সকাল বিকেল যা না হলে আমাদের একদম চলে না তার জন্য বরাদ্দ হয়েছে একটি বিশেষ দিন। নাম করলেই বুঝবেন, দিনটি হাবিজাবি ‘দিবস’ এর ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার মত নয় — ২১ মে ছিল বিশ্ব চা দিবস। গুগুল আর্টস অ্যান্ড কালচার এদিনই আন্তর্জালে তুলে ধরেছে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন দুটি চা প্রস্তুতকারী সম্প্রদায় টাংসাস ও সিংফোদের কথা। এ এক আশ্চর্য সমাপতন! কেন, তা পরে বলছি। অরুণাচলের পূর্ব প্রান্তে পাহাড়, মেঘ আর কুয়াশায় ঘেরা অ্যাম্ফিথিয়েটারের মত গ্রামে বাস করেন এই দুই আদিম জনজাতির মানুষ। বিচিত্র তাদের জীবনযাপন, আরও আকর্ষণীয় তাদের চা বাগিচা, চা সংরক্ষণ এবং প্রস্তুত করার পদ্ধতি। এ বিষয়ে তথ্যসংগ্রহ ও গবেষণার কাজ করেছে বাংলা নাটক ডট কম।

গুগুল আর্টস অ্যান্ড কালচার এর এই উদ্যোগ অরুণাচল প্রদেশের আদিবাসী জনজাতিদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সংক্রান্ত গবেষণার অংশ। এ কাজে সহায়তা করেছেন ইউ.এস. ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেটস। মাসের পর মাস অরুণাচলের প্রতিকূল পরিবেশে টাংসাস ও সিংফোদের গ্রামে দিনের পর দিন কাটিয়ে দুই আদিবাসী সম্প্রদায়ের রীতিনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন গবেষকরা। ক্যামেরাবন্দী করেছেন তাদের নাচগান থেকে কৃষিকাজ সবকিছু।

এই গবেষণায় ধরা পড়েছে এই দুই আদিবাসী জনজাতির মানুষদের কাছে চা শুধুই একটা উষ্ণ পানীয় নয়, তা এক জীবনধারা। যার শিকড় রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের মত এক প্রাচীন ধর্ম বিশ্বাসের গভীরে। টাংসাস ও সিংফোদের লোককথায় রয়েছে চা এর উল্লেখ। এমনকি এখনও তারা চালু রেখেছেন বাঁশের খোলে চা বানানোর সাবেক পদ্ধতি। চা সংরক্ষণও তারা করেন সেই বাঁশের খোলে। আদিবাসী জনজাতিদের গ্রামে ধূমায়িত ব্যাম্বু টি যারা পান করেছেন তাদের হিংসে করবেন ঝকঝকে ড্রইং রুমে মহার্ঘ টি পট ও কাপে পরিবেশিত দামি দার্জিলিং চায়ের স্বাদ নেওয়া উচ্চকোটির মানুষেরাও।

চা যেন এদের কাছে বেঁচে থাকার এক উদযাপন। কখনও তা হয়ে ওঠে একটা ওষুধ। কখনও বা ঈশ্বরের কাছে এক পবিত্র নিবেদন। আগে টাংসাস ও সিংফোরা শুধুই বন জঙ্গলে ঢাকা পাহাড়ের ঢালে চা বাগিচা তৈরি করতেন। এখন তারা বাগিচা করছেন বাড়ির লাগোয়া পাহাড়ের ঢালে। ভাবা যায়, চা পাতা আহরণ করা হচ্ছে বাড়ির লাগোয়া বাগান থেকে আর তাতে চুমুক দিচ্ছেন মানুষ! গুগুল আর্টস অ্যান্ড কালচার এর এই তথ্যায়ন ভেঙে দিয়েছে অনেক চালু মিথ। যেমন ভারতীয়রা চা পান করা শিখেছে ইংরেজদের কাছ থেকে।

টাংসাস ও সিংফোদের ইতিহাস বলছে, চা পাতা নিয়ে ব্রিটিশরা বিশ্বজোড়া ব্যবসা ফাঁদার আগেই ভারতের উত্তর পূর্বের এই জনজাতিরা উৎকৃষ্ট মানের চা পান করতেন। তাদের চা পাতা সংরক্ষণের পদ্ধতিও অনেক বিজ্ঞানসম্মত। চা এমনকি তাদের ধর্ম বিশ্বাসেও জায়গা পেয়েছে। চা নিয়ে রয়েছে তাদের লোককথা ও নাচগান। গুগুল আর্টস অ্যান্ড কালচার এর কাজটা দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল অরুণাচলের পূর্ব প্রান্তে টাংসাস ও সিংফোদের গ্রামে শুধু চা কে ঘিরেই গড়ে উঠতে পারে একটা চমৎকার টি – ট্যুরিজম।