| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

পূর্বোত্তরে লিপিহীনদের কাটা ঘায়ে নুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হিন্দি পৃষ্ঠপোষনায় হতাশা (প্রথম পর্ব) : সিতাংশুরঞ্জন দে, আগরতলা

Reporter
সিতাংশুরঞ্জন দে, আগরতলা / ৬৮৯ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২২

উত্তর পূর্বাঞ্চলে ভাষার যে বৈচিত্র তা দেশের যে কোনও প্রান্তের চেয়ে বেশি। আবার সারা দেশে যত লিপিহীন ভাষা তার বড় অংশই এই অঞ্চলে। ত্রিপুরায় ককবরক ভাষার লিপি বিতর্ক নিবে গিয়েছিল পবিত্র সরকার কমিশনের পর। আশা করা গিয়েছিল এবার ককবরক পাবে তার নিজস্ব লিপি আর প্রমিত ভাষা। এই রকম প্রত্যাশার পাহাড় রয়েছে প্রায় সব কটি রাজ্যে নানান ভাষার মানুষের। মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মেঘালয়, আসাম — সব রাজ্যেই প্রত্যাশায় দিন কাটে অজস্ত্র মানুষের। লিপির প্রত্যাশা, স্বভাষায় লেখা পড়ার প্রত্যাশা। আর এরই মাঝে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বললেন, উত্তর পূর্বের লিপিহীন ভাষাগুলির ভাষিক লোকজন লিপি হিসাবে দেবনাগরী নিন। সরকারি ভাষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির বৈঠকে অমিত শাহের এই বক্তব্যে উত্তর পুর্বাঞ্চলের লিপিহীন ভাষাগোষ্ঠীগুলি কী ভাবছেন তা টের পাওয়া যায় ত্রিপুরার ককবরকভাষী লোকেদের প্রতিক্রিয়ায়। অমিত শাহ বলেছেন বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ একে অন্যের সঙ্গে হিন্দিতেই মত বিনিময় করুক। ইংরেজি বা স্থানীয় ভাষার দরকার নেই। প্রসঙ্গত ২০১৯ সালে হিন্দি দিবসে অমিত শাহ শুনিয়েছিলেন, এক রাষ্ট্র, এক ভাষা। প্রশ্ন আসে অমিত শাহ কি এই ধরনের কথা প্রথম বললেন? এর আগে কি কেউ বলেনি এই কথাগুলি? দশম পর্যন্ত হিন্দি পড়া বাধ্যতামূলক করার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আবার আমাদের দেশে প্রত্যেক শিশুর প্রাথমিক অবধি মাতৃভাষায় শিক্ষার ঘোষিত অধিকার নিয়ত খর্ব হচ্ছে। আমাদের দেশের শিক্ষা কমিশন বা শিক্ষানীতি সেই সব শিশুদের কতটা ছুতে পারছে আজকের দিনেও?

নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান। বিবিধের মাঝে মিলন, — এতোসব বিশ্বাসের বাস্তবতা পরাবাস্তবতার পরেও জাতিরাষ্ট্র-এর ধারনা যেহেতু এক ভিন্ন বিষয় তাই আমাদের একটি সরকারি ভাষা আইন রয়েছে। এটি বানানো হয়েছিল ১৯৬৩ সালে। শত কোটি বা সোয়াশো কোটির দেশ ভারত কেবল জনসংখ্যার নিরিখেই এই গ্রহে বৃহৎ নয়, ভাষা বৈচিত্রেও বৃহত্তম। ইন্দো আরিয়ান, দ্রাবিড়িয়ান, অষ্ট্রো- এশিয়ান, টিবেটো বার্মিজ নানান ভাষা পরিবারের লোকজন নিজনিজ মাতৃভাষায় কথা বলেন এই দেশে। ভাষার এই বৈচিত্র এই দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যময় ইতিহাসের মজবুত কড়িবর্গা।বহুভাষিকতা আমাদের বহুত্ববাদেরই অঙ্গ। অঙ্গ। কিন্তু আমাদের দেশের নেতারা সংবিধান প্রনয়নে সরকারি ভাষা হিসাবে হিন্দি নিলেন, লিপি নিলেন নাগরি। যা পরে দেবনাগরি হল। আজকের ভারতে সরকারি ভাষা হিসাবে ইংরেজি এবং দেবনাগরির হিন্দি সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। আবার আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ১৯৬৩ সালের সরকারি ভাষা আইনের উদ্দেশ্য বিধেয় নিয়েও প্রশ্ন আসছে। প্রথমত, “সরকারি ভাষা” নির্বাচনের পদ্ধতি কি? দ্বিতীয়ত, দেশের শিক্ষানীতিতে ওই ভাষার ব্যাপকতা কতটা? তৃতীয়ত সরকারি ভাষা আইনের গুরুত্ব কতটা এবং ভারতীয় শিক্ষা নীতিতে যে ত্রি ভাষার কথা বলা হচ্ছে তারই বা উদ্দেশ্য কি? বস্তুত সরকারি ভাষা আইন বারবার তার অভিমুখ এদিক সেদিক করেছে। প্রথমে ১৯৭৬ সালে এর পর ১৯৮৭ সালে এই আইনে অদল বদল করা হয়েছে।

দেশে শিক্ষানীতিতে ১৯৬৮ সালেই ত্রিভাষা পলিসি নেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছিল আমাদের দেশের সব স্কুলে শিশুদের ত্রিভাষা শেখানো হবে। প্রথমেই ইংরেজি। এটি বাধ্যতামূলক। হিন্দি হবে আবশ্যক, সেই রাজ্যটি হিন্দিভাষি হোক বা না হোক। তৃতীয় ভাষা কি হবে তা স্থির করবে সংস্লিষ্ট রাজ্যগুলি, যে অঞ্চলে যে ভাষাভাষীর অঞ্চলে সেই স্কুলটি রয়েছে তার ওপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ যে রাজ্যের বা যে অঞ্চলের ভাষা যাই থাকুক ইংরেজি এবং হিন্দি সবখানেই বাধ্যতামূলক হবে। তবে প্রথম ভাষা, দ্বিতীয় ভাষা বা তৃতীয় ভাষা কোনটা হবে তা স্থির করবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য। দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গে হিন্দি পড়ানো হল না, যদিও হিন্দি বাংলা কাছাকাছি ভাষা। আবার কেরলে হিন্দি পড়ানো হল যদিও মালয়ালামের থেকে অনেক দূরের ভাষা হিন্দি। তবে ত্রিভাষার উপকারিতাও এসেছে। এটা বৈজ্ঞানিক সত্য যে বহুভাষিকতা আমাদের শিশুদের সৃজন ক্ষমতা দিয়েছে আবার সামাজিকভাবে তারা হতে পেরেছে সহনশীল।

সরকারি ভাষা বা জাতীয় ভাষা হিন্দির অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯২৫ সালে, দেশভাগের আগে। সে বছর কংগ্রেসের করাচি অধিবেশনে হিন্দুস্তানের স্বরূপ নিয়ে আলোচনায় স্বাধীন দেশের ভাষা হিসাবে হিন্দি/উর্দুর প্রস্তাব আসে। আর স্বাধীন ভারতে ১৯৪৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথম হিন্দি দিবস পালন হল। বস্তুত করাচি সম্মেলনের কয়েকবছর পর সরকারি ভাষা হিন্দি/উর্দুর প্রস্তাবে সংশোধন আসে। হিন্দি সাহিত্য সম্মেলনের প্রভাবের সামনে কংগ্রেসের গান্ধী নেহরু হিন্দির প্রস্তাব মেনে নেন। নেবেন নাই বা কেন, কংগ্রেসের রাজনীতি বলা যায় দেশের রাজনীতি তখন থেকেই উত্তর ভারত প্রভাবিত। হিন্দি/উর্দু দুটোই উত্তর ভারত কেন্দ্রিক। যদিও হিন্দু হিন্দুস্তান ইস্যুতে কংগ্রেসের অনেক নেতা বিশেষত মুসলিম নেতারা মনক্ষুন্ন হন। কংগ্রেসের ভেতরে সাম্প্রদায়িক বিভেদ স্পষ্ট হয়। আর ১৯০৬ সালে গঠিত মুসলিম লিগ কংগ্রেসের অন্দরের এই কাজিয়াকে কাজে লাগিয়ে উর্দু কে মুসলিম পরিচিতি বলে ঘোষনা দিয়ে দেয়। এর পরের ইতিহাস সবার জানা।

দেশভাগের পর পাকিস্তানে সরকারি ভাষা হল উর্দু আর এই দেশে হিন্দি-হিন্দুস্তান তত্ব মেনে নিলেন গান্ধী নেহরুরা। ভাষার এই রাজনীতি সে থেকে চলে আসছে। দেশের শাসকেরা হিন্দি সম্প্রসারনের যে কথা বলে আসছেন কালে কালে সে হল জাতিরাষ্ট্র গঠনের এক পরিকল্পনা। এ শুধু কংগ্রেস বা গান্ধী নেহরু নন, হালের বিজেপির স্রষ্টা যে জনসঙ্ঘ, তারা প্রথম দিন থেকেই হিন্দি ডুরিতে সমগ্র দেশ বাধার লম্বা দৌড়ে রয়েছে। বলা যায় কংগ্রেস যে হিন্দি- হিন্দুস্তান এর কথা শুনিয়ে গেছে বিজেপি সেই শব্দবন্ধটিকে আরও একটু বড় করে হিন্দি-হিন্দুত্ব-হিন্দুস্তান করেছে মাত্র। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইংরেজি বলায় স্বচ্ছন্দ সত্বেও কূটনীতির অঙ্গনে তিনি হিন্দিই বলেন। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হবার পর সরকারি নির্দেশ বের হয়, আধিকারিকেরা এখন থেকে সামাজিক মাধ্যমে হিন্দিতেই পোস্ট লিখবেন। এই সবই সরকারী ভাষা হিন্দির পৃষ্ঠপোষনা।

হিন্দি ভাষায় যারা সাহিত্য রচনা করেছেন গোড়ার দিকে তাঁদের মধ্যে মুন্সি প্রেমচান্দ অন্যতম। সাহিত্য রচনাকার তার রচনায় যে যে অঙ্গন, যে যে পরিসর, যে যে ধারা স্পর্শ করবেন তার সবগুলি ছুঁয়ে গেছেন তিনি, হিন্দিতে তিনিই প্রথম। তার নামই বলতে হয়, তার আরও একটি কারন হল আদি থেকে হিন্দি লেখকদের যে তালিকা দেওয়া হচ্ছে তাতে ক্রনোলজি অনুযাযী প্রেমচান্দের ঠিক আগের নাম মীরাবাঈয়ের। ক্রমান্বয়ে উপরের দিকে নাম রয়েছে রহিম, কবীর, সুরদাস, তুলসীদাস, মালিক মহম্মদ জয়সী প্রমুখ। প্রেমচান্দের জীবৎকাল ১৮৮০ থেকে ১৯৩৬। ইশ্বরচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় পরবর্তী রবীন্দ্র আলোকের বাংলা সাহিত্য তখন মধ্য গগনে। তার খরতাপে একে একে আসছেন ইস্মাইল হোসেন সিরাজি, রাজশেখর বসু সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, কুমুদ রঞ্জন মল্লিক, রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়, মহম্মদ শহীদুল্লা,সুকুমার রায়, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, শেখ অয়াজেদ আলি, রাহুল সাংকৃত্যায়ন, বিভূতিভূষন বন্দোপাধ্যায়, নীরদ সি চৌধুরী, তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাস, কাজী নজরুল ইসলামরা। আর এই ত্রিপুরায় ওই সময়ের যে লেখালেখি তাতে ১৮৯৭ সালে শ্রীচা দৌলত আহমেদ ও মহম্মদ ওমর ককবরক ভাষার অভিধান ককবরমা লিখে ছেপেছিলেন। ছাপা হয়েছিল কুমিল্লার অমরযন্ত্র প্রেস থেকে। ১৯০০ সালে রাধামোহন ঠাকুর লিখেছেন ককবরকমা। আর একটু এগিয়ে গেলে ১৯৪৮ সালে অমরেন্দ্র দেব্বর্মা ওরফে বংশী ঠাকুর কবিতা সংকলন বের করছেন, ককতাং কুলুই আর ১৯৫৪ সালে তো সুধন্বা দেব্বর্মার উপন্যাস এলো , হা চুক খুরিয়। সবই হল বাংলায়। ত্রিপুরায় ককবরকভাষীরা লিপিহীন কবে হলেন ? সিনো টিবেটিয়ান বৃহত্তর ভাষা পরিবারভুক্ত এই ভাষাগোষ্ঠির কখনো লিপি ছিল না এটি ভাবা অসম্ভব বিষয়। বিশ্বে আজও এই ভাষা পরিবারের ভাষার সংখ্যা চারশোর কাছাকাছি। ঐতিহাসিক পাথুরে প্রমান না থাকলেও বলা হয়ে থাকে ধর্ম মানিক্যের সময়েই ককবরকের ‘বরিক’ লিপি হারায়। ওই সময়েই প্রথম সংস্কৃতে রাজমালা লিখেছিলেন শুক্রেশ্বর বানেশ্বর। বলা হয়ে থাকে সংস্কৃতের প্রতি রাজাদের এই মোহ তৈরি হয়েছিল মূলত নিজেদের চন্দ্রবংশ ভূক্ত করার অভিপ্রায়ে।

নৃতত্বগতভাবে সিনো টিবেটিয়ান মূল ভাষা পরিবারের চারটি ভাগের একটি হল টিবেটো বার্মা। এই শাখার ভাষিক মানুষ ভারতে নানান অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। এই পরিবারে আবার ছয় সন্তান। এক সন্তানের নাম বরিক। বরিকের সন্তানেরা হল তামাং, লেপচা, বরো, লেহ, ধিমাল, নেওয়ার, কিরান্তি। এই বরো পরিবার উত্তরপূর্ব ভারতে বরো গাড়ো পরিবার হিসাবেই পরিচিত। এক ভাই বোড়ো এক ভাই গাড়ো। বড়োর সন্তান সন্ততিরা হল ডিমাসা, রাভা, তিওয়া/লালুং, সনোয়াল কছারি, ককবরক। ভাষাগত ভাবে ককবরকের সঙ্গে বোড়ো ভাষার ৪০ ভাগ, ডিমাসার সঙ্গে ৮০ ভাগ, তিওয়ার সঙ্গে ৭৫ ভাগ মিল রয়েছে। বলাই বাহুল্য এদের কারোর লিপি নেই। বোড়ো ভাষার জন্য দেবনাগরি লিপি দেওয়া হলেও এই ভাষার মানুষেরা এই নিয়ে যথেষ্ট অস্বস্তিতে আছেন এবং ফিরতে চাইছেন রোমানে। আর ককবরকে? শিক্ষার জন্য রাজনৈতিক আন্দোলন এই রাজ্যে শুরু হয়েছিল রাজন্য আমলে, গনমুক্তি পরিষদের হাত ধরে। পাহাড়ে সুপ্রশাসনের দাবি, খাদ্য, শিক্ষার দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলন-এর ঐতিহ্য ইতিহাস বেয়ে এই রাজ্যে বামপন্থী রাজনীতি শেকড় মেলেছিল। তবে রাজনৈতিক ভাবে ককবরকে শিক্ষার আন্দোলন শুরুর সময়কাল ধরা যায় ১৯৬৭ সালে, টিইউজেএস, টিএসএফের হাত ধরে। রাজা দশরথ চাইতেন প্রতিবেশীর ভাষা, পাহাড়ের সরকারি স্কুলে যে ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হয় অর্থাৎ বাংলা লিপিতেই শুরু হোক ককবরক। তার আগ্রহ ও ব্যক্তিগত অংশগ্রহনে বাংলায় হরফ এসেছিল। তবে বাংলার যে লিপি যে লিখন পদ্ধতি রয়েছে তাতে ককবরকের উদ্দেশ্য পুরোপুরি সাধন হচ্ছিল না বলে একটি নতুন অক্ষর বানাতে হয়েছিল বাংলা নির্ভরতায়। ১৯৭২ সালে ককবরক সাহিত্য সভা প্রথম রোমান লিপির দাবি তুলে নিজেদের অবস্থান ঘোষনা করে আর ১৯৭৮ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার ককবরকের জন্য বাংলা লিপি চালু করে পড়াশোনা প্রাথমিক স্তরে শিক্ষাদান শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। শুরু হয় লিপি বিতর্ক। আবার প্রাথমিক স্তরে ককবরক পড়ানো শুরুও হয়। এক সময় রাজ্যের ছোট বড় নির্বাচনে ভোটের ইস্যু হয়েছে রাজ্যে ককবরকের লিপি নিয়ে দুটি ভাগ রাজনীতিতে বাঘে-নেউলে সম্পর্ক বজায় রাখলেও লেখালেখির ক্ষেত্রটি ছিল উন্মুক্ত। আবার বিতর্ক শুরুর পর সরকারিভাবে কখনোই বাংলা, রোমান কোন পক্ষই নেওয়া হয় নি। তখন থেকে দুই লিপিতেই লেখালেখি চলতে থাকে। ককবরকে ১৯৭২ সালে প্রথম নাটক লিখলেন অলীন্দ্র ত্রিপুরা। নাটক, লামানি হামচাং। আবার রোমান লিপিতে বাইবেল লেখা হয়ে যায় ককবরকে। রাজনৈতিক ভাবে শাসক দল সিপিআইএম বাংলালিপির পক্ষপাতী ছিল, যেহেতু দশরথ দেব চাইতেন বাংলা লিপি হোক। যুব সমিতি বরাবরই রোমানের পক্ষপাতী। আবার দেখা গেছে রাজনৈতিক পরিসর অস্বীকারও করছেন ককবরকের সুশীল সমাজ। সিপিএমের ভেতরে থেকে বাংলার বিরোধিতা করে বা লিপি নিয়ে উদারপন্থা অবলম্বন করে কথা বলেছেন বহু নেতা। আর শ্যামাচরন ত্রিপুরা রোমানপন্থীদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হয়েও বাংলায় নিয়মিত লিখে চলেছেন। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev