীর স্বপ্নাদেশেই ১৫৬০ খ্রিষ্টাব্দে রাজবাড়ীর মদনমোহন মন্দির প্রাঙ্গনে ময়না গাছের ডাল পুঁতে পুজো শুরু করে মহারাজা বিশ্বসিংহের পুত্র কোচবিহারের দ্বিতীয় মহারাজা নরনারায়ণ,স্ববংশে দশভুজা দূর্গা মূর্তির পূজার প্রচলন করেন ও নরনারায়ন।

ভাই প্রশ্ন করে,বিশু ছোট্টবেলায় দুর্গাপুজো দুর্গাপুজো খেলতো?

না বেটা,বলে বাবা ভাইকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে,তারপর বলে লোকমুখে শোনা যায় তিন ভাই শিষ্যসিংহ, কুমার চন্দন ও কুমার মদন এবং শৈশবের সঙ্গীদের নিয়ে ১৫১০ খ্রিস্টাব্দে আসামের ‘‌চিকনা’‌ নামক গভীর বনে ময়না কাঠের ডালকে দেবী দুর্গা  কল্পনা করে বনফুল, ফল দিয়ে পুজো করেছিল। প্রচলিত আছে, খেলাচ্ছলে এক সাথীকে বিশু বলির পাঁঠার মতো আটকে কুশ দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করা মাত্রই দেবীর অলৌকিক ক্ষমতায় সেই বন্ধুর মাথা ধর থেকে আলাদা হয়ে যায়। ছোট্ট বিশু সেই বন্ধুর ধরহীন মাথা দেবীর নামে নিবেদন করেন। কথিত আছে যে, সেই সময় দেবী দুর্গার আশীর্বাদেই নাকি বিশু যৌবনে ‘‌চিকনা’‌-‌র অধিপতি তুরকা কোতোয়ালকে পরাজিত ও নিহত করে কামতা রাজ্যের রাজা হয়। দেবী দুর্গা সেই সময় নিজের হাতের কঙ্কন ও তীক্ষ্ণ খড়গ উপহার দেন বিশুকে। কিন্তু কোচবিহারে বড়দেবীর মূর্তিপূজার গল্পটা অন্য। কোচবিহারের ইতিহাস মতে, মহারাজা নরনারায়ণের ভাই সেনাপতি চিলা রায় কোচবিহারের সিংহাসনে বসবার লোভে দাদা নরনারায়ণকে হত্যা করবার জন্য রাজসভায় যায়। কিন্তু, সেখানে ঢুকে দেখে স্বয়ং ভগবতী দুর্গা দশ হাত দিয়ে ঘিরে রাজা নরনারায়ণকে রক্ষা করছেন। চিলা রায় এই অলৌকিক দৃশ্য দেখে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে দাদার কাছে ক্ষমা চায়। কিন্তু, এই ঘটনায় নরনারায়ণ নিজেকে ভাগ্যহীন মনে করে এবং চিলা রায়কে ভাগ্যবান ভেবে কষ্ট পায়।

নিজের ভাগ্যে দেবী দর্শন না ঘটায় মনের দুঃখে খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়ে একা থাকতে শুরু করে নরনারায়ন। জনশ্রুতি আছে যে ৩ দিন পর গভীর রাতে দেবী দুর্গা তাঁকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বলেন, ‘‌বৎস ওঠ, জগৎ সংসার আমার যে মহিষাসুরমর্দিনী রূপে পূজা করে তা প্রত্যক্ষ কর। শরৎকালে তুমি এই মূর্তি নির্মাণ করে যথাবিধি পূজা করবে।’‌

আমার তখন মনে পড়ে গুঞ্জবাড়িতে দেখা ১১ ফুট লম্বা পোক্ত ময়না কাঠের ডালের কথা। শুক্লা অষ্টমী তিথিতে সেই ময়না কাঠের ডালটিকে দেবীরূপে কল্পনা করে পুজো দেন পুরোহিত। যা যূপচ্ছেদন পুজো নামে পরিচিত। পুজোর পর কাঠটিকে পালকিতে করে মদনমোহন মন্দিরে নিয়ে যায়। টানা এক মাস রীতি মেনে ওই মন্দিরে সেটির পূজা হতে দেখেছি আমি। কৃষ্ণাষ্টমীতে বড়দেবীর মন্দিরে গৃহ পুজো হতেও শুনেছি।পরে রাধা অষ্টমী তিথিতে ওই ময়না কাঠ দেবীবাড়ি মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ‘হাওয়া খাওয়া’ পুজোর তিন দিন বাদে ওই কাঠটি কাঠামোয় শক্তিদণ্ড হিসাবে ব্যবহার করে শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ।

আমার ভাবনা ছিঁড়ে যায়। ভাইকে তখন বাবা বড়দেবীর রূপ নিয়ে বলছে বড় দেবীর রূপ অন্যসব দুর্গার চেয়ে ভিন্ন ও খুব ভয়ঙ্কর চেহারার। দশভুজা মহিষাসুরমর্দিনী দেবীর গায়ের রঙ লাল, অসুরের গায়ের রঙ সবুজ। দেবীর বাহন সিংহরাজ অসুরের এক পায়ে কামড়ে ধরেছে, অসুরের অপর দিকে হাতে কামড়ে ধরেছে বাঘ। সাধারণত দুর্গার সঙ্গে লক্ষ্মী-সরস্বতী, কার্তিক, গনেশকে দেখা যায়। কিন্তু বড়দেবীর সঙ্গে থাকে জয়া এবং বিজয়া। তাদের হাতে রয়েছে জ্বলন্ত মশাল।

এই দুর্গা এমন দেখতে কেন বাবা? ভাই জানতে চায়।

বাবা কি উত্তর দেবে ভাবছি কিন্তু আমার তখন মনে হয় বিশু আর শিশুর কল্পনার দুর্গার মূর্তিরূপ নরনারায়ন হয়ত তাদের জনগোষ্ঠীর মানুষের চেহারার আদলেই গড়ে তুলেছে, পিতা বিশ্বসিংহ (বিশু)-র রক্তে যে জয়ের নেশা ছিল সেই ইতিহাসকে এবং দেবীর আর্শীবাদের পরে যে প্রতাপশালী হয়ে উঠেছিল তার পিতা সেইসবের কথা মাথায় রেখে বোধ করি দেবীর গায়ের রঙ কল্পনা করেই দেবীর গায়ের রঙ রেখেছে রক্তের মতো লাল আর অসুরের গায়ের রঙ সবুজ কেননা কোচবিহারের শিকারের ইতিহাস বিশ্বনন্দিত তাছাড়া বিশুর শত্রু বিজয়ের প্রতীক হিসেবে বনাঞ্চলের রাজাদের নরনারায়ন করেছে তাই পরাজিত রাজাদের প্রতিনিধিত্ব করে অসুর তাই সবুজ রঙের শরীরে অসুর বড়দেবীর পাশে দৃশ্যমান, যাকে কামড়ে ধরেছে সিংহরূপী বিশু অপর হাতে এই অঞ্চলের বনদেবতা বাঘ। আর এই যুদ্ধে মশাল হাতে আলোর পথ দেখাচ্ছে জয়া বিজয়া কিংবা শিশু ও বিশু। আমার আজব  ভাবনায় বাবার ব্যাখ্যা ঢুকে পড়ছে। বাবা তখন ভাইকে বলছে,লোকমুখে শোনা যায় মহারাজা নরনারায়ণ স্বপ্নে যে ভগবতীকে দর্শন করে সেই দুর্গা মায়ের সঙ্গে মহিষাসুরের ডান হাত সিংহ কামড়ে ধরে আছে, কিন্তু তাঁর বাম হাত খালি।’‌ দেবী দুর্গা তখন বললেন— ‘ওই স্থানে একটি বাঘ দিও।’‌ রাজা নরনারায়ণ দেবীর অতসী কুসুমাকার বর্ণ দেখে মনে করলেন ভগবতী দেবী দুর্গার লাল রং হলে ভালো হয়। মহারাজা নরনারায়ণ সেই স্বপ্নে দেখা মূর্তি স্থাপণ করে শারদীয়া দুর্গা পুজোর প্রচলন করেন। আপন মনের ভাবনা কাটিয়ে যখন খেয়াল করলাম তখন শুনলাম বাবা মা কে বলছে আগে ষষ্ঠী থেকে নিয়মিত নরবলি হত, পরবর্তীকালে নর বলির বীভৎসতা দেখে কোচবিহারের ১৯ তম কোচ মহারাজা নরেন্দ্র নারায়ণ ভূপ (রাজত্বকাল ১৮৪৭-১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দ) দ্বার পন্ডিতদের সাথে আলোচনা করে নরবলি বন্ধ করে দেন কিন্তু , একটি কিংবদন্তি থেকেই যায় যে, কোচবিহার রাজবংশের বড়দেবী দূর্গা নররক্ত না পেলে কুপিত হন। তাই প্রতি বছর মহাঅষ্টমীর রাতে এখানে এক বিশেষ ধরনের বলির ব্যবস্থা করা হয়।

মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিলগ্নে বড়দেবীর মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় ‘গুপ্তপূজা’। বাইরের লোকের প্রবেশ তখন নিষিদ্ধ। পুরেহিত এবং রাজবংশের প্রতিনিধিই মূলত থাকেন এই উপচারের সময়ে। এখানে কামসানাইট উপাধি ধারি প্রতিনিধি তাঁর আঙুল কেটে কয়েক ফোঁটা রক্ত দেন দেবীর পদতলে। বলি দেওয়া হয় চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরী মানুষের প্রতীক একটি পুতুলকে। তুমুল রিদিমে ঢাক বেজে ওঠে। সাম্প্রতিকের মুখোমুখি এসে দাঁড়ায় আবহমান।

নবমীতে রাজসিক বিধানে পুজো ও বলি হয়ে থাকে । মূল অন্নভোগ হয় নবমীর দিন, পাঁচটি পাঠা ও একটি পানী মাছ বলি দিয়ে ষোড়শপচার পুজোর পর নিবেদন হয় অন্নভোগ ; বোয়াল মাছ দিয়ে রান্না করা হয় খিচুড়ি ।

বিজয়া দশমীতে সকালবেলায় বড়দেবী দূর্গা প্রতিমা বিসর্জনের জন্য রাজবাড়ীর নিজস্ব যমুনা দিঘিতে নিয়ে যাওয়া হয়, বিসর্জনের আগে পুকুর ঘাটে হালুয়া পুজো হয় । পুজোয় যে রাজকর্মচারী ফুল যোগান দিয়ে থাকে তাকে বলে হালুয়া । এখানে হালুয়া শাপলার চালের ভাত করে দেবীর নামে ভোগ দেয় তারপর শুকর বলি দেওয়া হয়। পূজা শেষে প্রতিমা খন্ড খন্ড করে নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়, প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোচবিহার রাজপরিবারের সদস্যদের দেখা নিষিদ্ধ বলে তারা এই বিসর্জনে অনুপস্থিত থাকে।

কোচবিহারের একটি প্রথা আছে যে, রাজবাড়ীর বড় দেবীর মূর্তি বিসর্জন না হওয়া পর্যন্ত অন্য প্রতিমা নিরঞ্জন হয় না।

রাজতন্ত্র থাকাকালীন বিজয়া দশমীর দিন সকালে দেবীবাড়ি থেকে ঘট এনে রাজপ্রাসাদের সামনে অপরাজিতা পূজা হতো। এই যাত্রা দর্শন উপলক্ষে রাজকোষ এ রাখা ঢাল, তলোয়ার, স্বর্ণ খচিত দোয়াত-কলম, সোনার দর্পন, রাজসিংহাসন ইত্যাদি জিনিসগুলো সুসজ্জিত করে রাজপরিবারের লোকেদের দেখার রীতি ছিলো, বর্তমানে এই যাত্রা পুজো কোচবিহার দেবত্রস্টার্ট বোর্ডের অধীনে শ্রী শ্রী মদনমোহন মন্দিরে এই যাত্রা পুজো হয়ে থাকে।

রাজআমলে বিকেলে রাজপ্রাসাদ সংলগ্ন মাঠে স্বয়ং মহারাজা পাট হাতির পিঠে বসে খঞ্জন পাখি ছেড়ে দিতেন। খঞ্জন পাখি যে দিকে উড়ে যেতেন মহারাজা সেই দিকে দিক বিজয় করতেন এবং সফলকাম হতেন। খঞ্জন পাখি ছেড়ে দেবার পর রাজার প্রতিনিধি শ্রী দুয়ারবক্সী মহাশয় দা দিয়ে একটি কুমড়ো বলি দিতেন। ১৯৭০ সালের ১১ই এপ্রিল কোচবিহারের শেষ স্বাধীন মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপ বাহাদুরের মৃত্যুর পর খঞ্জন পাখি অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

কখন ভাই  ঘুমিয়ে পড়েছে বাবার ঘাড়ে মাথা রেখে গল্পের তালে কেউ খেয়াল করিনি। দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে বসে থাকায় কিনা জানিনা হঠাৎ বারান্দার টিউব লাইটটা জ্বলে উঠতেই চোখের পাতা পলকে বন্ধ হয়ে গেল আমার মনে হলো আমি স্পষ্ট দেখছি প্রতাপশালী, সুশাসক, ধর্মপ্রাণ ও বিদ্যানুরাগী তিপান্ন বছর বয়সী বিশ্বসিংহ দ্বিতীয় পুত্র নরনারায়ণকে রাজ্যভার বুঝিয়ে দিয়ে ছেলের মাথায় আর্শীবাদের হাত রেখে বলছেন করতলীয় রাজ্যের থেকে মুক্ত হও। তারপর হাঁটতে লাগলেন হিমালয়ের দিকে যেখানে তিনি নির্বাসন নেবেন বলে ঠিক করে রেখেছেন। তিনি হাঁটছেন ইতিহাসের পাতায় তখন ১৫৫৪ সাল। আর ভবিষ্যতের পাতায় তখন লেখা হচ্ছে এক কিংবদন্তী রাজার ইতিহাস। সংকোশ নদী কে সীমান্ত করে পূর্বদিকে নিজ অধিকারে রাখার গল্প। শিক্ষা এবং সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক নরনারায়ন পশ্চিম দিক ভাই শুক্লধজকে দেবে। নারায়নী মুদ্রার প্রচলনের সময়কাল। অসমের ধর্মগুরু শংকরদেবের আশ্রয়গ্রহণ ও তাঁর ধর্মপ্রচার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৈষ্ণবভক্তদের ইতিহাস বিস্তার। স্বপ্নে পাওয়া ‘বড় দেবীর’ পূজা প্রচলন করবে নরনারায়ন এবং ‘কামাখ্যা মন্দির’ পুনর্নির্মাণ করে হবে অভিশপ্ত। বাবা বিশ্বসিংহের চলে যাওয়া দেখতে দেখতে অশ্রুসিক্ত নয়নে দাঁড়িয়ে মহারাজা নরনারায়ন নিশ্চয় তখনো জানতো না ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে অহম রাজ কে লেখা তাঁর চিঠি হয়ে উঠবে বাংলা সাহিত্যে প্রথম বাংলা গদ্যের নিদর্শন। হয়ত বাবার নির্বাসন, বারানসীর শিক্ষা তখন আনমনেই লিখে ফেলেছে পুষ্পিত এক অধ্যায়ের ইতিহাস-

“তোমার আমার সন্তোশ সম্পাদক পত্রাপত্রি গতায়াত হইলে উভয়ানুকুল প্রীতির বীজ অঙ্কুরিত হইতে রহে। তোমার কর্তব্যে সে বর্ধিতাক পাই পুষ্পিত ফলিত হইবেক।“

তথ্যসূত্র:

Gogoi, Jahnabi (২০০২), Agrarian system of medieval Assam, Concept Publishing Company, New Delhi

Nath, D (১৯৮৯), History of the Koch Kingdom: 1515-1615, Delhi: Mittal Publications

Sarkar, J N (১৯৯২), “Chapter IV: Early Rulers of Koch Bihar”, Barpujari, H. K., The Comprehensive History of Assam, 2, Guwahati: Assam Publication Board Royal History of Koch Bihar,

বাংলাদেশের ইতিহাস — ২য় খণ্ড (মধ্যযুগ) অধ্যাপক রমেশচন্দ্র মজুমদার

কোচবিহারের ইতিহাস — ভগবতীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বিষয় : কোচবিহার — নৃপেন্দ্রনাথ পাল

কোচ রাজবংশের ইতিহাস — রমনী মোহন বর্মা
কুচবিহারের ঐতিহ্যময় রাজপ্রসাদ — রঞ্জিত দেব
কোচবিহারের ইতিহাস — খাঁ চৌধুরী আমানত উল্লাহ খান

ইতিকথায় কোচবিহার — ড: নৃপেন্দ্রনাথ পাল

কুচবিহারের রাজবংশীবলী ও বর্তমান রাজপ্রাসাদ- হিমাদ্রি শংকর ভট্টাচার্য্য

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev