২৫০০ সালের মধ্যেই এই পৃথিবী হয়ে উঠবে আমাদের একেবারে অচেনা। এমনটাই বলছে ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ও পরিবেশবিজ্ঞানীর গবেষণালব্ধ অনুমান। তাদের মতে, কার্বন নিঃসরণ উল্লেখ্যভাবে না কমালে উষ্ণায়ন এতটাই বাড়বে যে আমাজনের জঙ্গল হারাবে সবুজ, আমেরিকার মধ্য পশ্চিম নিরক্ষীয় অঞ্চল এবং ভারত হয়ে উঠবে অতিরিক্ত উষ্ণ। পরিবেশবিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের সন্তানসন্ততি ও নাতি-নাতনিদের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলতে হলে এবিষয়টা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।
গবেষক ক্রিস্টোফার লিয়ন জানিয়েছেন “প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে উষ্ণায়ন বাড়তেই থাকবে। পৃথিবীর নানা জায়গায় আসবে নাটকীয় পরিবর্তন।” এই কথাটা অবশ্য কোন বিশেষ ব্যাক্তি বা গবেষকের সতর্কবাণীতে আটকে নেই। জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে নীতি প্রণয়নকারী, বিজ্ঞানী, গবেষকরা বহুদিন থেকেই একযোগে বলে আসছেন চলতি অবস্থা বদলাতে হলে আমাদের ২১০০ সালের লক্ষ্যমাত্রায় আটকে থাকলে চলবে না।

গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কম, মাঝারি, বেশি হলে পৃথিবীর অবস্থা কেমন দাঁড়াতে পারে সেব্যাপারে নানা ধরণের গ্লোবাল ক্লাইমেট প্রজেকশন মডেল তৈরি করে গবেষণা চালিয়েছেন মন্ট্রিল এবং যুক্তরাজ্যের পরিবেশবিজ্ঞানীরা। এই গবেষণার ফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে গ্লোবাল চেঞ্জ বায়োলজিতে। উপরে বলা অবস্থাগুলি এই গবেষণা থেকেই উঠে এসেছে।
প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উষ্ণায়নের মাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে করতে না পারলে পৃথিবীর বহু উর্বর ও সবুজ জায়গাগুলির চেহারা দাঁড়াবে ঠিক বিপরীত। আবার যে অঞ্চলগুলি কোন বিশেষ ফল, ফুল, শস্যের জন্য বিখ্যাত সেগুলিকে সেখানে আর দেখা যাবেনা। উষ্ণায়ন আরও বাড়লে বরফ গলে বাড়বে সমুদ্রের জল এবং এই উষ্ণ জল স্বাভাবিকভাবে অন্য জলের সঙ্গে মিশবে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরণের পরিবর্তনগুলি একটা দীর্ঘস্থায়ী চেহারা নেবে।

এই বিপদ আঁচ করেই প্যারিস চুক্তি, রাষ্ট্রসংঘ, আইপিসিসি (ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অফ ক্লাইমেট চেঞ্জ) সবাই ২১০০ সালের আগেই এই অবস্থা আটকানোর লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছনোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। নাহলে এই বিপদ থেকে আমরা বেরোতে পারবো না। আবার অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই লক্ষ্যমাত্রাও যথেষ্ট নয়। কারণ গত ৩০ বছর ধরে পরিবেশবিজ্ঞানীরা এই সতর্কবার্তা দিয়ে চলেছেন। এখন তো অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।