আরামবাগের বিভিন্ন স্থানে মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হল হুল দিবস। উল্লেখ্য, সাঁওতাল বিদ্রোহের বীর শহিদ সিধু-কানুর নেতৃত্বে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। প্রথম আন্দোলনের স্মরণে এদিন ১৬৯ তম হুল দিবস পালিত হল আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে। ‘ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের’ আরামবাগ মুলুক কমিটির উদ্যোগে আরামবাগের জুবিলি পার্ক ময়দানে এই উপলক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সুধানীল সিনেমার সামনে থেকে এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে একটি বর্ণময় শোভাযাত্রা শুরু হয়। এই শোভাযাত্রা আরামবাগ শহর প্রদক্ষিণ করে জুবিলি পার্ক ময়দানে পৌঁছায়। সমগ্র অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন এই কমিটির আরামবাগ মূলকের সভাপতি শ্যাম সরেন।
এখানকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের পাশাপাশি আরামবাগের বহু সাধারণ মানুষ এই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে আরামবাগের শালেপুর এলাকায় আদিবাসী পাড়ায় সেখানকার মোড়লদের সংবর্ধনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল তৃণমূলের পক্ষ থেকে। এই উপলক্ষে সেখানেও একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আদিবাসী পাড়ার মোড়ল সুনিয়া হেমব্রম-সহ অন্যান্যদের সংবর্ধিত করা হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি তথা আরামবাগের প্রাক্তন পুরপিতা স্বপন নন্দী, পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী সভাপতি গুণধর খাঁড়া, বিদায়ী কর্মাধ্যক্ষ দীপক মাঝি প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, এদিন হুল বিদ্রোহ সম্পর্কে আলোচনা হয় এবং বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন কানু-সিধু দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ বীরভূমের ভগনাডিহির মাঠে সমবেত হয়ে ব্রিটিস সরকারের অন্যায় অত্যাচার ও অপশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ব্রিটিশ সরকারও দমনমূলক নীতি গ্রহণ করে। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে আদিবাসীদের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ব্রিটিশদের হাতে বন্দী হন সিধু-কানু সহ অন্যান্যরা। ১৮৫৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভগনাডিহিতে একটি বটগাছের ডালে ঝুলিয়ে কানুর ফাঁসি দেওয়া হয়, এবং তাকে দীর্ঘক্ষণ নারকীয়ভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এর পরের দিন সিধুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও পরবর্তীকালে মৃত্যু বরণ করেন। এই বিদ্রোহকেই ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম স্বাধীনতার লড়াই বলে অভিহিত করা হয়।