সারা দুনিয়া জুড়ে ভূতেদের মরশুম চলছে।
প্রতিবছর ৩১ অক্টোবর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয় হ্যালোইন বা ‘হ্যালোজ ইভ’। এটি মূলত খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের উৎসব। হ্যালোইন শব্দের অর্থ পবিত্র সন্ধ্যা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ রাতে সমস্ত অতৃপ্ত আত্মারা মর্তে ফিরে আসে তাদের ফেলে আসা গ্রাম, আত্মীয়, পরিজন, পূর্বাশ্রম দেখতে।
হেমন্ত কাল ফসল পাকার সময়। মার্কিন লোককথা অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ রাতে সমস্ত অতৃপ্ত আত্মা ফিরে আসে ধরাধামে। ওই দিন উড়ন্ত ঝাড়ুতে করে সবুজ খরখরে দেহের হ্যালোইন ডাইনি সারা উড়ে বেড়ায় আকাশ জুড়ে। এঁদের সঙ্গে মানুষের দেখা হলে সেই মানুষের ক্ষতি হতে পারে বলে এই রাতে তাঁরা বিভিন্ন রকম ভূতের মুখোশ ও কাপড় পরে কাটান। পাকা ফসলের গন্ধ পেয়ে হানা দিতে পারে এই ভয়ে কৃষকেরা ফসল ঘরে তোলার আগে প্রতিনিধি হিসেবে একটি করে কুমড়ো রেখে আসেন ঘরের বাইরে মৃত পূর্ব পুরুষদের নামে ।

হ্যালুইনে কুমড়োর ব্যবহার করা হয় সাধারণত সেল্টিক কিংবদন্তির উপর ভিত্তি করে অথবা আমেরিকায় প্রচলিত ফ্যান্টাসি অনুযায়ী। ফসল কাটার শেষ দিনে এই উৎসব। আইরিশদের রীতি ছিল শালগম দিয়ে ভুত বানানোর। কারন তারা বিশ্বাস করত শালগমের মধ্যে অশুভ আত্মা দূর করার মত শক্তি আছে। কিন্তু মার্কিন দেশে তা দুষ্প্রাপ্য। অথচ কুমড়ো খুব সহজেই বেড়ে ওঠে ও আয়তনেও অনেক বড়ো, গোলাকার, শরতের সঙ্গে সম্পর্কিত। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটোনার মতোই, উৎসবে কুমড়ো খোদাই করার রীতি চলতে থাকে। ধীরে ধীরে কুমড়ো সমৃদ্ধি, বৃদ্ধি এবং প্রাচুর্যের প্রতীক হয়ে ওঠে।
তবে পশ্চিমি কায়দার ভূত চতুর্দশী উদযাপনে বাঙালি ও পিছিয়ে নেই। অদ্ভুত সব কস্টিউমে সেজে এমনভাবে দাপাদাপি করছে, দেখলে মনে হবে জোৎস্নালোকে নৃত্যরত ‘পান্ত ভুতের জ্যান্ত ছানা’র দল। শুধু সাজুগুজু নয়, বাবা ভূত, ছানা ভূত, মামদো, স্কন্দকাটা, শাকচুন্নি, ব্রহ্মদৈত্যি, মেছো ইত্যাদি কিম্ভূত ভূতেদের আড্ডায় রীতিমতো কব্জি ডুবিয়ে মজেছে বাঙালি। বাঙালির লুচি-মাংসের তালিকায় যোগ হয়েছে কুমড়ো-টম্যাটোর সুপ, কুমড়োর পাই, বাদুরে কেক পপস… ইত্যাদি। মোদ্দা কথা, পরিচিত পদগুলিকে কিম্ভূত নাম আর অদ্ভুত দেখতে বানালেই তৈরি হবে ভৌতিক, গা ছমছমে পরিবেশ।
হ্যালোইন উদযাপনে যোগ দিল নাসাও। গতবছর হাবল স্পেস টেলিস্কোপে উঁকিদিলে দেখা যায় দৈত্যকার কুমড়ো। দুটি জ্বলন্ত চোখ এবং একটি আঁকাবাঁকা হাসির মতো দেখতে যা, তা দুটি ছায়াপথের মধ্যে সংঘর্ষের প্রাথমিক পর্যায়ের একটি স্ন্যাপশট। পুরো দৃশ্যটি প্রায় ১০৯,০০০ আলোকবর্ষ জুড়ে। জ্বলন্ত চোখ হল একজোড়া সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের চারপাশে তারার ঘনত্ব। নীল ফোরগ্রাউন্ড তারার বিক্ষিপ্ততায় ‘কুমড়ো’ কে এমন দেখাচ্ছে যেন এটি একটি হ্যালোইন পার্টির জন্য উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। শুধু কুমড়ো নয়, মহাকাশে বিশালাকার বাদুড় এবং ক্যান্ডি বা লজেন্স-ও খুঁজে পেয়েছে নাসা। বলাই বাহুল্য, বিশাল কুমড়োটির মতোই সেগুলিও বিভিন্ন মহাজগতিক বস্তুর সমন্বয়।
বর্তমানে ইউনিসেফেও ঘটা করে পালন করে হ্যালোইন। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে , ছোটদের বিভিন্ন কস্টিউমে সাজিয়ে ‘ট্রিক এন্ড ট্রিট’ খেলার মধ্যে দিয়ে সংগ্রহ করে ফান্ড। যা অসহায় শিশুদের জন্য ব্যবহার করা হয়।

এই উৎসব ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে পশ্চিমের দেশগুলোতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হচ্ছে। অধুনা এদেশেও এর বিস্তৃতি লাভ হয়েছে। শুধু বিশ্ব জুড়ে বাণিজ্য নয়, রয়েছে শিশু-কিশোরদের নিষ্পাপ আনন্দ।
এই আটপৌরের কী কেবল বিদেশেই কদর? বাঙালির হেঁসেলে উঁকি মারলেই দেখা যাবে এনাকে ছক্কা মারতে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহে ভরা কুমড়ায় মূলত বিটা ক্যারোটিন থাকে। দীর্ঘকালীন জ্বরেও কুমড়ো কার্যকর।. বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে কুমড়ো হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী। এটি কোলেস্টেরল হ্রাস করে, শীতল এবং মূত্রবর্ধক। কুমড়ো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং অগ্ন্যাশয়কে সক্রিয় করে। এ কারণেই ডাক্তাররা ডায়াবেটিস রোগীদের কুমড়ো খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
পাঁজিতে বলে বিশেষ দিনে কুষ্মাণ্ড ভক্ষণ নিষেধ, আবার ‘অকালকুষ্মাণ্ড’ বললে তা গালিগালাজ বলে ধরা হয়। ‘কুমড়োপটাশ’ বললে যতই রাগ হোক না কেন, হ্যালোউইনের জন্য আটপৌরে কুমড়ো নিয়ে আদিখ্যেতা মার্কিন দেশ থেকে বঙ্গ অবধি। তা সে ভূত-প্রেত-দত্যি-দানব সাজের জন্যই হোক বা ঘর সাজানো বা খাওয়ার জন্যই হোক পাম্পকিন মাস্ট। ভালোবাসার সুর গুনগুনিয়ে ওঠে, ‘You Are My Pumpkin Pumpkin/Hello Honey Bunny’.
Khub bhalo onek kichu jante parlam. Thanks
Baah apner lekhai onek kicchu jante pari
Very informative….
অসাধারণ একটা ইতিহাস জানলাম দিদি।। ধন্যবাদ আপনাকে।।
Just অসাধারণ????????????