১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ মুক্ত হয়ে ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকার জন্ম। মার্কিন কংগ্রেস ২ জুলাই এই সিদ্ধান্তটি নিলেও তা ঘোষিত হয় ৪ জুলাই।
স্বাধীনতার জন্য পিটিশনটি মূলত টমাস জেফারসন দ্বারা খসড়া করা হয়েছিল যিনি জন অ্যাডামস এবং বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন-সহ অন্যান্য সহ-কমিটির সদস্যদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। দুই দিন পরে, রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৩ টি উপনিবেশ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
জন অ্যাডামস বিশ্বাস করতেন যে ২ জুলাই ছিল সঠিক তারিখ যেটিতে আমেরিকান স্বাধীনতার জন্ম উদযাপন করা হবে। কাকতালীয় ভাবে, অ্যাডামস এবং থমাস জেফারসন উভয়েই ৪ জুলাই, ১৮২৬-এ মারা যান স্বাধীনতার ঘোষণা গ্রহণের ৫০তম বার্ষিকীতে।
এইদিন আমেরিকার আকাশ-বাতাস মুখরিত হয় স্বাধীনতা উৎসবের আমেজে। পরনের জামা থেকে শুরু করে জুতো, টাওয়েল, টেবিলক্লথ, কেক, কুকিজ, রঙিন পানীয়, নেলপালিশ-এ চলে লাল, নীল আর সাদা এই তিন রঙের নীরব জয়ধ্বনি। আমেরিকান নাগরিকরা আমেরিকার জন্মদিন উৎসব পালন করে প্যারেড, আতশবাজি, বারবিকিউ, বেসবল, স্পার্কলার, কার্নিভাল, পিকনিক এবং অন্যান্য উৎসবের মধ্যে দিয়ে। প্রবাসীরাও সামিল হন এই উৎসবের আমেজে।
বাড়ীর সকলের আঙিনায় উত্তোলন হয় জাতীয় পতাকা। পতাকার মধ্যে ১৩টি স্ট্রাইপ আছে যা শুরুর ১৩টি উপনিবেশ (নিউ হ্যাম্পশায়ার, ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, রোড আইল্যান্ড, ডেলাওয়্যার, নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, উত্তর ক্যারোলিনা, দক্ষিণ ক্যারোলিনা এবং জর্জিয়া) এবং ৫০টি স্টার আছে যা যুক্তরাষ্ট্রের সব কটি রাজ্যকে প্রতিনিধিত্ব করে। পতাকার তিন রঙের তাৎপর্য হলো, লাল রং দৃঢ়তা ও বীরত্বের প্রতীক, সাদা পবিত্রতা ও বিশুদ্ধতা এবং নীল ন্যায়বিচার ও সতর্কতা সংকেত করে।
আজ মার্কিন মুলুকে গ্রীষ্মের প্রথম লং উইকেন্ড। সুদীর্ঘ শীতের হাইবারনেশনের পর সামারের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছুটির দিন। সারা দেশজুড়ে পালন করা হয় আঙ্কেল স্যামের জন্মদিন। আপামর আমেরিকাবাসীর পরম আত্মীয়। কিন্তু কে এই আঙ্কেল স্যাম?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ডাকনাম হলো আঙ্কেল স্যাম। আঙ্কেল স্যাম বা US আসলে যুক্তরাষ্ট্রের নামের দুটি আদ্যক্ষর। নামের প্রকৃত উৎস একটি কাহিনী থেকে এসেছে।
স্যামুয়েল উইলসন নিউ ইয়র্কের এক মাংস বিক্রেতার নাম। যিনি ১৮১২ সালের যুদ্ধের সময় (১৭৬৬-১৮৫৪) সেনাবাহিনীকে মাংস সরবরাহ করেছিলেন, তিনি মহান ন্যায্যতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং সততার একজন মানুষ ছিলেন যিনি তার দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। শোনা যায়, মাত্র ১৫ বছর বয়সে নির্ভীক এই মানুষটি আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন।
যুদ্ধের সময় তার ভাই ইবেনারজরের সঙ্গে মাংস প্যাকিংয়ের ব্যবসা শুরু করেন। নাম দেন E &S wilson, a meat packing facility. স্থানীয় অধিবাসীরা তাকে ভালোবেসে আঙ্কেল স্যাম বলে ডাকতে লাগল। যুদ্ধের সময় সৈন্যদের জন্য মাংসের প্যাকেটগুলো ‘E.A.-US’ লেবেল যুক্ত করে পাঠানো হতো। প্রথম কন্ট্রাক্ট এর হিসেবে এলবার্ট এন্ডারসন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অক্ষর ব্যবহার করা হতো ‘E.A.-US’
সহকর্মীরা মজা করে বলতো, যেহেতু এই প্যাকেটগুলো স্যামুয়েল উইলসন সরবরাহ করেছে, সেই জন্য US মানেই আঙ্কেল স্যাম। স্থানীয় সংবাদপত্র এই কাহিনী তুলে ধরে ও ব্যাপক প্রচার পায়। আঙ্কেল স্যাম নামটি ক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের ডাকনাম হিসেবে জনগণের কাছে স্বীকৃতি লাভ করে।
১৮১৩ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর মার্কিন কংগ্রেস একটি রেজোলিউশন পাস করে আনুষ্ঠানিকভাবে মাংস প্যাকার স্যামুয়েল উইলসন কে আঙ্কেল স্যামের নাম হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। এবং ওই একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র তার ডাকনাম আঙ্কেল স্যাম পায়।
জেমস মন্টগোমারি ফ্ল্যাগ আঙ্কেল স্যামের আইকনিক চিত্র তৈরি করেছিলেন। ফ্ল্যাগ, একজন চিত্রশিল্পী এবং তিনি তার বাণিজ্যিক শিল্পের জন্য সর্বাধিক পরিচিত।
সাদা জামার উপর নীল কোর্ট, স্টার দেওয়া লম্বা টুপি, লাল বো টাই পরিহিত সরাসরি অঙ্গুলি নির্দেশ করে আছে। এই ছবিটি মার্কিনীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় দেশ প্রেমের প্রতীক চিন্হ।
দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়, জার্মান গোয়েন্দা সংস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে “স্যামল্যান্ড” নাম দিয়েছিলেন।
স্যামুয়েল উইলসনের জীবন কথা স্মরণ করে জন্মস্থান আলিংটন, ম্যাসাচুসেটস এবং নিউইয়র্ক, ট্রয়ের রিফ্রন্ট পার্কের বাড়ির কাছে আঙ্কেল স্যামের স্মারক মূর্তি এখনও বহু পর্যটকের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণের কেন্দ্র।
স্বাধীনতার ঘোষণা সাম্য ও স্বাধীনতাকে তুলে ধরে। আমেরিকাবাসী বিশ্বাস করে, যে সমস্ত মানুষকে স্রষ্টা সমানভাবে সৃষ্টি করেছেন। তারা তাদের স্রষ্টার দ্বারা নির্দিষ্ট কিছু অপ্রত্যাশিত অধিকার পেয়েছেন, যেগুলির মধ্যে রয়েছে জীবন, স্বাধীনতা এবং সুখের সাধনা।
Source : Adapted from various journal’s and articles.
Fantastic
Darun to!
সুন্দর লেখা। অনেক নতুন তথ্য জানতে পারলাম।