দেশে মেয়েদের রোজগার বাড়লেও তাদের প্রতি হিংসা কমেনি। বিশেষ করে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অত্যাচার দেশ জুড়ে বাড়ছে। এটাই এখন মহিলাদের বিরুদ্ধে ঘটে চলা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অপরাধ। এই অপরাধের পরিণতিতেই গতবছর আত্মহত্যা করেছেন ৪৫ হাজার ২৬ জন মহিলা। এদের মধ্যে রয়েছেন ২৩ হাজার ১৭৮ জন গৃহবধূ। যে রাজ্যগুলিতে এই অপরাধ বেশি ঘটছে তার মধ্যে অবশ্য পশ্চিমবঙ্গ নেই। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর হিসেবে গৃহবধূদের আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে তামিলনাডুতে। তারপরেই রয়েছে যথাক্রমে মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র।

মহিলাদের প্রতি অপরাধ বাড়লেও কমছে এই সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি ও শাস্তিপ্রদানের হার। ২০২০’র তুলনায় ২০২১ এ মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ ১৫.৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২১ এ ১ লক্ষ মহিলা পিছু অপরাধের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪.৫ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২০ সালে তা ছিল ৫৬.৫ শতাংশ। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখেছেন — স্ত্রীর প্রতি স্বামী ও তার অন্যান্য আত্মীয়দের অত্যাচারের ঘটনা চোখে পড়ার মত বেড়েছে। তারপরেই আছে মহিলাদের অপহরণের ঘটনা। ধর্ষণ রয়েছে তৃতীয় স্থানে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিমারিও মেয়েদের প্রতি অপরাধ কমাতে পারেনি বরং তা আরও বেড়েছে।

আত্মহত্যার ঘটনাগুলি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪৫ বছরের মহিলারাই সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত হচ্ছেন। পারিবারিক সমস্যার কারণে বাড়ছে আত্মহত্যা। স্বামীদের সঙ্গে আত্মঘাতী স্ত্রীদের সম্পর্ক মোটেই ভালো ছিল না। নিয়মিত চলতো তাদের প্রতি নির্যাতন। অত্যাচার ও অবিশ্বাসকে সঙ্গী করে বাঁচতে চাননি বলেই এরা আত্মহননের রাস্তায় হেঁটেছেন। এছাড়াও রয়েছে প্রেমঘটিত সমস্যা ও অসুস্থতা। সবক্ষেত্রেই দোষ চেপেছে মেয়েদের ঘাড়ে। সমাজ-সংসার দোষী করেছে তাদের। সরকারি এজেন্সির হিসেবে শুধুই পরিসংখ্যান থাকে। কিন্তু তা ছাপিয়ে ফুটে উঠছে একটা সাধারণ সত্য – নারীদের প্রতি পুরুষদের লাঞ্ছনা এবং নারী-পুরুষ বৈষম্য দেশে মোটেই কমছে না। অথচ আগের তুলনায় মেয়েরা এখন অনেক বেশি শিক্ষিত, কর্মরতা মহিলার সংখ্যাও এখন অনেক বেশি! অনেকে বলেন, অর্থনীতি সমাজের চালিকাশক্তি। তাহলে আর্থিকভাবে এগোলেও মহিলাদের প্রতি অত্যাচার কমছে না কেন সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।