সারা দেশ এককাট্টা করোনা মোকাবিলায়। খুব ভালো কথা। থালা, কাঁসর, ঘণ্টাও বেজেছে, তবে বেশি বাজিয়েছেন বিজেপি নেতারা। সাংবাদিকদের ডেকে ছবি তুলিয়েছেন, বিজ্ঞাপন যাতে না আটকায় সেজন্য হাততালি দিয়েছে সংবাদমাধ্যম। কেউ এসবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে বলা হচ্ছে, এখনও রাজনীতি? বেশ। এবার দেখা যাক তিন রাজ্যের কথা।

১) ছত্তীসগঢ়ে ২০০৩ থেকে ২০১৮ অবধি ছিল বিজেপির রামন সিং সরকার। ২০১৮ সাল থেকে কংগ্রেস সরকার। এতদিনেও মাওবাদী সমস্যার সমাধান হয়নি। শনিবার ২১ মার্চ সুকমায় মাওবাদী হামলার পর থেকে ১৭ জন জওয়ান নিখোঁজ ছিলেন। আহত অন্তত ১৫ জন জওয়ান হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। জওয়ানদের বেশ কয়েকটি রাইফেল ছিনিয়ে নিয়ে যায় মাওবাদীরা। মোদীর ডাকে থালা বাজানোর প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখন ছত্তীসগঢ় পুলিশ জানায় নিখোঁজ ১৭ জওয়ান, যাঁরা স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ও ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ডে ছিলেন, তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ১৭ জওয়ানের মৃত্যুর দায় কি কেন্দ্রীয় সরকারের নয়? কেন এতো ফাঁক জওয়ানদের সুরক্ষায়?

২) গুজরাট মডেল। সেই গুজরাট থেকেই এলো করোনায় মৃত্যুর খবর। এখনও অবধি মোদী, শাহের রাজ্যে করোনা-আক্রান্ত ১৮, বাংলায় ৭। সত্যি তো গুজরাট তো এগিয়ে! থালা, কাঁসর, ঘণ্টা বাজানোর কয়েক ঘণ্টা আগে রবিবার গুজরাটে প্রথম আর দেশে সপ্তম, করোনা-আক্রান্ত এক প্রৌঢ় মারা গেলেন সুরাটের এক বেসরকারি হাসপাতালে। তিনি দিল্লি, জয়পুর ঘুরে ফেরেন। হাসপাতালে ভর্তি হন কিডনির সমস্যা আর শ্বাসকষ্ট নিয়ে। করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছিল। এগিয়ে থাকা গুজরাটে প্রথম মৃত্যু।পড়তে পড়তে ভাবতেই পারেন এখানেও বিজেপি-বিরোধী রাজনীতি! সেই পাঠকদের মনে করাই মধ্যপ্রদেশের কথা।

৩) রাজনীতি দূরে রাখতে বলেছিলেন মোদী। অমিত শাহকে দেখা যাচ্ছে না আবার কয়েকদিন ধরে। আসলে মধ্যপ্রদেশ নিয়ে তিনি বোধহয় ওয়ার রুমে ব্যস্ত। মধ্যপ্রদেশে ৪ ও কর্নাটকে ২৬ জন করোনা-আক্রান্ত। তারপরও কংগ্রেস সরকার ফেলার এখনই সেরা সময় মনে করেছে অতি-তৎপর বিজেপি। রিসর্ট রাজনীতি, সুপ্রিম কোর্ট অবধি ছুটে কমল নাথ সরকার ফেলেছে। তারপর বিদ্রোহী ২২ কংগ্রেস বিধায়ককে বিজেপিতে যোগ দেওয়ানো হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। চলছে সরকার গড়ার তোড়জোড়। সবটাই দেশে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলার মধ্যেই। থালা বাজাতে গিয়ে ভাবুন, বিজেপি কি মধ্যপ্রদেশে রাজনীতি করছে না?