থাকতাম জলপাইগুড়িতে। বয়ঃসন্ধিকালে এক বিয়ে উপলক্ষে কলকাতায় এসে যদুবাবুর বাজারের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের বুক স্টলে একটি পত্রিকা দেখেছিলাম- ‘রমাপদ চৌধুরীর পত্রিকা’। অভিনব শিরোনামের জন্য মনে আছে নামটি। আর-একবার কলকাতায় এসে এসপ্লানেডের মাঝখানে সাজানো পত্রিকাগুলি থেকে ‘চতুরঙ্গ’ তুলে দেখি তাতে একটা বড় গল্পের নাম ‘তিন তারা’, লেখক রমাপদ চৌধুরী। তারপরে জলপাইগুড়ির একটি বই-দোকানে দেখি ‘দরবারী’, দোকানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিছুটা পড়ে শেষে কিনেই ফেললাম। আমাদের প্রথম যৌবনে তিনজন লেখকের তিনটি বালককে নিয়ে লেখা তিনটি বই খুব সাড়া ফেলেছিল- সন্তোষকুমার ঘোষের ‘নানা রঙের দিন’, ননী ভৌমিকের ‘ধুলোমাটি’ আর রমাপদ চৌধুরীর ‘প্রথম প্রহর’। চরিত্র-বিচার-বিশ্লেষণের জন্য তত নয়, যতটা গল্পের বুননের বা গঠন-কৌশলের জন্য। প্রাঞ্জল ভাষায় সাবলীলভাবে গল্প বলে যাওয়ার বৈশিষ্ট্যে মুগ্ধ করেছিল ‘প্রথম প্রহর’।
এইসব পুরনো কথা মনে পড়ল রমাপদ চৌধুরীর সদ্যপ্রকাশিত ‘হারানো খাতা’ বইটি হাতে পেয়ে। ‘হারানো খাতা’ উপন্যাস নয়, কিন্তু ‘এখনই’, ‘এই পৃথিবী পান্থনিবাস’, ‘জনৈক নায়কের জন্মান্তর’, ‘বনপলাশির পদাবলী’, ‘খারিজ’ প্রভৃতি রমাপদ চৌধুরীর অন্যান্য গল্প-উপন্যাসের মতোই পাঠককে পাতার পর পাতা টেনে নিয়ে যাওয়ার প্রচণ্ড আকর্ষণী শক্তি তার। ‘হারানো খাতা’ আসলে একটি শহরের হারানো সময় ও সমাজের চিত্রাবলির এক অনবদ্য অ্যালবাম। শহরটার নাম খড়্গপুর। খড়গপুর নামে দক্ষিণ-পূর্ব রেললাইনে একটা শহর এখনও আছে। কিন্তু ‘হারানো খাতা’র খড়্গপুর আর এখনকার খড়গপুরের মধ্যে শুধু বানানের নয়, জীবনেরও আকাশ-পাতাল পার্থক্য, বরং মধ্যে মধ্যে ‘প্রথম প্রহর’-এর নায়ক তিমুর যাপিত রেলশহর খড়্গপুরের সঙ্গে সাদৃশ্যের ঝলক দেখা যায় ‘হারানো খাতা’র খড়্গপুরে। এ সেই সময়কার সেই শহরের কথা, যখন খড়্গপুরের পাশ দিয়ে বয়ে-যাওয়া কাঁসাই নদীর ওপারে মেদিনীপুর জেলা শহরে পরপর তিনজন ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট স্বাধীনতা সংগ্রামীদের হাতে নিহত হন। তখনকার খড়্গপুর শহরের সমাজ কেমন ছিল? রমাপদ লিখেছেন, ‘খড়্গপুর ছিল সারা ভারতের একটা ছোটখাটো প্রতীক।’ বাংলার অন্তর্গত হলেও বাঙালির সংখ্যা ছিল নগণ্য। ‘উচ্চপদে প্রায় সকলেই সরাসরি বিলেত থেকে পাঠানো খাস সাদা চামড়া, আর তাদের গা ঘেঁষাঘেষি করে বেশ কিছু অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান… সব সময়ই তাদের মুখে ইংরেজি বুলি …কিন্তু তেমন শিক্ষিত নয় বলে ওদের দৌড় ওই ট্রেনের গার্ড হওয়া অবধি। ওদের মেয়েরা যতই মেমসাহেব সাজুক, চাকরি সেই টাইপিস্ট, স্টেনো, নার্স, টেলিফোন অপারেটর।’
ঊনবিংশ শতাব্দর দ্বিতীয়ার্ধে খড়্গপুর শহরটা গড়ে ওঠে রেলশহর হিসেবে। রেলশহরের দু’টি অঙ্গ- একটি ব্রিটিশ ভারতের অপর দুই প্রধান শহর মাদ্রাজ ও বোম্বাইয়ের দিকে রেলযাত্রার জন্য জংশন স্টেশন নির্মাণ এবং অন্যটি স্টেশনের গায়ে দেওয়াল-ঘেরা কারখানা স্থাপন, যেখানে বিলেতে তৈরি ইঞ্জিন ও বগির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হত। কারখানায় যারা কাজ করত ‘তারা বেশির ভাগই বিহারি, বিলাসপুরি, উত্তরপ্রদেশী, পঞ্জাবি। মাথায় পাখা ঘোরা চেয়ার টেবিলের কাজে গুজরাতি, মরাঠি, কাশ্মীরি ও বোম্বাইওয়ালা পারসি। আর মধ্যম স্তরে অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান। এর সর্বত্র মাথায় বসা ব্যক্তিটি ইংরেজ।’ শহরটার মাঝখান দিয়ে গেছে পুবে-পশ্চিমে টানা রেললাইনের গোছা। তার দক্ষিণের অংশ ছিল সাহেবপাড়া, ভারতীয়দের অংশের নাম ছিল গোলবাজার, কারণ এই অংশে ছিল শহরের বাজার আর সেটা ছিল বৃত্তাকার। ‘সে যুগের মানুষ দস্তুরমতো সাহেবদের উচ্চ বংশোদ্ভূত জীব বলে মনে করত। …কিন্তু মজার ব্যাপার হল, রাজার জাতের এই সাহেবসুবোদের মনে করা হত অস্পৃশ্য।’ একবার লেখকের অসুস্থ বাবাকে দেখতে বাড়িতে সাহেব ডাক্তার এলে তাঁকে খাতির করে যে-চেয়ার দেওয়া হয়েছিল, সেটা তিনি চলে যাওয়ার পরেই বাড়ির বাইরে নিয়ে গিয়ে ‘রীতিমতো গঙ্গাস্নান করিয়ে শুদ্ধ করে এনে’ ঘরে তোলা হয়। সেকালের হিন্দু সংস্কার সম্বন্ধে লেখকের আর-একটি স্মৃতি হল, রবীন্দ্রনাথের কথা বলতে গিয়ে এক পৈতেধারী ব্রাহ্মণের তাচ্ছিল্যের সঙ্গে ‘ওরা তো পিরালি’ বলা। এর পরেই লিখেছেন ‘রেলওয়ের পত্তনকে অনেকে শিল্পবিপ্লব বলেছেন, কেউ বা বলেছেন শ্রমিক বিপ্লব। কিন্তু প্রকৃত বিপ্লব কারও চোখে পড়েনি। সেই পৈতে পরা বামুনটিকে থার্ড ক্লাস ট্রেনের কামরায় কুলি-কামিন, এমনকী মেথরপাড়ার লোকদের সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেষি করে তীর্থযাত্রা করতে হয়েছে।’ এই সমাজবিপ্লবটাই প্রকৃত বিপ্লব। এর একটা অন্য দিকও আছে। সেটা হল আদিবাস বা গ্রাম ভাঙার কাহিনি। একদিকে যেমন ভারত জুড়ে রেললাইন ছড়িয়েছে, গেঁথে তুলেছে এক ভারতের ধারণা, তেমনই তার নিচে চাপা পড়ে গেছে কত লক্ষ গ্রামীণ মানুষ। ‘সারা ভারতে রেল যাদের উচ্ছেদ করেছে তাদের কোনও হিসেবই আমাদের কাছে নেই। …তা আমরা কেউ জানি না। জানতে চাই না।’
এইভাবে প্রথমে কোনখানে কোন সমাজে কোন পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের ধারা বইতে আর চেতনা ও বোধ গড়ে উঠতে শুরু করে, তার কথা বলে কীভাবে বর্ধমানের এক কৃষিজীবী গ্রাম থেকে এই রেলশহরে তাঁরা এলেন, সেই বর্ণনায় এসেছেন রমাপদ। খড়্গপুর রেলওয়ে ইংলিশ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের চাকরি নিয়ে আসেন তাঁর মাতামহ। সেকালে ‘চাকরি হয়ে দাঁড়িয়েছিল লোকসমাজে একমাত্র মর্যাদার আসন।’ ধনী বণিকরা ছিল তাচ্ছিল্যর আর ভূমিপতিরা ছিল ঈর্ষার পাত্র। ‘যাঁরা মনে করেন একালেই চাকরি অতি দুষ্প্রাপ্য বস্তু তাঁদের কোনও ধারণাই নেই যে, আগে চাকরি আরও দুষ্প্রাপ্য ছিল।’ লেখকের মাতামহকে তাঁর ছাত্ররা কোন চোখে দেখত তা জানা যায় একটি ঘটনা থেকে- অবসর গ্রহণের পরে মাতামহ কাশীবাসী হন, দশ বছর বাদে তাঁর মৃত্যু হলে তাঁর ছাত্ররা তাঁর ছবি সমেত খবরটি খরচ করে বিখ্যাত ইংরেজি দৈনিক পত্রিকাতে ছাপে এবং তাঁর একটি আবক্ষ মর্মরমূর্তি স্কুল প্রাঙ্গণে সভা ডেকে প্রতিষ্ঠা করে। রমাপদর পিতা বিজ্ঞান নিয়ে এম এসসি পাশ করেছিলেন। বড় চাকরিও পেয়েছিলেন দেরাদুনে। কিন্তু শ্বশুরমশায় অত দূরে জামাইকে যেতে দেননি, হয়তো তিনিই রেল কোম্পানিতে জামাইয়ের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, এর পেছনে পিতামহেরও হাত থাকা সম্ভব। রেলে বড় চাকরি সত্ত্বেও ক্ষোভ ছিল পিতার, তাঁর ‘প্রকৃত ইচ্ছা ছিল গবেষণা করা, আর তা একদিন দুর্বল মুহূর্তে বলে ফেলেছিলেন।’
আবার রমাপদ নিজেও এক জায়গায় লিখেছেন, ‘আমাদের প্রধান আকর্ষণ ছিল ওই সাহেবপাড়া। এখন মনে হয় অ্যাংলো ইন্ডিয়ান জীবন নিয়ে আমার একখানা উপন্যাস লেখা উচিত ছিল।’ অবশ্য ‘হারানো খাতা’তে পলা নামের একটি অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান মেয়ের কথা আছে, যার প্রসঙ্গে মা বলেছিলেন, ‘ওদের সঙ্গে মেলামেশা করিস না’, আর স্কুলের বন্ধুরা বলেছিল, ‘মেয়েটির সঙ্গে আলাপ করিয়ে দে।’ মায়ের কথাই শুনেছেন লেখক, কিন্তু এত বছর পরেও মেয়েটিকে ভোলেননি। ‘হারানো খাতা’র একটা বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে লেখক তাঁর ছোটবেলার চারপাশের জগতের মানুষদের কথা মনে রেখেছেন, সবার কথা লিখেছেন দরদি হৃদয়ের সঙ্গে, এমনকী যাদের কথা কারও স্মৃতিকথায় পড়িনি, সেই মেথরদের কথাও। মেথরদের নিয়ে সত্যেন দত্ত লিখেছেন, কিন্তু তার প্রভাব সমাজে পড়েনি, গাঁধীজির সমাধান ছিল নিজের পায়খানা নিজে সাফ করো। এই প্রসঙ্গে লেখকের পর্যবেক্ষণ- পুরুষানুক্রমে যারা মেথরের বৃত্তিতে নিযুক্ত, ‘তাদেরই অস্পৃশ্য অশুচি বলার মধ্যে যে কতখানি বর্বরতা এবং নীচতা লুকিয়ে আছে, সে বিষয়ে মহা মহা সাম্যবাদীরাও সচেতন নন।’ সুযোগ পেলে মেথরের সন্তান কোথায় পৌঁছতে পারে তার দৃষ্টান্ত রামদুলাল। পিতৃমাতৃহীন রামদুলাল মার্টিন সাহেবের দৌলতে হাসপাতালের কম্পাউন্ডার হয়, দক্ষ হয়ে ওঠে ছোটখাটো কাটাকুটিতে। তার জাত নিয়ে কারও মাথাব্যথা ছিল না।
খড়্গপুরের প্রত্যেক সম্প্রদায় ও ভাষার এক-একটি পাড়া ছিল। সব জাতেরই ছিল নিজেদের ধর্মস্থান, ছিল না শুধু বাঙালিদের। শেষে একজন সত্ শ্রদ্ধেয় রেলওয়ে কর্মচারীর উদ্যোগে একটি দুর্গামন্দির নির্মিত হয়। মন্দিরটির গড়ন হিন্দু মন্দিরের মতো নয়, তার স্থাপত্য মডার্ন। পুজোর অঞ্জলির মন্ত্র বলার সময় ব্রাহ্মণ অব্রাহ্মণ ভেদ করা হবে কি না এই নিয়ে বিতর্ক বেধে গেল। তার পরিণামে শুরু হয়ে গেল আর-একটি দুর্গা পুজো। দুই দুর্গাপ্রতিমার বিসর্জনের মিছিল নিয়ে আর-এক দফা বিবাদ। সে-বিবাদ হয়ে উঠল এক অত্যন্ত জঘন্য ব্যাপার। এই ঘটনা থেকে রমাপদর নিরীশ্বরবাদী হয়ে ওঠার শুরু বলে মনে হয়। তিনি বুঝলেন, ‘পুজো ব্যাপারটা এক ধরনের কমপিটিশন, ইজ্জতের লড়াই। বাঙালির মনে ভক্তি নেই, যা আছে তা শুধু দম্ভ।’ বাঙালি জাতি সম্পর্কে লেখকের এই পর্যবেক্ষণটিও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। একালের বাঙালি জেনে মজা পাবে, সেকালে হিন্দু বাঙালি ঘরে মুরগি ছিল কড়া-বারণ। রেলওয়েতে চাকরির বড় লাভ রেলওয়ের খরচে বছরে একবার ভ্রমণ। এই সুবাদে রমাপদও ছেলেবেলায় নানা স্থানে ভ্রমণ করেছেন। কিন্তু বিশদভাবে বলেছেন একটি ভ্রমণের কথা। সেটি হল, পূর্বপুরুষদের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার অন্তর্গত একটি গ্রাম। বর্ধমানের প্রসঙ্গে এসে গেছে বর্ধমানের পুরনো গৌরবকথা এবং তার পরে গ্রামের কথা। এই গ্রামটি ও তার আশপাশের কয়েকটি গ্রামকে মনে মনে জুড়ে পরবর্তীকালে রমাপদ ‘বনপলাশির পদাবলী’ উপন্যাসের বনপলাশি গ্রামটা গড়ে তুলেছিলেন, এই গ্রামে ছোটবেলার বহু অভিজ্ঞতাই উপন্যাসটিকে উপকরণ জুগিয়েছে। এই গ্রামে এসে রমাপদর মনে হয়, ‘এতকাল শিকড়হীন ছিলাম। এতদিনে শিকড় খুঁজে পাচ্ছি। …আমার মনে হয়, ভারতে এটাই বোধহয় সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রত্যেকটি মানুষের কোথাও একটা শিকড় আছে।’ যেভাবে শিকড় খুঁজে পেয়েছেন সেভাবেই তিনি মানুষ দেখার চোখ খুলে রেখে খুঁজে পেয়েছেন তাঁর অনেক বিখ্যাত গল্প-উপন্যাসের বহু কুশীলব। এই খোঁজাখুজির ভেতরেই অনিবার্যভাবে খুঁজে পেয়েছেন নিজের মধ্যে নারীদেহের প্রতি আকর্ষণ, এবং এই বোধ তথা ‘ভালোলাগার অনুভূতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপেক্ষিক। সব জিনিসেরই সুন্দর হয়ে ওঠার ক্ষেত্র আছে।’
তখন ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা ছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায়, আর অনেক স্কুলেরই পরীক্ষা হত কলকাতায়, তাই সে সব স্কুলের ব্যবস্থাতেই পরীক্ষার্থীরা দল বেঁধে কলকাতায় এসে নির্ধারিত পরীক্ষাকেন্দ্রের কাছাকাছি হোটেলে থাকত। রমাপদ সেবার কলকাতায় এসে কলেজ স্কোয়ারের দোকানগুলোর সাইনবোর্ড-এ ‘ইস্টবেঙ্গল’ শব্দটার ছড়াছড়ি দেখে বুঝলেন, দুই বাংলা আছে, ‘মানুষের মনের মধ্যেই এই পার্থক্য রয়ে গেছে।’ প্রত্যাশামতো ম্যাট্রিকুলেশনে ভাল ফল করে প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলেজের হিন্দু হস্টেলে প্রবেশ। ‘ইডেন হিন্দু হস্টেলের দিনগুলিকে সবচেয়ে আনন্দের দিন বলে মনে হয় আজও।’ এই হস্টেলের উজ্জ্বল দিকগুলির কথা অনেকে লিখলেও চাপা পড়ে গেছে অনেক গ্লানির কথা। এই প্রসঙ্গে রমাপদর মনে হয়েছে, ‘হিন্দু জাতটাকে সবাই এক জাত ভাবার চেষ্টা করুন না কেন, প্রকৃতপক্ষে হিন্দু তো কোনওদিন এক জাত ছিল না।’ জাতপাতের বিচার হিন্দু হস্টেলে অত্যন্ত জঘন্য রূপ নিয়েছিল মেঘনাদ সাহার বেলায়। তাঁর প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে যাঁরা হস্টেল ছেড়ে বাইরের মেসবাড়িতে চলে যান, তাঁদের অনেকেই পরে বিশ্বে দেশের সম্মান বাড়িয়েছেন। ‘এই ছিল আমাদের সমাজ। খুব কি বদলেছে আজ?’
‘হারানো খাতা’ আসলে কোনও আত্মকাহিনি নয়, যে-পটভূমিতে ও পরিবেশে, যে-যে প্রভাবে ও প্রক্রিয়াতে, যেসব ঘটনার ও বীক্ষণের পুষ্টিকরণের ফলে এক বালক নাবালক থেকে ক্রমশ বিচারশীল স্বাধীনচেতা সাবালক হয়ে উঠেছে, এটি তারই চিন্তা-উদ্দীপক ও প্রসাদগুণে ঋদ্ধ বৃত্তান্ত। প্রকৃতপক্ষে ‘হারানো খাতা’ এক অমূল্য মানবিক দলিল, যাকে হারিয়ে যেতে দিলে অপরাধ হবে।