এ যুগের অবতারবরিষ্ঠ শ্রীরামকৃষ্ণ এক নতুন যুগের বার্তা বহন করে এনে জগৎ সংসারকে শোনালেন—‘যত লোক দেখি, ধর্ম ধর্ম করে—এ ওর সঙ্গে ঝগড়া করছে, ও ওর সঙ্গে ঝগড়া করছে। হিন্দু, মুসলমান, ব্রহ্মজ্ঞানী, শাক্ত, বৈষ্ণব, শৈব সব পরস্পর ঝগড়া করছে। এ বুদ্ধি নেই যে, যাঁকে কৃষ্ণ বলছো, তাকেই শিব, তাঁকেই আদ্যাশক্তি বলা হয়; তাঁকেই যীশু, তাঁকেই আল্লা বলা হয়। এ রাম তাঁর হাজার নাম।’ তারপরই তিনি বললেন, ‘সব পথ দিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়। সব ধর্মই সত্য।’ শ্রীরামকৃষ্ণের ভাববাহী স্বামী বিবেকানন্দ বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করলেন— ‘…এ দেশের প্রাণ ধর্ম, ভাষা ধর্ম, ভাব ধর্ম।’ তারপরই তিনি শোনালেন—‘অপরকে ভালোবাসাই ধর্ম, অপরকে ঘৃণা করাই পাপ।’
এবার যদি আমরা ইতিহাসের গতিপথ ধরে প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছর পিছিয়ে যাই, তাহলে সেই অদূর-অতীতের অস্পষ্ট অন্ধকার ভেদ করে শুনতে পাব আরেকজন মহাসাধকের কণ্ঠস্বর, যিনি মুক্তকণ্ঠে বলছেন, ‘আমার কাছে নেই কোনও সম্প্রদায়ের প্রশ্ন, নেই উচ্চনীচের পার্থক্য। হিন্দু-মুসলমানেরও কোন ভেদ নেই আমার দৃষ্টিতে।’ ১৪৬৯ সালে অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোর থেকে ত্রিশ মাইল দূরে গুজরানওয়ালা জেলার তালওয়ান্দি গ্রামে (বর্তমান নাম নাল্কাসা) গুরুনানক আবির্ভূত হন। পিতার নাম কালুবেদী, মায়ের নাম তৃপ্তা। কালুবেদী জাতিতে ছিলেন ক্ষত্রিয়।
গুরুনানকের যখন আবির্ভাব, তখন ভারতের সুলতানী আমলের শেষ অবস্থা। ভারতে মোঘলদের আক্রমণ তথা আগমনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। নানকের জীবদ্দশাতেই বাবর দিল্লি অধিকার করে সম্রাট হয়েছিলেন। একদিকে গোঁড়া হিন্দুদের অত্যাচার, অন্যদিকে আগ্রাসী মুসলমানদের ধর্মান্তরিতকরণের নানা অপকৌশল তৎকালীন নিম্নশ্রেণীর জীবনকে এক দুর্বিষহ যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত করে তুলেছিল। সমাজের এই অস্থির অবস্থা প্রত্যক্ষ করেই নানক হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে একটা সম্মানজনক সমন্বয়ের কথা চিন্তা করেছিলেন। সুলতানপুর নবাবের দপ্তরে চাকরি করতে এসেছিলেন গুরুনানক। আর এই সুলতানপুরেই তাঁর সাধন জীবনে পূর্ণতা আসে। গ্রামীণ ভারতের সার্থক প্রতিনিধি ভক্তি-আন্দোলন, তথা নামগানেই হলেন আত্মসমাহিত।
প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছরের ব্যবধানে এই বঙ্গভূমিতেও দেখা দিয়েছিল একই ধরনের অস্থিরতা। উচ্চবর্ণের হিন্দু তথা পুরোহিত সম্প্রদায়ের অত্যাচার এবং শাসক খ্রিস্টানদের প্রলোভন ও ধর্মান্তরিতকরণের জন্য প্রবল চাপ ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ পাদে নিম্নশ্রেণীর জীবনকে যন্ত্রণা বিধ্বস্ত করে তুলেছিল। তার উপর বিজ্ঞানের জয়যাত্রা শিল্প বিপ্লবের সাফল্য, নাস্তিক্যবাদের প্রভাব আমাদের ধর্মীয় চেতনাকে এক ভয়ঙ্কর অবিশ্বাসের অন্ধকারে নিক্ষেপ করে দিয়েছিল। এমন অবস্থায় শাশ্বত ভারতের সনাতন প্রতিনিধি শ্রীরামকৃষ্ণ গ্রাম থেকে এলেন শহরে এবং তৎকালীন অস্থির ও অবিশ্বাসী ভারতের প্রতিনিধি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত নরেন্দ্রনাথ দত্ত আত্মসমর্পণ করলেন প্রায় নিরক্ষর শ্রীরামকৃষ্ণের পদপ্রান্তে। যুগ-কালের ব্যবধান সত্বেও গুরুনানক ও শ্রীরামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের আবির্ভাব লগ্নের মধ্যে একা অদ্ভূত সাদৃশ্য ও একটা বিস্ময়কর যোগ সূত্র লক্ষ্যণীয়। ইতিহাসের প্রয়োজনেই তাঁদের আবির্ভাব।
গুরুনানক বললেন, ‘পুণ্যবান এবং পাপী বলে কোন ব্যক্তি নেই। অবিদ্যার ভ্রমে পাপ এবং পুণ্য বলে দুই প্রকার ভ্রান্তি দৃষ্টিগোচর হয়।…মানুষ নিজে কর্ম করে এবং নিজেই সেই কর্মের ফল ভোগ করে থাকে।’ আর স্বামী বিবেকানন্দ কি বললেন? তিনি বললেন, ‘এ সংসারে পাপ বলে কিছু নেই। নিজেকে পাপী ভাবাটাই সব থেকে বড় পাপ। কাপুরুষেরাই পাপ করে থাকে, বীর কখনও পাপ করে না—মনে পর্যন্ত পাপ চিন্তা আসতে দেয় না।’
গুরুনানক উদাসী ও বৈরাগী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দের মত সংসারত্যাগী সন্ন্যাসী ছিলেন না। গুরুদাসপুর জেলার বাতালা গ্রামের রূপবতী কন্যা সুলমনীর সঙ্গে নানকের বিয়ে হয়। নানকের উদার ও পরমত সহিষ্ণু ধর্মমত গ্রহণ করে যাঁরা তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তিনি তাঁদের ‘শিখ’ নামে অভিহিত করেন। আদতে শিখ কথাটার মানেই হচ্ছে শিষ্য। নানক তাঁর শিষ্য সম্প্রদায়ের কর্তা হয়ে ‘গুরু’ উপাধি গ্রহণ করেন। শিখ ধর্মাবলম্বীদের দশজন গুরু। অবশ্যই প্রথম গুরু হচ্ছেন নানক। দ্বিতীয় গুরু অঙ্গদ হচ্ছেন নানকের শিষ্য। তৃতীয় গুরু হচ্ছেন অঙ্গদের শিষ্য অমরদাস। চতুর্থ গুরু রামদাস হচ্ছেন অমরদাসের শিষ্য ও জামাতা। ইনিই অমৃতসরের ‘গুরুদরবারের’ প্রতিষ্ঠাতা। পঞ্চম গুরু অর্জুন গুরুনানক ও অন্যান্য ধর্মনায়কদের বাণী সঙ্কলন করে ‘গ্রন্থসাহিব’ বা ‘আদিগ্রন্থ’ সঙ্কলন করেন। ইনি ছিলেন রামদাসের পুত্র। ষষ্ঠ হচ্ছেন অর্জুনের পুত্র হরগোবিন্দ। ইনিই শিখদের মধ্যে প্রথম মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তলোয়ার ধারণ করেন। হরগোবিন্দের পুত্র হর রায় সপ্তম গুরু। অষ্টম হলেন হর রায়ের পুত্র হরকিষণ। তেগবাহাদুর হলেন নবমগুরু। আর দশম বা শেষগুরু হলেন গুরু গোবিন্দ—যিনি শিখজাতিকে বীর যোদ্ধা জাতিতে পরিণত করেন এবং গুরুপদের অবসান ঘটিয়ে পবিত্র গ্রন্থসাহিবকেই গুরুপদে প্রতিষ্ঠা করেন।
নানকপন্থী শিখদের ‘গুরুগ্রন্থসাহিব’ হলো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। গ্রন্থসাহিবের বাণীগুলি শিখেরা বিভিন্ন রাগের মধ্য দিয়ে কীর্তন করেন।
দুই
গুরুনানক, তথা শিখধর্মের প্রতি স্বামী বিবেকানন্দের অখণ্ড শ্রদ্ধা আমরা বারবার লক্ষ্য করি। বিশ্ববিজয় সম্পন্ন করে ১৮৯৭ সালের জানুয়ারি মাসে স্বামী বিবেকানন্দ যখন মাদ্রাজ শহরে (চেন্নাই) এসে উপনীত হলেন, তখন লক্ষ মানুষের উদ্বেলিত অভিনন্দনে তিনি হলেন প্লাবিত। সেই সময় মাদ্রাজের (চেন্নাই) ভিক্টোরিয়া হলে তাঁকে যে ঐতিহাসিক সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়, সেই সম্বর্ধনার প্রত্যুত্তরে তিনি যে যুগান্তকারী ভাষণ দিয়েছিলেন, সেটাই ‘আমার সমরনীতি’ নামে বিখ্যাত। ওই ভাষণে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—‘ভারতে কি কখনও সংস্কারকের অভাব হয়েছিল?….রামানুজ কে ছিলেন? শঙ্কর? নানক? চৈতন্য? কবীর? দাদু?….নানক কি হিন্দু-মুসলমান উভয়ের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করে সমাজে নূতন অবস্থা আনয়ন করবার চেষ্টা করেননি? তাঁরা সকলেই চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁদের কাজ এখনও চলছে। তবে প্রভেদ এই—তাঁরা আধুনিক সংস্কারকদের মত চিৎকার ও বাহ্যাড়ম্বর করতেন না।’
১৮৯৭ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্ববিজয়ী স্বামী বিবেকানন্দ তার কয়েকজন শিষ্য-শিষ্যা নিয়ে কাশ্মীর থেকে এলেন পাঞ্জাবে। সেইসময় লাহোরে ধ্যানন সিং-এর হাবেলীতে তিনি হিন্দুধর্মের সাধারণ ভিত্তি ‘বিষয় যে অপূর্ব তথ্য সমন্বিত আবেগ দৃপ্ত ভাষণ দেন, তাতে তিনি বারবার পাঞ্জাবের জয়গান করেন। প্রথমেই তিনি বলেন, ‘এই সেই ভূমি—যা পবিত্র আর্যাবর্তের মধ্যে পবিত্রতম বলে পরিগণিত; এই সেই ব্রহ্মাবর্ত—যার বিষয় আমাদের মনু মহারাজ উল্লেখ করেছেন।’ এখন স্মরণ করা যেতে পারে, মনু বলেছেন, সরস্বতী ও দৃষস্বতী, এই দুই দেবনদীর অন্তর্বর্তী দেশ ব্রহ্মাবর্ত নামে কথিত।
স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর দীর্ঘ বর্ক্তৃতায় বারবার পাঞ্জাবের যশোগাথা বর্ণনা করেছেন। এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে সবটুকু উদ্ধৃত করা সম্ভব নয়—যদিও উদ্ধৃত করাই সঙ্গত। অন্তত স্বামীজিকে যথাযথভাবে অনুধাবন করার প্রয়োজনে। যাই হোক, কিছু কিছু অংশ উদ্ধৃত করেই আপাতত বিন্দুতে সিন্ধুদর্শন করা যাক।
স্বামীজি বললেন, ‘এই সেই বীরভূমি—এত দুঃখ নির্যাতনেও যার গৌরব ও তেজ সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়নি। এখানেই অপেক্ষাকৃত আধুনিককালে দয়াল নানক তাঁর অপূর্ব বিশ্বপ্রেম প্রচার করেন। এখানেই সেই মহাত্মা তাঁর প্রশস্ত হৃদয়ের দ্বার খুলে এবং বাহু প্রসারিত করে সমগ্র জগৎকে—শুধু হিন্দুকে নয়, মুসলমানদের পর্যন্ত আলিঙ্গন করতে ছুটে গিয়েছিলেন। এখানেই আমাদের জাতির শেষ এবং মহামহিমান্বিত বীরদের অন্যতম গুরু গোবিন্দ সিং জন্মগ্রহণ করেন, যিনি ধর্মের জন্য নিজের এবং নিজের প্রাণসম প্রিয়তম আত্মীয়বর্গের রক্ত ঝরিয়েছিলেন….।’
তারপরই স্বামীজি বললেন, ‘হে পঞ্চনদের সন্তানরা এখানে এই আমাদের প্রাচীন দেশে—আমি তোমাদের কাছে আচার্যরূপে উপস্থিত হইনি, কারণ তোমাদের শিক্ষা দেবার মত জ্ঞান আমার অতি অল্পই আছে। দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে আমি পশ্চিমাঞ্চলের ভাইদের সঙ্গে সম্ভাষণ বিনিময় করতে এবং পরস্পরের ভাব মেলাবার জন্য এসেছি। আমি এখানে এসেছি—আমাদের মধ্যে কি বিভিন্নতা আছে, তা’ বার করবার জন্য নয়, এসেছি আমাদের মিলনভূমি কোথায়, সোই খুঁজে বার করতে।’
এই দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি আবার গুরু গোবিন্দ সিং-এর প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বললেন—‘এই মহাত্মা দেশের শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করলেন, হিন্দুধর্ম রক্ষার জন্য নিজের রক্ত ঝরালেন, নিজের পুত্রদের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ বিসর্জন করতে দেখলেন, কিন্তু যাদের জন্য নিজের এবং আত্মীয়-স্বজনদের রক্তপাত করলেন, তাঁরা তাঁকে সাহায্য করা দূরে থাক, তাঁরাই তাঁকে পরিত্যাগ করলেন, এমন কি দেশ থেকে তাড়িয়ে দিলেন। অবশেষে এই আহত কেশরী নিজ কর্মক্ষেত্র থেকে ধীরভাবে দক্ষিণ দেশে গিয়ে মৃত্যুর জন্য প্রতীক্ষা করতে লাগলেন, কিন্তু যাঁরা অকৃতজ্ঞভাবে তাঁকে পরিত্যাগ করলেন, তাঁদের প্রতি এক অভিশাপ বাক্যও তাঁর মুখ থেকে নিঃসৃত হল না।’
স্বামীজি ‘ভারতের ঐতিহাসিক ক্রম বিকাশ’ (বাণী ও রচনা—৫ম খণ্ড) নামে যে প্রবন্ধ লেখেন, তাতেও গুরুনানক এবং গুরু গোবিন্দের কথা পরম শ্রদ্ধায় উচ্চারণ করেছেন। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে গুরুনানকের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বামীজি বলেছেন, ‘রামানন্দ, কবীর, দাদু, শ্রীচৈতন্য বা নানক এবং তাঁদের সম্প্রদায়ভূক্ত সাধুসন্তরা দার্শনিক বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতাবলম্বী হলেও মানুষের সম-অধিকার প্রচারে সকলে একমত ছিলেন। সাধারণের মধ্যে ইসলামের অতিদ্রুত অনুপ্রবেশ রোধ করতেই তাঁদের অধিকাংশ শক্তি ব্যয়িত হয়েছে; কাজেই নূতন আকাঙ্ক্ষা বা আদর্শের উদ্ভাবন তখন তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।’
এই পটভূমিকাকে সামনে রেখেই স্বামীজি ওই প্রবন্ধে বলেছেন, ‘এইকালে উত্তর ভারতে একজন শক্তিমান দিব্য পুরুষের আবির্ভাব হয়েছিল। সৃজনী-প্রতিভাসম্পন্ন শেষ শিখ গুরু—গুরু গোবিন্দ সিং-এর আধ্যাত্মিক কার্যাবলীর ফলেই শিখ সম্প্রদায়ের সর্বজনবিদিত রাজনীতিক সংস্থা গড়ে উঠেছিল। ভারতের ইতিহাসে বরাবর দেখা গিয়েছে, যে কোন আধ্যাত্মিক অভ্যুত্থানের পরে, তারই অনুবর্তিভাবে এক রাষ্ট্রনীতিক ঐক্যবোধ জাগ্রত হয়ে থাকে….।’
স্বামীজির ইতিহাস-চেতনা ছিল প্রখর ও গভীর অনুসন্ধানী—তাই তিনি শিখ-সম্প্রদায়ের এই বিস্ময়কর অভ্যুত্থানের নেপথ্য কারণ অনুশীলন করেছেন বাস্তববাদী ঐতিহাসিকদের দৃষ্টিতে। শিকাগো ধর্ম মহাসম্মেলনে স্বামীজির সাফল্য-সংবাদে আনন্দিত তামিলনাড়ুবাসীরা যে অভিনন্দন জানিয়ে ছিলেন তারই উত্তরে (সেপ্টেম্বর, ১৮৯৪) তিনি ‘হিন্দুধর্মের সার্বভৌমিকতা’ শীর্ষক এক পত্র লেখেন। সেই পত্রে তিনি পবিত্র গ্রন্থসাহিবকে ‘উদাসী ও নির্মলাদিগের’ গ্রন্থ বলে উল্লেখ করেছেন। আদতে নানকের পুত্র শ্রীচাঁদ ‘উদাসী’ নামে এক নানকপন্থী সম্প্রদায় তৈরি করেন এবং গুরু গোবিন্দ ‘নির্মলা’ নামে আরেক নানকপন্থী সম্প্রদায় তৈরি করেন। স্বামীজি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পবিত্র গ্রন্থসাহিবের (সাহিব শব্দের অর্থ মাননীয়) নাম উচ্চারণ করে গুরু নানকের প্রতিই শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।