দুটো প্রবাদ আছে। এক, বিপদে বন্ধু চেনা যায়। আর দ্বিতীয়টি হলো, চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম। এই দুটি প্রবাদ মনে করিয়ে এক দারুণ কর্মসূচি নিল হুগলি জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেস। রাজ্যজুড়ে সমস্ত শহিদ পরিবারের খেয়াল রাখেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতি বছর একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে শহিদদের স্মরণ করার কর্মসূচিতে শহিদ পরিবারগুলির সদস্যদের নিয়ে এসে এক পরিবারের বার্তা দেন। তিনি শহিদ পরিবারগুলির সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন। এটা কম কথা নয়। আপদে-বিপদে শহিদ পরিবারগুলির ভরসা জননেত্রীই।

তাঁর এই মহানুভবতাকে শিরোধার্য করে ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হুগলি জেলার যে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা সিপিআইএম ও বিজেপির হাতে খুন হয়েছেন, লকডাউনের কঠিন সময়ে সেই প্রতিটি শহিদ পরিবারের পাশে দাঁড়াল হুগলি জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেস।

আরামবাগের অনন্ত দোলুই, পুরশুড়ার যুধিষ্ঠির দোলুই, শেখ নূর মহম্মদ, খানাকুলের গোলাম আম্বিয়া কাজী থেকে শুরু করে গত বছর বিজেপির হাতে খুন হওয়া মনোরঞ্জন পাত্রর মতো শতাধিক শহিদের পরিবারের দরজায় গিয়ে তাঁদের খোঁজখবর নিয়ে, ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে।

১৯৯৮ সালের ১১ মে হুগলি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম শহিদ হন গোঘাটের মদন চক্রবর্তী। সোমবার ৪ মে এই শহিদ পরিবারের কাছেই প্রথমে যান হুগলি জেলার তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। ছিলেন হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি দিলীপ যাদব, হুগলি জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়, কো-অর্ডিনেটর তথা বিধায়ক স্নেহাশিস চক্রবর্তী, বিধায়ক মানস মজুমদার, কৃষ্ণচন্দ্র সাঁতরা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি মেহবুব রহমান-সহ জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের গোটা টিম।

পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা আশ্বাস দেন, আপনাদের বাড়ি থেকে বেরনোর দরকার নেই। যে কোনও দরকারে জানাবেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক হিসেবে আমরা সর্বক্ষণ পাশে রয়েছি। শান্তনু বন্দোপাধ্যায় জানালেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের জানিয়েছেন শহিদ পরিবারগুলির খবর নিয়ে যে কোনও দরকারে পাশে থাকার। শহিদ পরিবারগুলিও তো তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ধিত পরিবার। তাই আমরা যেমন পরিবারের খোঁজ রাখি, বাজারঘাট করি, সেভাবেই শহিদ পরিবারগুলির পাশে থাকার কর্তব্য পালন করছি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই হুগলি জেলার সিঙ্গুর আন্দোলন কৃষিজমি রক্ষার আন্দোলনে দেশের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। আর আজ হুগলি জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেস যে মহান, মানবিক কর্মসূচি নিল বিপদের সময় শহিদ পরিবারগুলির ভরসা হয়ে, তাতে শুধু রাজ্য নয়, দেশের কাছে মডেল হওয়ার মতোই উদ্যোগ এটি।

শ্রী শান্তনু ব্যানার্জী একজন মানব সেবা কার্যে নিয়োজিত সৈনিক। তার সেবা কোনো আকস্মিক কাজ নয়। এই কাজ অতীতে করেছে, এখন করছে ও ভবিষতে করবে। তার সেবা কার্য সম্পাদন চলে নিরন্তর।