অভিনব প্রতিযোগিতা। ছাত্রছাত্রীদের সুস্থ ও সবল শরীর গড়ার লক্ষ্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন। শনিবার খানাকুলের ঘোষপুর ইউনিয়ন নেতাজী বিদ্যাপীঠে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে শারীরিক পুষ্টিতে খাদ্যের ভূমিকার গুরত্ব উঠে আসে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। এর পাশাপাশি এদিন নেতাজী বিদ্যাপীঠের পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের নবীন বরণ ও বাৎসরিক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান নজরকাড়ে। উল্লেখ্য, অভিনব প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল অপুষ্টি রোধে পুষ্টিকর খাবারের অবদান। এই উদ্দেশ্যে প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ি থেকে সহজলভ্য অথচ পুষ্টিকর খাবার আনতে বলা হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন হুগলি ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর বিকাশ চক্রবর্তী ও খানাকুল ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দু’জন স্বাস্থ্য কর্মী।

এছাড়াও অ্যানিমিয়া রোধে আয়রনযুক্ত খাবারের ভূমিকার উপর একটি অংকন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের হাতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ট্রফি ও সান্তনা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সামাজিক সচেতনতামূলক এই ধরনের অনুষ্ঠান ঘিরে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবক ও অভিভাবিকাদের উৎসাহ ছিল দেখার মত।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মানসিক ও মেধাগত বিকাশের সঙ্গে আমরা যে অন্ন গ্রহণ করি তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পুষ্টি ও যথাযথ পরিচর্যা শিশু ও ছাত্রছাত্রীদের পূর্ণ সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, যাতে তাদের শারীরিক দৃঢ়তা আরও বৃদ্ধি পায়। শিশুদেরকে পর্যাপ্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ করে তুলতে তার মাকেও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। কেবল খাবারের সঙ্গেই পুষ্টির সম্পর্ক নেই, বরং লবন, ভিটামিন প্রভৃতি থেকেও অত্যাবশ্যক পুষ্টি পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে দেশে বিগত কয়েক বছরে, বিশেষ করে গ্রামগুলিতে পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপনে জনগণের অংশগ্রহণের ওপর এবং পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সর্বাত্মক প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে পুষ্টি সম্পর্কিত সচেতনতাকে গণ-আন্দোলনের রূপ দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলিকেও এই গণ-আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তোলা হয়েছে। সেইসঙ্গে, পুষ্টি সম্পর্কে শিশুদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত,একটি শ্রেণীকক্ষে যেমন ক্লাস মনিটর থাকে, তেমনই নিউট্রিশন মনিটর বা পুষ্টির ব্যাপারে নজরদারি ভূমিকা পালনের ব্যক্তি বিশেষ থাকাও প্রয়োজন বলে পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। একইভাবে, একটি রিপোর্ট কার্ডের মতো দেশে নিউট্রিশন বা পুষ্টি কার্ড চালু করা যেতে পারে। তাছাড়া একটি অঞ্চলের আবহাওয়া অনুসারে সুষম ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের পরিকল্পনা প্রস্তুত করা যেতে পারে। পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের এই পরিকল্পনায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্যশস্য, ফলমূল, শাকসব্জিকেও সামিল করা যায়।
Good initiative