শীত পড়তেই বেড়েছে জাতীয় সড়কগুলিতে পথ দূর্ঘটনা। কখনও ঘন কুয়াশার কারণে কখনও অসাবধানতা বশত গাড়ি চালনর কারণে। তাই রাতের বেলায় দূর্ঘটনার প্রকোপ কমাতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ। রাতের বেলায় গাড়ি চালকদের ঘুমের ভাব কাটাতে পুলিশের তরফে দেওয়া হল চা জল। রবিবার মধ্যরাতে এমনই দৃশ্য দেখা গেল জলপাইগুড়ি-ধূপগুড়ি জাতীয় সড়কে ইন্দিরা মোড়ে। এদিন ময়নাগুড়ি ট্রাফিক পুলিশ হাইওয়ের কর্মীরা প্রত্যেক গাড়িকে থামিয়ে গাড়ির চালকদের দেয় চা ও পানীয় জল।
জলপাইগুড়ি ময়নাগুড়ি হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশের এক আধিকারিক জানান, শীতকালে রাতে গাড়ি চালাতে চালাতে ঘুমের ভাব আসে। এরফলে অনেক সময়ই পথ দুর্ঘটনা হয়। তাই ট্রাক চালকদের সতেজ রাখতে চা ও জল পানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরকম কর্মীসূচী আমরা মাঝেমধ্যেই করে থাকি। আগামীতেও এধরণের কর্মসূচী চলবে।এদিকে পুলিশের এই পদক্ষেপে খুশি সাধারণ মানুষও। পুলিশের এই ভূমিকায় খুশি গাড়ি চালকেরাও। তারা জানিয়েছেন এই শীতের রাত্রে যখন গাড়ি চালাতে হয় এই ঠাণ্ডার মধ্যে, তখন এই চা অনেকটাই শারীরিক এবং মানসিক মনোবল ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করবে আমাদের।

অন্যদিকে আজ দুই বিজেপি বিধায়ক জাতীয় সড়কে লাইট বসানোর দাবী নিয়ে এনএইচ (৩১-ডি) প্রকল্প পরিচালকের সাথে দেখা করলেন। উভয় বিধায়কই দাবি করেছেন, জাতীয় সড়কে আলোর অভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এই ঘটনাগুলির হাত থেকে অব্যাহতি পেতে শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার বিধায়ক শিখা চ্যাটার্জি যৌথভাবে আজ জাতীয় সড়কে (৩০-ডি) প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে দেখা করেন। কয়েকদিন আগে জলেশ্বরী বাজারের কাছে একটি বোল্ডার বোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। এই ঘটনার পর থেকে মানুষজন জাতীয় সড়ক অন্ধকারের প্রসঙ্গ তুলছে। মানুষের অভিযোগ, মহাসড়কে আলো না থাকায় রাতের বেলায় সড়কে অন্ধকার থাকে। যার ফলে চলাচলের সময় এ ধরণের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় আজ এনএইচআই অফিসে গিয়ে মানুষের সমস্যার কথা শোনেন। প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে তাদের পুরো সমস্যার কথা জানান। জাতীয় সড়কের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে তাঁরা গুরুত্ব দিয়ে এই ব্যাপারটি দেখবেন।