শিলিগুড়ির হাকিম পাড়ার বলাই দাস চ্যাটার্জী রোডের বাসিন্দা সরোজ পালের ১১ বছরের ছেলে সৈকত পাল। ছোট থেকেই ঠাকুরদা ও বাবার প্রতিমা বানানো দেখতে দেখতে সে হয়ে ওঠে মৃৎশিল্পী। সৈকত শিলিগুড়ি বয়েজ হাই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র সে নিজেই খেলার ছলে তৈরি করে ফেলছে একের পর এক প্রতিমা। শুধু তাই নয় গত বছর কালিপুজোর সময় দুই ফুট কালী প্রতিমা তৈরি করে নজর কেড়ে ফেলেছিল সে। তা আবার হাজার টাকা দামে বিক্রিও হয়েছে। এই বছর গণেশ পুজোর সময় গণেশ প্রতিমা বানিয়েছে সৈকত। ২০০০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে সেই প্রতিমা।
এবার সেই সৈকত ১ ফুটের দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে ফেলেছে। শুধু তাই নয় তাকে সাজানোর জন্য গয়নাও বানাবে সে নিজের হাতেই। যা দেখে তাক লেগে যাবে দর্শনার্থীদের এমনটাই দাবি ছোট্ট সৈকতের। কিন্তু এটা জানা নেই তার বানানো দুর্গা প্রতিমা কোন মন্ডপে যাবে। ছোট্ট সৈকত বলেছে সে স্রেফ খেলার ছলেই একের পর এক প্রতিমা তৈরি করে থাকে। বাবা-ঠাকুরদাকে দেখেই প্রতিমা তৈরিতে আগ্রহ বাড়ে। এমনকি ভবিষ্যতেও এই কাজ করে যেতে চায় সে। শিলিগুড়ি বয়েজ হাই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এই ছাত্র জানাল, এখন স্কুল বন্ধ, তাই মা দুর্গার প্রতিমা বানাচ্ছি। পাশাপাশি ধান, ডাল, চুমকি, মশলা ও অভ্র দিয়ে মায়ের জন্য গয়নাও বানাচ্ছি। এছাড়াও বাবার সাথেও কাজ করছি। মায়ের মুখ বানানো থেকে চক্ষুদান সব করেই প্রতিমা কে নজরকাড়া করে তুলবোই।
সৈকতের ঠাকুরদা মৃৎশিল্পী সাধন পাল বলেন, ওর নিজের থেকেই প্রতিমা বানানোর প্রতি আগ্রহ জন্মেছে। ছোট থেকেই ও কারখানায় এসে আমাদের সাথে কাজ করত। এখন নিজেই প্রতিমা গড়তে পারে। আমাদেরও সাহায্য করে প্রতিমা বানাতে। আগামী প্রজন্মেরও এই কাজের প্রতি আগ্রহ রয়েছে, তা দেখে সত্যি শান্তি পান সৈকতের ঠাকুরদা এবং বাবা। ওনাদের কথায় এই প্রজন্মের বাচ্চারা এইসব কাজ করতেই চায়না। ওকে দেখে যদি আরও অনেকে এগিয়ে আসে তাহলেই এই শিল্প বাঁচবে। নইলে আগামীতে কি হবে তা বলা মুশকিল। সৈকত পড়াশোনার ফাঁকেই এই কাজ করে থাকে।
আকাশে-বাতাসে কান পাতলেই মায়ের আগমনী বার্তা শোনা যাচ্ছে। আর মায়ের আরাধনায় যে আবালবৃদ্ধবণিতা প্রস্তুতি নিচ্ছে তার ছোট্ট উদাহরণ হলো সৈকত। পড়াশোনা সামলেও যেভাবে প্রতিমা গড়ছে সৈকত তাতে সকলেই ওর কাজে মুগ্ধ।