না এটা কোনও রাজনৈতিক দলের প্রচারের দেয়াল লিখন নয়। হয়তো কোনও এক রাজনৈতিক দলের মতাবলম্বী যুবক-যুবতীরা এই দেয়াল লিখছেন। ঠিক কথা, কিন্তু কাদের উদ্দেশ্যে? দু-মাসের ওপর লকডাউন শেষ হয়ে এখন তিনে পা বাড়িয়েছে। লোকে বলছে এটা অনলক-১ লকডাউন। এই দু-মাসে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যারা আমাদের দিন রাত এক করে সহায়তা দিয়েছেন সেই সব ডাক্তার, নার্স সর্বক্ষেত্রের সেবাব্রতীদের উদ্দেশ্যে এই দেয়াল লিখন।

ব্যাপারটা এরকম, দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে লিখি কথা, আমি যে বেকার পেয়েছি লেখার স্বাধীনতা। এখন অরন্য সুন্দরী ঝাড়গ্রাম শহর জুড়ে বা বলা ভালো শহর এবং শহরতলী জুড়ে চারিদিকে বড়ো বড়ো দেওয়ালে ছেয়ে গেছে এই সব দেওয়াল লিখন। প্রত্যেকটা পোস্টারেরই মূল বক্তব্য কোডিভ-১৯ যোদ্ধাদের কুর্ণিশ জানাই।

যোদ্ধাদের মনোবল বাড়ানোর এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে শহর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কর্মীরা। ঝাড়গ্রাম শহর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি তরুন তুর্কি অজিত মাহাতর এক অনন্য উদ্যোগে সমস্ত ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ প্রশাসন, সাধারণ প্রশাসন ও সাফাই কর্মীদের তথা কোভিড-১৯-এর সাথে যুক্ত সমস্ত যোদ্ধাদের কুর্ণিশ জানিয়ে শহরের দেওয়ালে দেওয়ালে জ্বলজ্বল করে ফুটে উঠল এক অভিনব কায়দায় ওয়ারিয়ার্স বার্তা। তাদের একটাই আর্জি, আসুন আমরা সবাই মিলে এইভাবে ওদের পাশে দাঁড়াই। এইভাবে ওদের মনোবলকে চাঙ্গা করে তুলি।

শহর সভাপতি অজিত মাহাতর কথায়, এই সকল বীর যোদ্ধাদের জন্য আজ আমরা সুরক্ষিত। ওদের নিরলস প্রয়াস ও আত্মত্যাগের জন্য যদি আমরা ওদের পাশে একটু থাকতে পারি তাহলে নিজেদেরকে ধন্য মনে করব। যার ফলস্বরূপ আমরা ওয়ার্ড, শহর, জেলার সাথে সমগ্র বাংলাকে করোনা মুক্ত করতে সচেষ্ট হব। করোনা মোকাবিলায় সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তাকে সঠিক রূপ দিতে তাই আমরা সবাই মিলে এখন রাজনীতি ভুলে গিয়ে রাজ্যবাসীর পাশে থাকতে বদ্ধ পরিকর।
ছবি ও সংবাদ : সুদীপ্ত চক্রবর্তী
