কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী হর্ষবর্ধন জৈব প্রযুক্তি বিভাগের অন্তর্গত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্স করেন। সেখানে বলেছেন, করোনা মহামারী নাকি আশীর্বাদের ছদ্মবেশ নিয়ে ভারতে এসেছে! এই মন্তব্যের পেছনে তাঁর ব্যাখ্যাটি এমন, করোনা ভাইরাসের জন্যই মেক ইন ইন্ডিয়া প্রজেক্টের মধ্যে দিয়ে বহুমুখী কার্যকলাপ বৃদ্ধির সুযোগ এসেছে। দেশে এখন ১০০ র বেশি সংস্থা পিপিই তৈরী করছে। ভাইরাসকে হারাতে বিজ্ঞানীরা নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গোটা দেশ অপেক্ষা করছে কখন ভারতে এই গবেষণা সফল হবে, কখন নতুন ওষুধ কিংবা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে।
ভাবখানা এমন যেন, করোনার জন্যই ভারতে গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে গেছে। তাই করোনা নাকি আশীর্বাদ! কিন্তু অতিমারি করোনার ছবি তো বলছে অন্য কথা। বিশ্বের উন্নত, শক্তিধর দেশগুলো খাবি খাচ্ছে। মৃত্যুর মহামিছিল চলছে, বিশ্বজোড়া অর্থনীতি এখন অতি গভীর সংকটে। আমাদের দেশ ভারতও এই মহা সংকটের অংশীদার। সমীক্ষা বলছে, এর জেরে ভারতেই কাজ হারাতে পারেন ৩০ কোটি মানুষ।
এমনিতেই ২০১৬ সালের পর থেকে আচ্ছে দিনের হাওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে মন্দা আসতে শুরু করে। নোটবন্দি, জি এস টি -র ফলে মন্দা আরো বাড়তে থাকে। ২০১৮ সালে দেশের বেকারত্বের হার যেখানে গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা ৪৫ বছরে সর্বাধিক। বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১১৭ দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১০২ নম্বরে। করোনা আসার বহু আগেই আমাদের দেশের এই হাল। তাই করোনা আসার পর চিত্রটা কি দাঁড়াতে চলেছে তা সবাই আঁচ করছেন। আর শিউরে উঠছেন। তাই এই সময় করোনা নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এহেনো মন্তব্য কতটা যুক্তিপূর্ণ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই বলছেন, দেশ-বিদেশে ভাইরাস নিয়ে গবেষণার কাজ তো নিরন্তর চলতেই থাকে। ওষুধও নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও হয় প্রতিনিয়ত। এটা তো ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কিন্তু করোনা জেরে সারা দেশের গরিব, সাধারণ মানুষের করুণ ছবি কি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর চোখে পড়ছে না! কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলছেন, এমন বুদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন কি করে!