মার্কিন সেনা ছাউনিতে ছিল কাজ। মাসের শেষে ভাল বেতন। এভাবেই কেটেছে তাঁর সাড়ে ৪ বছর। তালিবান আসার আগেও যে পরিবেশ খুব শান্ত ছিল তাও নয়। ঘনঘন কানে আসত গোলাগুলির শব্দ। কিন্তু সেনা ছাউনিতে কোনওদিনই নিজেকে অসুরক্ষিত মনে হয়নি তাঁর। তবে ১০ অগাস্টের পর থেকে চিত্রটা বদলে গেল। কাবুলে ঢুকে পড়ল তালিবান। সস্ত্রাস আর তার জেরে আতঙ্ক গ্রাস করল চারিদিক।
হামিদ কারজাই এয়ারপোর্টের ক্যাম্পে থাকতেন তাঁরা। চোখের সামনে দেখেছেন ফ্লাইট ধরার জন্য হুড়োহুড়ি। সুপ্রিয়র কথায়, ঠিক যেন বাসের পিছনে দৌড়। দেখেছেন বিমান থেকে ছিটকে পড়া মানুষগুলোকে। তারপর আরও বেশি করে আতঙ্ক চেপে বসে মাথায়। দেখেছেন, মা ছাড়া দেড় বছরের ছোট্ট শিশুর কান্না। সেই বাচ্চাটিকে মার্কিন সেনা রক্ষা করে, জল-খাবার দেয়।
কাবুল যখন জ্বলছে, তখন একে একে আফগানিস্তান থেকে জীবন হাতে করে বাড়ি ফিরছেন বাংলার ছেলে-মেয়েরা। কাজের সূত্রে, রোজগারের তাগিদে অনেকেই আফগানিস্তানে কাটিয়েছেন গোলাগুলির শব্দের ভিতর। কিন্তু হঠাৎ করে যে চেনা পরিবেশটা রাতারাতি ত্রাসের রাজত্ব হয়ে উঠবে সেটা ভাবা যায়নি।
মৃত্যুপুরী আফগানিস্তানের কাবুল থেকে দোহা হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন সুপ্রিয় ধর। কাবুলে ন্যাটোর সেনা ছাউনিতে শেফের কাজ করতেন এই বাঙালি যুবক। তাঁর চোখেমুখে এখনও স্পষ্ট আতঙ্ক। আর কোনওদিন আফগানিস্তানে যাবেন না, সাফ জানিয়েছেন এই বাঙালি যুবক। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে শনিবার হুগলির গোঘাট-১ ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে সেই সুপ্রিয় ধরকে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হল। উপস্থিত ছিলেন গোঘাটের প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুমদার, তৃণমূল ছাত্র নেতা শেখ আশিক প্রমূখ।