এক দশক আগে আয়লাও এসেছিল। কিন্তু আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ভয়ঙ্কর চেহারাটা আয়লাকেও চাপিয়ে গেছে কয়েকগুন।করোনা অতিমারী কেড়ে নিয়েছে জীবিকা, আর আমফান কেড়ে নিলো মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকুও। বিস্তীর্ণ এলাকা আমফান তান্ডবে কার্যত উড়ে গেছে। সংসারের অবশিষ্টটুকুও নেই। বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে ভেসে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। সর্বত্র হাহাকার। উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা-এই দুই জেলা এখন যেন শুধুই ধ্বংসস্তুপ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় আমফান মোকাবিলায় আর্থিক তহবিল গঠন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে কেন্দ্রও আর্থিক সাহায্য করেছে। দুই চব্বিশ পরগনার পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া, বর্ধমানে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে।

কলকাতাবাসীর চোখে-মুখে আমফান-এর স্মৃতি এখনও টাটকা।মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন, “এখন কোনও রাজনীতি করার সময় নয়। সকলে মিলে বিপন্ন মানুষের পাশে থেকে পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে।” রাজ্য সরকারের পাশাপাশি দলগতভাবে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল যুব কংগ্রেস। সভাপতি অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশে উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেস ঘূর্ণিঝড় শেষ হতেই উদ্ধার কাজে হাত লাগায়। একই সঙ্গে শুরু হয়ে যায় ত্রাণ দেওয়ার কাজ।এদিন উত্তর কলকাতা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পাদক প্রবীর দে আমফান বিধ্বস্ত গোসাবা ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন প্রান্তিক মানুষদের হাতে।

তাঁর এই কাজে হাত মেলান তাঁর সহধর্মিনী সুস্মিতা দে চৌধুরী। ছিলেন যুব তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরাও। প্রবীর বলেন, এখানে না এলে বলে বোঝানো যাবে না কতটা ক্ষতি হয়েছে। এখানে যে গ্রাম ছিল সেটা বোঝার উপায়ও রাখেনি সর্বগ্রাসী আমফান। সব কেড়ে নেওয়ার জন্যই তার আগমন হয়েছিল। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আপ্রাণ চেষ্টা করছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে। দিনরাত এক করে লড়াই চালাচ্ছেন। তাঁর দেখানো পথে আমরাও পাশে থাকার চেষ্টা করছি।