আজ হাতিবাগানের কোনও ভৌগোলিক আখ্যানে যাব না, পুরোটাই ব্যুৎপত্তি-আলোচনা করব।
বঙ্গীয় শব্দকোষ অভিধানে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় হাতি শব্দের একটি অর্থ দিয়েছেন, ‘হাতের বা কাজের যোগাড়ে, সহায়’।
বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গলে পাই, ‘কেহ লোহা পোড়া দেয় কেহ তার হাতি’। এই হাতি যে কাজের জোগাড়ে, তা কাউকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে হয় না।
কলকাতায় হাতিবাগান যেমন আছে, হাতিপাড়াও আছে। বেহালার ম্যান্টনে আছে হাতিপাড়া বস্তি। হাওড়াতেও আছে হাতিপাড়া। নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-৩ যেখানে শেষ হচ্ছে আর রাজারহাট-নারায়ণপুর যেখানে শুরু হচ্ছে, সেই সংযোগস্থলে আছে হাতিশালা নামে একটি অঞ্চল। কলকাতা স্টেশন ও বাগবাজার থেকে হাতিশালা যাওয়ার বাস ছাড়ে। এই হাতিশালা জায়গাটির সঙ্গে জড়িয়েও চতুষ্পদ হাতির গল্প আছে। এখানে নাকি ছিল কোনও জমিদারের হাতিশালা।
তবে হাতিকে কাজের জোগাড়ে ধরলেও একটি মানে দাঁড়িয়ে যাবে। জায়গাটির আর্থসামাজিক অবস্থা যা ছিল, তাতে কাজের জোগাড়ে থাকা সেখানে অস্বাভাবিক নয়। হাতিপাড়া আছে আসামে, ত্রিপুরায়। এই হাতি চতুষ্পদ না, দ্বিপদ, তা বোঝা শক্ত। তবে চাকরপাড়া নামে জায়গাও যখন আছে, তখন কাজের জোগাড়ে বা কাজের লোকের বসবাসের জন্যে হাতিপাড়া থাকতে দোষ কোথায়!
হাতি নিয়ে দেড়শোর উপর প্রবাদ আছে। বলে ফেলা যাক এক এক করে। তবে এর মধ্যে অন্তত তিনচারটিতে হাতি চতুষ্পদ না জোগাড়ে, তা বুঝতে রীতিমতো বেগ পেতে হবে।
১। হাত দিয়ে হাতি ঠেলা। (অসম্ভব ব্যাপারকে সম্ভব করার চেষ্টা করা।)
২। হাতির পা ঠেলা। (অসম্ভব ব্যাপারকে সম্ভব করার চেষ্টা করা।)
৩। খাওয়াবে হাতির ভোগে, দেখবে বাঘের চোখে। (ছেলে মানুষ করার স্বীকৃত পদ্ধতি; শ্রেষ্ঠ শিক্ষা গৃহে শুরু হয়।)
৪। সুচ চলে না সদরে, হাতি চলে অন্দরে।
৫। খিড়কি দিয়ে হাতি গলে, সদরে বাঁধে ছুঁচ। (পিছনের খবর কেউ রাখে না; সামনের দিকেই যত নজর।)
৬। এক দিকে ছুঁচ গলে না, অন্য দিকে হাতি গলে। (ছোটখাটো বিষয়ের দিকে আমরা বেশি নজর দিই।)
৭। সদরে সূঁচ চলে না, মফস্বলে হাতি চলে।
৮। সম্মুখ দিয়ে সূঁ গলে না পিছন দিয়ে হাতি গলে
৯। সদর দিয়ে মশা (মাছি) গলে না, খিড়কি দিয়ে হাতি গলে। (নিয়ম-কানুনের বাহ্যিক কড়াকড়ি। নিয়ম-কানুনের মধ্যে বিরাট ফাঁক।)
১০। সমুখ দিয়ে কানাকড়িও যায় না, পেছন দিয়ে হাতি যায়।
১১। হাতির মুখে দুব্বো ঘাস। (প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অকিঞ্চিৎকর।)
১২। থলির মধ্যে হাতি পোড়া। (অসাধ্যসাধনের প্রয়াস।)
১৩। পুরুষের দশ দশা, কখনও হাতি কখনও মশা।
১৪। চন্দ্র সূর্য অস্ত গেল, জোনাকির পোঁদে বাতি। বাঘ পালাল, বেরাল এল ধরতে এবার হাতি। (বিজ্ঞরা যেখানে ব্যর্থ সেখানে নির্বোধের নাক গলানো। বা অর্বাচীনের বাহাদুরি।)
১৫। মোগল পাঠান হদ্দ হল, ফারসি পড়েন তাঁতি, বাঘ পালাল বিড়াল এল, শিকার করতে হাতি।
১৬। হাতি ঘোড়া গেল তল, ভেড়া (মশা, হরিণ) বলে কত জল?
১৭। কত শত গেল রথি, শেওড়াতলার চক্রবর্তী; কত হাতি গেল তল ভেড়া (মশা, হরিণ) বলে কত জল?
১৮। হাতি ঘোড় গেল তল, বেতো গাধা বলে- আমার হাঁটুজল।
১৯। কত শত হাতি ঘোড়া গেল রসাতল। লেজ নেড়ে ভেড়া বলে দেখ- মোর বল।
২০। হাতি বলে রসাতল। ভেড়া বলে হাটু জল।
২১। হাতি চড়ে ভিক্ষা মাঙ্গি, ইচ্ছায় না দাও ঘর ভাঙ্গি।
২২। রাত উপোসে হাতি পড়ে। (রাতে না খেলে হাতিও দূর্বল হয়ে যায়।)
২৩। হাতি শুলেও ঘোড়ার সমান উচু থাকে।
২৪। হাতি মলে‘ও ঘোড়ার দুনো। (গুণী বা বিত্তশালী হীন অবস্থায় পড়লেও হীন হয় না।)
২৫। হাতি মরলেও গাধার চেয়ে উচা থাকে।
২৬। হাতি মরলেও লাখ টাকা। (মহার্ঘ বস্তু সবসময় মহার্ঘ থাকে।)
২৭। মরা হাতিও লাখ টাকা।
২৮। হাতি মরেতো দাঁত দিয়ে মরে। (হাতি মরলেও লেকের ভাল হয়।)
২৯। হাতির কাঁধে আসে যায়, হাম্বা রবে মুর্ছা যায়। (বিরাট কাজ সাফল্যের সাথে করে এসে ক্ষুদ্র কাজ নিতে ভয় পায়।)
৩০। হাতির শুঁড়ি আসে যায়, ব্যাঙ দেখে ভয় পায়। (কৃত্রিম ভীতিতে ভীতু হওয়া।)
৩১। হাতির দম্ভ চূর্ণ হয় পাহাড়ের কাছে। (প্রবল পরাজিত হয় প্রবলতরের কাছে; বাপেরও বাপ আছে।)
৩২। হাতির দর্প চূর্ণ হয় পৰ্ব্বতের কাছে।
৩৩। হাতি বুড়ো হলেও দাঁত দিয়ে মাটি খোঁড়া ছাড়ে না। (সদ্বংশজাত অবস্থা বিপর্যয়েও চরিত্রগুণ হারায় না।)
৩৪। হাতি যেমন খায় তেমনি নাদে। (ধনীর যেমন আয় তেমনি ব্যয়।)
৩৫। হাতিকা দাঁত খানে কে আঔর, দিখানে কা আঔর- হিন্দি প্রবাদ। (কাজের বস্তু দেখানোর হয় না, আবার দেখানোর বস্তু কাজের হয় না।)
৩৬। হাতির দেখানোর দাঁত আলাদা, আর খাওয়ার দাঁত আলাদা।
৩৭। জমি ওয়ালার সাথে হাতি ওয়ালা পারে না।
৩৮। মরলে হাতির পায়ের তলে পড়ে মরা ভাল।
৩৯। বড়লোককে বুন হাতিও প্রণাম করে। ছোটলোককে পিপিড়াও ঠিল মারে।
৪০। পা সরিলে হাতিও পড়ে।
৪১। পেট কাটলে মশাও মরে, হাতিও মরে। (বিপদ ছোট-বড় সবার পক্ষেই সমান বিপদজনক; বিপদ কাউকে রেয়াত করে না।)
৪২। হাতি কথবেল খাইলে নাকি তাহা বাহিরে যেমন তেমনি থাকে, কিন্তু অন্তঃসারশূক্ত হয়।
৪৩। বাজ, জল, আগুণ আর হাতি ইহাদের সহিত তামাশা করিও না।
৪৪। কুমীর, আপন নিবাস জল মধ্যে হাতি ধরে টানে।
৪৫। হাতি জোগাড় হলে শেকলও জোগাড় হয়।
৪৬। যখন হাতি পর্যন্ত দান, তখন অঙ্কুশটা লয়ে ঝগড়া কেন?
৪৭। হাজার খান মোহর দিয়ে হাতি কিনে, অঙ্কুশ কিনিবার সময় অটাঅটি।
৪৮। হাতি বেচে শেকল নিয়ে ঝগড়া।
৪৯। হাতি স্বদেশে, বিড়াল বিদেশে।
৫০। ইন্দুরের মুখে হাতির দাঁত বেরয় না।
৫১। শুয়োর বড় হলেও হাতি হয় না। (আপন প্রকৃতিকে কেউ অতিক্রম করতে পারে না।)
৫২। হাতি বলে- আমার দুই দাঁত, শূয়র বলে- আমারও দুই দাঁত।
৫৩। হাতির সঙ্গে, ভেরেণ্ডা গাছের লড়াই।
৫৪। মশার সঙ্গে হাতির দ্বন্দ্ব।
৫৫। মশা হাতির ওজন জানতে চায়।
৫৬। প্রকাণ্ড গর্দভ হেলেও কখন হাতি হবে না।
৫৭। সব শুক্তিতে মুক্তা মিলে না; সব হাতির মোতি নেই।
৫৮। কবিওয়ালার শাল দোশালা, পুরুতের পা হাতি।
৫৯। নিজে পিন্ধিতে খাপি ধুতি, বাপের শ্রাদ্ধে দুই-হাতি।
৬০। কুড়ে ঘরে হাতি ঢোকানো।
৬১। গরিবের ঘরে হাতির পারা।
৬২। হাতিও মাটি খায়, মানুষও কইলে আক্কেল পায়।
৬৩। হাতির পর হাওদা, ঘোড়ার পর জিন।
৬৪। পাঁকে পড়া হাতিকে হাতিই তোলে।
৬৫। হাতির কথবেল খাওয়া।
৬৬। হাতির গলায় ঘন্টা। (মহতের সহিত ক্ষুদ্রের যোগ)।
৬৭। হাতির গায় হাতির বিঘত, মাকড়ের গায় মাকড়ের বিঘত।
৬৮। হাতির হাঁচি পড়লে মাকড়সা তা’তে সাঁতরায়।
৬৯। মরদ কি বাত হাতি কি দাঁত।
৭০। হাতির দাঁত আর মহতের বাত, লুকাবার নয়।
৭১। হস্তীদন্ত দেখ যেন লুকাবার নয়। মহৎ জনের কথা সেই মত হয়।
৭২। হাতির দাঁত, মহতের বাত, পড়ে ত নড়ে না।
৭৩। হাতির দাঁত সোনা দিয়ে বাঁধানো।
৭৪। হাতির নেদা দেখে খরগোশের পোঁদ ফাটে।
৭৫। হাতির পিছনে কুকুর ভুখে।
৭৬। হাতির পিছনে কুকুর ভুখে। হাতি চলে আপন (মনে) পথে।
৭৭। হাতি চলেই যায়, আর খেকি কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করতে থাকে।
৭৮। হাতি চলে আপন মনে, পিছনে খুকুর ঘেউ ঘেউ করে।
৭৯। হাতির পিঠ খালি থাকে না।
৮০। হাতির পিঠে মশার কামড়।
৮১। হাতির সঙ্গে বেঁড়ে বলদের ঠেস।
৮২। হাতিরে আগুন, শূয়রে জাঠা। বাঘেরে লাঠি, পাখীরে ভাটা।
৮৩। হাতির পিঠে জিভই চাপায়। জিভই আবার মুণ্ডু খসায়।
৮৪। কথাতে হাতি পায়, কথাতে হাতির পায়।
৮৫। কঁদি কঁদি মন করছে, কেঁদে না আত্তি মিটছে। রাজাদের হাতি মরেছে, তার গলা ধরে কেঁদে আসি।
৮৬। কাকের সঙ্গে গিয়ে হাতিও পাকে পড়ে।
৮৭। শেয়াল মারতে হাতি চায়।
৮৮। ব্রাহ্মণে আর চণ্ডালে, হাতি আর বেরালে।
৮৯। না চাইলে ঘোড়াটা পাই, চাইলে বুঝি হাতিটা পাই।
৯০। না চাইলে ছাতিটা পাই, চাইলে বুঝি হাতিটা পাই।
৯১। না চাইতে ছাতি পেলাম, চাইলে বুঝি হাতি পেতাম
৯২। ধার করে কানে সোনা, ধার করে হাতি কেনা।
৯৩। চরকা আমার ভা তা র পুত, চরকা আমার নাতি। চরকার দৌলতে আমার দোরে বাঁধা হাতি।
৯৪। টাকা দিয়ে টাকা ফাঁদে, হাতি দিয়ে হাতি বাঁধে।
৯৫। মন মাতাল দাতাল হাতি, বেঁধে কর সামাল।
৯৬। পোঁদের বিষে খেদায় হাতি।
৯৭। মেয়ে চিনি হাসে, মুক্ত চিনি ভাসে। হাতি চিনি দঁতে, মরদ চিনি বাতে।
৯৮। যেমন কন্যা মুঞ্জোদরী, তেমন পাত্র গৌরহরি। যেমন কন্যা রেবতী, তেমন পাত্র গদাহাতি’।
৯৯। মারি তো হাতি, লুটি তো ভাণ্ডার।
১০০। লতা চুরি পাতা চুরি, শেষে রাজার হাতি চুরি।
১০১। রাজার পুতের হাতি, মালীর পুতের বেঙ। রাজার পুতের রক্তপাত, মালীর পুতের ঠেঙ।
১০২। গরীবের বাড়ি হাতির পারা।
১০৩। বামন হাতি চড়লেও ভিক্ষা করে।
১০৪। যেমন হাতি যেমন খাবে, তেমন হাতি তেমন নাদবে।
১০৫। কোদাল কটি কলাই দাতি ঘর ভাঙানাের হাতি।
১০৬। হাতি আড় হলে চামচিকেও লাথি মারে // হাতি গর্তে/পাঁকে পড়লে ব্যাঙেও লাথি মারে // হাতি পড়েছে দকে ঠোকর মারে বকে (প্রবল বিপাকে পড়লে দুর্বলও এসে অপমান করে।)
১০৭। হাতিও হাবড়ে (পাঁকে বা কাদায়) পড়ে।
১০৮। হাতি পড়েছে দকে, ঠোকর দিচ্ছে বকে।
১০৯। হাতি পড়লে আড়ে চামচিকেতেও লাথি মারে।
১১০। হাতি কাদায় পড়লে চামচিকেও লাথি মারে।
১১১। কাদায় (গর্তে / খানায় / পাঁকে) পড়লে হাতি, চামচিকেতে মারে লাথি।
১১২। হাবড়ে পড়িলে হাতি ব্যাঙ্গে মরে চাটি।
১১৩। হাবড়ে পড়িলে হাতি কাকে মারে ছো।
১১৪। হাতি যখন লোঁদে পড়ে, চামচিকেতেও পোঁদে চড়ে।
১১৫। জলায় পড়লে হাতি। ব্যাঙেও মারে লাথি।
১১৬। হাতি পাঁকে পড়লে হাতিই উদ্ধার করে। (প্রবল বিপাকে পড়লে প্রবলই এসে তাকে বাঁচায়।)
১১৭। সতী হলে জীবনে কিছু এমন হাতি-ঘোড়া হয় না।
১১৮। সতীর ঘরে নেইকো বাতি, জাত-অসতীর দুয়ারে হাতি।
১১৯। সব পাহাড়ে মাণিক্য মেলে না, সব হাতির মাথায় মুক্ত মেলে না, সব সাধুর সন্ধান মেলেনা, সব বনে চন্দন গাছ মেলে না।
১২০। শিল্প হলেও চন্দনগাছ যেমন তার গন্ধ পরিত্যাগ করে না, বৃদ্ধ হলেও হাতি তেমন ক্রীড়ামোদ ত্যাগ করে না।
১২১। ব্রাহ্মণে আর চণ্ডালে, হাতি আর বেড়ালে।
১২২। হাতি মরে দাপাইয়া বড়ইর আঁটি পাড়াইয়া।
১২৩। হাতি খুজেছিল হাতির দাঁতের চিরুনি !
১২৪। আসল হাতির দাঁতে, পোঁকা লাগে না মোটে।
১২৫। হাতির স্বপ্ন আর মাহুতের স্বপ্ন এক নয়।
১২৬। দোজবরের মাগ গজরা হাতি, ভাতারকে মারে তিন লাথি।
১২৭। মেয়েদের মাথার চুলে। হাতিকেও বাঁধা চলে।
১২৮। হাতি চার পা আছে, তবুও হোঁচট খায়।
১২৯। হাতিরও মাঝে মাঝে পা পিছলে যায়।
১৩০। হাতি এসে পড়বার আগেই ঘণ্টার আওয়াজ পাওয়া যায়।
১৩১। হাতিব পিঠে চড়ে। কুত্তাকে কে ভয় করে ?
১৩২। হাতির নিমিঝিমি (ধীরপদক্ষেপ) ঘোড়ার দৌড়।
১৩৩। হাতির মিনমিন ঘোড়ার দৌড়। (ঘোড়া দৌড়ে যতদূর যায়। হাতি ধীরে ধীরে চলেও ততদূর যায়; কেউ দ্রুত যে কাজ শেষ করে; কেউ ধীরলয়ে সেই কাজই করে; যার যেমন পদ্ধতি।)
১৩৪। হস্তীমূর্খ। (মহামূখ।)
১৩৫। কুকী হাতি। (যে পোষা হস্তিনী বন্য হস্তীদের ভুলাইয়া আনে।)
১৩৬। হাতি দিয়ে হাতি ধরা।
১৩৭। হাতির পাঁচ পা দেখা। (অহঙ্কারী ব্যক্তির দাম্ভিক আচরণ।)
১৩৮। মুখে হাতিঘোড়া মারা !
১৩৯। মাছিকে হাতি করতে যাওয়া!
১৪০। হাতি পোষা। (বহুব্যয়সাধ্য কাজ)।
১৪১। হাতির খোরাক। (বহুব্যয়সাধ্য কাজ)।
১৪২। হাতির গা হাতি দেখে না।
১৪৩। হাতির চোখ। (ক্ষুদ্র কিন্তু তীক্ষ্ণদৃষ্টি)।
১৪৪। খেয়ে-খেয়ে হাতি হওয়া।
১৪৫। গজপৃষ্ঠে যে বা যায়, ফেউ দেখে সে ডরায়।
১৪৬। গজকচ্ছপের লড়াই।
১৪৭। গজমাত্রেই মোতি থাকে না।
১৪৮। হস্তী মক্ষিকার দংশন অনুভবে অপারগ।
১৪৯। অন্ধের হস্তীদর্শন।
১৫০। শ্বেতহস্তী পোষা।
১৫১। হস্তী হস্তসহস্রেণ শতহস্তেন বাজিনঃ। শৃঙ্গিনো দশহস্তেন স্থানত্যাগেন দুর্জনঃ।।
(হাতি থেকে হাজার হাত দূরে থাকবে, ঘোড়া থেকে একশ’ হাত দূরে থাকবে, শিংওয়ালা প্রাণী থেকে দশ হাত দূরে থাকবে আর দুর্জন লোক কাছে এলে সেই জায়গা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবে।) (চাণক্য)
দেখাই যাচ্ছে, প্রবাদেই আছে, হাতির পেট, হাতির খোরাক।
কোনও আত্মীয়কুটুম্ব বাড়ি এসে প্রচুর পরিমাণে খেতে থাকলে বলে, লোকটার যেন হাতির পেট।
আবার কাজের লোকের খাওয়া দেখে টিটকিরি দেওয়ার রেওয়াজ আছে, এর যে দেখছি হাতির খোরাক!
প্রবাদে এও আছে, ‘হাতি খোঁজে হাতির দাঁতের চিরুনি’। এখানে প্রথম হাতিটির কাজের জোগাড়ে বা কাজের লোক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই প্রবল।
পুরনো কলকাতার বাবুবৃত্তান্ত যাঁরা পড়েছেন তাঁরা জানেন, ভৃত্য, খানসামা, চাকরবাকর, রান্নার ঠাকুর, বাবুর্চি রাখার রেওয়াজ ছিল ঘরে ঘরে। খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছেলেবেলা কেটেছিল ভৃত্যদের ঘেরাটোপে। সে নিয়ে তাঁর আক্ষেপও ছিল। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির কোনও কোনও অনুষ্ঠানে হাতিবাগানের পাচক ও কাজের জোগাড়ে উপস্থিত হত। আমার মেডিকেল কলেজের এক ব্যাচমেটের পদবি ছিল হাতি। সে বলত, তার ঠাকুরদা ছিল রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে। পরে নিজেও রাজমিস্ত্রি হন, ও বিরাট বিরাট অট্টালিকা তৈরি করতেন। হাতিবাগান থেকে রান্নার ঠাকুর ও তার সহকারীদের নিয়ে অনুষ্ঠান করার চল আছে হুগলিতে। এই ক্যাটারার ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের যুগেও সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে।