আজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০১ তম জন্ম দিবসে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হলো ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর-২নং ব্লকের রাণ্টুয়া তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে। উপস্থিত ছিলেন গোপীবল্লভপুর-২ নং ব্লক তৃণমূল সভাপতি টিঙ্কু পাল, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতি স্বপন পাত্র ও গোপীবল্লভপুর-২নং ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুপম মল্লিক-সহ আরো অনেকে।
ঈশ্বরচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় যিনি বিদ্যাসাগর নামেই বেশি পরিচিত। উনবিংশ শতকের বাঙালী শিক্ষাবিদ, গদ্যকার এবং বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ছিলেন। ঈশ্বরচন্দ্রকে আধুনিক বাংলা ভাষার জনকও বলা যেতে পারে। ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম একদা আমাদের জেলা মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে ১৮২০ সালে ২৬শে সেপ্টেম্বর। এই মহান মনিষীর পিতা ঠাকুর দাস বন্দোপাধ্যায় ও মাতা ভগবতী দেবী। ছোট বেলায় ঈশ্বরচন্দ্র গ্রামের পাঠশালাতে পড়তেন। পাঠশালার পড়া শেষ করে আরও শিক্ষালাভের জন্য তিনি কলকাতা পাড়ি দেন। পড়াশুনার প্রতি বিদ্যাসাগরের টান ছিল অসীম। প্রথম বীরসিংহ থেকে কলকাতা ৫২ মাইলের প্রায় সবটাই পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছিলেন। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে করতে তিনি রাস্তার ধারের মাইল স্টোন দেখে ইংরেজি গাণিতিক সংখ্যা শিখে নিয়েছিলেন।

কলকাতায় তিনি তাঁর পিতার সঙ্গে থাকতেন। পড়াশোনার প্রতি এতটাই আগ্রহী ছিলেন বাড়িতে আলোর অভাব থাকায় তিনি রাস্তার আলোতে বসে পড়াশোনা করতেন। কলকাতা সংস্কৃত কলেজ থেকে খুবই কৃতিত্বের সঙ্গে তাঁর পড়াশুনোর সমাপ্তি হয়। উপাধি পান ‘বিদ্যাসাগর’ সেটা ১৮৪১ সাল এবং তখন থেকেই তিনি সকলের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নামে। বিদ্যাসাগর নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সারাজীবন লড়াই চালিয়ে গেছেন। তিনি চেয়েছিলেন বাল্যবিবাহের অবসান ঘটাতে। বিধবাবিবাহ প্রচলন করে নারীর অধিকার কে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে, তার সঙ্গে বহুবিবাহকে রোধ করে নারীকে অবিচার ও যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি দিতে। সমাজে মেয়েদের খুবই ছোট করে দেখা হতো যে দরদ দিয়ে, যে ভাবে সাহসের সঙ্গে বিদ্যাসাগর তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য সারাজীবন করে গেছেন তা সত্যিই অকল্পনীয়।