পুরুলিয়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা বরাবাজার। এলাকাটি শবর জনজাতি অধ্যুষিত। শাল, পলাশ, মহুয়াতে ভরা জঙ্গলময় মানভূমের বনভূমি আর বন্যপ্রাণীর দোসর হয়ে যে মানবগোষ্ঠী এখনো আছে তারাই শবরগোষ্ঠীর মানুষ। যারা আজও নিকটতম প্রতিবেশী বনজঙ্গল আর বন্যপ্রাণীর সঙ্গছাড়া হয়নি, বনভূমির মায়া কাটাতে পারেনি। এদের কেউ বলে শবর, আবার কেউ বলে খেড়িয়া।
শবর জনজাতির জীবনবৃত্তি ও কর্ম পদ্ধতির মধ্যে এখনও এক ধরণের আদিম সরলতা রয়ে গিয়েছে। প্রাণশক্তিতে ঠাসা এই মানুষগুলির মন আজও শহর সভ্যতা গ্রাস করে ফেলেনি। তাই ওদের জীবন অভ্যাসে বিলাসিতার কোনও চিহ্ন নেই, লোভ নেই বৈষয়িক বিষয়ে। কিন্তু জীবন বলতে কি শুধু বেঁচেবর্তে থাকা? তবু শহুরে কোলাহল মুক্ত পরিবেশে ওরা স্থিত হয়ে নিজের স্বভাবে সন্তুষ্ট।

এই শবর শিশুদের জন্য বরাবাজার থানার পুলিশ কর্মীরা ১০ টি স্কুল চালান। এই ১০টি শবর স্কুলের একটি হল বাগালবাঁধ গ্রামে। কার্যত এই স্কুলটি থেকেই শবর শিশুদের জন্য স্কুল পরিচালনার শুরু বরাবাজার থানার। স্কুল পড়ুয়ারা প্রায় সকলেই প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া। বেশ কিছু কাল ধরে বরাবাজার থানার পুলিশ কর্মীরাই তাদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে একটু ভালো থাকার যাবতীয় দায়িত্ব থানার পালন করেন।
পেশাসূত্রে সৌগত ঘোষ বহুদিন শহর কলকাতার বিভিন্ন থানার দায়িত্বে ছিলেন। এরপর চাকরিসূত্রে বদলি হয়ে আসেন পুরুলিয়া জেলার বরাবাজার থানায় আইসি-র দায়িত্বে। এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে থানার জনসংযোগ বাড়াতে শবর শিশুদের জন্য স্কুল পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বলা যেতে পারে জনসংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সেটাই ছিল উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এলাকাবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ ও সুদৃঢ় করার আরেকটি পদক্ষেপ হল এলাকার আরও কচিকাঁচাদের সঙ্গে নিয়ে তাদেরই উদ্যোগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত হওয়া। যে কাজটি করে আসছে ‘হাসির পৃথিবী’ নামের একটি দল।

সেই দলের প্রত্যেকেই ওই এলাকারই ছেলেমেয়ে আর যাদের বয়স ২০-২২ এর কোঠায়। ওরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে বেশ কিছু সামাজিক কাজকর্ম করে। অতি সম্প্রতি ছিল ‘হাসির পৃথিবী’-র জন্মদিন। বাগালবাঁধ শবর পাড়াতেই ‘হাসির পৃথিবী’-র জন্মদিন পালিত হল তবে একটু অন্যভাবে। বরাবাজার থানা পরিচালিত স্কুলের বাচ্চাদের সংগে নিয়েই কেক কাটা হল, বাচ্চাদের দেওয়া হল খাতা-পেন্সিল, চকলেট। হইহই করে পালিত হল ‘হাসির পৃথিবী’-র জন্মদিন। বাচ্চাগুলোর মন ভরে গেল মজা আর খুশিতে। আয়োজন থেকে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সঙ্গে রইলেন বরাবাজার থানার আইসি সৌগত ঘোষ।