নদী পেরিয়ে এলেই হেলেসাপের মতো রোগা একটা গ্রাম, গ্রাম যেখানে শেষ সেখান থেকে শুরু হয়েছে আমুনি ধানের মাঠ। বুক চিতানো মাঠের শেষে সার সার পাহাড়, পাহাড়ের পাদদেশে শাল-মহুয়া-ঘোড়ানিম আর কুসুম-করণের জঙ্গল। এখন মধ্য দুপুর, মাথার উপর আগুন উগরানো সূর্য, দু-চার পা হাঁটার পর চোখে আঁধার দেখে ভীমাবুড়ো। সূর্যের আলো বিষগুঁড়ার মতো ছড়িয়ে পড়ে চামড়ায়, চড়চড় করে গা-গতর— জু নিতে চায় মদ-মেদো দেহটা— কিন্তু তার লক্ষ্য জটায়ু মোড়লের কোঠাদালান। খরিশ সাপের ফণার মতো চ্যাপটা আল চলে গিয়েছে গাঁ-মুখো; ভীমাবুড়ো সেই আলের উপর দাঁড়িয়ে নিশ্বাস ছাড়ে ফসফস। এবার তার মোটেও আসার ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু ঝগড় নাছোড়বান্দা। কাকুতি-মিনতি করে বলল, না গেলে চলবে নি কত্তা, তুমায় একবার যে করেই হোক যেতেই হবে। এতদিনের কারবার, হট করে ঝাঁপ ফেললে কী করে চলে? পুরা গাঁ তুমার পথ চেয়ে বসে আচে।
ঝগড়ুর কথাগুলোয় মহুয়ার চেয়েও গাঢ় নেশা, দাদ চুলকে ভীমাবুড়া উন্মনা। ফি-বছর জটামোড়লের ঘর যাওয়া তটীর একেবারে না-পছন্দ। রাতের অন্ধকারে তার চোখদুটো কটাশের চোখের মতো জ্বলছিল, না থাকতে পেরে উগরে দিল ক্ষোভ-জ্বালা, যাচ্চ যাও, কিন্তু লোক-ঠকানো কাজে আমার সায় নেই। তুমার পাপে মঙ্গলটা মরল, এতেও কি তুমার শেক্ষা হল না!
হোচট খেয়ে হাতের লাঠি হড়কে পড়ে ধানখেতে, ভীমাবুড়া কাঁপতে কাঁপতে মাজা ধাপিয়ে তুলে নেয় বহু কষ্টে। তটীর কথাগুলো আক্রমণ প্রিয় চিলের মতো ঠোকরায়। দশ বছরের মঙ্গল বই বগলদাবা করে ফিরছিল পাঠ শেষ করে, তখন ফুটফুটে বিকেল, মানুষের ব্যস্ত পা ঘরমুখো। সবাই ফিরল কিন্তু ছেলেটার আর ফেরা হল না, পাগলা হাতির শুঁড় তাকে শূন্যে তুলে আছড়ে দিল পাথরে। ছেলেটা ‘মা’ বলারও সময় পায় নি— তার অনেক আগেই সব শেষ! মরা ছেলেকে বুকে আঁকড়ে তটী পাগলা হাতির ডাকের চেয়েও উচ্চস্বরে কাঁদল, সেদিনও ভীমা ধীর-স্থির-মৌন পাহাড়ের চেয়েও প্রতিক্রিয়াহীন। গ্রামবাসীরা বলল, পাথর বটে মানুষটা, এমন মানুষ আমরা বাপের জন্মেও দেখি নি।
বিশ-পঁচিশ বছর আগের ঘটনা এখনো বুকের ভেতর শিঙিমাছের কাঁটা ফুঁকায় হরদম। মঙ্গলের ডিমা উপড়ানো চোখ, থেঁতলে যাওয়া শরীর ধানমাঠের দিকে তাকিয়ে হুবহু মনে পড়ে সব ভীমাবুড়োর। ধড়ফড় করে বুক, জল কাটে চোখে। জোরে-জোরে পা চালাতে গেলেই টের পায় বুকের কাঁপুনি। গা-হাত-পা শুলোয়, যেন কত দিনের বাত!
ফসল ভরতি মাঠ, উপরে বিশাল আকাশ— তবু নিজেকে বড় অসহায় বোধ করে ভীমাবুড়ো। ছেলের শোক ভুলে থাকা পাহাড়মানুষের পক্ষেও অসম্ভব— সে তো রক্ত-মাংসের মানুষ। যে হাতি তার সুখ পা দিয়ে থেঁতলে দিয়েছে— সেই ভয়াল-ভীষণ যমরাজ সদৃশ্য হাতি নিয়ে এখন ভীমাবুড়োর কারবার। মঙ্গল নেই, তার পুঁইডগালের চেয়েও নরম কথাগুলো বুকের বাগানে কিলবিলিয়ে বাড়ে অষ্টপ্রহর। তটী কখনো-বা ছেলের শোকে গলা ভাসিয়ে কাঁদে, তার কান্নার প্রগাঢ়তা ফালাফালা করে সাজানো সুখ, সজনেফুল জ্যোৎস্না অথবা অমাবস্যার নিঝুম নৈঃশব্দ্যতাকে। তাকে বোঝালেও কথা শোনে না, শুধু প্রসারিত উন্মুক্ত দু-চোখের তারায় অবিরাম বর্ষণের ধারা। অমনভাবে কী দেখে সে হাপুস নয়নে? তার ভাষাহীন চোখে দুঃখের অণু-কণিকারা সাঁতার কাটে— পরাজিত মানুষের সমস্ত চিহ্নগুলো আঁকা থাকে তার মনের খোঁদলে।
কাল অনেক রাতেও ঘুম আসে নি তটীর, ভেজা ভাত খাওয়া শরীর— অন্যদিন হলে বিছানা ছোয়ামাত্রই দেদার ঘুমে কাদা কাদা, কিন্তু বিগত রাতে কী হয়েছিল বউটার দুচোখের পাতা মোটে এক করে নি। অনঙ্গ অন্ধকারের আড়ালটুকু ছাড়া আর কিছু ছিল না দুজনের মাঝখানে, এইভাবে রাতের নদী বয়ে যেতে যেতে এক সময় ফোঁপানির শব্দে চমকে উঠেছিল ভীমাবুড়ো। হাতদুটো আঁকশির মতো বাড়িয়ে ঠেলা মেরে সে শুধিয়েছিল, কাচিস কেনে রে, কী হল তুর?
— তুমার দুটা গোড়তল ধরি— তুমি আর সেথায় যেও না। তটীর ফোপানি এক সময় রূপ নেয় লোম চাগানো কান্নায়।
কুঁই কুঁই করে বুড়া বলে, বাবুর ডাক, না গিয়ে কি পারি?
কথা নয় যেন ছোবল মারে তটী, তুমি মানুষ না পাথর চাট্টান?
ছিঃ ছিঃ, তুমাকে! কলিজা ভাঙার পরেও তুমার বুকে বিদনা হয় না?
ধানে রং ধরলে সারা বছরের জ্বালা-যন্ত্রণা ভুলে যায় ভীমাবুড়ো— দুচোখ নেচে ওঠে বাড়তি কামাই আর খুশির আনন্দে। তখন ঠ্যাঙের উপর ঠ্যাং তুলে সে চেয়ে থাকে দূরের মাঠপানে, মঙ্গলের স্মৃতি ফ্যাকাসে হয়ে আসে ক্রমশ। পুরুষ্টো ধানগাছ যখন হাওয়ার তালে কোমর ফুলিয়ে নৃত্য করে— তখন চাল্সে ধরা চোখ সরহুল পরবের আমেজে বিভোর হয়ে ওঠে। পুরো মাঠ নয়, যেন পুরো গাঁ নাচছে দ্রিমি-দ্রিমি মাদলের তালে। শামুক জলে ধোয়া শাদা ধবধবে চোখের মতো বুড়ার তখন দৃষ্টি, মাদলের শব্দ বুকের ভেতরও বাজে— যখন সুবিন্যস্ত ধানখেত ধর্ষিতা হয় বিবসনা অসহায় নারীর মতো সার সার নেমে আসা উচ্ছৃঙ্খল বুনোহাতির মদমত্ততায়। কারোর পৌষ মাস; কারোর সর্বনাশ। তটী তখন শুধোয়, কী দেখো অমন করে?
কী দেখে সে নিজেও জানে না, শুধু দীঘল প্রসারিত দুচোখের তারায় গুঁড়ি-গুঁড়ি সুখের ডিম— যা অপ্রত্যাশিত তা যেন ধরা দিচ্ছে অবলীলায়। হাতের মুঠোয় যদি সুখ এসে ধরা দেয়— তাকে সে ফিরিয়ে দেবে কোন সাহসে, ততখানি বুকের জোর তার কোনোদিন ছিল না, আজ নেই।
আল শেষ হলেই গাঁয়ে ঢোকার পথ। ভীমাবুড়ো মহুয়া গাছের ছায়ায় বসে হাড়িয়া খায় দুবাটি, তাকে ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড়, নানান কথার জটলা। বুড়োর তবু কোনোদিকে মন নেই, তার অপ্রকৃতস্থ দৃষ্টি সংঘবদ্ধ বনভূমির দিকে তাকিয়ে। ওই বনভূমি আজ তাদের হাতছাড়া, ঠিকেদারের শানানো টাঙি-কুড়ল প্রতিনিয়ত মানুষের বিপন্ন অস্তিত্বকে দগ্ধে-দগ্ধে কাটছে। অরণ্য ছেদন নয়, ভীমাবুড়োর মনে হয় মুণ্ডুচ্ছেদন হচ্ছে শান্তিপ্রিয় মানুষের। ঠিকেদারের থাবা থেকে চিহ্নড়লতা, শালপাতা, তৈলবীজ কোনো কিছুই বাদ যায় না। এখন একছটাক কুসুম তেল, পোয়াটেক মহুয়া শুখা, পাকা তেঁতুল সব কিছু কিনে আনতে হয় বাজার থেকে। জটামোড়লের এদিকে কোনো নজর নেই, ঠিকাদারের কুড়ুল তার কোনো ক্ষতি করে নি, বরং কোঠাদালান উঠেছে গাঁয়ের মাঝখানে। সেই হলুদ রঙের বাড়িটায় রোজ সন্ধ্যায় দারুর আসর বসে, চাট লেগে থাকা শালপাতা চেটে খায় গায়ের হা-ভাতে ল্যাংটো ছেলেরা। সেই বাবুর জন্য তিন মাইল পথ ঠেঙিয়ে আসা— ভয়ে কিংবা ভক্তিতে একথা ভীমাবুড়া নিজেও জানে না। তবে সে এটা জানে জটায়ু মোড়লের দারুণ দুর্বলতা আছে তার উপর, কেননা এ অঞ্চলে আর কেউই তার মতো হাতির পায়ের ছাপ হুবহু নকল করে আঁকতে পারে না। নিতান্ত ঝোঁকের মাথায় বাপের কাছ থেকে শেখা বিদ্যেটা আজ এত বছর পরও তার ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারণের দাবাই। এ গাঁয়ের ছেলে-বুড়া সবাই জানে— ভীমাবুড়ো এলে সরকার থেকে টাকা পাবে তারা। কেননা ভীমাবুড়োর হাতিছাপ ব্লক অফিস কেন ফরেষ্ট ডিপার্টের কেউ নকল বলে বুঝতে পারে না৷
ঝগড় ফটর-ফটর মাস্টার, সে চুক্তি সেরে যাওয়ার সময় মাত্র দশটা টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলল, ভুলে যেও না কত্তা, তুমি না আসা পর্যন্ত বাবু তুমার পথ চেয়ে থাকবে। এবার শুধু হাতিছাপ ধানখেতে আঁকলে হবে না, এবার বিষহরিকে হাতে ধরে সব শেখাতে হবে। বাবুর আদেশ, এর জন্যি অবশ্য তুমাকে বাড়তি টাকা দেওয়া হবে।
টাকা চায় না ভীমাবুড়ো, সে চায় এই অসৎ কাজটা ভুলে যেতে। অথচ বাবুর তা ইচ্ছে নয়। বাবু বলে— এক রাজা গেলে আরেক রাজা আসে। মন্ত্রী গেলে মন্ত্রীও পাওয়া যায়। কিন্তু খুড়া তুমি মরলে এ কাজ কে করবে? তাই বলছিলাম কী— মরার আগে কাউকে হাতে ধরে এ জাদুবিদ্যে শিখিয়ে যাও। পুরা গাঁ তুমার নাম করবে।
— অমন নাম আমার চাই নে? ফুঁসে উঠেছিল ভীমাবুড়ো, তাকে শান্ত করে জটায়ু মোড়ল বলেছিল, চটো কেনে গো, এ কি চটার কথা? বিদ্যা এমনই এক জিনিশ— যা দান করলে বাড়ে। তোমার নাম দশের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক— লোকে উঠতে-বসতে তুমার নাম করুক এটা কি তুমি চাও না। কুবিদ্যা মানুষের কোনো কাজে আসে না!
— কারে তুমি কুবিদ্যা বলচ খুড়া? যে বিদ্যা মানুষের পেটে ভাত দেয়, মানুষের মুখে হাসি ফুটায়— তা কেনে কুবিদ্যা হতে যাবে। জটায়ু মোড়লের যুক্তির কাছে ভীমাবুড়োর ফণাতোলা মাথা কথার জড়ি-বুটিতে বশ মানে।
এখন শুধু পয়সার জন্য হাতির পায়ের ছাপ সে নকল করে বেড়ায় এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে। যখন যেখান থেকে ডাক আসে তখন নিজের ঝুলি-ঝাপ্পা গুছিয়ে সে বেরিয়ে পড়ে পথে। জমি-পিছু দরদাম হয় প্রথমে, তারপর কিছু অগ্রিম নিয়ে কাজ শুরু। বছর বছর ধান পাকার সময় হলে হাতির পাল নামে বন-জঙ্গল চিরে নিশ্চুপ শয়তানদের মতো রাতের অন্ধকারে। ধান মাঠের সঙ্গে তাদের গোপন সখ্যতার বুঝি শেষ নেই। হাতি ধান খায়, যত না খায় তারও অধিক নষ্ট করে পালায়। কৃষকের বুক ফাটে সেই ক্ষত-বিক্ষত মাঠের দিকে তাকিয়ে, তাদের শুকনো মলিন নিষ্প্রভ চোখে আশাভঙ্গের চিহ্ন। ভীমাবুড়োকে দেখলে তাদের মরাটে চোখে আশার আলো ঝিকমিকিয়ে ওঠে। ভীমাবুড়ো সেই আশাভঙ্গ সমস্যা জর্জরিত হাড় হা-ভাতে মানুষগুলোর কাছে দেবদূত তুল্য। হাতি ধান খেয়ে, ফসল তছরুপ করে পালায়, ভেজা ধানখেতে পড়ে থাকে তাদের উচ্ছৃঙ্খল পায়ের ছাপ। ভীমাবুড়োর কাজ হল হাতির পায়ের ছাপ নকল করে জমির বুকে হুবহু এঁকে দেওয়া। এতে খেত-মালিকের প্রভূত সুবিধা। ব্লক অফিস আর বন-বিভাগের লোকজন এসে খতিয়ে দেখে হাতিছাপ। বান-বন্যা, খরা-মড়কে যদি সাহায্য দেয় সরকার তাহলে হাতির তাণ্ডবলীলায় চাষী কেন সাহায্য পাবে না! শুরু হয় কাগজপত্রের চালাচালি। বাবুরা উপর অফিসে চিঠি লিখে পাঠালে সরকার থেকে অনুদান পায় চাষী। যার খেতে যত বেশি হাতিছাপ, ফায়দা তার তত বেশি।
কানে কানে কথা গিয়ে পৌঁছয় ঝগড়ুর কানে, উৎফুল্ল হয়ে সে বলে, ভীমাবুড়ো যে আসবে— এ কথা আমি জানতাম। বাবুর কথাকে অমান্য করবে— এমন মানুষ এ-গাঁয়ে কটা আচে? চল, বুড়ারে এট্টু এগিয়ে নিয়ে আসি। যে আমাদের দেখে— তারে এট্টু-আধটু তোয়াজ করা ভালো।
মহুয়াতলায় ভীমাবুড়ো বসেছিল গালে হাত দিয়ে, নেশাচ্ছন্ন চোখ, অবসন্ন হাত-পা, তাকে ঘিরেছিল ছেলে-বুড়ো অতি উৎসাহী অনেকে। ঝগড় ছানাকাটা মেঘের মতো এগিয়ে গেল সামনে, গামছায় ঘাম মুছে বলল, কত্তা. এয়েচ— ভালো কথা। চলেক, ঘর পানে চলো। বাবুর সদরে যাওয়ার কথা, শুধু তুমি আসবে বলে এটকে দিয়েছি তাকে।
ওঠার মতো ক্ষমতা ছিল না ভীমাবুড়োর, হাড়িয়ার নেশায় শুধু মাথা নয়, পা টলছিল মাছ ঠোকরানো ফানার মতো। চোখ দুটোয় হলুদ আলোর বুজকুড়ি। কোনোমতে লাঠিতে ভর দিয়ে খাড়া হয়ে দাঁড়াল সে। জড়ানো স্বরে বলল, আমার হাতটা টুকে ধরো। আমি একলা খাড়া হতে পারি নে। তুমাদের গাঁয়ের হাড়িয়ার ঝাঁঝ কড়া। আমার শির-তালুতে নেশার খিঁচটা গিয়ে লেগেচে।
ঝগড়ুর অভিজ্ঞ চোখ ভীমাবুড়োকেই দেখছিল, এত বয়স হল মানুষটার তবু নেশা করার কোনো কমি নেই। হাত বাড়িয়ে বুড়োর হাতটা ধরে সে বলল, চলো কত্তা। এ-গাঁয়ে যখন পা দিয়েচ— তখন তুমার সব দায়-দায়িত্ব আমার। আমি থাকতে তুমার কুনো অসুবিধে হবে নি। ভাবো— আমি তুমার ছেলের মতো।
হাঁ-করে আকাশ দেখে ভীমাবুড়ো, ফোকলা মাড়িটার রং পচা শিমুলের পাপড়ির মতো, মুখগহ্বর থেকে ছিটকে আসে হাড়িয়ার উগ্র ঘ্রাণ। ধাপানো মাজা, গোড়ালি ফাটা পা, লাঠির জোরে বুড়ো যুবকের ঢঙে হাঁটার চেষ্টা করে— কিন্তু পারে না, ফলত ব্যর্থতার চিহ্নগুলো ফুটে ওঠে তার ঘর্মাক্ত চোখে-মুখে। এক সময় হাঁপিয়ে উঠে বলে, বয়স হয়েচে, আর পারি নে গো, এবার তুমরা আমাকে রেহাই দাও।
— সেই জন্যি তো অতদূর থেকে ডেকে আনা। ঝগড়ু রগড়ের হাসি হাসে, তুমার দুঃখ-যাতনা সব বুঝি গো। আর বুঝি বলেই আমি বাবুকে বলে তুমারে ঘর তোলার টাকা পাইয়ে দিয়েচিলাম। এত বড় অঞ্চলে মাত্র তিনজন লোক ঘর তোলার লুন পেল, তুমি তার মধ্যি একজন। ভাবোদিনি, কত তুমার সৌভাগ্য!
ভীমাবুড়া মাড়ি ফাঁক করে হাসে, হাসতে-হাসতে কঠোর হয়ে যায় তার চোখমুখ, লাঠিটা জোর করে আঁকড়ে ধরে সে অঙ্গার চোখে তাকায়, ধুকতে ধুকতে, কাশতে কাশতে বলে, হ্যাঁ, তা লুন পেয়েছিলাম বটে, তবে, সে টাকার আধা কেড়ে নিল বাবু নিজে। বলল— ভটভটির তেল পুড়েচে, ব্লক-আপিসের বাবুদের খুশ করতে মোণ্ডা-মেঠাই খাওয়াতে হবে— আরো কত কী হ্যাপা। তা বাপু, ফোকটের টাকা ফুটকে গেল! আমার ঘর আর উঠলি না! আমি নিশা করে সে টাকা সব ফটায় দিলাম। মাঝখান থিকে বাধা দিতে এসে মার খেয়ে মরল ঘরের বউটা। বাবুরা যখন ঘর দেখতে আমার দোরে এল— তখন বাবুদের পায়ে পড়ে বউটার কী কান্না! কী বলল— জানো? বলল, বাবু গো, তুমাদের গোড়তল ধরি— আমার ঘরের মানুষটার আর ‘লুন’ পাইয়ে দিও না। লুনের টাকা পেলে সে গলাতক নিশা করে। গলাতক নিশা করে সে আমারে বেধড়ক মারে। এই বুড়া বয়সে আমি তার হাতের মার খেয়ে আর বাঁচি নে। সরল স্বীকারোক্তি চলার গতি শ্লথ করে দেয় ঝগড়ুর, কথা হারিয়ে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে ভীমাবুড়ার মুখের দিকে। রোদ সরে গিয়ে আকাশ বড় থমথমে, ঠিক যেন ভীমাবুড়ার মুখের মতোন, ঝগড়ু সেই মুখের দিকে তাকিয়ে কথা হাতড়ায়, কিন্তু ব্যর্থ হতেই বিড়িডিবা বের করে একটা বিড়ি বেছে-বুছে এগিয়ে দেয় বুড়ার দিকে, লাও কত্তা, ধরাও, এ তুমার চালানি বিড়ি নয়, একেবারে হাতে বাঁধা। ফি টানে কত্তো ধোঁয়া দেখ—
ধোঁয়ায় চোখ ভরে ওঠে ভীমাবুড়োর, দাপনার জলোমশা তাড়িয়ে স্মৃতির পুকুরে ডুবে যায়, গেল সনে মনের মতো করে হাতিছাপ আঁকলাম কিন্তু ফেরার সময় ট্যাক একেবারে হালকা। তা বাপু, এবার যেন তেমন না হয়। আমি গরিব-গুবরো মানুষ। তুমাদের কাজ-কারবার মিটে গেলে আমারে যেন ফাঁকি দিও না।
— ছিঃ ছিঃ, তাই কী হয় গো? হাজার হোক—
ঝগড়ুর মুখের কথা কেড়ে নেয় ভীমাবুড়ো, ফসফস করে বিড়িতে টান দিয়ে সে বলে, গেল সনের কথা বাদ দাও। এ বছর বাবুরে বলে তুমার ট্যাক আমি ভরে দিব। চলো গো— ঠুকে পা চালিয়ে চলো। সাঁঝের আগে না গেলে বাবু বোতল খুলে বসবে— তখন দুনিয়া রসাতলে গেলেও তার কুনো শাড় থাকবে না।
এ বছর আগাগোড়া বর্ষা নেমেছে জমাট বেঁধে, এই আশ্বিনেও মেঘের বুড়ি পেটে জল বেঁধে ঝুলে থাকে পাহাড়ের মাথায়। কখনো দামাল হাওয়ার সুড়সুড়িতে মাছের বীজ ছাড়ার মতো গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দেয় শস্যক্ষেত্র, অরণ্যভূমি আর নগ্ন-দীর্ণ বাসস্থান। বৃষ্টির তীব্রতা কমলে ভীমাবুড়ো দূরের জঙ্গলটার দিকে অপলক চেয়ে থাকে, ওই ঘনঘোর জটিল-কুটিল জঙ্গলের ভেতর তার জন্য যেন সুখের খনি লুকানো আছে। সে যেন স্পষ্ট দেখতে পায় কৃষ্ণকায় হাতির দল পাহাড় কাঁপিয়ে বনভূমি সচকিত করে উন্মুক্ত শস্যক্ষেত্রের ইজ্জত হানির জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে নেমে আসছে সমতোলে। হাতি ধান খায়, ফসল নষ্ট করে, মানুষের সাজানো স্বপ্ন ভেঙে দেয়— এ বিষয়ে ভীমাবুড়োর কোনো দ্বিমতো বা সংশয় নেই। কিন্তু, একটা বিষয় তার বুকের খোঁদলে অষ্টপ্রহর ঝড় তোলে, তাকে চিন্তা-ভাবনায় ক্লিশ করে তোলে, শান্তিতে ঘুমোতে পর্যন্ত দেয় না। হাতি যদি ধান খায় জগেন মুর্মুর ধানখেতে তাহলে লবা, কিষ্টো, চরণরা বলে, খুড়া গো আমার খেতেও হাতিছাপ এঁকে দাও। এই মিথ্যে আবদার মন থেকে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না ভীমাবুড়ো, পশুগুলোর ঘাড়ে মিথ্যা দায় চাপিয়ে কাউকে দু-বিশ টাকা পাইয়ে দিতে তার যত অনীহা।
তটীও এই আবদারকে মন থেকে মেনে নিতে পারে না, সে যুক্তি দেখিয়ে বলে, মিথ্যের উপর জগৎ বাঁচে না। তুমার এ ফাঁকি একদিন সবাই বুঝবে— সেদিন কিন্তু ওই হাতির মতো তুমাকেও নেকনজরে দেখবে লোকে। তখন তুমি যাবা কুথায়?
ভীমাবুড়ো এ প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারে না, তখন মনের ভেতরে শুধু চাকড়া-চাকড়া ঘা। জংলি হাতিগুলো যেন বুকের হাড়-পাঁজরা গুঁড়িয়ে দিয়ে সদর্পে চলে যায়। তাদের দীর্ঘনিশ্বাস অভিসম্পাতের মতো বুড়োকে কাঁপিয়ে দিয়ে চলে যায়।
জটায়ু মোড়লের হলুদ রঙের ঘরখানা জাহাজের মতো দেখতে, এই হতদরিদ্র গ্রামে এই বাড়িখানা বুঝি সকলের দীর্ঘশ্বাসের কারণ। যতবার এই বাড়ির উঠনে পা দিয়েছে ভীমাবুড়া ততবার তার বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠেছে কোনো এক অব্যক্ত যন্ত্রণায়। বাবুর দেওয়া মুড়ি চিবাতে-চিবাতে এবারও ভীমাবুড়া কিছুটা অন্যমনস্ক।
জটামোড়ল কাঁচা-পাকা মোচে তা দিয়ে বলে, আমি জানতাম তুমি আসবে কত্তা। তা এসে ভালোই করেচ। খাও-দাও আরাম করো। যতদিন পারো থাকো। এই গরিবের পর্ণকুটির তুমার জন্যি চিরকাল খোলা থাকবে। ভীমাবুড়া সপ্রসন্ন চোখে তাকায়, মোড়লের কথাগুলো তার মনটাকে জলে-দেওয়া সাবুদানার মতো ভিজিয়ে দেয়।
জটামোড়ল টুকটাক খোঁজখবর নিয়ে বলে, হাতি আমাদের শত্রু গো অথচ সেই শত্রুর সাথে আমরা পেরে উঠি না। এবারও পুরা ধান খেয়ে গেল পশ্চিম বাদের জমিনগুলার। কাল সকালে তুমি গিয়ে নিজের চোখে দেখো— দেখলে তুমার কলিজা ফেটে যাবে। আমি শক্ত ধাঁচের মানুষ বলে এখনো লড়ে যাচ্চি।
ডানে-বাঁয়ে ঘাড় নাড়ে ভীমাবুড়ো, কোঁত করে মুড়ি গিলে স্বস্তিতে বলে, এবার আমার কাজটা কী বুঝিয়ে বলো দেখি, বাবু?
— কাজ! ফি-বছর যাই করো তাই। তুমি পুরনা মানুষ, তুমাকে আর লোতুন করে কী বলব? সকাল হবার অনেক আগেই মাঠে যাবার জন্য তৈরি হয় ভীমাবুড়া। জটামোড়ল দাঁতন কাঠি চিবিয়ে এগিয়ে আসে সামনে; পিক ফেলে বলে, খুড়া, কাল তুমাকে এটা কথা বলতে ভুলে গিয়েচি। আমার ঘরের রাখাল বিষহরি— সে আচ তুমার সাথে মাঠে যাবে। তুমি তারে হাতিছাপ আঁকা শিখিয়ে দিও।— এ বিদ্যা আমি কাউরে শিখাব না।
ভীমাবুড়ার শক্ত মুখের দিকে তাকিয়ে জটায়ু মোড়ল বলে, তুমার বয়স হয়েচে, ফট করে মরে গেলে তুমার এ-কাজ কে করবে? তুমারও ছেলেপুলে নেই যে তারে তুমি শিখিয়ে যাবা। বিষহরি আমার ঘরের চাকর, তারে তুমি এ-বিদ্যা দান কর। তোমারে আমি ঠকাব না— বাড়তি কিচু টাকা ধরে দেব।
— টাকা দিয়ে কি সব কেনা যায় বাবু? ভীমাবুড়ার দুচোখে আগুন জ্বলে ওঠে, শ্বাস ছেড়ে সে বলে, নিজের পেটে লাথ মেরে পরের পেট আমি ভরতে পারব নি বাবু। গুরুমারা বিদ্যে যে শিখাব— তেমন মনের মানুষ কুথায়?
বিষহরি ছেলেটি হাবাগোবা, সাত চড়েও রা কাড়ে না— ধানমাঠে তাকে দেখে ভীমাবুড়ার পাথর মনও কাদা-মাটির চেয়ে নরম হয়ে যায়। বুড়া তাকে আদর করে ডাকে, বিষা, এ বিষা— শুন। বিষহরি এগিয়ে এসে জড়োসড়ো গতরে মুখ নিচু করে দাঁড়ায়। বুড়া শুকনো ঢোক গিলে বলে, পিয়াস লাগে বেটা, টুকে জল খাওয়াবি?
মুখের কথা শেষ হয় না কুয়ো থেকে জল এনে দেয় বিষহরি, হাঁপাতে হাঁপাতে বলে, এই নাও গো, খাও। আগে তেষ্টা মিটুক, তারপর না হয় কাজ করবা।
ভীমাবুড়ো তাকে শুধোয়, হা-রে বিষা, ঘরে তুর কে কে আচে?
বিষহরি কাচুমাচু মুখে বলে, কেউ নেই গো, আগে সব ছিল—এখন সব ফাঁকা।
— তার মানে?
ফিকফিক করে হাসে ছেলেটা, মুরুব্বি হয়ে সোজা কথাটা বুঝতে পারলে না? তাহলে খোলসা করেই বলি। বিষহরি ডানে-বাঁয়ে চোরা চোখে তাকায়, কাউকে দেখতে না পেয়ে নির্ভয়ে বলে, আমার বাপ জটামোড়লের দোরে বাগাল খাটত। একদিন বিষমদ খেয়ে সে চোখ উলটে পড়ে থাকল বাবুর গোয়ালঘরে। তারপর, মা এল বাপের জায়গায়। মাকেও দেখেচি দিনভর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কানতে। মা কেন কানত আমি সব জানি। বাবু তারে ফি-রাতে জ্বালাত। একদিন মা-ও গলায় ফাঁস নিয়ে মরল। বাবু বলল, নষ্ট মেয়েছেলেগুলা অমনধারা মরে। মা যে পোয়াতি হয়েছিল— একথা বাবু কাউকেও বলে নি। কিন্তু আমি সব জানি, জেনেও পেটের দায়ে বাবুর দোরে এখনো বায়ালি করি। কী করব? আমার যে যাওয়ার কুনো জায়গা নেই।
— তাহলে এভাবে তুই মরবি?
ভীমাবুড়ার প্রশ্নবোধক চোখের দিকে তাকিয়ে ঘাবড়ে যায় বিষহরি, কুঁইকুঁই করে বলে, গায়ে আমার তাগত নেই, খাটতে পারি নে। যদি জন খাটতে পারতাম তাহলে কুনদিন বাবুর দুয়োর ছেড়ে অন্য কুথাও চলে যেতাম। মুরুব্বি গো, এখানে থাকতে আমার মোটে মন করে না। মা-বাপ আমারে দুষে। বলে, পালা বিষে, পালা!
ধানখেতে হাতির পায়ের ছাপ আঙুল গুনতি। পাকাধানের শীষ হাতি যা না খেয়েছে— তারও বেশি ছিঁড়ে নিয়ে গিয়েছে মানুষে। শুধু শীষশূন্য ধানগাছগুলো এলোমেলোভাবে ভাঙা। দেখে-শুনে ভীমাবুড়ার ব্রহ্মতালুতে রক্ত চড়ে যায়, না থাকতে পেরে শুধোয়, এ-খেতের ধান তো হাতি খায় নি? হ্যাঁ রে বিষে, এ-ধান কে খেল এমন করে?
বিষহরি পাথরের মতো দাঁড়িয়ে। ভীমাবুড়া তাকে ঠেলা মেরে শুধোয়, রা কাড়চিস্ নে কেনে? মাঠের ধান কে খেল— হাতি না মানুষ? দাঁতে দাঁত চেপে বিষহরি বলে— মানুষ। তুমি আসার আগে বাবু তার লোক দিয়ে ধানগুলো সব ঘরে এনেচে। এখন তুমি ভেজা মাঠে হাতির পায়ের ছাপ নকল করে দিলে বাবু তা দেখিয়ে গাদা-গুচ্ছের টাকা পাবে। এই জন্যি তো বাবু তুমাকে ডেকে এনেচে
থরথর করে হাত কাঁপে ভীমাবুড়োর, চোখে ঝাপসা দেখে সে। মানুষের জাল-জালিয়াতি কোনোকালেই তার পছন্দ নয়। তবু, দাঁতে দাঁত পিষে উবু হয়ে সে হাতিছাপ আঁকে। আঁকতে আঁকতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কাদামাখা হাতদুটো ভেজা মাটিতে শুইয়ে সে যেন একটু শান্তি পেতে চায়। রিষহরি তখনই তার সামনে এসে বসে। ঘামে তার শরীর ভিজছে। তবু, ভাঙা ছাতাটা ধরে আছে, বুড়োর মাথায়।
— মুরুব্বি, এট্টা কথা শুধাই? বিষহরির চোখে জিজ্ঞাসা, তুমি আমাকে হাতির পা আঁকা শিখায় দেবে না? তুমি না শেখালে বাকি জীবনটা আমি খাবো কী? আমার গায়ে মোটে জোর নাই, আমি যে জন-মজুর খাটতে পারি না!
বাপরে, এ যে পাপ কাজ!
— তাহলে তুমি করো কেনে? -পেটের দায়ে।
— অঃ। বিষহরি ঘাস ছেড়ে ধানখেতের উদাস দৃষ্টি মেলে কখনো-বা তাকিয়ে থাকে দূরের দিকে, মুখের হাসি মিলিয়ে গিয়ে সে-একটা শুকনো গাছ। তাকে দেখে মায়া হয় বুড়ার, জড়ানো স্বরে বলে, বেটা আমার, তোরে দেখে বুকের ভেতরটা আমার ধড়ফড়ায়। আয়, তুই কাচে আয়। হ্যাঁ, দেখ—আমি কেমন করে হাতির পায়ের ছাপ আঁকি— তা তুই মন দিয়ে দেখ। প্রথমে গোল পারা এট্টা দাগ দিবি তর্জনীতে। তারপর, হাতের তেলোটা গায়ের জোরে দেবে দিবি কাদা মাটিতে। তাতেও যদি না হয়— তাহলে নখের চিমটায় তুলে নে মাটি। তারপর, ধীরে ধীরে আমি যেমন করি, তুইও তেমন কর বাপ। পায়ের ছাপ দেখে পা আঁকা কঠিন কুনো কাজ নয়। এ কাজে ধৈর্য হল গিয়ে আসল কথা। তারপর, হল গিয়ে চোখ। চোখটারে এট্টু সড়োগড়ো কর— তাহলে দেখবি আপসেই হাতির পায়ের ছাপ এঁকে ফেলেচিস।
বিষহরি নিবিষ্ট চোখে দেখে, দুহাতের দশ আঙুলে কাদা মেখে সে রীতিমতো শিক্ষানবিশ। এইভাবে সারাদিন কাটে মাঠে-মাঠে। বেলা পড়ে যায়, বিকেলের আলোয় ধানমাঠ সাজগোছ করা রমণী। ভীমাবুড়ার একপাশে বসে বিষহরি হাতির পায়ের ছাপ আঁকে। তার অপরিসীম ধৈর্য দেখে খুশি হয় ভীমাবুড়া। সাগ্রহে কাছে ডেকে বলে, আয় দেখি, কেমন শিখেচিস গুরুমারা বিদ্যে। ঘাড় ঝুঁকিয়ে বিষহরি বোকার মতো হাসে।
ভীমাবুড়ো বলে, আঁক, আমার ছিমুতে আঁক। হুবহু আঁকতে পারলে আমি তোকে মেঠাই খাওয়াব আজ?
বিষহরির দশ আঙুলে কাদা, ধান ভুঁইরে হাঁটুমুড়ে সে আঁকিবুকি কাটে নিবিষ্ট মনে। ভীমাবুড়া ঝুঁকে পড়ে দেখে— হাতির পায়ের ছাপ নয়, বিষহরি এঁকেছে মানুষের মস্ত একটা পা। জটামোড়লের পা।