কিছুদিন আগে ওয়াশিংটন পোস্টে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তালিবানদের হয়ে একচোট ওকালতি করেছেন। শুঁড়ির সাক্ষী মাতালের মত তিনি সওয়াল করেছেন, তালিবানরা সবাইকে নিয়ে চলবে, মানবাধিকারকে স্বীকৃতি দেবে তারা, আফগানিস্তানের মাটিকেও আর সন্ত্রাসবাদের জন্য ব্যবহার করা যাবেনা। জানিনা ধর্মান্ধ তালিবানদের মধ্যে কোন ইতিবাচক গুণ খুঁজে পেয়েছেন তিনি! তবে আফগানিস্তানে এখন যা ঘটছে তা ইমরানের কথাগুলিকে ভুল প্রমাণিত করার জন্য যথেষ্ট। বরং তারা আগের চেয়েও খারাপ।

সে দেশের নতুন শাসকরা ঠিক কেমন তা বোঝার জন্য একটা উদাহরণই যথেষ্ট। সম্প্রতি আফগানিস্তানে কর্মরত দেশি বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছেন তারা। তাতে বলা হয়েছে “ইসলাম বিরোধী”, “জাতীয় ব্যাক্তিত্ব ও নেতাদের পক্ষে অপমানজনক” এবং “ব্যাক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গকারী” কিছুই প্রকাশ করা, বলা বা দেখানো যাবেনা। সাংবাদিকতার নিয়মনীতি কী, কীভাবে তথ্যের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, কীভাবেই বা সাংবাদিকরা বজায় রাখবেন নিরপেক্ষতা এসব কিছু তাদের শেখাবেন বামিয়ান বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস করা তালিবান মাতব্বরেরা!
দেশে ও বিদেশে কোণঠাসা ইমরানের তালিবানদের তেল দেওয়ার দায় থাকলেও কোন কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন পেশাদার মানুষদের নেই। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ জার্নালিস্ট এই ফতোয়া বাতিল করে দিয়েছেন। তাদের মতে, এই নির্দেশনামা শুধু সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদেরই নয়, সবরকম মানবাধিকারেরই চূড়ান্ত বিরোধী। এরফলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৃত্যু ঘটবে। ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে বন্ধ হয়ে গেছে ১৫৩টি গণমাধ্যমের কাজকর্ম। মহিলা সাংবাদিকদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ ও নির্যাতনের ঘটনাও বাড়ছে।

মুশকিল হল, রাষ্ট্র বা প্রশাসনকে খুশি করার দায় যে সাংবাদিকদের নেই একথা স্বৈরাচারী শাসকদল ও ইমরানের মত তাদের স্বনির্বাচিত উকিলরা ভুলে যান। এরজন্য পরে তাদের বহু মূল্য দিতে হয়। তাদের নিয়ে লোকে হাসিঠাট্টা করে। কারণ তারা প্রকৃত অবস্থাটা না বুঝেই মন্তব্য করেন। যেমন কেউ কেউ এখন বলছেন, এই তালিবানদের সঙ্গে ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করা তালিবানদের তফাৎ আছে। আফগানিস্তানের প্রকৃত অবস্থা কিন্তু এখন তার থেকেও খারাপ। শুধু ভারতবিরোধী রাজনীতি করার স্বার্থেই চিন ও পাকিস্তানের শাসকরা তা বুঝছেন না। সবার আগে এই ধর্মান্ধদের স্বীকৃতি দিয়েছেন তারা! শুধু রাজনীতি আর রাজনীতি! কবে যে এদের ভাবনাচিন্তার এলাকায় খানিকটা আলোবাতাস ঢুকবে তা বলা মুশকিল।