হাতরসে পদপিষ্ট হয়ে একশোরও বেশি ভক্তের মর্মান্তিক মৃত্যু এখনও স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি। এই ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় এজন্য বাড়তি নজর থাকবে এবারের তারকেশ্বরের বাবা তারকনাথের শ্রাবণী মেলায়। সারা মাসে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয়। প্রতি বছর ভিড় সামলাতে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে বাবার জন্মবার সোমবারকে ঘিরে। এদিন এ রাজ্য ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত তারকনাথের মাথায় দুধ ও জল ঢেলে পুণ্য অর্জনের জন্য উপস্থিত থাকেন। অনেক সময় দেখা যায় বাবার মাথায় দুধ ও জল ঢালার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। তাতে পদপিষ্ট হবার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তাই প্রশাসন আগেভাগেই সর্তক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
প্রসঙ্গত, শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে তারকেশ্বর পুরসভার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারকেশ্বরের ভগৎ সিং সভাকক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তারকেশ্বরের পুরপ্রধান উত্তম কুণ্ডু, বিডিও সীমা চন্দ্র, তারকেশ্বর থানার অফিসার ইনচার্জ তন্ময় বাগ, রেল, স্বাস্থ্যদপ্তর, ফায়ার ব্রিগেড, বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিক-সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের হাতরসে দুর্ঘটনায় পুণ্যার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সে কথা মাথায় রেখে তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলার অতিরিক্ত নজর দিয়েছে প্রশাসন। পুলিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত বছর রাস্তায় ন’টি গেটের মাধ্যমে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। এ বছর গেটের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। পুরসভার পক্ষ থেকে তারকেশ্বর মন্দিরের উত্তর দিকের টিডি-র গেট খুলে রাখার আবেদন জানানো হয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষকে।
প্রসঙ্গত, শ্রাবণী মেলা শুরু হয় গুরু পূর্ণিমার দিন। শেষ হয় রাখি পূর্ণিমায়। এবারে মেলা শুরু হচ্ছে ২১ জুলাই রবিবার অর্থাৎ ৫ ই শ্রাবণ। মেলা শেষ হচ্ছে রাখি পূর্ণিমার দিন অর্থাৎ ১৯ আগস্ট সোমবার, ২ ভাদ্রে। মেলা উপলক্ষে মোতায়েন করা হবে প্রচুর সংখ্যক পুলিস। স্বাস্থ্য শিবিরের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে দমকল বিভাগের কর্মী ও দমকলের ইঞ্জিন। তারকেশ্বর শহরজুড়ে সিসি ক্যামেরা থাকলেও এবারে বাড়তি ক্যামেরা লাগানোর জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। পুলিস তারকেশ্বর শহরে যানজট রুখতে শহরের বাইরে বাস-সহ অন্যান্য গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। মেলা চলাকালীন পুরসভার পক্ষ থেকে প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা পানীয় জল সরবরাহ ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান পুর প্রধান উত্তম কুণ্ডু। তারকেশ্বর ব্লকের বিডিও সীমা চন্দ্র জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলা উপলক্ষে যে নির্দেশ দেওয়া হবে সেটাই মেনে চলা হবে।